বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নতুন বাবা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নতুন বাবা -জান্নাতুল নাঈম . -তোমার নতুন বাবা কেমন? - তোমাকে আর তোমার ভাইয়াকে আদর করে? -আগের জন বেশি আদর করতো, নাকি নতুন জন বেশি করে? মহসিনা আন্টির এইসব প্রশ্নের কি উত্তর দিবে, তা ছয় বছরের ছোট্র ইতু বুঝতে পারছেনা। তাই সে ফ্যালফ্যাল করে আন্টির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ইতুর থেকে কোন উত্তর না পেয়ে হতাশ মুখে মহসিনা বেগম চলে গেলো। তবে মনে মনে ঠিকই প্রতিজ্ঞা করলো কালকে আবার মেয়েটার মুখ থেকে কিছু বের করার চেষ্টা করতে হবে। শাওন, ইতুর ভাই। তার থেকে বছর চারেকের বড়। মলিন মুখ নিয়ে বোনের ক্লাশে আসলো, বোনকে নেয়ার জন্য। দুই ভাইবোন একই স্কুলে পড়ে। বাসার পাশেই স্কুল, তাই ছুটি হলে ভাই-বোন হাত ধরাধরি করে বাসায় যায়। প্রতিদিন ক্লাশের সব কাহিনী ইতু ভাইকে পাওয়া মাত্রই বলতে শুরু করে। কিন্তু আজ সে চুপচাপ ভাইয়ের সাথে হাঁটছে। শাওন লক্ষ্য করলো বোনটি আজ অনেক বেশি চুপচাপ। তার নিজেরও মন ভালো নেই, তাই ইতুকে কিছু জিজ্ঞেস করলোনা। স্কুল থেকে ফিরে দু'ভাইবোন আজ খুব শান্ত। ব্যাপারটা মিতু খেয়াল করলো। তাই ছেলের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে তোদের। দু'জনে আজ এত চুপচাপ কেন । স্কুলে কোন পানিশমেন্ট পেয়েছিস? মায়ের কথা শুনেই শাওন বললো মা এই স্কুলটা ভালো লাগেনা, এখানে সবাই জানি কেমন। আমাদেরকে অন্য কোন নতুন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দাও। মিতু অবাক হয়ে বলল, কেন কি হয়েছে? এই স্বুলটাতো অনেক ভালো। আর তাছাড়া বাসার পাশেই। মা নতুন বাবা কেমন? মা ছেলের কথার মাঝেই ইতু বলে উঠে। চোখ কপালে তুলে মিতু বলে এ আবার কেমন প্রশ্ন মা মণি। বাবা তো বাবাই। নতুন আর পুরোনো কি। এইসব আজেবাজে জিনিস তোমাকে কে বলেছে ? শাওন বলল মা এইজন্যইতো বলি এই স্কুলটা ভালোনা। যেদিন থেকে বাবা আমাদের সাথে এসে থাকছে। এরপর থেকেই স্কুলে গেলে সবাই শুধু জিজ্ঞেস করে নতুন বাবা কেমন? তোমাদেরকে আদর করে, কোলে নেয় আরও অনেক কিছু। আমার এইসব শুনতে ভালো লাগে না। ইতুকে টেনে কোলে তুলে নিল মিতু বললো, মা-মণি তোমাকে এইসব কে জিজ্ঞেস করেছে। -টুম্পার আম্মু মা। নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল মিতু। এই মহসিনা মহিলাটা কিছুদিন আগেও মিতু একা থাকে বলে, সবার কাছে তার সম্বন্ধে রসালো গল্প বলে বেড়াতো। আর এখন,,,,,, মিতুর সম্পর্কে একটু জানা যাক- মিতুর যখন রাশেদের সাথে বিয়ে হয়, তখন সে মাত্র এস.এস.সি পাশ করেছে। বড্ড ভালো মানুষ ছিলো রাশেদ। ছোট্র মিতুকে সবসময় আগলে রেখেছে। খুব আনন্দে এক রকম হেসে-খেলেই মিতু বিয়ের বারোটি বছর পার করেছে। তারপর হঠাৎ একদিন মিতুর সুখের আলোয় ভরা ঘরে অমাবস্যার অন্ধকার নেমে এলো। রাশেদ চলে গেলো না ফেরার দেশে। ছোট ছোট দু'টি বাচ্চাকে নিয়ে মিতু মহাসমুদ্রে পড়লো। আত্মীয়-স্বজন আর পাড়া-প্রতিবেশী কয়েকদিন সহানুভূতির বাঁশি বাজিয়ে সবাই উধাও হয়ে গেলো। রাশেদ মারা যাবার পর মিতু মানুষের হাজারটা রূপ দেখেছে। একা মেয়েমানুষ দেখে কেউ সহানুভূতির থালা নিয়ে ওকে গিলতে এসেছে। কেউ আবার মেয়েমানুষের জীবনে একবারই বিয়ে যথেষ্ট, আর বিয়ের দরকার নেই এই বলে বাদ্য বাজাতে থাকলো। কেউ কেউ আবার মাথার বোঝা মনে করে যে পাত্রই পাক তাতে মিতুকে দান করতে চাইলো। অবাক নয়নে মিতু চারপাশের মানুষের কর্মকান্ড দেখেছে, আর ভেবেছে জীবনটা তার অথচ কেউ একটিবারও এটা জিজ্ঞেস করলোনা- মিতু তুমি কি চাও? আস্তে আস্তে মিতুর মনে হলো এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে, নিজে কিছু করতে হবে। অন্যের করুণায় হয়ত বেঁচে থাকা যায়, কিন্তু তাতে নিজের আত্মসম্মানটুকু পুরোপুরি খোয়াতে হয়। ছোটবেলা থেকেই মিতুর হাতের কাজের শখ। সেই শখটাকেই সে উপার্জনের পথ হিসেবে নিলো। আয় অত বেশি না হলেও তাদের তিনজনের সংসার মোটামুটি চলে যায়। এই কাজের মাধ্যমেই সোহেলের সাথে মিতুর পরিচয়। ছোটখাট একটা কাপড়ের দোকান চালায় সে। মিতু তার হাতে করা কাজগুলোর বেশিরভাগই সোহেলের দোকানে সাপ্লাই দেয়। এই পরিচয়ের বছর খানেক পরেই সোহেল মিতুকে বিয়ের প্রস্তাব । অনেক ভেবে-চিন্তে মিতু সোহেলের প্রস্তাবে রাজী হয়। না এই বিয়ে করেও মিতু শান্তি পায়নি। ওত পেতে থাকা সহানুভূতিধারীরা পিলপিল করে সব বের হয়ে এলো। দুই বাচ্চার মা হয়ে একটা অবিবাহিত ছেলেকে বিয়ে করেছে কি নির্লজ্জ মেয়ে। একবার বিয়ে করে সাধ মিটে নাই, তাই আবার একজনের গলায় ঝুলল, কি নির্লজ্জ মেয়ে।এত তাড়াতাড়ি রাশেদকে ভুলে গেলো, কি পাষান মেয়ে। এই দুই বছরে মিতু এদেরকে কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় তা ভালোভাবেই শিখে গেছে। কিন্তু এখন যখন তার বাচ্চাদেরকেও এরা নিস্তার দিচ্ছে না, এটা দেখে সে ভেংগে পড়ল। মিতু নিজেতো জানে সোহেল বাচ্চাদেরকে কত ভালোবাসে। এই দুইটা বছরে সংসারের পাশাপাশি বাচ্চা দুটোকে বাবার শোকটা কাটিয়ে উঠাতে কি পরিমাণ কষ্ট করতে হয়েছে তা শুধু মিতুই জানে। এতদিন পর বাচ্চাগুলো যখন আবার নতুন করে হাসতে শিখেছে, কাউকে আবার বাবা ডাকার শান্তিটুকু পাচ্ছে, তখন একদল হিংস্র হায়েনা তাদেরকে আবার পিছনে টেনে নিতে চাচ্ছে। রাতে সোহেল বাসায় এলে মিতু বললো, শোন আমরা আর এই এলাকায় থাকবোনা। নতুন বাসা দেখো। সাথে বাচ্চাদের স্কুলের ঘটনা বললো। অবাক হয়ে সোহেল বলল, যে মিতু হাজারটা ঝড়েও ভাংগাতো দূরের কথা কাত পর্যন্ত হয় নাই। তার মুখে আজ এত হতাশা কেন? মিতু বললো,এতদিন যত ঝড় গেছে তা আমার উপর ছিলো, কিন্তু এখন বাচ্চাদেরটা আমি মানতে পারবোনা। চলো ঘুমাতে যাই, এটা নিয়ে পরে কথা বলবো। এই বলে সোহেল শুয়ে পড়ল। পরেরদিন সকালবেলা বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার সময় সোহেল বলল, আজকে আমি তোমাদের স্কুলে দিয়ে আসব। এই শুনে দু'ভাইবোন খুশিতে লাফিয়ে উঠল। সোহেলের চোখের দিকে তাকিয়ে মিতুর মুখে হাসি ফুটল। মনে মনে বলল, সহানুভূতিধারীরা তৈরি থেকো- আজকে নতুন বাবা আসছে, দুই হাতে দুই অস্ত্র নিয়ে তোমাদের সাথে হিসেব মিলাতে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নতুন বাবা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now