বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিয়তি
.........................
আরমান হোসেন
.........................
১
মফিজ মিয়া তখন টুলের উপর বসে ঝিমুচ্ছিল। ভর দুপুরে একটু টুলের উপর বসে না ঝিমালে তার আবার পেটে ভ্যারাম হয়। আসলে এটা তার অভ্যাস। এই দুপুরে বিশেষ কেউ গেটের বাইরেও যায়না আবার ভিতরেও অাসেনা। তাই এই সুযোগে সে একটু ঝিমোয় আরকি। আজও তার ব্যাতিক্রম নয়। সবে তার ঝিমুনি ভাবটা আসবে এমন সময় গেটের বাইরে থেকে গাড়ির হর্নের শব্দ শুনে সে লাফিয়ে উঠলো। বড় সাহেবের গাড়ি এসেছে। মফিজ তাড়াতাড়ি উঠে সদর দরজা খুলে দিতেই বড় সাহেবের গাড়ি বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। এই অসময়ে বড় সাহেবকে বাড়িতে আসতে দেখে মফিজ কিছুটা অবাক হলো।
জনাব জব্বার আলী হচ্ছেন এই আলিশান মহলের মালিক। তিনি এই এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তিও বটে। আর হবেনই না কেন? তিনি যে মিরপুর থানার ওসি। তাকে এলাকার সবাই খুব মান্য করে, যদিও উপরে উপরে। আসলে তাকে এলাকার কেউই খুব একটা পছন্দ করে না। কারন সে বিরাট ঘুষখোর। এই কারনেই কেউ তাকে মন থেকে শ্রদ্ধা করেনা। এতে অবশ্য জব্বার সাহেবের কিছু যায় আসে না। তিনি আছেন বেশ সুখে। মিরপুরে দুটো বাড়ি আছে। বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাটাই ভালো। আর টাকা পয়সার কথা না বলাই ভালো। ঘুষ খেয়ে খেয়ে তিনি নিজেকে এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তার থানার সবাই তাকে জব্বার আলীর বদলে জব্বার ঘুষ বলেই ডাকে। এ নিয়েও জব্বার সাহেবের মাথা ব্যাথা নেই। তিনি দিব্যি ভাল অাছেন। সকালে প্রায় পনেরোটা পরোটা সাথে তিনটা ডিম, আর রাতের খাবারের কথা বলে অার কি হবে। পুরো রাজার হাল যাকে বলে। মানুষ বলে হারামের টাকায় নাকি সুখ নেই। কিন্তু জব্বার সাহেব এই কথাকে ভুল প্রমানিত করে বেশ সুখেই আছেন।
আজ বড় সাহেবকে দেখে মফিজের অবাক হওয়ার কারন হচ্ছে জব্বার সাহেব সচরাচর দুপুরে বাসায় আসেন না। দুপুরে তিনি থাকেন তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তাই আজ এইসময় বড় সাহেবকে দেখে মফিজের অবাক হবারই কথা।
আজ জব্বার সাহেবের ঈদের দিন বলা চলে। আজ তিনি বিশাল দাও মেরেছেন। সামান্য একটা খুনের মামলা চেপে দিয়েছেন তিনি। আর তাতেই তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা পেয়েছেন।কোন এক বড় শিল্পপতির একমাত্র ছেলে তারই এক বন্ধুকে নেশার ঘোরে খুন করে ফেলেছিল। আর সেই কেসটাই চাপা দিয়ে এই পরিমান লাভ তার হয়েছে। কেসটা চাপা দিতে বিশেষ কোন কসরত করতে হয়নি জব্বার সাহেবের। মধ্যবিত্ত পরিবার বলে কথা। দুটো ধমক দিতে না দিতেই খুন হওয়া ছেলের বাবা মা একেবারে মিইয়ে গেল। কোন উচ্চবাচ্চ করার সাহসই তাদের ছিল না। এত সহজ কাজের বিনিময়ে এত টাকা পেয়ে জব্বারের খুশি আর ধরে না। তাইতো তিনি আজ দুপুরে বাসায় চলে এলেন। আজ বাসায় দুপুরের খাবার খাবেন তিনি।
২
জব্বার সাহেবের মনটা আজ একটু খারাপ হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। সেই ছেলেটির বাবা মা আত্মহত্যা করেছে যে ছেলেটির খুনের কেস চাপা দিয়ে জব্বার সাহেব ৫০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। আহারে! তারা প্রতিদিন থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু জব্বার সাহেব তাদের ধমক দিয়ে আবার কখনে ধাক্কা দিয়ে তাদের বিদায় করে দিত। আসলে একমাত্র ছেলের মৃত্যু শোক কি সহজে ভোলা যায়? কিন্তু তারপরও জব্বারের মনে কোন অনুতাপ নেই। আসলে এমন ঘটনা দেখতে দেখতেই তিনি জীবন পার করে দিয়েছেন তাই তার হৃদয়টা খুবই কঠিন।
সেদিন রাতে জব্বার সাহেব তার অভ্যাসমত বাড়ির ছাদে উঠে পায়চারি করছিলেন আর মনে মনে চিন্তা করছিলেন কিভাবে টাকা পয়সা আরো বাড়ানো যায়। ইদানিং খুন খারাপি একদমই হচ্ছে না আর মাদকের কোন বড় চোরাচালানও ধরা পড়ছে না। তাই তার আয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এসব চিন্তাই তিনি করছিলেন। হঠাৎই তার পেছন থেকে একটা অপরিচিত কন্ঠস্বর ভেসে এলো ' স্যার আমার চশমাটা কি দেখেছেন? এখানেই হয়তোবা পড়েছে। আমি আবার চশমা ছাড়া চোখে কিছু দেখিনা।' জব্বার সাহেব তখন অনমনস্ক হয়েই জবাব দিলেন ' নাহ এখানে কারো কোন চশমা পড়েনি, তুমি অন্য কোথায় খুঁজে দেখো।' অার জবাব দিয়েই তিনি চমকে উঠলে। আরে তিনি কার কথার উত্তর দিলেন? তিনি যখন ছাদে থাকেন তখন অন্য কারো ছাদে উঠার অনুমতি নেই। আর এ বাড়িতে এমন কেউ থাকেনা যে চশমা পরে। এবার জব্বার সাহেব ঘুরে তাকালেন। হালকা চাঁদের আলোয় তিনি দেখলেন, তার থেকে চার থেকে পাঁচ হাত দূরে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছে না। জব্বার সাহেব বাঁজখাই গলায় চেঁচিয়ে উঠলেন ' এই কে তুমি? ছাদের উপর কি করছো?' ' স্যার চশমাটা খুঁজে পাচ্ছি না, তাই খুঁজতে খুঁজতে এখানে এলাম।' বললো সেই ছায়ামুর্তিটা। ' আজব তো! আমার ছাদে তোমার চশমা কোথা থেকে আসবে? আর তুমি কে?' বললো জব্বার সাহেব। এবার ছায়ামুর্তিটি হেসে উঠলো। অমানবিক হাসি যাকে বলে। হঠাৎই তার কন্ঠস্বর পাল্টে গেলো। সে এবার কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলো ' আমাকে চিনতে পারছিস না? আমি হচ্ছি অবিচার। যা তুই এতদিন করে আসছিস।' এবার জব্বার সাহেবের গলা সপ্তমে চড়লো ' এই কু*র বাচ্চা কে তুই বলছিস না কেন? ওই খা**র পোলা আমি কি অবিচার করেছি রে? তুই আমাকে চিনিস? পিটিয়ে তোর হাঁড় গুড়ো করে দিবো।' এদিকে জব্বার সাহেবর চিৎকার বাড়ির নীচতলা পর্যন্ত চলে গেছে। তার চিৎকার শুনে ছাদে ছুটে এলেন তার স্ত্রী হানিফা বেগম। ছাদে উঠে দেখেন তার স্বামী ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একা একা চিৎকার করছেন। ' এই তুমি এখানে একা একা কার সাথে চিৎকার করে কথা বলছো?' বললেন হানিফা বেগম। স্ত্রীর কন্ঠ শুনে জব্বার সাহেব স্ত্রীর দিকে একবার তাকালেন। তারপর আবার সেই ছায়ামুর্তির দিকে তাকালেন। কিন্তু আশ্চর্য! সেই ছায়ামুর্তিটি আর নেই। জব্বার সাহেব ভারি অবাক হলেন। এক সেকেন্ড পূর্বেও ছায়ামুর্তিটি তার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল। আর এখন সেটা নেই। কিছুই মাথায় ডুকছে না তার। তিনি তার স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ছাদের চারদিকে ঘুরে ঘুরে লোকটার খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু খুঁজে পেলেন না। এভাবে কি কোন মানুষ উবে যেতে পারে?
৩
রাতে খুবই ভয়ংকর একটা দুস্বপ্ন দেখলেন জব্বার সাহেব। দেখলেন চশমা পড়া একজন যুবক তাকে টেনে হিঁচড়ে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। জব্বার সাহেব অনেক চেষ্টা করেও সেই যুবকের হাত থেকে নিস্তার পেলেন না। একসময় তিনি বুঝলেন তার গলায় দড়ি পরানে হচ্ছে। ফাঁসির দড়ি। এবং একটু পরেই নিজেকে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় অবিষ্কার করলেন। তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। স্বপ্নটা দেখেই তিনি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলেন। উঠেই নিজের গলায় হাত দিলেন। নাহ গলায় কোন দড়ি নেই। 'আহ বাঁচা গেল' মনে মনে বললেন তিনি। তার পাশেই তার স্ত্রী হানিফা ঘুমাচ্ছেন। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সে। জব্বার সাহেব বিছানা থেকে নামলেন। তিনি টয়লেটে ঢুকলেন। ভাল করে তার চোখে মুখে পানি দিলেন। নাহ, ইদানিং তার শরীরটা বিশেষ ভাল যাচ্ছে না। ডাক্তার দেখানো একান্ত জরুরি। টয়লেট থেকে বেরিয়ে তিনি ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে চাঁদের হালকা আলো। পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে। তিনি তার ইজি চেয়ার বসে চোখ বন্ধ করলেন। একটু বিশ্রাম দরকার। হঠাৎ তার পেছন থেকে খোঁনা গলায় কেউ একজন বলে উঠলো ' কি ব্যাপার স্যার স্বপ্ন দেখে ভয় পেলেন বুঝি? এটুকুতেই এত ভয়?' জব্বার সাহেব সোজা হয়ে বসলেন। কে কথা বলে ওখানে। সে তড়িৎ গতিতে পেছনে ফিরে তাকালেন। কেউ নেই আশে পাশে। চারদিকে শুনশান নিরবতা, ব্যালকনিতে জব্বার সাহেব ছাড়া আর কারে অস্তুিত নেই। জব্বার সাহেবের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। কি ঘটছে এসব তার সাথে? ছাদের সেই ছায়ামুর্তি, দুঃস্বপ্ন আর এই অশরীরি কথা সবকিছুই জব্বার সাহেবের মনকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। নিশ্চই তার হ্যলুশিনেসন হচ্ছে। টেনশনে হয়তোবা তিনি এমন উল্টাপাল্টা জিনিস দেখছে। এসব ভাবতে ভাবতে তিনি আবারো ইজি চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করলেন। এবং আবারো সেই খোঁনা কন্ঠের উদয় হলো ' স্যার যা দেখছেন সবই সত্য। আর আপনার পরিনতিও হবে সেই স্বপ্নের মতো।' এবার জব্বার সাহেব রীতিমত ভয় পেলেন। সচেতন ভাবে চারদিকে তাকালেন। সেই একই দৃশ্য, আশেপাশে কেউ নেই। এবার অার তিনি এখানে বসে থাকতে পারলেন না। দৌড়ে শোবার ঘরে চলে এলেন। তার শরীর থেকে দরদর করে ঘাম ঝরছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। টেবিলের উপর রাখা বোতল থেকে ঢকঢক করে পানি পান করলেন। তার মাথার ভেতরটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এসব কি ঘটছে তার সাথে?
জব্বার সাহেব বিছানায় শুয়ে পড়লেন। পাশেই তার স্ত্রী অঘোরে ঘুমুচ্ছে। তিনিও ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঘুম আসছে না কিছুতেই। তিনি বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে লাগলেন। একসময় ফজরের আজান দিল। তিনি কখনোই ফজরের নামাজ পড়েন না। কিন্তু আজ কেন যেন তার নামাজ পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে।
তিনি ফজরের নামাজ আদায় করে আবার বিছানায় শুয়ে পড়লো। এবার তার দুচোখে ঘুম নেমে এলো। গভীর, গাঢ় ঘুম।
৪
রাতের সেই দুঃস্বপ্ন আবারো হানা দিলো জব্বার সাহেবের ঘুমের মাঝে। একই দৃশ্য দেখলেন তিনি, তবে শুধু দুটি পরিবর্তন হয়েছে। এক নম্বর হচ্ছে, এবার শুধু সেই যুবক নয় আরো দুইজন মানুষ তাকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করছে। একজন পুরুষ আর একজন মহিলা। আর দুই নম্বর হচ্ছে, এবার সেই যুবকের চোখে চশমা নেই।
এবারো স্বপ্ন দেখে লাফিয়ে উঠলেন জব্বার সাহেব। ঘরের ভেতর তখন দিনের আলো খেলা করছে। ঘড়ির দিকে তাকালেন তিনি। ১১ টা ২১ মিনিট। জব্বার সাহেবের পুরো শরীর ঘামে ভেজা। এবং তার শরীর কাঁপছে। তিনি বুঝতে পারলেন এটা নিছক কোন স্বপ্ন নয়। নিশ্চই এর পেছনে কোন কারন আছে। তিনি আর ভাবতে পারলেন না। বিছানা থেকে নেমে সোজা বাথরুমে ঢুকলেন। গোসলটা করা দরকার। বাথরুমে ঢুকেই তিনি ঝরনা ছেড়ে দিয়ে তার নিচে দাঁড়ালেন। তার বরাবর দেয়ালে আটকানো আছে একটা বড় আয়না। আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারলেন না জব্বার সাহেব। এক রাতেই বয়সটা মনে হয় বেড়ে গেছে অনেক। চোখের নিচে কালসিটে পড়েছে। তিনি চোখ নামিয়ে নিলেন। চোখ বন্ধ করে ঝরনার পানিতে শরীর ঠান্ডা করায় মনোযোগ দিলেন।
প্রায় আধাঘন্টা পর ঝরনা বন্ধ করলেন জব্বার সাহেব। এখন ঝরঝরে লাগছে তার কাছে। গামছা দিয়ে শরীর মুছতে মুছতে তিনি আবারো তাকালেন আয়নার দিকে। এবং তাকানো সাথে সাথেই তার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠলো। একি দেখছেন তিনি? আয়নায় তার প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছেনা। সেখানে দেখা যাচ্ছে সেই স্বপ্নের চশমা পরা ছেলেটাকে। ছেলেটা মুচকি মিচকি হাসছে তার দিকে তাকিয়ে। জব্বার সাহেব পুরোপুরি জমে গেলেন। তিনি কিছু একটা বললেন, কিন্তু গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না তার।
' কি ব্যাপার স্যার চিনতে পারছেন আমায়? ' বললো আয়নার ভেতরে থাকা সেই ছেলেটা। এবার জব্বার সাহেব বললেন ' কে তুমি? কি চাও আমার কাছে? বারবার কেন আমায় দেখা দিচ্ছো?'
' চিনতে পারলেন না স্যার আমাকে? ও আপনি তো আমাকে এইভাবে দেখেননি। তাই চিনতে পারছেন না। ঠিক আছে এবার দেখুনতো চিনতে পারছেন কিনা?' বলেই মূহুর্তের মধ্যে ছেলেটা তার রূপ বদলালো। ঠিক যেন একটা মৃত লাশ দাঁড়িয়ে আছে জব্বার সাহেবের সামনে। মাথা ফাটা, একটা চোখ কোটর থেকে বের হয়ে ঝুলছে। কি বিভৎস দৃশ্য। অন্য কেউ দেখলে হয়তো ভিমরি খেত। কিন্তু জব্বার সাহেব ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। কারন এই দৃশ্যটা তিনি এর আগেও দেখেছেন।
এবার তিনি ছেলেটিকে চিনতে পেরেছেন। এ হচ্ছে সেই ছেলেটি যার খুনের কেস চাপা দিয়ে জব্বার সাহেব অনেক টাকা পেয়েছিলেন।
' স্যার এবার চিনতে পারলেন আমায়?' ছেলেটা বললো। তারপর হঠাৎ সে আয়না থেকে বের হয়ে একেবারে জব্বার সাহেবের সামনে এসে দাঁড়াল। ' চলুন স্যার আপনাকে আপনার নিয়তির কাছে নিয়ে যাই।' বলেই জব্বার সাহেবের একটা হাত খপ করে ধরে ফেললো ছেলেটা। এবার জব্বার সাহেবের হুশ হলো। হুশ হতেই সে ঝটকা দিয়ে হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চাইলো। কিন্তু সে গুড়ে বালি। ছেলেটির হাত তখন হাতকড়ার মত জব্বার সাহেবের হাতে লেগে আছে। এবার ছেলেটি তাকে টানতে টানতে বাথরুম থেকে বের করে তার শোবার ঘরে নিয়ে এলো। শোবার ঘরে তখন দুপুরের রোদ ঢুকে পড়েছে। শোবার ঘরে জব্বার সাহেবকে নিয়ে আসার পরপরই আরো দুইজন মানুষ এসে ছেলেটার সাথে যোগ দিলো। ছেলেটার বাবা এবং মা। যারা নিজের একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে ভেংগে পড়েছিল। কিন্তু যখন পুলিশ তাদের সন্তানের খুনিকে টাকার বিনিময়ে রেহাই দেয় তখন তারা ভেতরে ভেতরেই মারা যান। পরবর্তীতে তারাও আত্মহত্যা করেন। আজ তারা একত্রিত হয়েছেন। হ্যা আজ তাদের সময় এসেছে।
এরা তিনজন মিলে জব্বার সাহেবকে ফ্যানের নিচে নিয়ে এলেন। জব্বার সাহেব অনেক ভাবে চেষ্টা করছেন রেহাই পাবার জন্য। কিন্তু পারলেন না। চেঁচানোর চেষ্টাও করলেন। কিন্তু তাও পারলেন না। কারন তার নিয়তিই আজ তার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক বছরের অন্যায়, অবিচারের বিনিময়ে তিনি এই মৃত্যুকে কিনে নিয়েছেন।
ধীরে ধীরে জব্বার সাহেবের গলায় রশি লাগানো হলো। তারপর তিনি নিজেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পেলেন। তিনি হাত পা ছুঁড়ছেন। তার দম আটকে আসছে। চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। শেষ বারের মতো জব্বার সাহেব দেখলেন তার সামনের তিনজন মানুষ হাসছে। তৃপ্তির হাসি, প্রতিশোধ নেওয়ার হাসি, ন্যায় বিচার প্রাপ্তির হাসি। তাদের শরীর ধীরে ধীরে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে।
জব্বার সাহেবের ও দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হয়ে আসছে।
................
সমাপ্ত
.................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now