বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বসায় বসে আছি। হাতে পত্রিকা। সেখানে আজাদের দুটি ছবি ছাপা হয়েছে। একটা হাসপাতারের বেডে। লাইফ সাপোর্ট পরা। আরা একটি ওর জানাজার দৃশ্য। শ্রক্রবার খালি ক্যাম্পাসে স্যাররা জানাজা পড়াচ্ছেন। এমন সময় ডাঃ মোহিত কামাল স্যার ফোন করলেন। বললেন আমার যদি বিশেষ কাজ না থাকে তাহলে দপুর দুটার পর তার সাথে দেখা করতে। আমারও বিশেষ কাজ নেই। স্যারের বাসায় একজন লোক বসে আছেন। গায়ের রং কালো। বয়স পঞ্চাশের শেষ কোঠায় হবে। হাসি খুশি। তাকে কোথায় জনি দেখেছি। মনে পড়ছেনা। মনে করার চেষ্ট করছি। তখন মোহিত স্যার বললেন, আমার শিক। হেদায়েতুল ইসলাম।
আমি তাকে চিনতে পারলাম। অনেক বার টিভিতে দেখেছি তাকে। হেদায়েত স্যার বললেন,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ তাই না?
আমি বলাম, জ্বি।
আমি পেপারে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যায় অনিষ্ট কালের জন্য বন্ধ। তাছাড়া তোমার কথা আমাকে মোহিত বলেছে। প্রথমে বিশ্বাস করিনি। তবে শুক্রবার যখন ছেলেটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হল। তখন বিশ্বাস হল।
মোহিত স্যার বললেন, আমার কাছেও বিষয়টা প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। কিন্তু এখনো বুঝতে পারছি না। কি করে ভবিষ্যদ্বাণী অরে অরে সম্ভব হয়।
হেদায়েত স্যার বলল, স্টিফেন হকিং এর মতে ভবিসত্যত হলো অতীতের মতোই একটি ঘটনা। আমারা যেমন অতীতকে পাল্টাতে পারিনা তেমন ভবিস্যতকেও পাল্টাতে পারব না। ভবিস্যাত হলো পূর্ব নির্ধারিত একটা বিষয়। আধুনিক বিজ্ঞানও মেনে নিয়েছে সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত। সব পূর্বনির্ধারিত? আমার উত্তর হ্যা। কিন্তু উত্তরটা না হতে পারে কারণ কি পূর্বনির্ধারিত সেটা আমরা কোনদিনই জানতে পারব না। জানতে পারলে তো আর পূর্বনিধারিত থাকল না। মোট কথা আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী করার দেখার মতা নেই তাই বলি ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তবে কেউ যদি ভবিষ্যৎ দেখতে পায় তাহলে ভবিষ্যৎ বলতে পারবে।
আমি বললাম, স্যার আমার কি সেই মতা আছে?
থাকতেও পারে। একশ কোটি মানুষের মধ্যে একজনের এই মতা থাকতে পারে। তাহলে পৃথিবীর ছয়জনের এই মতা আছে। তুমি হতে পারে ছয় জনের একজন। চীনে এক মেয়েকে পাওয়া গেল। সে তার ডাক্তার বাবার পাশে বসে রুগির কোথায় হাড় ভেঙেছে বলে দিতে পারে। এই মতা নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেল। শেষে একদল বিজ্ঞানী পরীাকরে দেখলো মেয়েটার চোখ থেকে এক্স-রে বের হয়। তাই সে মাংশের ভেতরের অংশ দেখে। এক্স-রে মতো একটা শক্তিশালী রেডিয়েসন মানব চোখ দিয়ে বের হওয়া অসম্ভব ঘটনা। তবে এটা বাস্তবে ঘটেছে। এটা মেয়েটার একটা অতিরিক্ত মতা। তোমারও হয়তো একটা অতিরিক্ত মতা আছে। তবে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু প্রামাণ করাটা হবে অনেক কঠিন।
মোহিত স্যার বলল, স্যার আমাদের ধর্মেও বলা হয়েছে তোমাদের ভবিষ্যতকে আমি তোমাদের হাড়ের সাথে আটকে দিয়েছি। অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যতটা হলো একটা পূর্বনির্ধারিত এবং অলঙ্ঘনিয়। হাড়ের মতো কঠিন ভাবে আটকে আছে।
হেদায়েত স্যার বলল, তুমি কি শুধু দূর্ঘনা দেখ না সুসংবাদও দেখ।
আমি জবাবে বললাম, কখনোই সুসংবাদ দেখি না।
তুমি দেখার পর বদলে দেবার চেষ্টা কর না?
চেষ্টা করেছি। কিন্তু বদলাতে পারি না। একদিনের ঘটনা। আমাদের পাশের ফাটে একটা মেয়ে থাকে। আমার মতোই বয়স। আমার সাথেই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমি রয়সায়ন বিজ্ঞানে আর ও ইতিহাসের ছাত্রী। নাম তানজিলা। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে এক ইতালি প্রবাসী ছেলের সাথে। আমাদের পাশের মহল্লার এক ছেলের তানজিলার সাথে রিলেশন ছিল। ওরা একজন অপর জন ভালোবাসতো কি না আমি তখন জানতাম না। তানজিলা খাটে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছে। আমি ওর পাশে বসে একটা বই পড়ছি। তানজিলা আমার হাত টান দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, শোন আমাদের মদন আলাউদ্দিন কি বলে জানিস? আমার বিয়ে হলে সে আত্মহত্যা করবে। এখনি তার হাত ধরে পালাতে হবে! তানজিলা ওর মোবাইল লাউড স্পিকারে দিয়ে বলল। গধাটায় এক থেকে একশ পর্যন্ত গুনবে। এর মধ্যে রাজি হতে হবে। নয়তো সে ছাদ থেকে লাফ দিবে! আমরা শুনছি আলাউদ্দিন গুনছে। একুশ, বাইশ, তেইশ.....। আমার চোখে ভাসছে আউদ্দিন ছাদ থেকে লাফ দিচ্ছে। পীচ রাস্তায় পড়ে তার মাথাটা থেতলে গেল। একটা রক্তের ধারা বয়ে গেল পীচ রাস্তার উপর দিয়ে। আমি মরিয়া হয়ে বললাম, তুই বল রাজি। আমার কথা শুনে তানজিলা ভড়কে গেল। সে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল আলাউদ্দিন আমি রা...। তানজিলা আমার চোখের সামসেন মোবাইলফোন ধরে বলল, নেটওয়ার্ক ফেইল। আমি অন্য কম্পানি মোবাইল ফোন ব্যাবহার করি। আমি আমারটার ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে দেখি আমারটাও নেটওয়ার্ক নাই। আমি তখন তানজিলাকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসলাম। একটা রিকসা নিয়ে আলাউদ্দিনের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি একদল লোক জটলাপাকিয়ে দাড়িয়ে আছে। ভিড় ঠেলে ভিতরে গিয়ে দেখি যা আসঙ্কা করছি তাই ঘটেছে। আলাউদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে আছে পীচ রাস্তায়। একটা রক্তের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে।
মোহিত স্যার বলল, তাহলে কি স্যার ও বিপদের সময় নীরব দর্শকের মতোই থাকবে?
সেটাই প্রকৃতি চায়।
বুঝলাম না?
এখানে আলাউদ্দিন মারা গেছে। এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনার সাথে পৃথিবীর সব মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। আলাউদ্দিনকে কবর দিতে গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়েছে। নিশ্চই একটা এ্যম্বুলেস ভাড়া করা হয়েছে। এতে এ্যম্বুলেসের ড্রাইভার ভাড়ার টাকা পেয়েছে। মালিক টাকা পেয়েছে। তেল নেওয়ার জন্য প্রেট্রল মাম্প মালিক টাকা পেয়েছে। পেট্রল মালিক এই টাকা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রেট্রল কিনবে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের খনিতে আমেরিকার লোক কাজ করে। আমেরিকা আবার আফ্রিকার কালো মানুষদের অর্থ সাহায্য করবে। যদিও আলাউদ্দিন দেশের অখ্যাত একটা ছেলে। অথচ তার সাথে সম্পর্কিত সৃথিবীর সকল মানুষ। পৃথিবীর সব মানুষ যদি একটা পুকুরের বাসিন্দা হয় প্রতিটি ছোট বড় ঘটনা হলো এক একটা ঢেউ। পুকুরের মাঝে ঢিল ছুড়লে যেমন সারা পুকুর ছাড়িয়ে পড়ে। ঘটনাগুলোও সবাকেই আলোড়িত করে। এখন যদি ও আলাউদ্দিনকে বাচিয়ে দেয় তাহলে পৃথিবীর সবার ভাগ্যকে বদলাতে হবে। এখন একজন আলাউদ্দিনের জন্য প্রকৃতি কখনো এতবড় দায়ভার নিবে না। আর প্রকৃতি কাউকে সেই সুযোগও দিবে না।
তাহলে তো জেবা আমাদের থেকে অনেক বেশি দূর্ভাগা। সে তার চোখে সামনে নীরব দর্শকের মত দূর্ঘটনাগুলো দেখবে। একবার ঘটার আগে একবার ঘটার পর।
সেটা আমি জানি না। তবে এটুকু জানি। প্রকৃতি তার নিয়ম মতোই চলবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now