বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইরার আজ জন্মদিন। ঘুম থেকে উঠে সেই সাজ সকাল থেকে মনে মনে কতো কি ভেবে রেখেছে তার ইয়ত্তা নেই। তার রুমে কেউ যেতেই পারছে না আজ। সারা দিন ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে রেখেছিলো। খাওয়ার সময় মা গিয়ে ডেকে বের করে আনতে পারেনি সময় মত। বাবার দেয়া নতুন জামাটা বার বার বের করে আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখেছে কেমন লাগে। কোন রঙের চুড়ি পড়লে ভালো লাগবে, কানের কোন দুল গুলো সুন্দর, নাকফুল পড়বে কি না, নূপুর গুলো বের করে রেখেছে আরো কতো কি। সারা দিন এ ভাবেই কেটে গেছে ইরার।
ইরা অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী। লেখা পড়ায় বেশ ভালো। ক্লাসের বন্ধুদের সবার প্রিয় মুখ। তবে এখনো কোন ছেলে তার হৃদয়ের জায়গাটা লিজ নিতে পারেনি। কেউ চেষ্টা যে করেনি সেটাও না। আসলে ইরাই কাউকে পাত্তা দেয়নি। ইরার ব্যক্তিগত ঝুলিতে সব কাজ গুছিয়ে করার সুনাম সে অর্জন করে রেখেছে বহু আগে। সব বন্ধুদের আনন্দ বা বিপদের সময় ইরাকেই আগে আগে পাওয়া যায়। সেদিন হাসানের মায়ের জন্য এই ইরাই রক্ত দিলো। হাসান রক্ত খুঁজে খুঁজে হয়রান কিন্তু মেনেজ করতে পারছিলো না। শেষে ইরাকে বললো। ইরা তো রেগে আগুন। আরে বুদ্ধু আমার নিজের রক্তের গ্রুপ O(-), আর তুই আমাকেই বলিস না কেন? বল কোথায় আসতে হবে এখনি চলে আসছি। এমন আরো অনেক ঘটনা আছে।
ইরার ভালো বন্ধু মোট ৪ জন। হাসান, তারেক, নয়ন, নীলু মানে নীলা। নীলাকে মজা করে সবাই নীলু বলে। সব সময় এক সাথেই থাকা ঘুরতে যাওয়া আড্ডা দেয়া এই গ্রুপেই বিদ্যমান। কলেজের সকল বন্ধুরা ওদের পঞ্চপন্ডিত বলে ডাকে। এই পাঁচ জনের কেউ কারো থেকে কম না। আর সবাই সবার আনন্দের বন্ধু বিপদের বন্ধু। একদম আলাদা সবার থেকে।
ইরা হাতে ফোন নিয়ে বসে আছে। ১২ টা বাজতে আর ২ মিনিট বাকী। ভাবছে কে আগে ওকে উইশ করবে? ওদের সবার জন্মদিনে ইরা সবার আগে উইশ করে। এখন ওর জন্মদিনে কে আগে করবে বুঝতে পারছে না ইরা।
১২টা পার হয়ে আরো ১০ মিনিট কেউ একটা মেসেজ বা কল দিলো না। ইরা ভাবছে হয়তো সবাই ব্যস্ত, এখনি ওকে উইশ করবে সবাই। কিন্তু না কেউ ইরাকে কল বা একটা মেসেজ দিয়েও উইশ করলো না। ইরার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো। এতটা কষ্ট যে তার আগে কখনো কোন দিন পাওয়া হয়নি। এ কষ্ট যেনো বুকের ভেতর সব থেকে নরম জায়গায় আঘাত করছে। এত কষ্ট নিয়ে ইরার ঘুমও আসছিলো না। এ সব ভাবতে ভাবতে আর কান্না করে করে অনেক রাতে সে ঘুমিয়ে গেলো।
খুব সকালে নীলুর কলে ঘুম ভাঙলো ইরার। ফোনটা হাতে নিলো। কাল রাতের কথা গুলো মনে পড়ে গেলো ইরার। ইচ্ছে করেই ধরছে না কলটা। কি ভেবে যেনো রিং শেষ হওয়ার একটু আগে কলটা রিসিভ করলো ইরা। রিসভ করতেই ও পাশ থেকে কাঁদোকাঁদো কন্ঠ ভেসে আসলো। ইরা যেনো রাতের সব রাগ অভিমান ভুলে গেলো। প্রচন্ড ভয় পেতে লাগলো। বললো- কি হয়েছে নীলু কাঁদছিস কেনো? নীলু কাঁদতে কাঁদতে বললো নয়ন এক্সিডেন্ট করেছে। খুব খারাপ অবস্থা। তুই দ্রুত চলে আয় ল্যাব এইড হাসপাতালে। তারপর লাইনটা কেটে গেলো। ইরা হ্যালো হ্যালো বললো লাইনটা কেটে যাওয়ার পরেও। কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকলো ইরা। তারপর চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।
হাসপাতলের গেইট থেকে দৌরে দ্রুত দু'তলায় চলে গেলো ইরা। নয়নের সারা শরীরে ব্যান্ডেজ করা। ইরা নয়নকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করলো। অবাক করা বিষয় হলো, ইরা কোন দিন নয়নের হাতটি পর্যন্ত ধরেনি। আজ জড়িয়ে দরে কান্না করছে। আশে পাশে কেউ আছে কি নাই এটাও সে টের পায়নি। জাড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো-
নয়ন তোমার কি হয়েছে? তোমার কি হয়েছে নয়ন? কি করে এমন হলো তোমার? তোমার কিছু হতে পারে না। তোমার কিছু হলে আমার কি হবে নয়ন? আমি তোমাকে ভালোবাসি নয়ন। অনেক ভালোবাসি। দেখো তোমার ইরা তোমার কাছে এসেছে একবার চোখ খুলে দেখোনা নয়ন।
পাগলের মত করতে লাগলো ইরা। ইরার কান্না দেখে নয়নও কান্না করে দিলো। সে কি কান্না। বার বার সরি ইরা, সরি ইরা বলতে লাগলো। ইরা তো অবাক। কিছু বুঝতে পারছে না ইরা। নয়ন সরি কেনো বলছে বার বার!
পাশে থেকে ইরার বন্ধুরা হাত তালি দিতে লাগলো। এমনকি ইরার বাবা মা দুজনেও হাত তালি দিতে লাগলো। আসলে এগুলো সব নয়ন তারেক আর নীলুর সাজানো। ইরার বাবা মা নয়নকে খুব পছন্দও করে। তারা আগে থেকেই জানতো নয়নকে ইরা পছন্দ করে। তাই তারাও অনেক খুশি মেয়ের সুখ হবে ভেবে। সবাই ইরা আর নয়নকে একা রুমে রেখে বাহিরে চলে গেলো।
নয়ন বললো সরি ইরা। আমাকে তুমি কতটা ভালোবাসো এটা জানতেই এমন নাটক করা। আর আমি চেয়েছি তোমাকে তোমার জন্মদিনের সেরা উপহার দিতে। জানি না তুমি এতে কতটা খুশি হতে পেরেছো। ইরা নয়নের বুকে ঘুষি দিতে দিতে লজ্জায় মুখ লুকালো আর বললো। তোমার কিছু হলে সত্যি আমি পাগল হয়ে যাবো। ভালোবাসি তোমাকে। ভালোবাসি। নয়ন বললো আমিও ভালোবাসি। ভালোবাসবো একটা জনম।
এক জনম ভালোবাসার গল্প।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now