বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- আমাকে ব্লক দিয়েছো কেন?
(অভিমানি কন্ঠ নিধির)।
-- তুমিই তো দিতে বলেছো।
অভ্রর সুস্পষ্ট জবাব। অভ্রর কথা
গুলিই এমন। যা বলার ডিরেক্ট বলে
দেয়।
-- সেটাতো কষ্ট পেয়ে, রাগ করে
বলেছি।
-- ওও।
-- ঐ তুমি কি মানুষ না অন্য কিছু?
-- সেটা সৃষ্টিকর্তা ভালো জানে।
তাকে জিজ্ঞাসা করো।
-- অহহহ!
-- ....
-- তুমিকি কখনোই আমাকে বুঝবে না!
-- কি বুঝব?
-- আমার খুব কষ্ট হয়।
-- কেন? কি হয়েছে?
-- ভালবাসি।
-- কাকে?
-- তোমাকে।
-- ওও। এর পূর্বেও বেশ কয়েকবার
কথাটা শুনেছি।
-- অভ্র, সত্যি আমি তোমাকে অনেক
ভালবাসি।
কথটা বলতে বলতে নিধির কন্ঠটা
ভারি হয়ে আসছে। ফোনের উপারে
মেয়েটার
চোখে হয়ত ছল ছল করা জল। আর
বুকের মাঝে অব্যাক্ত কিছু যন্ত্রনা।
অভ্র এসবই বুঝতে পারে। তবুও কিছু না
বুঝার বান করতে ওর ভালো লাগে।
.
প্রায় ছয় মাস পূর্বে নিধির সাথে
আমার পরিচয়। আমার এক কাজিনের
বিয়েতে এসেছিল ও। সেই
বিয়েতে
ক্যামেরা ম্যান এর দায়িত্বে
ছিলাম
আমি। পিক নেওয়ার সময় প্রায়
প্রতিটা পিকেই নিধির চলে
আসছিল।
যেদিকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে একটা
পিক
নেই সেখানেই ও। মেঝাঝটাই
বিগরে
যাচ্ছিল।
-- এই আপনি এখান থেকে যান তো।
নিধিকে কে উদ্দেশ্য করে একটু
ঝাঁঝিয়ে
উঠি আমি।
-- কেন? আমি যাব কেন? হুহ!
-- যেখানেই ফটো নিচ্ছি,
সেখানেই ঘুরে
ফিরে আপনার পিক চলে আসছে।
-- ঘুরে ফিরে আমি আসছি না। বলেন
যে, ইচ্ছে করেই ঘুরে ফিরে আমার
পিক
নিচ্ছেন। সব ছেলেরাই এক রকম।
-- এই, উল্টা পাল্টা কথা বলবে না
বলছি।
-- উল্টা পাল্টার কি দেখলেন। যা
সত্যি তাই বলছি। মেয়ে দেখলে আর
মাথা ঠিক থাকেনা। তাই না!
নিধির কথা শোনে মাথাটা একদম
গরম হয়ে গেল। ক্যামেরাটা ছুড়ে ফেললাম
মাটিতে। তারপর
হন
হন করে বেড়িয়ে চলে আসি বিয়ে
বাড়ি
থেকে।
.
শোনেছি পরে নাকি এই ঘটনার জন্য
অনেক কথা শুনতে হয়েছে
নিধিকে।
কারন সবাই জানতো আমি কেমন
ছেলে।
নিধিও নাকি খুব কান্না করেছে।
আর
এই ঘটনাতেই নিধির সাথে আমার
প্রাথমিক পরিচয়।
এর প্রায় অনেক দিন পর ফেবুতে
আমাকে একটা মেয়ে নক করে বলে
তার রিকু এক্সেপ্ট করতে। আমিও কিছু না ভেবে
রিকুটা এক্সেপ্ট করি।...
আইডির নাম ছিল Afrin Nidhi
ফেবুতে মাঝে মাঝে গল্প লিখতাম।
আর
আমার প্রতিটি পোষ্টেই নিধি সুন্দর
সুন্দর কমেন্ট করতো। আমি রিপ্লাই
দিতাম। মাঝে মাঝে কমেন্টে
দুষ্টামিও
হত। এর পর থেকে নিধি মাঝে মাঝে
আমাকে নক করতো। আমিও রিপলে
দিতাম। ধীরে ধীরে চ্যাট এর
সময়সীমা
ও গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। একদিন
নিধি হঠাৎ আমার ফোন নাম্বার চায়।
আমি প্রথমে দিতে ইতস্তত বোধ করলেও পরে
কিযেন ভেবে দিয়ে
দেই। কারন ইতি মধ্যেই ও আমার বেশ ভাল বন্ধু
হয়ে গিয়েছে। ওর সাথে বন্ধুত্বের অন্যতম কারন
ছিল, ও আমাকে খুব গুরুত্ব দিত। কখনো
সামান্যতমও অবহেলা করতো না।
কিন্তু আমি জানতাম না, আমাকে
এতটা গুরুত্ব দেয়ার কারন হচ্ছে
আমার প্রতি ওর দুর্বলতা। সময়ের
সাথে বিষয় টা আমার কাছে
পরিস্কার হয়ে যায়।
সব কিছু বুঝার পরও ওকে সরাসরি
কিছু বলতেও পারছি না। আবার ভয়ও
লাগছে, যদি ও আমাকে ভালবেসে
ফেলে!
.
সেই ভয়টাই এখন বাস্তবে রূপ
নিয়েছে।
আজ থেকে প্রায় দের মাস পূর্বে
আমাকে ডিরেক্ট প্রপোজ করে
নিধি।
আমি ওকে বুঝাতে চেষ্টা করি।
কিন্তু ও নাছড় বান্দা। কোনো ভাবেই
আমার পিছু ছাঁড়ছে না। আমি ওর সাথে
ফ্রেন্ডলি চ্যাট করতাম। ও তাই
করতো। তবে প্রতিদিন রাতে
ঘুমাবার
সময় শুধু একবার করে I love u
বলতো। ওর এই মেসেজটার রিপলে
আমি দিতে পারতাম না। তবে ওর
জন্য
একটু কষ্ট লাগতো। আর মজার বিষয়
ছিল, তখনো আমি জানতাম না এই
নিধিই বিয়ে বাড়ির সেই
মেয়েটা। আর
কখনো ওর পিকও দেখিনি।
.
গতকাল রাতে ও আমাকে কিছু পিক
দিয়ে বলে, দেখ তো চিনতে পারো
কি
না? পিক দেখেতো আমি অবাক।
কারণ
এই পিক গুলি আমার তুলা। ঐ বিয়ে
বাড়িতে।
-- হ্যাঁ চিনবো না কেন? এগুলাত
আমার
তুলা পিক। আর পিকে ঐ লাল জামা
পড়া ডাইনিটার জন্যই আমার প্রিয়
ক্যামেরা টা হারিয়েছি। কিন্তু
তুমি
এসব পেলে কোথায়?
-- অভ্র, এই ডাইনিটাই আমি।
-- কি!
তারপর ওর সাথে কিছুক্ষন ঝগড়া
হয়। কারণ ওর জন্য আমার প্রিয় ক্যামেরাটা
হারিয়েছি।তাই তখন ওর উপর যত রাগ ছিলো সব
জেরেছি। ওকে অনেক কটু কথাও বলি
আমি।
তখন ও রাগ করে বলে যে, ওকে
ব্লক দিয়ে দিতে। আমিও দিয়ে দেই।
.
অনেক্ষণ থেকে কান্না করতে থাকে
নিধি। আর ভাবনার জগৎ এ হারিয়ে
গিয়েছিল অভ্র।
-- এই, কাঁন্না করছো কেন?
-- এমনি। ফোন রাখছি। ভাল থেকো।
-- এই, ওয়েট।
-- কি?
-- ভালবাসা লাগবে?
-- কিসের ভালবাসা? কার
ভালবাসা?
ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য আমি নই।
কথা গুলি বলতে বলতে নিধির
কান্না ভেজা কন্ঠে ভেসে উঠে
অভিমান।
-- আরে বল না, লাগবে কি না?
-- জানিনা।
এবার অভিমান এর পাল্লাটা আর একটু
ভারি হয়ে আসে।
-- আমার না খুব ভালবাসতে ইচ্ছে
করছে গো।
-- কাকে?
-- তোমাকে।
-- তো আমি কি করব?
-- তোমাকে কি একটু ভালবাসার সুযোগটা
দিবে?
-- না করল কে?
কথাটা বলতে গিয়ে নিধির ঠোটের কোনায়
এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো ।
-- Love U..
-- শয়তান, কুত্তা। আমারে এতদিন
কষ্ট দিলি ক্যান?
আবার অভিমান।
-- খারাপ ছেলে যে, তাই। এটা
কিন্তু
তোমার কথা
-- চুপ শয়তান। আমারে কখনো ছাইড়া
গেলে মাইরা ফালামু।
-- হিহিহি।
অতঃপর নিধির মুখেও ফুঁটে উঠে একটা মিষ্টি হাসি।
লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now