বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৩]

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 রওনা হয়ে গেলাম,এখন বিকেল হলেও গরম আজ অনেক,হাতে বন্দুক নিয়ে রওনা হয়েছি আমরা।জঙ্গল কোথাও কোথাও এতো ঘন যে গাঢ় ছায়ার জন্য বোঝাই যায় না যে রোদ আছে বা দিন কিনা।রওনা হয়ে গেছি আমরা।সবগুলো দল নিজ নিজ পথে যাচ্ছে।আমরা আমাদের পথ ঠিক করে নিয়েছি পূর্ব দিকে।এই দিক দিয়ে সোজা দুই মাইল পথ যাব,চারপাশটা পর্যবেক্ষণ করতে করতে যাব,তারপর আবার সবাই আমাদের অস্থায়ী ক্যাম্পটার কাছে এসে জড়ো হবে।পরিকল্পনা মতো এগুচ্ছি।আমাদের থাকার জায়গা মানে অস্থায়ী ক্যাম্পটার কাছ থেকে আশেপাশে প্রায় অনেকটাই আমরা দেখে নিয়েছি আগেই।এবার দেখব অ্যামাজনের এক অন্য জায়গা। আমরা রওনা দিয়ে দিয়েছি,মি.A সামনে দিয়ে চলছে আমাদের,আমরা পিছনে।রুবি আপু,সারা,সুস্মিতা এরা গান গাচ্ছে।গান মিষ্টি লাগছে এই রকম জঙ্গলে,কিন্তু তাই বলে যে পরিবেশ অনুকূলে তা ভাববেন না,কারণ এখানে তো কেউ আমাদের জন্য রাস্তা বানিয়ে রাখে নি।কিছুক্ষণ পর পর ঝোপ ঝাড় বা ছোট গাছ কেঁটে কেঁটে যেতে হচ্ছে।মি.A যে কী করতে চাচ্ছেন তা বুঝলাম না।আমরা চলছি তো চলছিই, প্রায় দেড় মাইল হেটেছি।এখন আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের সামনে আর কোনো ঝোপ নাই।আমরা এখন প্রায় একটা ময়দানে হাজির,চারপাশে সবুজ ঘাস,কিছু উঁচু উঁচু গাছ,উচুনিচু মাটি,আর কিছু অদ্ভূত সুন্দর প্রাণীদের আবাস।আমরা তো হাটছি,সামনে পড়ল একদল হরিণ,হরিণের গায়ের গোল গোল ছোপগুলো অনেক সুন্দর লাগছে আমার কাছে,মাথার শিংগুলোও খুব সুন্দর,আমাদের আসতে দেখে পালিয়ে গেল।বুঝলাম হয়তো মানুষ চিনে বা আগেও মানুষের ভয়াবহতার শিকার হয়েছে,তাই আমাদের দেখে পালিয়ে গেল।আমি বললাম,,, "মি.A আমার তো মনে হচ্ছে আমাদের আগেও এই জায়গায় আরও মানুষ এসেছিল,দেখেছেন কিভাবে আমাদের দূর থেকে দেখেই পালিয়ে গেল,নিশ্চয়ই কয়েক বছরের ভিতরে আরও কেউ এসেছিল এই জায়গায়।" মি. A ::: "তোমার কথা ঠিক,এরা মানুষ না দেখে থাকলে আমাদের ভয় পেত না,বরং নিজের মতো করে ঘাস খেয়ে যেত।কিন্তু দূর থেকে দেখেই পালিয়ে গেল।নিশ্চয়ই কেউ এসেছিল।" হৃদয় ভাইয়া ::: "যদি মানুষ আগেও এসে থাকে তাহলে তো এখানকার সম্পর্কে কোনো পর্যটক বলত,তাছাড়া T.R.smith এবং Natinal Amazonia Map এও তো বলা থাকত যে এই জায়গাটায় মানুষ আসে।কিন্তু সব জায়গায় তো লেখা আমরা যে জায়গায় এখন আছি সেখানে কোনো আবিষ্কারই হয় নি।" রুবি আপু::: "যদি মানুষ এসেই থাকত তাহলে তারা গেল কই??? আর তারা জানালো না কেন???" সিয়াম :::আচ্চা এরাও তো আবার রহস্য কূপে আসে নি??? মি.A ::: বাদ দাও তো,এসে থাকলে এসে থাকবে।চলো সামনে এগুই। সারা::: হ্যা,সবাই এগিয়ে চলুন। আনিকা:::আর কতো হাটব??? আমি আর হাটতে পারছি না। মেহেদী ভাইয়া:::আরও আধ কি.মি. এর মতো সামনে যেতে হবে। ফারহান::: ওরে বাবারে,আরও অ্যামাজন সত্যিই বিস্ময়কর,এক জায়গা থেকে আরেকটা জায়গা আলাদা।এই যে পিছনে ঘাসে ভরা জমিন ফেলে আসলাম এখন যে জায়গায় আছি এখানে ঘাস নেই,শুধু মাটি,অদ্ভূত মনে হলেও সত্য,মাটি কেমন যেন ভিজা ভিজা আর স্যাঁতস্যাঁতে। মনে হচ্ছে বৃষ্টির মৌসুমে এখানে হয়তো চোট খাট ঝিলের সৃষ্টি হয়।আনিকা,ফারহান, রুবি আপু এরা বারবার থেমে যাচ্ছে,মি.A দূরবীন দিয়ে কিছু দেখছেন আশেপাশে।তার লক্ষ্য মূলত উঁচু একটা জায়গা যেখান থেকে আশেপাশে দেখা যায়।হঠাৎ আমাদের পাশে কেমন যেন ফোসফোস শব্দ হচ্ছে প্রচুর।সাপ যেমন জিভ বের করে হিস হিস করে তেমনি।নিচের দিকে তাকালাম,একি!!!আমাদের চারদিকে কতগুলো সাপ আমাদের ঘিরে ধরেছে।মি.A ও দেখলেন,তাকেও বিচলিত মনে হচ্ছে,কারণ সাপগুলো বিষধর,আমাদের কাছ থেকে এখনও ফুট পঞ্চাশেক দূরে সাপগুলো,তবে মূহূর্তেই হাজির হলো আমাদের কাছে।কালো রং, চোখগুলো খানিকটা লালচে,আর প্রায় ৩ ফুট লম্বা সাপগুলো,আমাদের হাতে গাছ কাটার কুঠার আছে,লাঠি নেই।তাহলে মারব কী করে??? সাপের কামড় খাওয়ার যে ভয় আছে এমন নয়,কারণ আমাদের পায়ে পুরো জুতা আছে যা প্রায় হাটু পর্যন্ত ঢাকা।কিন্তু সাপের কামড়ে কখন কী হয়ে যায় বলা যায় না।সাপগুলো আমাদের কামড় দিবে এমন সময়,এই রে সাপগুলো কামড় দিয়ে দিবে,আমরা চোখ বন্ধ করলাম। ধপাস ধপাস করে কিছু পড়ল বলে মনে হলো, শব্দটা অনেক দূরে হচ্ছে,এটা কীসের শব্দ জানি না,চোখ খুললাম,সাপগুলো দূরে চলে যাচ্ছে দৌড়ে দৌড়ে।এতোক্ষণে কলিজায় পানি আসল।হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মি.A এর খোজার জায়গা মানে উচু জায়গার সন্ধান পেলাম,কিছুটা উচু টিলা,প্রায় ৭০ ফুট উঁচু।মি.A এর ইচ্ছা ওইখানে চড়বেন।সিয়াম,সারা,রুবি আপু,আনিকা, আর ফারহান না করে দিল,ওরা উঠবে না।আমি,মি.A আর হৃদয় ভাই চড়ব।ওরা নিচ থেকে দাড়িয়ে দেখছে, সামনে দেখে চলছি।মেহেদী ভাইয়া মাটিতে পড়ে গেল,তলিয়ে যাচ্ছে ও,নিচের দিকে চলে যাচ্ছে।আমরা দেখলাম মাটিতে তলিয়ে যাচ্ছে।বুঝতে কষ্ট হলো না এখানে চোড়াবালি আছে,সাবধানে কাজ করতে হবে।আমাদের কাছে তো দড়িও নেই,কী দিয়ে টেনে তোলব।চিৎকার দিয়ে বললাম,,, "মেহেদী ভাইয়া,একদম নড়াচড়া করবেন না।নড়াচড়া করলেই নিচে চলে যাবেন।" এখানে লম্বা লতা জাতীয় গাছ আছে কী???।রুবি আপু,সারা,আনিকা, ফারহান,সিয়াম এরাও চলে আসল।খানিকটা দূরে দেখলাম লতা জাতীয় গাছ,ছুড়ি বের করে দৌড় দিলাম,লতা কেটে আনলাম।যথেষ্ট শক্ত লতা এটা।লতা নিয়ে বাড়িয়ে দিলাম মেহেদী ভাইয়ের দিকে,বললাম এটা ধরুন,আর শুয়ে পড়ার মতো এগিয়ে আসুন।আমরা লতা টেনে ধরলাম।ওনি খানিকটা শুয়ে শুয়ে আসার চেষ্টা করতে লাগলেন।প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় কাছে আনা হলো।ওনার সারাশরীর কাঁদায় ঢেকে গেছে,কাঁদায় ভূত মনে হচ্ছে। মি.A সহ আমি আর হৃদয় ভাই সাবধানে টিলায় উঠলাম।চারপাশে খানিকটা বিস্তৃত জঙ্গল,আবার কয়েকটা জায়গায় ফাঁকা আছে।আরও যা দেখার সব দেখা হলো।এবার ফিরে যাওয়ার পালা।আমরা ফিরে চললাম।গিয়ে দেখি বাকি সব টিম চলে এসেছে,আমাদের অপেক্ষা করছে। তানিম ভাই:::তোমাদের সাথে এই ভাষ্কর্যটা কোথা থেকে আনলে??? ভাষ্কর্যটা তো দেখছি চলতেও পারে।কোথায় পেলে??? মেহেদী ভাই:::আজ আমি কাঁদায় পিষে গেছি বলে তুমি মজা করতে পারলে??? মফিজুল:::ভাই পিষে যাওয়া নয় এটা হবে কাঁদায় ভরে গেছি বলে। মেহেদী ভাইয়া:::আমায় জ্ঞান দিতে হবে না। তাহিরা আপু::: কী হয়েছিল বলবে তো,,, আমরা সব কিছু খোলে বললাম।সবাই বুঝল কতোটা ভয়ে পড়েছিলাম।ওই বিকট শব্দটার কথাও বললাম,ওরা শুনেছে কিনা।রেহনুমা আপু বলল,,, "আমি শুনেছিলাম,আমাদের দলের সবাই শুনেছে" শিখ:::হ্যা,ভাইয়া আমিও শুনেছি।কিন্তু এটা কীসের শব্দ??? রনি ভাই:::জানলে কী আর তোমায় জিজ্ঞেস করত??? তর্ক শুরু হলো শিখা আর রনি ভাইয়ের মাঝে। অবন্তী:তোমরা চুপ করবে??? মেহরাজ ভাইয়া:চলো আজ আবার গোসল করতে হবে।আর মেহেদীর যে অবস্থা তাকে তো সারারাত পানিতেই রাখতে হবে। মেহেদী ভাইয়া::: না মুই সারারাইত পানির মধ্যে থাকবার পারুম না।সরি আঞ্চলিক বললাম,আমায় যদি পিরানহা ধরেgjgjgj সবাউ হাসি মজা করতে করতে আমাদের মূর্তি মেহেদী ভাইয়াকে নিয়ে চললাম গোসল করব আবার। এখন গোসল করব,গোসল শেষে কী হলো বলব,,, [ এ পর্বটা কেমন হলো??? অতোটা ভালো করে মনে হয় লিখতে পারি নি।মোবাইলে সমস্যা তো।আর নিজেকে আমি চরিত্রে কল্পনা করেছেন??? কল্পনা করে পড়লে বেশি মজা পাবেন।] বি.দ্র.:অনেকটা মেধা আর শ্রম দিয়ে লিখি।আর আমি ভালো লেখকও না।তাই প্লিজ আমার লেখা কপি করবেন না। চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৩]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now