বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই কনক একটূ দাঁড়া ও কথা আছে।
.
--কি কথা তাড়াতাড়ি বল।সময় নাই আমার।
.
--তুমি আমার সাথে সবসময় এমন ব্যাবহার কর কেন?তুমার মুখে ভাল কথা নাই?
.
--দেখ মিতু বললাম সময় নাই।তাড়াতাড়ি মেসে ফিরতে হবে। আর এই অসময়ে কি লাগাইলা তুমি?
.
--আমি তুমারে অসময়ে জ্বালাই তাই না?
--না তা কেন।
--তুমি আমায় সহ্য করতে পার না তাই না?
--ওফ তা না মিতু।
--তবে কি সেটাই বল। ।
.
--তোমায় আমার অনেক ভাল লাগে,তুমি অনেক সুন্দর,কোকিলের মত তোমার কণ্ঠ।হরিনীর মত দুইটা ঠেরা ঠেরা চোখ।সোনালী আঁশ পাটের মত তোমার চুল।তোমার ছলন অতি ভাবময়। শাশন অতি খিটখিঠে। সাড়াদিন আমি তুমায় এত গোলা মিস করি। রাতে ঘুমিয়ে পড়ি না হয় রাতেও মিস করতাম।
.
--যাহ দুষ্ট। তুমি সত্য বলছ ত ,তুমি আমায় এতটা ভালবাস?
.
--আরে এখানে ত কম বলছি, ভালবাসি ত এর থেকেও অনেক বেশি।
.
--আমার কিউট বাবুটা আমায় এত ভালবাসে। এবার আমার সাথে চল।
.
--কোথায়?
--কোথায় আবার পার্কে।
--আরে না,না,না...
কিন্তু শেষ অবধি মিতু কনকে জোড় করেই পার্কে নিয়ে গেল।
.
মিতু মনে মনে আজ অনেকটাই খুশী।শেষমেষ সে কনককে নিজের বশে আনতে পেরেছে।
তবে এই খেলাটার জন্য তাকে কিছু বাঁধার সম্মুখিনও হতে হয়েছে।
.
এই দীপ্তটা ত সবসময় কনকের কানে তার বিরুদ্দে কথা লাগিয়েই গেছে।যে ও ভাল না।অন্য ছেলের সাথে প্রেম করে।তর সাথে ছল করতেছে কনক। আরো কত কি। কনক নাকি দীপ্তকে ছোট ভাইয়ের মত দেখে।কিন্তু যাক শেষমেষ বাঁচা গেল।মেয়েদের মায়ার ছলে পড়লে এসব পাতানো ভাইয়ের সম্পক গুলাও বেশীদিন টিকে না। ।
.
কনক আর মিতুর সম্পর্কটা চলছে আজ প্রায় তিন মাস ধরে।সপ্তাহে মাত্র একদিন ১০ মিনিটের জন্য মিতুর সাথে দেখা করে কনক।আর এ পর্যন্ত কনক মিতুর বাঁ হাতের আঙ্গুলটা মাত্র দুবার স্পর্শ করেছে। ব্যাস এতটুকু ই।
.
ইদানিং কাল ধরে মিতুর শারীরিক অবস্থা একটু খারাপ।মাথা ঘুরানো আর বমি বমি ভাব। লক্ষনটা যে ভাল না সেটা কনক আগেই বুজতে পেরেছিল।তবে কনক এ বিষয়ে সুনিশ্চিত তার দ্বারা কিছু হয়নি। বিষয়টা মিতুর কাছে জানতে চাইলে সে বলত এটা নাকি এপিন্ডিসাইড জনিত একটা সমস্যা। যার ফলে এ নিয়ে কনক আর তেমন মাথা ঘামাত না।
.
লক্ষনটা প্রকট আকাড় ধারন করাতে কনকের আর সহ্য হল না। সে জোড় করেই মিতুকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এল। মিতু অনেক জোড়াজোড়ি করল সে কিছুতেই ডাক্তার দেখাবে না। কিন্তু কে কার কথা শুনে, কনক জোর করেই নিয়ে এল মিতুকে।
.
ডাক্তারের সামনে বসে আছে কনক আর মিতু। মিতু মাথাটা নিঁছু করে কাঁদতেছে। কনক বার বার মিতুকে বুজাচ্ছে কিচ্ছু হবে না। সব রিপোর্ট পজেটিবই আসবে।
.
ডাক্তার বার বার রিপোর্ট গুলা দেখার পর বলল তা কনক কতদিন হল বিয়ে করলেন?? বাচ্ছাটা আরো পরে নিলেও কোন সমস্যা হত না। যাক ওনি চার মাসের প্রেগনেন্ট। আমি কিছু ট্যাবলেট লিখে দিচ্ছি এ গুলা খেলে আর বমি বমি ভাবটা থাকবে না।
.
কনক নির্বাক হয়ে ডাক্তারে দিকে তাকিয়ে আছে। তিন মাস হল তাঁদের সম্পর্ক।আর চার মাসের বাচ্ছা পেঠে।কেমনে কি।তবে কি দীপ্তর কথাই ঠিক।মিতু অভির সাথে। ছিঃছিঃ মিতু। আর ভাবতে পারছে না কনক।
.
সি.এন.জির পেছনে বসে আছে কনক আর মিতু। কারো মুখে কোন কথা নেই। কনক শুধু মিতুকে একটাই কথা বলল 'তুমি আমার নিঃ পাপ স্বপ্নটা নিজ হাতে হত্যা করলে। তুমি ত অভির সাথেই সুখী ছিলে মিতু। কেন আমার জিবনটাকে নষ্ট করে দিলে ?? কেন?? কেন??
.
সি.এন.জিটা মিতুদের বাসার সামনে আসতেই মিতু নেমে গেল। কনকের কোন কথার উত্তর দেয় নি সে। কেমনে দিবে। এই প্রশ্নের উত্তর তার নিজেরই অজানা।
.
রাত ক্রমেই গভীর থেকে গভীর হচ্ছে। কনক রাস্তায় একা একা হাঁটছে।আজ আর তার মেসে ফেরার কোন তাড়া নেই। নেই কোন স্বপ্ন ও। সে কোন পথে হাঁটছে সেটা সে নিজেই জানে না।
হয়ত নষ্ট স্বপ্ন মানুষদের কোন সুনির্দিষ্ট গন্তব্যই থাকে না। ।
.
লেখাঃঃ Dwipto sarker
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now