বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবাধ্য কান্না

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X তপু অঘোরে ঘুমাচ্ছে। বাসায় কেউ নেই। তার মাকে আর বোন ডাক্তারের কাছে গিয়েছে। তপু সারারাত এক ফোটাও ঘুমায়নি। কিছু চিরকুট আর কিছু ছবি নিয়ে সারারাত কাটিয়ে দিয়েছে। আর জবাই করা মুরগির মত ছটফট করেছে। তপুর খুব ইচ্ছা করছিল চিরচেনা ১৫৭ নাম্বারটিতে ফোন দিয়ে বলতে ভালোবাসি খুব ভালোবাাসি। , বেশ কিছুক্ষন পর দরজায় নক আর ডাকাডাকি এর শব্দে তপুর ঘুম ভেঙ্গে যায়। অনেক্ষণ ধরে ডাক ছে। ঘুম ভাঙতেই তপু গানের আওয়াজ শুনতে পেলো। হয়তো সামনের বিল্ডিং এর কেউ গান শুনছে। আবার দরজায় নক এর আওয়াজ হতেই তপু বিছানা থেকে উঠে দরজা খুলে দিলো। , তপুর মা ঘরে ঢুকেই জিজ্ঞাসা করলো, কিরে কি করছিস? অনেক্ষণ ধরে ডাকছি নক করছি। , তপু কোনো জবাব দিল না। তার মন গানের লিরিক এর অর্থ বের করায় ব্যাস্ত। সে রুমে ঢুকে তার খাটের উপরে বসে আছে। গানটা তার মোস্ট ফেবারিট গানের মধ্যে একটা। স্বপ্নলোক ব্যান্ড এর ছোট্ট আশা টু গানটি। সেও গানের সাথে সুর মিলিয়ে আন মনেই গাইছে.. এতদিন কেটে গেল বছর ঘুরে আবার এল বন্ধু তোমার মনে আছে কি বল বল..... অদেখা যত সপ্ন ছিল তুমি এলে তাই পূর্ণ হলো আমার "" , হঠাৎ তপুর খুব হাসি পেতে লাগলো। হাসতেও শুরু করলো সে। তার হাসি শুনে তার মা রুমে এসে বললো,, কিরে দিন দিন তুই কি পাগল হয়ে যাচ্ছিস? অনেকদিন ধরে খেয়াল করছি বাসার কারোর সাথে ঠিক ঠাক কথা বলিস, অকারণে হাসিস, রাতে ঘুমাস না। দরজা খুলে বসে থাকিস, মাঝে মাঝে মাঝ রাতে তোর রুম থেকে গানের আওয়াজ শুনা যায়। এসব কি বাবা তোর শরীরের অবস্থা কি দেখেছিস? কাল সন্ধ্যা থেকে কিছুই খাসনি। সেহেরি তেও কিছুই খাইলি না। , তপু কিছু না বলে চুপ চাপ শুনছে। এমন করছিস কেন বাবা? যা গোসল করে আয়। মা রুম থেকে চলে যায়। , তপু তার মার কথা গুলো শুনে রুমের দরজা আটকিয়ে চুপচাপ রুমের ভিতর বসে থাকে। গানটাও এত ক্ষনে চেন্জ হয়েছে সে ভাবনার জগতে হারিয়ে যায়। , আজ থেকে ৪বছর আগে কোনো এক সকালে একটা মেয়েকে তার সামান্য কিছু সময় দেখেই অসম্ব ভালো লাইগা যায় , হুম সেই মেয়েটি, যে তাকে ডাইহার্ড ভাবে ভালবাসতো। নিজের পাশে বসিয়ে খাইয়ে দিতো। , মেয়েটির একটা কথা হঠাৎ করে তপুর মনে পড়লো, একদিন মেয়েটি তপু কে বলেছিল,, কখনো যদি আমি না থাকি তাহলে কি তুমি আমাকে মিস করবে, ভুলে যাবে না তো? , কথাটা মনে পড়তেই তপু খুব জোরে হেসে উঠলো, আনমনেই বলতে লাগলো,, তুমি কি জানো, আমি এখনো তোমায় ভালোবাসি? তুমি কি জানো, তোমার রক্ত লাল টোল পড়া বাঁকা ঠোঁটের হাসি এখনো আমার কানে বেজে আছে? তোমার বড় বড় কাজল টানা চোখের চাহনি এখনো আমার মনের গহিনে উঁকি দেয়? তোমার দীঘল কালো রেশমী চুলের সুবাস এখনো আমার অবচেতন মন অনুভব করে? , তুমি কি জানো? প্রতিটি মূহুর্তে তুমি আমার মগজের মেঝেতে ঘন ঘন পায়চারী করো? আর কিছুক্ষন পর পর আমার মনের দরজায় কড়া নাড়ো? যার কারনে প্রতিটি মূহুর্তে আমি তোমার অস্তিত্ব অনুভব করি? নাহলে কেন সেদিন আমাকে কথাটা জিজ্ঞেস করেছিলে? কেনো? , তুমিতো ঠিকি আমাকে ভুলে অন্য আকাশে পাড়ি জমিয়েছ। চলে যাওয়ার যখন এতই ইচ্ছা ছিলো, তাহলে কেনো এত স্বপ্ন দেখালে? কেনো? , তপুর রুমে আবার তার মায়ের প্রবেশ। ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এলো। , কিরে তোর কি হয়েছে? রুমে ঢুকেই তপুর মা বললো। তোর হাসির শব্দ শুনে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রুমের বসে পাগলের মতো হাসছিস।তুই কি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছিস? , এখন সকাল ১১:৩০ বাজে। অথচ এখননও বিছানায় রাতে ঘুমাস না কি হইছে টা কি তোর আর আল্লার দোহাই লাগে আজ দাড়ি চুল কাইটা আয় অনেক দিন যাবৎ মা আর বড় আপুর এইন১কথা শুনতে শুনতে অসহ্য লাগছে তার। দাড়ি কাইটা আয় দাড়ি কাইটা আয় দাড়ি কাইটা আয় সারাক্ষণ খাটের ১কোনায় পইড়া থাকিস কি সমস্যা কি বল।আগে তো মোবাইল নিয়া পইড়া থাকতি ২৪ঘন্টা এখন তাও বন্ধ কইরা রাইখা দিছো বন্ধুরা বাসায় ফোন দেয়। আজ থেকে আমাকে আর মা বলে ডাকবিনা। হয় পাগলামি ছাড়বি নাহয় আমাকে মা বলে আর ডাকবিনা। কথা গুলো বলে তপুর মা রুম থেকে চলে যায়। , তপু মনে মনে বললো, ঠিকাছে মা, আজ থেকে তুমি আর দাড়ি দেখবেনা। , তপু ভাবতে লাগলো, আচ্ছা দুনিয়াতে সেই কি কেবল একমাত্র অতিরিক্ত প্রাণী? যার বিচরণে কিনা আজ সবাই কেবল তিক্ত বিরক্ত হচ্ছে। তপুর বুক ফেটে কান্না আসতে লাগলো। সে রুমের দরজা বন্ধ করে মোবাইল এ ফুল ভলিয়মে গান ছেড়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। আর তার সেই কান্নার আওয়াজ গানের সাউন্ডে ঢাকা পড়ে গেলো। , ,অতঃপর বাসা থেকে বের হয়ে গেল রোড এ হাটছে খুব পিপাসা পেয়েছে তবে সেটা পানির নয় সিগারেট এর। হঠ্যাৎ চোখে সেলুন বাজতেই মা এর কথা মনে পড়ে যায়। অতঃপর সে সেলুন এ ডুকলো আর হনুমান হয়ে বেড়াল। সে সামনের দোকানে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কেরোসিনের বোতলের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। , হুম, আজ সে তার সবচেয়ে প্রিয় ২টা জিনিস পুড়ে ফেলবে। একটা হচ্ছে তার ডায়রী। যেখানে পুরো পাতা জুড়ে সেই মেয়েটির কথা লেখা রয়েছে। আর আরেকটা হচ্ছে তার ছবিগুলো। যা কিনা তার ভালোবাসার শেষ চিহ্ন। , তপু বাসায় এসে ডায়রী থেকে একটা একটা করে পাতা ছিঁড়ছে। তপুর মনে হতে লাগলো। সে ডায়রীর পাতা ছিঁড়ছেনা, তার মনে হল সে তার হৃদয়টাকে টেনে টেনে ছিঁড়ছে। , সমস্ত পাতা ছিঁড়ার পর তাতে সে আগুন ধরিয়ে দিলো। পাতা গুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে। সিগারেটে লম্বা একটা টান দিতে খুব ইচ্ছা করছে। এক দৃষ্টি তে পুড়ে যাওয়া ডায়রীর পাতা গুলোর দিকে চেয়ে রইলো। , আগুনের শিখাগুলো তার ঝাপসা লাগছে। কারন তার চোখের অঝর বৃষ্টির ধারা গুলো তার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা করে দিয়েছে। , ডায়রীর সব পাতা পুড়ে শেষ। এমন সময় একটা ছবি হাতে নিয়েও আবার রেখে দিল না এটা তার দ্বারা সম্ভব না।।। তপু ছবিটার টার দিকে এক দৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষন চেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো। , সে তার হাতের ছবির মানুষ কে উদ্দেশ্য করে বলল তোমার ও কি জানা হয়ে গেছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। থাচায় বন্দি তার দেওয়া তপুর জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার টিয়াপাখি টি তপু তপু বলে ডাকছে। তপু কাদছে আর মনে মনে বলছে আসল টিয়াপাখি টাই নাই তুই তো শালা বনের টিয়া এই বলে খাচায় টিয়া টারে ছেড়ে দেওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করল। মনে মনে বলছে দেখছো ওর ভিতরে এই ২বছরে ভালোবাসা জন্মেছে যেটা ৫ বছরেও তোমার ভিতর জন্মায়নি। , তপু অপলক চোখে পাখিটার দিক তাকিয়ে আছে। , তপু আর থাকতে পারছে না কি করে থাকবে তপুর মগজে একজনেই ঘন ঘন পায়চারী করে অস্তিত্ব জানান দিয়ে যায়। আর যখনি অস্তিত্ব জানান দিয়ে যায় তখনি মন নামক অবুঝ প্রাণীটি চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। আর অবুঝ এই বোবা প্রাণীটির কান্না থামছেই না ,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবাধ্য কান্না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now