বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিখা: আত্রলিতা আয়ুর্ষী
/
নুহাশ: আপনি কি হাসতে ও পারেন না ?
তনু: নাহ.
নুহাশ: আমি পারি. শিখবেন?
তনু: নাহ.
নুহাশ: আরে দেখুন নাহ, এভাবে,মুহাহা , হাহাহ, খি খি ..
তনু: হিহিহ, অদ্ভূত হাসতে পারেন তো আপনি.. হিহি
বলতে বলতেই হেসে দিলো তনু.
নুহাশ: আচ্ছা , আপনি বুঝি এরকম? আম্মু ঠিক এরকম একটার কথাই বলেছিলো.
অবাক হয়ে তনু বললো,
তনু:মানে ,কেমন আমি? কি বলেছে আপনার আম্মু?
নুহাশ: না মানে, একটু রাগি গম্ভীর, তবে মনটা খুব ভালো,, তোকে খুব সামলাতে পারবে.. ভয় পাসনা যেন প্রথমেই.
কথাগুলো শুনে তনু রাগলো কি না তা বুঝা গেলো না. তবে ঠোট চেপে রাখলো, হয়তো হাসি আসছিলো তনুর.
নুহাশ তা দেখে লজ্জা পেলো..
তনু: আচ্ছা আমিতো কেমন বুঝলেন, তো কি করবেন? আগামী দিনটা একবার চিন্তা করেই উত্তর দিন.
একটু ভাবুক হয়ে নুহাশ উত্তর দিলো,
নুহাশ: কি আর করার. আগামী সব কটা দিন ই আপনাকে দলিল করে দিয়ে দিবো ভাবছি.. বেশ হবেনা?
চশমাটা হাতে নিয়ে তনু উঠে দাড়ালো,, বললো ,
তনু:চশমাটা মুছে দিন তো..
পকেট থেকে রুমাল নিয়ে মুছতে লাগলো নুহাশ..
একটু হাটার পর থমকে দাড়ালো তনু..
তনু: দেখুন , আপনাকে আমার ওতোটা ভালো লাগছে না..বাধ্য হয়ে এসেছি আমি, আপনাকে বিয়ে করার মত বোকামী করা উচিত নাহ..
চশমাটা কাপা কাপা হাতে এগিয়ে দিয়ে মুখে একটা ধার করা হাসি ধরিয়ে বললো,
নুহাশ: বোকা মেয়ে আপনি, এতে সংকোচের কি? অপছন্দ হতেই পারে. ব্যাপার নাহ.. ভাবুন যে আজ আপনি অযথাই ব্যয় করলেন দিনটা..
তনু: হুম. সেটাই.. চলুন আর একটু হাটিঁ.
নুহাশ: হুম. চলুন.
তনু: আপনি কাউকে ভালোবেসেছেন কবে ও?
নুহাশ: ছি ছি ,নাহ..
তনু:ওহ. বাসতে পারবে ফিউচার এ?
নুহাশ:হুম..
তনু: কাকে?
নুহাশ:যাকে বিয়ে করবো .
তনু: আপনাকে কেউ বিয়ে করবে?
নুহাশ:আপনার মত কেউ করবেনা.
তনু: বাহ.. সব জানেন..
নুহাশ:শিখছি.
তনু: আর কি কি শিখতে চান?
নুহাশ:যা যা শেখা উচিত..
তনু:যেমন,
নুহাশ: এই, রাগ , ঝগড়া, মারামারি সব.
তনু: আপনি বৌ মারবেন? আপনার আম্মু এটা বলেছে আসার আগে?
নুহাশ:না না. এটা এখন শিখছি..
তনু: মানে আপনি আমাকে মারবেন? রেগে আগুন হয়ে,
নুহাশ: আরে তা কবে বলেছি?
তনু: মাত্র ই.
নুহাশ: সেটা তো বৌ কে..
তনু: ওহ. তাই. ভালো.. আপনাকে কে বিয়ে করবে.হুহ
নুহাশ:হুম. যে করবে তার কপালে কি কে জানে..
তনু: এত্তো সাহস আপনার? একটা সহজ মেয়ে পেয়ে এতো অত্যাচার করবেন?
নুহাশ:হুম. কিছুই করার নেই.
তনু: নিচু পেলে সবাই আধিপত্য বিস্তার করে.হুহ.
নুহাশ:কেউ তো নিচু থাকতে বলেনি..
তনু: কি?
নুহাশ:না কিছু না.
তনু: আপনার জন্য একটা শাকচুন্নি দরকার, যাতে দিনরাত আপনার ঘাড় মটকাতে পারে..তখন বুঝবেন.
একটু নিচু স্বরে নুহাশ বললো,
নুহাশ:শাকচুন্নিটা নাহয় আপনিই হলেন..
তনু: ওই, ফিসফিস করেন কেন?
নুহাশ:এমনি,
তনু: আমি শুনছি,
নুহাশ:তবে কি খুব ক্ষতি হবে আপনার?
তনু: হুহ.. ক্ষতি হলেই বা কি?
নুহাশ:তাহলে থাক.. ক্ষতিটা নাহয় অন্য কোনো সুনয়নার ই হোক.. শুধু শুধু আপনি কেন,..
তনু: ওয়াও.. সুনয়না ও খুজে নিলেন এর মাঝেই.. এটা জানে আপনার আম্মু?
নুহাশ: হাহা. নাহ.. তবে বলেছিলেন যে বৌ সুনয়নাই চাই...আপনি তো নাহ. তাই,, অন্য কেউ ..
তনু: কি বললেন আপনি? আমি সুনয়না না? রেগে.
নুহাশ: আমি কবে তা বলেছি? সুনয়না বটেই.. তবে সে আমার জন্য নাহ.. হয়তো কোন এক নির্মল মনের মানুষের জন্য আপনি.. বলেই চোখ সরালো নুহাশ.
তনু অদ্ভূত ভাবে দেখলো, যে মানুষটা এতোক্ষন সব হালকা করে নিজেকে স্বাভাবিক রেখেই সয়ে নিচ্ছিলেন, তার ও বিষাদ জাগলো... অদ্ভূত টান মানুষের, অথচ আজ ই প্রথম দেখা.. একটু আগেও যেন তনু ভেবেছিলো বিয়েটাই কি সব? এই মানুষটা তাকে বুঝবে তো? সহ্য করবে তো? অথচ সেই এই মানুষটাই সব সহ্য করে একটা টানা হাসি দিয়ে অনাহুত বিষাদ লুকানোর ব্যার্থ প্রয়াস করছে.. মনে হচ্ছে যেন একমুহুর্তের জন্য তনুর পুরো আগামীটাই নুহাশ কিনে নিলো.. তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে তনু নুহাশকে..
হঠাত নুহাশ তাকিয়ে দেখে বললো কি ব্যাপার? নুহাশ:রাগ কমলো? বাড়ি ফিরবেন নাহ?
চমকিয়ে উঠে তনু,
তনু: হুম, এতো তাড়া কেন আপনার? বিয়ের পর ও এমন থাকবেন?
নুহাশ:না মানে অযথা কত সময় নিলাম.. আম্মুকে আমি বুঝিয়ে নিবো. আপনি নিশ্চিন্তে ফিরুন ..
তনু:ওহ.. তনু যেন হঠাত দমে গেলো..
নুহাশ:চলুন তবে.. হাটাঁ দিলো নুহাশ.. পিছু থেকে হাতটা তনুর বাঁ হাতে আটকে গেলো.
ওপস, স্যরি বলে পিছু ফিরতেই নুহাশ অবাক হয়ে গেলো. তনু ওর বড় বড় নখওয়ালা আঙুল দিয়ে খামছে ধরে আছে নুহাশের হাত.. পিছু হটে নুহাশ পাশ ফিরে বললো ,, আগামী দিনগুলো তে যেন খামছি টা নড়বড়ে না হয়ে যায় সুনয়না..
চলচল চোখে একবার তাকালো নুহাশের দিকে, আর তাকাতে পারলো নাহ.. ওর বাহুতে মাথাটা হেলিয়ে হাটতে লাগলো... ভালোবাসি বললো না কেউ ই. বলাটা হয়তো অহেতুক এখানে.. উচ্চারণ ছাড়াই শব্দ শুনা যায় তখন
অযথা বাক্যালাপ করার মানে নেই.. সম্পর্কে ভালোবাসি বলে বলে কান জ্বালাপালা করার মাঝেই টান থাকেনা.. অনুভূতি না থাকলে সে সম্পর্ক অহেতুক .... কিছু সম্পর্কে সংজ্ঞা থাকতে নেই.. অসংজ্ঞায়িত ই থাক..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now