বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X রাহাত ক্লাশের সবচেয়ে ব্রিলিয়েন্ট স্টুডেন্ট। ১ম স্থান অধিকার করে ক্লাশ নাইন থেকে টেনে ওঠেছে। সামনে তার এস.এস.সি এক্সাম তাই সে এই বছর পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হতে চায়। তার বাবা হার্টের রোগী। ডাক্তার বলেছেন কোন ভাবেই যেন উনি বড় ধরনের সক্ড না পান। তার বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানি তে স্বল্প বেতনের চাকরি করে তার খুব ইচ্ছে তার ছেলে বড় হয়ে প্রচুর টাকা কামাবে। রাহাত নিয়মিত ক্লাশ করে এবং ক্লাশে সবসময় মনোযোগী থাকে। একদিন গ্রুপ ক্লাশে একটা মেয়ে তার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলো রাহাত ব্যাপারটা দেখেও না দেখার বান করে ক্লাশে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতেছিলো। বেশ কিছুদিন ধরেই এই ঘটনা চলতে ছিলো।তারপর একদিন রাতে পড়তে বসে রাহাত তার বইয়ের ভিতর থেকে একটি গোলাপ এবং ঐ মেয়ের দেওয়া একটি লাভ লেটার পেলো। রাহাত চিঠিটি হাতে নিলো এবং পড়া বাদ দিয় মনোযোগ দিয়ে চিঠিটি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ল। পরদিন স্কুলে গিয়ে রাহাত দেখল যে গ্রুপ ক্লাশে ঐ মেয়েটা তার দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু বলতে চাচ্ছে।আজ সে ক্লাশ থেকে মনোযোগ সরিয়ে ঐ মেয়েটার ইশারার দিকে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে পারল যে মেয়েটা তাকে ক্লাশ শেষে বাইরে দাড়াতে বলছে। সে ও ক্লাশ শেষে বাইরে দাঁড়ালো। মেয়েটা এসে তার হাত ধরে বললো আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি, এটা বলেই মেয়েটা চলে গেল। আর এদিকে মেয়েটার হাতের ছোঁয়া পেয়ে সে যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা খুজে পেল, যেটা এর আগে কখনই পায় নাই। বাসায় ফিরে ঐদিন সারারাত শুধু সে এই মেয়েটার কথাই ভেবেছে।পরদিন স্কুলে এসে তারা ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে বাইরে অনেক্ষন আড্ডা দিলো মেয়েটি রাহাত কে একটি ফোন নাম্বার দিলো এবং বললো রাতে কল দিতে। কিন্তু রাহাতের কোন মোবাইল ছিলো না , কিন্তু তার মেয়েটার সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করতেছিলো তাই সে একদিন তার বাবাকে বলল বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্ট্যাডি করার জন্য তার একটা ফোন লাগবে। তার বাবার কাছে ফোন কিনার জন্য যথেষ্ট টাকা ছিল না তারপরও প্রথমবার ছেলে কিছু চাইছে বলে সে না করতে পারে নি।তার চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা থেকে তাকে একটা মোবাইল কিনে দিলো।আর ফোন পেয়ে রাহাত রিয়ার (মেয়েটার নাম)সাথে রাতভর কথা বলা শুরু করে দেয়। পড়াশোনা থেকে তার একেবারেই মনোযোগ ওঠে যায়। তাদের মাঝে এভাবে কিছুদিন প্রেম চলার পর, হটাৎ একদিন স্কুলে গিয়ে রাহাত শুনতে পেল রিয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আর এই অবস্থায় রাহাত ও রিয়ার কারোর ই কিছু করার ছিল না। আর এদিকে ২ দিন পর থেকে রাহাতের টেষ্ট এক্সাম শুরু। রিয়ার চিন্তায় রাহাত একেবারেই পড়তে পারছিল না। রিয়ার বিয়ে হয়ে গেল আর এদিকে রাহাত না পড়ে এক্সাম দিতে ছিল। কিছুদিন পর রেজাল্ট বের হল রাহাত তিন বিষয়ে ফেল যার কারনে তাকে এস.এস.সি এক্সাম দিতে দেওয়া হবে না। এই খবর তার বাবা শুনে মারাত্বক ভাবে সক্ড খায়। তার বাবা স্যার দের কাছে এসে তার ছেলের জন্য সুপারিশ করে যেন তাকে এক্সাম দিতে দেওয়া হয়। স্যার রা তাকে অনেক অপমান করার পর তার অনুরোধ রাখে।? রাহাতের বাবা এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ঐদিন রাতেই হার্ট এটাক করে মারা যায়। রাহাত তার বাবার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করতে থাকে আর হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। সামনে তার সেই এস.এস.সি এক্সাম যেটা তার বাবা তার জন্য ভিক্ষে চেয়ে এনেছিল। সে আবার আগের মত পড়াশোনায় মনোযোগ দিল, রিয়ার বিয়ের পর তার সাথে আর কোন যোগাযোগ রাখে নি। পূর্ন প্রিপেরেশন নিয়েই সে তার এস.এস.সি এক্সাম দিল। কিছুদিন পর রেজাল্ট বের হল, রাহাত গোল্ডেন এ+ পায়। সে রেজাল্ট সীট টা নিয়ে দৌড়ে তার বাবার কবরের কাছে যায়, আর ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে.........!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now