বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নোনা জল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সামি খুব অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে তাকালো। প্রায় ৬ মাস পর অহনার নাম্বার থেকে কল। মোবাইলের স্ক্রীনে খুব সুন্দর করে লেখা- JAN calling… ৬ মাস আগে সামির সাথে অহনার ব্রেকআপ হয়ে যায়। সব ঠিকঠাক, হঠাৎ একদিন অহনা জানালো, “আমি রিলেশনটাকনটিনিউ করতে পারবো না। আমি সিরিয়াস।” সামি আধো বিশ্বাস আধো অবিশ্বাসে দুলতে দুলতেবললো,”কেনো? কী হইছে?” অহনা খুব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিলো, “আমার আরো একটা রিলেশন আছে। আমি সেটাই কনটিনিউ করতে চাই।” বিশ্বাস করতে পারছিলো না সামি । বললো,”আরে ধুর, ফাইজলামি করো ক্যান!” ফোন কেটে দেয় অহনা । এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তার সাথে। সপ্তাহ দুয়েক পর সামি খবর পেয়েছিলো, অহনাফ্যামিলির সাথে কানাডা চলে গিয়েছে। এ পর্যন্তই। অহনা নামটা সামির প্রতি রাতের চোখের জলে আর ফোনবুকের ‘JAN’ নামের আড়ালেই রয়ে গেলো। এমন অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত ব্রেক আপের পরআজ আবার অহনার কল। সামি বুঝে উঠতে পারে না কী করবে। শেষমেষ কলটা রিসিভ করলো। যতটা না অভিমান কিংবা কষ্ট, তার চেয়েও বেশি কৌতুহল ভরা কন্ঠে বললো, -হ্যালো? =কেমন আছো? অহনার কন্ঠটা আগের মত আর বাচ্চা বাচ্চা নেই। নারীত্বের ছাপ স্পষ্ট। -বেঁচে আছি। কানাডা থেকে ফিরেছো কবে? =গতকাল। সামি আমি খুব সরি… -বাদ দাও। তারপর কেমন আছো? খুব সুখেই আছো নিশ্চয়? =আমি রিয়েলি অনেক সরি। প্লিজ.. -বিএফ কেমন আছে? =সামি প্লিজ… আমাকে মাফ করে দাও… -বিয়ে করে ফেলেছো? বাচ্চা কাচ্চা?=স্টপ! স্টপ ইট! ওপাশ থেকে চিৎকার করে ওঠে অহনা । সেই সাথে শোনা গেলো কান্নার আওয়াজ… প্রতিহিংসা কমিয়ে সামি শান্তভাবে বলল”এমন করলা কেন আমার সাথে?” অহনা কাঁদতে কাঁদতে অনেক কথা বললো। কথাগুলোর সারমর্ম করলেযা দাড়ায়, তা হচ্ছে- অন্য কোনো ছেলের সাথে অহনার রিলেশন ছিলো না। অহনার বাবা একপ্রকার জোর করেই সবাইকে নিয়ে কানাডা যাবার ব্যবস্থা করে ফেলেন। আর ফেরা হবে না, ওখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু হবে, এমনটাই পরিকল্পনা ছিলো। তাই সামির সাথে অহনার সম্পর্কটার আর কোনো ভবিষ্যত নেই এটা বুঝতে পেরেছিলো বলেই ঐ নির্মম নাটকটা করতে হয় তাকে। সব শুনে সামি বললো, “দেশে ফিরেছো কেন তাহলে?” =বাবা মারা গেছে… অভিমানী প্রেমিকের সব দম্ভ নিমেষেই চুরমার হয়ে গেল। সামি শুধু বললো, “তুমি কোথায় এখন? দেখা করো প্লিজ… এই মুহুর্তে…” রেস্টুরেন্টে টেবিলের ওপাশে বসা মেয়েটা বড্ড অচেনা লাগছে। ঠোট থেকে মুছে গেছে সব স্পর্শের ছাপ। সামি সাবেক প্রেমিকার দিকে তাকিয়ে বললো, -তারপর এখন ফিউচার প্লান কী?=জানি না। -বিয়ে শাদী করে ফেলো একটা। =হুম। – তুমি আমাকে নিয়ে আবার কোনো স্বপ্ন দেখছো না তো? অহনা খুব অসহায়ের মত সামির দিকে তাকালো। সামি বুঝতে পেরে বললো, -কি অদ্ভুত। আমার কোনো লাইফ নেই? তুমি কি ভেবেছো সারাজীবন ওয়েট করবো তোমার জন্য? =ওও। আমি সরি। উঠে দাড়ালো অহনা। চোখে জল টলমল করছে। ঘুরে দরজার দিকে পা বাড়ালো। মেয়েরা এভাবেই কান্নালুকোয়। যার জন্য কান্না, তাকে দেখায় না,কিন্তু পৃথিবীবাসীকে দেখায়। চোখের জলের কি মায়াবী অপচয়! পেছন থেকে অহনার হাতটা টেনে ধরলো সামি। হাসিমুখে বললো,”এই রেস্টুরেন্টের রাইসে লবন অনেক কম। দেখি, কয়েক ফোটা চোখের পানি দিয়ে যাও। চোখের পানি লবনাক্ত।” অহনা কেঁদে ফেললো। সামি আবার বললো, “এত কাঁদোক্যান? অবশ্য ভালোই হইছে। আমাদের সংসারেলবন কিনতে হবে না। তোমার চোখের পানিতেই রান্না হয়ে যাবে। ইউ নো, চোখের পানি লবনাক্ত!” অহনার কান্নার বেগ বেড়ে গেল …


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নোনা জলের ক্রেতা;
→ জীবনের গল্প নোনা বর্ষায় -মোঃ নাঈম হোসেন (নয়ন)
→ ভালবাসার নোনা জল
→ নোনা জল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now