বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিমানী (part-2... last part)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X রাত ১২টা।আমি ফ্লোরে সুয়ে আছি।শরীর ব্যাথা করছে তাই ঘুম আসছে তখন দেখি অভিমানীটাও ঘুমায়নি একা একা কি যেন বলছিলো। . >উফফ ক্ষিদের জালায় মরে যাচ্ছি কখনো না খেয়ে থাকিনি। কেনযে রাগ করে না খেয়ে থাকলাম।হাবলু টা তো খাওয়ার জন্য কতো জোর করলোই।রাতটাও শেষ হচ্ছে না ঘুম ও আসছে না। -এই যে অভিমানী খাবার পাশেই রাখা আছে খেয়ে নিন। >খুশিতে লাফিয়ে উঠলো তারপরই বলে না খাবোনা। -খেয়ে নিন ঘুম চলে আসবে। >আপনি সব শুনে নিয়েছেন?(লজ্জা ভাব নিয়ে) -না না তেমন কিছু শুনিনি।আপনি খেয়ে নিন। >আচ্ছা,,আপনি খেয়েছেন?(খেতে খেতে বললো আলিয়া) -হুম আমি না খেয়ে থাকতে পারিনা। >তাহলে ঘুমাচ্ছেন না কেন? -আসলে ফ্লোরে ঘুমানোর অভ্যাস নেই তো তাই ঘুম আসছে না। >খাওয়া শেষে অভিমানীটা বললো।আপনি আমার পাশে সুয়ে পরুন কিন্তু সাবধান। কাছে আসবেন না। -যাক বাবা বাচা গেলো।অন্ততো একটু ঘুমাতে তো পারবো।আপাতত এইটুকুই ঠিক আছে।তারপর ঘুমিয়ে পরলাম।বর্ষাও ঘুমিয়ে পরলো। . >এইযে মিস্টার হাবলু উঠুন। -আজ আবার কেন?কাল তো বলে দিলাম ওয়াসরুম ওই দিকে >উঠতে বলছি উঠুন।এতে কথা বলেন কেন? -ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি অভিমানী আমার জন্য চা নিয়ে এসেছে।অনেক খুসি লাগতেছে খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে। >আপনার মা এসে বললো আপনাকে দিতে। -অহ আমি ভাবলাম(মনটা খরাপ করে) >কি? -না কিছু না।বলে চা টা নিলাম।ও হয়তো বুঝতে পরেছে হয়তো বুঝেনি। . যাক আজকের দিনটা মোটামুটি ভালোই কাটলো।অভিমানীটা ঠিক মতো খেয়েছে আজ।মায়ের সাথেও নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে।হাসাহাসি করছে।আমার সাথে খুব কম কথা বলে মেয়েটা।আর ওর বাসার কারো থাকে কথাই বলে না।এতোটা অভিমান ওর।আমি আর মা অনেক বার বলেছি ওদের বাসায় যাওয়ার জন্য কিন্তু ও যাবে না।রোহান ও ওর কোনো খুজ নেয়নি।এতে আমার জন্যই ভালো হয়েছে। . আজ বিয়ের ১৫দিনের মাথায় অভিমানী টাকে রান্না ঘরে দেখা যাচ্ছে।শুনেনি এই আঠারো বছর বয়স এ ও নাকি একবার ও উকি মেরে দেখেনি রান্না ঘরে কিন্তু আজ সে রান্না ঘরে রান্না করতেছে।মা ওকে হেল্প করতে চাইছে কিন্তু সে নাকি একাই পারবে। . রান্না ঘর থেকে চিৎকার এর আওয়াজ শুনে দৌরে গেলাম।দেখি রান্না করতে গিয়ে হাত পুরে ফেলছে।তাই ফ্রিজ থেকে বরফ বের করে হাতে ধরলাম।আর বললাম।তুমি কেন রান্না করতে আসছো। কখনো রান্না করেছো তুমি?সবসময় পাকামো না করলে হয় না? =ওকে বকসিস কেন।ও তো তোর জন্যই রান্না করতে আসছে(মা বললো)এখন মেয়েটা কাদছে তোর জন্য।মা ঘরে যাও তুমি।বাকিটা আমি করে দিবো। >না মা এখনো তো শেষ হয়নি।আমিই করে নিবো।(কেদে কেদে বললো।) =তুমি পারবে না। -এই অনেক হইছে ঘরে চলো।আর রান্না করতে হবে না তোমার। >বললাম তো আমি পারবো।আপনি যান। =আচ্ছা তুই যা আমি বর্ষার সাথে আছি। . তারপর চলে এলাম। খুব খারাপ লাগছে ওর জন্য। পাগলিটা আমাকে ভালোবাসেনা,অথচ আমার জন্য রান্না করছে তার হাত পুরিয়ে।আর আমি উল্টা বকাঝকা করলাম।রাতে ক্ষমা চেয়ে নিবো ওর কাছে। . >এই যে মিস্টার ফ্রেশ হয়ে খেতে আসুন।খাবার টেবিলে। -হুম আছসি । তুমি ও ফ্রেশ হয়ে নাও একসাথে খাবো। >আমি খাবোনা। -তাহলে আমিও খাবোনা। >আমি এতো কষ্ট করে রান্না করলাম আর আপনি খাবেন না? -খাবোনা বলিনি। তুমি না খেলে আমি খাবোনা। >আচ্ছা আসুন। -আজ আলিয়া নিজে বেরে দিচ্ছে আমাকে।তুমিও বসো। >আগে আপনি খেয়ে বলুন কেমন হইছে তারপর খাবো। -আমি খাওয়া শুরু করলাম।মুরগীর মাংস ভুনা, ডাল,ইলিশ মাছের ঝোল রান্না করেছে।সাথে পায়েস। আমার পছন্দের খাবার সবগুলো।তাই একে একে সবগুলো টেস্ট করলাম।মাংসে ঝাল বেশি মুখে নেওয়া যায় না,ডাল একদম পুকুরের পানির মতো আর মাছের কথা কি বলবো।একদম লবন ছাড়া।তাও খেতে লাগলাম। ওকে বুঝতে দিলাম না। . >কেমন হইছে বললেন না যে। -অনেক টেস্ট হইছে।দেখছো না কি তৃপ্তি করে খাচ্ছি। >সত্যি বলছেন?(খুব খুশি হয়ে) -হুম সত্যি।তুমি খাবে না? >না খাবোনা বলে চলে গেলো।বুঝছি তখন বকা দিয়েছি তাই এখনো অভিমান করে আছে আমার অভিমানীটা। জানি এখন হাজার বার বললেও খাবেনা।তাই অপেক্ষা করছি কখন রাত হবে। . রাত হলো,,খাবার নিয়ে সেইদিনের মতো গিয়ে দেখি সুয়ে আছে মুখটা ভার করে।ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম।আজ সুন্দর করে সেজেছিলো।নীল রংএর সাড়ি পরেছিলো। চুলগুলো এলোমেলো করে সুয়ে আছে। সেদিনের চেয়ে বেশি মায়াবী লাগছে।আমি শুধু ওকেই দেখে যাচ্ছি। . >কি তাকিয়ে আছেন কেন?আপনাকে না বলেছি আমার দিকে তাকাবেন না। -আমি আমার বউয়ের দিকে তাকাইছি। >কে আপনার বউ। -যে আমার জন্য আজ হাত পুরে রান্না করেছে সে। >জি না কেউ আপনার বউ না। -আচ্ছি ঠিক আছে, আগে খেয়ে নাও >আপনি আমাকে তুমি তুমি বলছেন কেন হুম। -আমার বউকে যা খুশি বলবো। চুপ করে খেয়ে নাও। >খাবোনা আমি।( চোখ মুছতে মুছতে বলছে) -এই হাবলি কান্না করছো কেনো?স্যরি বাবু।কেদোনা আমার ভুল হয়ে গেছে।প্লিজ খেয়ে নাও।নইলে সেদিনের মতো রাতে ঘুম আসবে না। >খাবো কিভাবে। হাতটা দেখিয়ে বললো।(একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগছিলো তখন) -ইসস হাতে ফোসকা পরে গেছো।ওর হাতে মলম লাগিয়ে দিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দিলাম। >আপনি খুব ভালো। -হি হি তাই? >এই হাবলু হাসছেন কেন? -এমনি । এখন ঘুমিয়ে পরো। >ঘুম আসছে না তো। -আচ্ছা আমি ঘুম পারিয়ে দিচ্ছি। . হুম এখন অভিমানীটা ঘুমাচ্ছে।কিন্তু প্রতিদিনের মতো নয়।আজ ও আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে একদম বাচ্চা মেয়ের মতো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিমানী (part-2... last part)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now