বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নন্দিনী
নন্দিনী রাতে সবাই যখন খেতে বসবে, সে সময় সবার অগচরে লুকিয়ে ফোন দিবে বলেছিলে। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই দুহাতে সময়কে ঠেলে পাড় করতে পারছিলাম না। প্রতিক্ষার প্রহর গুলো যে আশা নিরাশার বুক ভেদ করে লক্ষ কোটি আলোক বর্ষ মাইল দূরে পৌঁছায়, সাথে সময়ের ব্যাপ্তি অারো প্রসস্থ হয়, তা সেদিনি প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। তোমার সাথে বুক ভরা প্রশান্তি অার নিরবিঘ্নে কথা বলার জন্য নির্জন জায়গা বেছে নিলাম। এক ফোঁটা বৃষ্টির জলের জন্য যেমন চাতকের ধ্যানো মগ্ন হদয়ের তৃষ্ণা আরো দীর্ঘ হয়। তেমনি তোমার মুখের শুধু একটি কথা শোনার জন্যে আমার মন প্রাণের তৃষ্ণা শত শহস্র গুনে বেড়েই চলেছিলো। ঠিক রাত নয়টা এক মিনিটে তুমি ফোন দিয়ে আমার নানা আশা-হতাশা আর ত্রেষ্টার অবসান ঘটালে।
#
অামি হ্যালো বলতেই বুঝলাম, তুমিও অামার সাথে কথা বলার জন্য তির্থের কাকের মত অপেক্ষায় ছিলে। তুমি বললে "কি হলো অামার! অামি কেন তোমার সাথে একটি মুহূর্ত কথা না বলে থাকতে পারিনা। অামি কেন অধীর হয়ে থাকি তোমার সাথে কথা বলার জন্য। শত চেষ্টা করেও যেদিন তোমার সাথে কথা বলতে পারিনা, সেদিন মনে হয় কত যুগ, কত জনম ধরে তোমার সাথে কথা হয়নি। অামি সেদিন সব কিছু ভুলে যাই। মন-প্রাণ জুড়ে শুধু তোমাকেই অনুভব করি।" তোমার মুখের অমৃত ধ্বনির স্বর শুনে আমি যেন সুখের জ্বলচ্ছাসে, রংধনুর সাত রঙ্গে রঞ্জিত হয়ে, সাত আসমানের বিস্তৃত সীমানায় চির সুখের অাবেশে ভেসে বেড়িয়ে ছিলাম। জানিনা পৃথিবী সেদিন তার চিরচেনা নিয়মে অাপন কক্ষ পথ ধরে আবর্তিত হয়েছিলো কি না! বা রাত জাগা পাখিরা পেখম মেলে উড়েছিলো কি না।
আমি বললাম কথা দাও জীবনে যত দুঃখ-কষ্টই আসুক আমার পাশে রবে”। তুমি বললে, “কথা দিলাম এ দেহে যতদিন প্রাণের স্পন্ধন থাকবে ততদিন তোমার পাশে রবো।" আমি বললাম, “এসো তাহলে বিধাতাকে সাক্ষ্যি রেখে ওয়াদা করি অামরা বাঁচলে এক সাথে বাঁচব, মরলে এক সাথে মরব”। তুমি ওয়াদা করলে। জানো নন্দিনী সেদিন তোমার কথা শুনে জীবনের অর্থটা খুঁজে পেয়েছিলাম। ভালোবাসার মানুষকে ভালোবাসতে পারায় কি যে সুখ! কি যে আনন্দ! তার অনুভূতি আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় প্রতিটি রক্ত কণিকায় উপলব্ধি করতে পারছিলাম। তোমার ভালোবাসার মোহনিয় শক্তি আমার মধ্যে এক অদম্য শক্তি সঞ্চার করেছিলো সেদিন। আমি বলেছিলাম, “আমি পৃথিবীটাকে জয় করতে চাই। আমি অামাদের ভালোবাসার জোরে এমন কিছু করতে চাই, যেন তুমি সবার সামনে মাথা উচু করে বলতে পারো এটা আমার স্বামী”। তুমি বললে, “আমি এত বেশি কিছু চাই না। তুমি ছোট কিছু করে দু’বেলা দু’মুঠো খেতে দিয়ো আর আমাকে সারা জীবন বুক দিয়ে আগলে রেখো, আমি আর কিছু চাইনা। পাখির বাসার মত ছোট্ট হোক না আমাদের ঘর-সংসার, ক্ষতি নেই, তারই মধ্যে তোমার বুকে মাথা রেখে চির সুখে কাটিয়ে দিব সারাটা জীবন”। তোমার কথা শুনে সেদিন আমার তৃষ্ণা ব্যকুুল হৃদয়ের মরূভূমিতে, সুখের প্লাবন ডেকে গিয়েছিলো। আর চির শ্যামলে ভরে উঠেছিল আমার হৃদয়ের আঙ্গিণা। সে রাতটি ছিল আমার জীবনের চির স্মরনীয় মধুময় স্মৃতির এক রাত। কি চাই বলো আর, ভালোবাসার মানুষটি কথা দিয়েছে জীবনে মরনে আমার পাশে রবে। আমার মনে চির বসন্তের বাতাস বইতে শুরু করেছিল সেদিন। জীবন যে কত মধুরময় তা সেদনই প্রথম বুঝতে পেরেছিলাম।
২৩/১২
নন্দিনীকে লিখা চিঠি নম্বার-৬
মোঃ শাহিন আলম
(পরবর্তি চিঠি ১৪/০২/ ২০১৭)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now