বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অায়না খেলা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shayer Ahmed (০ পয়েন্ট)

X রাত বারোটা বাজে। চারিদিক নিস্তব্দ। নাসরিন বদ্ধ ঘরে একা দাড়িয়ে। ড্রিম লাইট জ্বলছে তার রুমে। সে দাড়িয়ে অাছে অায়নার সামনে। বিশাল অায়নাটির সামনে যেটি তার বাবা কিনে এনেছিল কাল। তার রুমে লাগানো হয়েছিল অায়নাটা কেননা তার অনেক শখ ছিল তার রুমে একটি বড় অায়না থাকবে। সে এখন দাড়িয়ে অাছে অায়নার মাঝখান বরাবর, নিজের চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে রয়েছে, কোনো কিছুর অপেক্ষা? নাকি বেমালুম অবচেতন মন কোনো ফাদে পা দিয়েছে তা বোঝা যায় না। সে দাড়িয়েই অাছে, কোনো নড়চড় নেই। নিজের চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে। হঠাৎ করে একটা বিকট চিৎকারে নাসরিনের মা বাবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তারা দৌড়ে এলেন নাসরিনের ঘরে। মেয়েটি অায়নার সামনে মাটিতে পরে গিয়ে প্রাণপণ কাতরাচ্ছে। চুল গুলো অাগোছালো হয়ে পড়েছে। চোখের পানি গাল গড়িয়ে পড়ছে, অার চোখ? চোখগুলো লাল হয়ে অাছে,! এমন লাল যেন রক্ত বেরিয়ে অাসছে সেগুলো থেকে। তারাতারি তাকে ধরে বহু কষ্টে বিছানায় নিয়ে শোয়ানো হলো। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সে হুশ হারালো। তার পাশেই চিন্তামগ্ন রাত কাটালেন মি: খালেক ও তার স্ত্রী। মেয়ের চিন্তায় তারা অার ঘুমোতে পারেন নি। সকাল ৭ টার দিকে নাসরিনের ঘুম ভাঙ্গলো। তারা দেখলেন মেয়েটি পুরোই স্বাভাবিক। সে কি মোটেও কিছু জানে? কাল রাতে কি তার জন্য কিছুই ঘটেনি? তাদের মনে প্রশ্ন জাগে। তারা মেয়েকে জিগাসা করতে ভয় পায়। জিগাসাও করেনি শেষে। মেয়ে যখন কলেজে চলে গেল তখন তারা এক হুজুরের শরণাপন্ন হলেন। হুজুরকে সব কিছু বলার পর তিনি একটি তাবিজ দিলেন নাসরিনের হাতে বাধার জন্য। নাসরিনের মা তাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাবিজটি পড়াতে সফল হলেন। তাকে তাবিজটি পড়াতে তাদেরকেও তাবিজ পড়তে হয়েছে। নাসরিনকে বলেছে তার বাবার একজন বন্ধু অনেক বড় পীর, তিনি নাকি তাদের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন। এগুলো পড়লে শারীরিক সব রোগ বালাই দূর হয়ে যায়। সে রাতে কিছুই ঘটেনি। মি:ও মিসেস খালেক এ রাতও ঘুমহীন কাটান, সকালে মেয়ে উঠে দেখে বাবা মা দুজনই ঘুম। তাই সে একা একা নাস্তা করে কলেজে চলে যায়। ঘুম থেকে উঠে মিসেস খালেক নাসরিনের রুমে অাসেন। ঘরটিকে একটু পরিষ্কার করা দরকার। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তিনি ঝাড়ু দেয়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে কাজের সুবিধার্থে হাত থেকে তাবিজ খুলে রাখেন।তাবিজ খোলার সাথে সাথেই চোখের কোনা দিয়ে অায়নার মাঝে একটা নড়চড় টের পান তিনি। ভাবলেন হয়তো তার মনের ভুল। মনের ভুল ভেবেই তিনি কাজ করে রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। অাজ কলেজ থেকে ফিরে নাসরিন অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। গোসল করে সোজা ঘুম। গোসল শেষে তাবিজটি হাতে পেচাতে ভুলে গেল সে। হঠাৎ করে চোখ খুললো তার। কেন তার ঘুম ভাঙ্গলো? কিসের যেনো একটা শব্দ শুনলো সে। কেমন গায়ে কাটা দেওয়ার মতো। চারিদিক সন্ধ্যা অন্ধকার। বিছানা থেকে নেমে সে সোজা চলে গেল অায়নার সামনে। নিজের চেহারাটা দেখলো। হঠাৎ করে মনে কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি জাগলো তার মনে। তার মনে হলো অায়নার ওপাশে কি যেন হচ্ছে! তার মা! তার মা অায়নার ভিতরে, কিন্তু বাহিরে তাকে দেখা যাচ্ছে না কেন! সে চিৎকার করে উঠলো। তার মাকে সে দেখতে পাচ্ছে অায়নার ভিতরে! দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল সে। নিচে এসে সব জায়গায় তন্ন তন্ন করে তার বাবাকে খুজলো। কোথাও নেই। চারিদিকে রাতের অাধার নেমে এসেছে। হঠাৎ নিজেকে বড়োই নিঃস্ব মনে হতে লাগলো। সে চুপে চুপে নিজের রুমের দিকে গেল, গাল গড়িয়ে অশ্রু ঝরছে।রুমের সামনে এসে একবার উকি মারলো ভিতরে। তার মাকে দেখতে পেল অায়না ভেদ করে। তিনি ঘর ঝাড়ু দিচ্ছেন! একপর্যায়ে সে নিজেকে অার সামলাতে পারলো না, দৌড়ে অায়নার সামনে গিয়ে মা মা, বলে চিল্লাতে লাগলো। তার মা হঠাৎ ফিরে তাকান তার দিকে। কিন্তু তার দৃষ্টি তাকে পেরিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর তিনি রুম থেকে বের হয়ে যান। বুকের মধ্যে যেন কোনো কিছু একটা বাড়ি মারছে জোরে। নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। সে বুঝেছে সে এখন অায়নার মাঝে অাবদ্ধ। অায়না পেরিয়ে বাস্তব জগতে তার দৃষ্টি। কিন্তু সে জগত তার থেকে বিচ্ছিন্ন। কেউ জানে না সে কোথায়। হঠাৎ নাসরিনের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। বুকের মাঝে তীব্র ব্যাথা অনুভব করলো যখন সে নিজেকে অায়নার মাঝে দেখতে পেল! সে অাজ কলেজ থেকে ফিরে যা যা করেছে বা যা কিছু ঘটেছে তারই পুনরাবৃত্তি। সে দেখলো সে বিছানায় শুয়ে পড়লো ঘুমানোর জন্য।  কেন যেন সে অার সহ্য করতে পারছে না। ভাবলো এবার অায়নাটাকেই ভেঙ্গে ফেলবে।কিন্তু পারলো না। সে শক্তি তার মধ্যে নেই অথবা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা তাকে তা করতে বাধা দিচ্ছে। একসময় মনে হতে লাগলো সে অার কোনোদিন ফিরে যেতে পারবে না। তার অাশঙ্কা অনেকটাই সত্যতে পরিণত হয়ে গেল যখন সে নিজেকে অায়নার ভিতর মোচড়াতে দেখলো বিছানার উপর! তার নিজের চোখে বিশ্বাস হচ্ছে না সে কি দেখছে! এ হতে পারে না। তার দেহ এমনভাবে মোচড়াচ্ছে যেন সেটা মানবদেহ নয়, কোনো কাগজের টুকরো! কিছুক্ষন পর সব শান্ত। অায়নার ওপাশে। নিজেকে নিথর হয়ে যেতে দেখে কেমন যেন বমি পাচ্ছিল। নাসরিন ভাবলো তাহলে কি তার মৃত্যু ঘটেছে? সে মারা গেছে! কিছুক্ষন পর তার মাকে তার রুমে ঢুকতে দেখলো। তার পাশে এসে বসলেন তিনি। তাকে কি যেন বললেন। অাশ্চর্য জনক ভাবে অায়নার ওপাশে দেখতে পারলেও নাসরিন শুনতে পারছে না কিছুই। সে তার মাকে নিজের দেহতে ঝাকি দিতে দেখলো। মায়ের শঙ্কিত মুখ দেখে নিজের মৃত্যুর স্বাদ টের পেল। এমন সময় চোখের অালো ক্ষীণ হয়ে অাসলো। নিজেকে হারিয়ে ফেলতে লাগলো। জীবনীশক্তি ফুরিয়ে যেতে লাগলো। হঠাৎ একটা ঝাকুনি তাকে জাগিয়ে তুললো। তার মায়ের কথা কানে এলো। " নাসরিন মা তুই তাবিজ খুলে রাখলি কেন! তোকে না বললাম এটা পড়ে থাকতে সবসময়! কখনোও কথা শুনিস না তুই। " হাতে পেচিয়ে দিলেন তাবিজটা। নাসরিন ঘুম থেকে জাগার পর দেহে তার ঘামের জোয়ার নেমে এলো। সে নিজেকে নতুন করে অাবিষ্কার করলো। যেন তার পুনর্জন্ম ঘটেছে এইমাত্র। শুয়ে থাকা অবস্থাতে চোখ ঘুরিয়ে অায়নার মাঝে তাকালো। নিজেকে দেখতে পেল। নিজের প্রতিবিম্ব।  তার মা তাকে জিগাসা করতে লাগলেন সে ঘামাচ্ছে কেন এভাবে! সে ঠিক অাছে? মায়ের কথা গুলো সে শুনেও যেন শুনতে পারলো না । হঠাৎ একলাফে বিছানা থেকে নেমে ড্রেসিং টেবিলের সামনের টুলটা নিয়ে অায়নার দিকে ছুড়ে মারলো। ঝন ঝন করে ভেঙ্গে পড়লো অায়না। সাথে সাথেই ঘরের লাইট গুলো নিভে গেল, জ্বলে উঠলো। অাবার নিভলো, অাবারো জ্বললো।একটা চাপা কন্ঠস্বর যেন প্রকাশ করলো কোনো কিছুর জীবনের সমাপ্তি। নিজের মাকে জড়িয়ে নাসরিন হাউমাউ করে কাদতে শুরু করলো। সকাল বেলা নাসরিন জেগে দেখে সে তার মার কোলে ঘুমিয়ে ছিল এতক্ষন। তাকে জাগতে দেখে মা তাকে বললেন" হুজুর বললেন, অায়নাটিতে একটি প্রেতাত্মা অাটকে ছিল। কোনো একসময় কেউ কালো জাদু করাতে অায়নাটিকে ব্যবহার করেছিল। তবে এখন অার কোনো চিন্তা নেই। অাত্মাটি মুক্তি পেয়েছে"। নাসরিন তার মাকে জিগাসা করলো তার বাবা কোথায়। " তোর জন্য অারেকটা অায়না কিনতে গেছে, তবে এবার নতুন অার ব্রেন্ডেড অায়না কিনবে, অার বলেছে জীবনে কখনো অার নিলামের কোনো জিনিস ঘরে উঠাবে না।" নাসরিন মার কোলে মুখ গুজে একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিলো অবশেষে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অায়না খেলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now