বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ও আমায় ভালোবাসে নি

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ইমরান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X Sorry মিথি পারলে মাফ করবে আমাকে । আমি আসলে চারুকে ভালোবাসি তোমাকে না , সেই স্কুল লাইফ থেকেই আমাদের সম্পর্ক ছিল কিন্তু মাঝখানে একটা তিক্ত সময় না চাইতেও চলে আসে .. চারু আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না ব্যাপারটা! আর এ কারণেই… আই হোপ তুমি বুঝতে পারবে আর প্লিজ পারলে মাফ করবে আমাকে? এতটুকু বলেই থামলো ফয়সাল । আমার চোখ ফেটে কান্না আসতে চাইছে , হৃদয় ভেঙে চুরমার! কিন্তু তবুও নিজেকে সামলে রেখেছি বড্ড কষ্ট করে । দু’টো ভালোবাসার মানুষকে আলাদা করার অধিকার আল্লাহ আমাকে দেননি আর ভালোবাসা জোর করে আদায় করে নেবার শক্তিও দেননি! এই ব্যাপারে আমি কি বলবো খুঁজে পেলাম না । কান্নাগুলি গলার মাঝে এসে আটকে গেছে , আমিই আটকে রেখেছি জোর করে । বহু কষ্ট নিজেকে সামলে একটু হাসলাম আমি । হেসেই ফয়সালকে বললাম_ যাক প্ল্যান কাজে লাগলো তাহলে? — প্ল্যান? ফয়সাল আর চারু আপু দু’জনেই একসাথে বলে উঠলো আমাকে ।- ও আমায় ভালোবাসেনি — হুউউ , প্ল্যানই তো । আপনাকে আর চারু আপুকে মেলাবার জন্য কত্ত পরিশ্রম করতে হলো আমাকে , অভিনয় করলাম ভালোবাসার যাতে আপু জেলাস হয় আর আপনার কাছে ফিরে আসে । উফফ আমার পরিশ্রমের ফল পেলাম তাও আবার এত্ত মিষ্টি একটা! উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হলো আমাকে জোর করেই.. আমার কথা শুনে ফয়সাল আর চারু আপু দু’জনেই হেসে ফেললো । একসাথে বললো_বাচ্চাই রয়ে গেলে তুমি! আমিও মাথা নাড়িয়ে বললাম_তা তো অবশ্যই! তারপর আমিই আগে বললাম_ উহুম উহুম আমার কিন্তু জলদি খুশির খবর চাই। চারু আপু একটু লজ্জা পেলো আর ফয়সাল মাথা চুলকে বললো _পাবে পাবে! তারপর আরো কিছু বলতে চাইলো কিন্তু তার আগেই আমার ফোনটা বেঁজে উঠল । ফোনটা পেয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম মনে হলো । এক্সকিউজ মি বলে উঠে সাইডে চলে আসলাম । বাবা কল করেছেন , কিন্তু আমি আসলে রিসিভ করলাম না ।বাবার কন্ঠ শুনলে আমি মোটেই কান্না আটকাতে পারবো না তাই বেশ কিছু সময় ব্যায় করে ফোন কেটে ওদের কাছে গেলাম । ব্যাগ নিতে নিতে তাড়াহুড়ো করে বললাম_ আমার আসলে এক্ষুণি বাসায় যেতে হবে , বাবা কল করেছিলেন । ফয়সাল বললেন_আরেহ্ বসে যাও খানিকটা আঙ্কেলকে আমিই বুঝিয়ে বলবো । আমি বললাম_নাহ্ রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বাবা বেশ রেগে আছেন! আমি বরং যাই… তল্পিতল্পা করে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে আসলাম । আসার সময় বলে আসলাম_খুব ভালো থাকবেন আপনারা! বিনিময়ে ওরা হাসলো । আপু বললো তুমিও ভালো থেকো ।- ও আমায় ভালোবাসেনি মনে মনে শুধু বলে উঠলাম_ আমার ভালো থাকাটাই আপনাকে দিয়ে দিচ্ছি এখন কি আর ভালো থাকতে পারবো? , রিকশা করে যাওয়ার সময় ঠিক করে ফেললাম আমি আজই লন্ডন চলে যাব । ফয়সালকে মিথ্যে বলেছি আমি , আমার রেজাল্ট খারাপ হয়নি বরং এতটাই ভালো হয়েছে যে আমাকে ল-নিয়ে বিদেশে পড়বার সুযোগ দেয়া হয়েছে । ৪ বছরের কোর্স , ভেবেছিলাম মানুষটাকে ছাড়া এতদিন থাকতে পারবো না তাই যেতে চাইছিলাম না কিন্তু আজ মানুষটার থেকে দূরে যাওয়া বড্ড প্রয়োজন মনে হচ্ছে । জীবনটা বড়ই অদ্ভুত , আমরা যা চাই তা পাইনা । এই চিরন্তন সত্যটি আমি একদম ছোট থেকেই পদে পদে টের পেয়েছি । ছোট থেকেই আমি সবসময় চাইতাম অন্য সবার মত একটা নরমাল লাইফ , নরমাল ফ্যামিলি । পুরো পৃথিবীর কাছে আমার পরিবার নরমাল হলেও আমার কাছে মোটেই নরমাল ছিলো নাহ । কারণ আমি ছোট থেকেই আমার মায়ের ভালোবাসা পাইনি । এর কারণ হলো মা মনে করেন তার একটা সন্তানকে আমি খুন করেছি । আচ্ছা এমনও কি হয়? কেউ নিজেরই ভাই/বোনকে খুন করতে পারে কখনো? পারেনা । এটা সবাই জানে শুধু মা বিশ্বাস করেনা । মা যখন চার মাসের গর্ভবতী তখন বয়স আমার সাত । একদিন স্কুল থেকে ফেরার পর মেলায় যাব বলে বায়না করছিলাম । বাবা তখন অফিসিয়াল কাজে চট্টগ্রাম গেছেন ।- ও আমায় ভালোবাসেনি মা বলছিল আমায় বিকেলে নিয়ে যাবে কিন্তু আমার তক্ষুনি যাওয়া চাই! আমি রেগে , কান্নাকাটি করে অবস্থা খারাপ করে ফেললাম । মা খাবার দিয়েছিলেন সেগুলো ছুঁড়ে ফেলে একাকার করে দিয়েছিলাম । মা যখন ঘরে আসলেন আমাকে থামাতে তখন খাবারের সাথে যে পানি পড়েছিল ফ্লোরে, সেই পানিতে স্লিপ কেটে উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন । পেটে আঘাত লেগে মিসক্যারেজ হয়ে গেলো আর তারপর থেকে হয়ে গেলাম আমি খুনি । অদ্ভুত ভাবে সেইদিনের পর থেকে আমার জীবনে রাগ আর জিদের কোনো জায়গা থাকলো না । হয়ে গেলাম নরম সরম , শান্তশিষ্ট অবহেলিত একটি মেয়ে । মা আমাকে দেখতে পারতেন না বলে বাবা ফুপির বাসায় রেখে আসলেন । ফুপি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন , তিনি চেষ্টা করতেন মায়ের অভাব পূরণ করার কিন্তু মা তো মা ই হয় । ফুপি কি মা হতে পারে?? ফুপির বাসায় আমার দিনগুলো ভালোই যাচ্ছিলো কিন্তু সেখানকার ঠিকানাটাও স্থায়ী হলো না আমার ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ও আমায় ভালোবাসে নি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now