বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই যে, আমি আরেক প্লেট ফুসকা নিলাম?
কথাটা শুনা মাত্রই আমি নিশুর দিকে তাকালাম। মেয়েটা যে কত ফুসকা খেতে পারে তা সামনে বসে না দেখলে হয়ত বিশ্বাস করতাম না। ওর নাম আদিলা তবে আমি নিশু বলেই ডাকি আর ও আমার এক মাত্র গার্লফ্রেন্ড তাই তার কথা একটু শুনে চলি। আমার এক প্লেট ফুসকা শেষ হলো না বরং ওর ৩ নাম্বার প্লেট চলছে। এখন যদি বলি কম খাও তাহলে বলবে, না বাবা থাক চুপ থাকাই শ্রেয়। কিছুদিন আগে আইসক্রিম কম খেতে বলার কারনে আমায় বলছে আমি নাকি ওরে খাওয়ার খুটা দেই। আর ও যেই বদমেজাজি মেয়ে। শুধু আমার একমাত্র গার্লফ্রেন্ড বলেই এখনো টিকে আছে নয়ত কবেই ব্রেকআপ হয়ে যেত।
ওরে ওর মত ফুসকা খেতে দিয়ে আমিও চুপচাপ আমার ফুসকা গুলো খাচ্ছি। বাইরের এইসব জিনিস আমার একদম বাজে লাগে তবে এমন গার্লফ্রেন্ড থাকলে সবই খেতে হয়। ওর তিন নাম্বার প্লেট শেষ হতেই আমি ওরে বললাম আরেক প্লেট খাবে কি না? তারপর ও এমন একটা লুক নিলো যে আমি কথাটা বলে কি মস্ত বড় ভুল করেছি। আমি বুঝলাম না কারনটা কি হলো? ফুসকার দোকানে বিলটা দিয়ে বের হলাম। দোকানের বাইরে আসতেই নিশু মুখ গোমড়া করে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে।
-- নিশু কি হলো?( খুব নরম গলায় বললাম)
-- তুমি ফুসকার দোকানে কি বললে?
-- কী এমন বললাম?
-- বললে না যে আরো এক প্লেট ফুসকা নিবো কি না।
-- এতে সমস্যা কি হলো?
-- কেন আমি বেশি ফুসকা খেয়ে পেট খারাপ করে মরে গেলে তুমি বুঝি খুশি।
-- আরে আমি তা বুঝাতে চাই নি।
-- তাহলে ফুসকার দোকানে বললে না কেন যে একটু কম খাও নয়ত শরীর খারাপ করবে। এবার কি হবে গতবার আইসক্রিমের দোকানে এটা বলার জন্য যা না তা শুনেছি। আর এখানে কম খাওয়ার কথা বলি নি তাই কথা শুনছি।
গত পরশুদিন আইসক্রিমের দোকানে ও অলরেডি ৩টা আইসক্রিম খেয়ে ফেলেছে আর আমি একটা স্প্রিডের বোতল নিয়ে নড়াচড়া করছি।
-- নিশু আইসক্রিম এতো খেয়ো না। এতে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।
-- কি বললে হুহ? আমায় খাবারের খুটা দিলে তাই না। তোমার টাকায় আইসক্রিম খাই বলে এতো কথা। যাও খাবো না তোমার আইসক্রিম।
ঢিল দিয়ে আইসক্রিম ফেলে দিলো যা আমার মুখে এসে পড়লো।
ওইদিন খুব কষ্টে ওরে বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করে ছিলাম। আর আজ কি করবো? আজ তো ফুসকা কম খেতে কেন বলি নি তাই নিয়ে রেগে গেছে। আর যাই হোক, আজ একটা কথা মানতে বাধ্য হলাম যে এই তামাম দুনিয়ায় মেয়েদের বুঝার ক্ষমতা কারো নেই।
-- নিশু আমার কথাটা একটু বুঝার চেষ্টা করো? ফুসকা তোমার প্রিয় তাই বললাম আরেক প্লেট নিবে কি না।
-- ও তাই বুঝি। তেলে যে অতিরিক্ত চর্বি থাকে তা তো অবশ্যই জানো। আর আমি তিন প্লেট তেলে বাজা ফুসকা খেলাম এটা কোন বেপার না। আমি বেশি বেশি খেয়ে মোটা হয়ে গেলে তুমি খুশি। আর তারপর অন্য মেয়েদের দিকে নজর দিবে তাই না।
-- আরে তুমি কিসের মাঝে কি বলছো?
-- আমি বুঝি তো সব বুঝি রাজ। প্রেম করবে আমার সাথে আর বিয়ে করার প্লেন আছে অন্য কাউকে?
-- বেচেঁ যেতাম আর কি!!!( বিড়বির করে বললাম)
-- কি বললে?
-- না বললাম আর এমন কিছু বলবো না খাওয়ার সময়।
-- মনে থাকবে তো।
-- পাক্কা।
-- ঠিক তো পাক্কা।
-- আচ্ছা চলো তোমায় বাড়ি দিয়ে আসি।
-- ওকে
তারপর একটা রিকশা নিয়ে ওদের এলাকার কাছে গেলাম। পরে ওরে নামিয়ে দিয়ে আমি চলে আসলাম। বাড়িতে এসেই খাটে শুয়ে পড়লাম। আর সাথে সাথে আমার ফোনটা বেজেঁ উঠলো। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি নিশু ফোন দিয়েছে।
-- হুমম নিশু বলো?
-- বাড়ি চলে গেছো।
-- এই মাত্র আসলাম। কিন্তু কেন?
-- আসলে তোমায় একটা কথা বলার ছিল? পরশুদিন যে আমার জন্মদিন এইটা তো মনে হয় ভুলে গেছো?
-- না তো আমি কি ভুলতে পারি বলো?( যাক ও মনে করিয়ে দিলো)
-- ও তাই তাহলে জানতে চাও নি তো এবার জন্মদিনে আমি তোমার থেকে কি চাই?
-- ও কিছু চাও বুঝি।
-- কি??
-- না মানে কি চাও বলো?
-- বেশি কিছু না শুধু একটা ডায়মন্ডের আংটি হলেই হবে।
-- এ্যাএএএএ
-- কি হলো?
-- ডায়মন্ডের আংটি।
-- কেন বেশি কিছু চেয়ে ফেলেছি বুঝি?
আপাতত সব ভালবাসা বাতাসের মত উড়ে গেল। মনটা চাইতাছে এখনই ব্রেকআপ করে দেই। আরে একটা আংটির দাম তো আমার সাড়া মাসের ইনকামের চেয়েও বেশি। আমি কিছু বলতে যাবো তখনই ও বলল....
-- আরে বোকা আংটি তো বাহানা ছিল। আসলে কিছুই লাগবে না। শুধু একটা ডাইরিতে শুধু আমার জন্য একটা গল্প লেখে দিবে কেমন?
-- গল্প? তুমি তো জানো আমি গল্প লেখতে পারি না।
-- তা পারবে কেন? আমি তো কেউ না। বুঝি তো সব বুঝি।
-- আর ইমোশনাল ব্লেকমেইল করো না তো। চেষ্টা করবো লেখার জন্য।
-- ওকে বায় আর হা রিলেশন ব্রেকআপ করার কথা ভুলেও ভাববে না তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিবো। বলেই ফোনটা কেটে দিলো। এই মাইয়া বুঝলো কি যে আমি ব্রেকআপ করার চিন্তা করছি। যাই হোক,সত্যি মেয়েদের বুঝার উপায় নেই। ওরা কখন যে কি ধরনের রূপ নেয় তা বুঝা মুশকিল। তবে মনে হয় মেয়েদের পাগলী রূপটাই খুব মিষ্টি। রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এসে মনে পরলো ওর জন্য গল্প লেখতে হবে। তবে কি লেখবো ভেবে পাচ্ছি না। কি দিয়ে শুরু করা যায়। তবে যাই লেখি না কেন যা লেখবো বাস্তব কিছুই লেখবো। কারন গল্পের থেকে বাস্তবই বেশি রোমান্টিক হয়। প্রলয় আজও ভার্সিটির গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে রুহির জন্য। প্রতিদিন রুহিকে দেখা প্রলয়ের অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রলয়ের সাথে রুহির দেখাটা একটা জন্মদিনে হয়। প্রলয় তার বন্ধুর জন্মদিনে যায় আর সেই দিন রুহিকে প্রথম দেখে। পরে খুজঁ নিয়ে জানতে পারে রুহি হলো ওর বন্ধুর বোনের বান্ধবী। আর রুহি এই এলাকার ভার্সিটিতেই পরে। তারপর থেকে প্রতি দিন প্রলয় অফিসে যাওয়ার আগে ভার্সিটিতে যায় রুহিকে দেখতে। এভাবে প্রায় সময় পার হয় তবে রুহি হয়ত কিছুটা বুঝতে পারে যে প্রলয় ওরে ভালবাসে। কারন মেয়েদের দুইটা চোখ ছাড়াও আরেকটা চোখ আছে যা দ্বারা তারা বুঝতে পারে কে তাদের ভালবাসে। একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছে আর কোন মতে প্রলয় ভার্সিটির গেটের সামনে এসে হাজির হলো। আর তাছাড়া আজ বৃষ্টিতে ভিজলেও তার সমস্যা নাই কারন আজ তার অফিস বন্ধ। সে প্রতিদিনের মত গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে আর ভিজতে লাগলো। হঠাৎ খেয়াল করলো কে যেন প্রলয়ের পিছনে দাড়িয়ে আছে। প্রলয় পিছন ফিরতেই দেখে রুহি ছাতা হাতে দাড়িয়ে আছে।
-- এই যে মিষ্টার আজ যে ভার্সিটি বন্ধ তা কি আপনি জানেন না।
-- ও আমি মানে জানি মানে না......
-- কি হা না করছেন??
--আসলে এমনি এখানে দাড়িয়ে ছিলাম।
-- মিথ্যা কম বলেন। আমার ছাতার নিচে যথেষ্ট জায়গা আছে তাই আসতে পারেন ছাতার নিচে যদি আপত্তি না থাকে। প্রলয় চুপচাপ ছাতার নিচে গিয়ে দাড়ালো তারপর রুহি আবার বলল....
-- আসলে কিছু নোট করার ছিল তাই পাশের একটা বান্ধবীর মেসে গিয়ে ছিলাম। আর আসার সময় খেয়াল করলাম আপনি দাড়িয়ে ভিজছেন? আর কিছু না হোক, কোন দিন ভার্সিটি খোলা আর কোন দিন বন্ধ এটা খেয়াল রাখতে শিখেন।
-- সেই খেয়ালটা রাখার মানুষটার জন্যই তো আমি এতো বেখেয়াল।
-- আপনি তো খুব ভাল কথা পারেন?
-- (চুপ করে রইলো প্রলয়)
--একটা রিকশা ডেকে দেন তো আমি বাড়ি যাবো। তারপর প্রলয় দৌড়ে গিয়ে একটা রিকশা নিয়ে আসলো আর রুহি প্রলয়ের দিকে দেখছে। তারপর রুহিও সেই রিকশায় উঠে বসলো......
-- এই মিষ্টার ছাতাটা ধরেন? নয়ত বেশি ভিজলে আপনার জ্বর চলে আসবে।
-- সাবধানে যেও। (ছাতাটা নিয়ে)
ছাতাটা নিয়ে দাড়িয়ে আছে প্রলয় আর রিকশাটা চলে যাচ্ছে। তখন রিকশার পিছনের পর্দাটা তুলে রুহি প্রলয়ের দিকে তাকালো। যা দেখে প্রলয়ের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। রুহির দেওয়া ছাতাটা প্রলয় আর খুলল না। বরং সে আজ ভিজবে। ভিজিয়ে দিবে এতো দিনের না বলা ভালবাসা গুলো কে। সকালে মায়ের ডাকে আমার ঘুম ভাঙ্গলো। কখন যে ঘুমিয়ে গিয়ে ছিলাম খেয়ালও ছিল না।
-- রাজ কিরে টেবিলের উপর ঘুমিয়ে আছিস কেন?
-- ও খেয়াল ছিল না মা। ডাইরী লেখতে লেখতে কখন যে চোখটা লেগে গেলো তা মনেই নেই।
-- ডায়রী লেখিস কবে থেকে তুই?
-- না আসলে একজনের জন্মদিনে উপহার দিবো তো তাই।
-- ও আচ্ছা তাহলে যা এখন ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে আয়। আজ অফিস যাবি না।
-- যাবো তো
-- আচ্ছা খাবার টেবিলে আয়। আমি তোর জন্য বসে আছি। ফ্রেশ হয়ে রেডি হতে লাগলাম।কখন যে গল্প লেখতে লেখতে ঘুমিয়ে গিয়ে ছিলাম তার খেয়াল ছিল না। যাই হোক, তারাতারি নাস্তা করে অফিস যাই। মায়ের সাথে নাস্তা শেষ করে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অফিসে যেতে না যেতেই নিশুর ফোন চলে আসলো। কাল ওর জন্মদিন আর আজও গল্প লেখে শেষ করতে পারি নি। এখন ফোন ধরে কি বলবো?
-- হা নিশু বলো?
-- এখন কি অফিসে চলে গেছো?
-- হুমম কেন?
-- আজ বিকালে ছুটি নিয়ে নাও। আমার সাথে শপিংয়ে যেতে হবে।
-- শপিং??
-- শপিং এর কথা শুনে এতো চমকে গেলে কেন?
-- না আসলে ছুটি কী পাওয়া যাবে।
-- স্যারের রুমে গিয়ে আমায় ফোন দাও তাহলে আমি স্যারের সাথে কথা বলে ছুটি নিয়ে দিচ্ছি।
-- না তার দরকার হবে না। আমিই বরং ছুটি নিয়ে নিবো।
-- ঠিক আছে রাখলাম এখন।
এই মেয়ে নির্ঘাত আমার চাকরী খেয়ে ছাড়বে। একটা দিন আমায় আদর করে বাবু পর্যন্ত ডাকে নি বরং সেই প্রেমের শুরু থেকেই আমায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে আসছে। মনে হয় ওরে বিয়ে করতে পারবো না। কারন যেই হারে ও আমায় জ্বালাইতেছে আর পুড়াইতেছে তাই কবে যেন আমি কয়লা হয়ে যাই। ওর সাথে আমার প্রেমটা চরম রোমান্টিক ভাবে হয়ে ছিল তবে আপাতত ওর সাথে আমার মাঝে সেই রোমান্টিকের ছিটে ফুটাও নেই। কারন ওর টর্চারে মনে হয় আমি গরন উনুনের উপর বসে আছি। তবে নিশু আমায় সত্যি খুব ভালবাসে। নিশুর সাথে আমার দেখাটা হয়ে ছিল.... আমি নদীর পাড় খুব পছন্দ করি। তাই একা একা বসে আছি নদীর পাড়ে। আর সেইদিন খুব বাতাস বয়ে চলছিল। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর বুকে থেকে ঘৃনা নামক শব্দটাকে বাতাস উড়িয়ে দিচ্ছে আর সবাইকে বলে যাচ্ছে ভালবাসতে শিখো। তখন খেয়াল করলাম একটা মেয়ে নদীর পাড় ধরে এলোমেলো হয়ে হাটছে। যদি একটু অসাবধান হয় তাহলে সিউর নিচে পরে যাবে। তবে মেয়েটিকে দেখে যা মনে হচ্ছে ও নেশা করে নি। তাই বাধ্য হয়ে ওর সামনে গেলাম।
-- আরে সাইড দিয়ে হাটছো কেন পড়ে যাবে তো??
আমার কথা বলতে না বলতেই ওর পা পিছলে গেল আর আমি ওর হাতটা ধরে ফেললাম। সেই মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে রইলো আর আমিও ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। তখন হালকা বাতাস যেন কোন এক বুকের বাম পাশটাকে ছুয়েঁ গেল। আমি ওরে টেনে ঠিক অবস্থায় নিয়ে আসলাম।
-- কি হলো মরতে যাচ্ছিলে বুঝি?
-- না তো।
-- তাহলে এমন এলোপাথাড়ি হাটছিলে কেন? নেশা করেছো বুঝি?
-- কই না তো।
-- তাহলে এমন করে হাটছো কেন?
-- ও কেন বলে ছিল তোমার বয়ফ্রেন্ড এই কথা?
-- এটা তো জানি না।
-- ও তোমার বয়ফ্রেন্ড এখন কোথায়?
-- লাপাত্তা হয় গেছে।
-- মানে?
-- আমি ওরে খুব বিশ্বাস করতাম আর ও আমার সেই বিশ্বাস ভেঙ্গে চলে গেছে। ও আমার কাছে ২০ হাজাট টাকা চেয়ে ছিল আর আমিও সেই টাকাটা দেই আর তারপর ওর আর কোন খুজ পাই নি।
-- বুঝলাম তোমায় ছ্যাকা দিছে।
-- হুমম আচ্ছা তোমার নাম কি?
-- আমি রাজ আর তুমি?
-- আমি নিশু। আচ্ছা আমার বন্ধু হবে?
-- কেন?
-- এমনি। জানো চার দিকটা খুব একা একা লাগে। হবে আমার পথ চলার সাথী।
-- ওকে বন্ধু।
এই ভাবে ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব শুরু হয়ে যায়। এরপর নিশু আমার অনেক খেয়াল রাখতো। এই খেয়াল থেকে কবে যে ওর জন্য আমার মনে ভালবাসার জন্ম হয়ে যায়। তার কারনে আমি ওরে প্রপোজ করে দেই।আর এখন বুঝি কত চাপ যায় আমার উপর দিয়ে। কেন যে ওরে প্রপোজ করতে গেছিলাম। নিশুর কথা ভাবতে ভাবতে কখন বিকেল হয়ে গেল। ইশশ ওরে না বললাম ওর সাথে শপিংয়ে যাবো। তারাতারি বসের রুমে গিয়ে ছুটি নিয়ে আসলাম।অফিস থেকে বের হতে না হতেই নিশুর ফোন চলে আসলো।
-- হুমম নিশু কোথায় তুমি?
-- আমি শপিং মলে দাড়িয়ে আছি। তোমার আসতে কতখন লাগবে।
-- এই তো ১০ মিনিটের মাঝেই আসছি।
-- আচ্ছা আসো।
তারপর একটা রিকশা নিয়ে আমি শপিং মলে চলে যাই। আর নিশুর সাথে ওর শপিং করতে শুরু করি। তবে মনে হচ্ছে না যে শপিং করছি তবে মনে হচ্ছে শুধু দোকান ঘুরছি। প্রায় ৩ ঘন্টা হয়ে গেল তবু ওর নাকি শপিং শেষ হয় নি। এমন করে ওর পিচন পিছন ঘুরতে লাগলাম। এখন বুঝতাছি ওর আগের বয়ফ্রেন্ড কেন পালাইছে। ইশ আমার জীবনটা তেজপাতা হয়ে যাইতাছে। আরো এক ঘন্টা পর নিশু বলল.....
-- রাজ আমার শপিং শেষ। এবার চলো কফিসপে যাই।
--ও চলো।
দুইজনে বসে কফি খাচ্ছি। আর আমি ভাবছি আজ খাওয়া নিয়ে কোন ঝামেলা জানি হয়।
-- আচ্ছা রাজ কাল তো আমার জন্মদিন, তা তোমার গল্প লেখা কি শেষ?
-- না মানে অর্ধেক শেষ। তবে আজ রাতে শেষ করবো শিউর।
-- আচ্ছা কাল ১০ টা বাজে আমরা পার্কে দেখা করবো প্লিজ।
-- কিন্তু আমার অফিস?
-- কালকের দিনটা আমায় দাও। প্রমিস আর তোমার অফিসে যাওয়া বন্ধ করবো না।
-- ওকে
তারপর ওরে বাড়ি দিয়ে আমি বাড়ি চলে আসি। বাড়িতে এসেই অফিসে ফোন দিয়ে ছুটি নিয়ে নেই। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার প্রলয় আর রুহির গল্পটা লেখতে বসি। রুহি রিকশা দিয়ে চলে যাচ্ছে আর প্রলয় সেই চলে যাওয়া দেখছে আর আপন মনে ভিজছে। কারন প্রলয়ও আজ বুঝে গেছে রুহিও তাকে পছন্দ করে। ঠিক পরের দিন সময় মত রুহিকে তার ছাতাটা ফিরত দেওয়ার জন্য প্রলয় তার ভার্সিটির সামনে দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ রুহিকে আসতে দেখা গেল......
-- আজও ঠিক সময় মত দাড়িয়ে আছেন?
-- আসলে আপনার ছাতাটা।
-- হুমম বুঝলাম। আচ্ছা তাহলে আসি।
রুহি ভার্সিটিতে ঢুকলো তখন পিছন থেকে প্রলয় বলল......
-- এক কাপ কফি খাওয়ার সময় হবে আমার সাথে বসে।
রুহি পিছনে তাকিয়ে শুধু অবাক হয়ে একটা হাসি দিয়ে সম্মতি জানালো।
দুইজনেই কফি সামনে নিয়ে বসে আছে আর কোন কথা বলছে না। তাই হঠাৎ রুহি বলল.....
-- আচ্ছা অনেক সময় তো হলো এবার তাহলে আমি আসি।
-- রুহি আমি তোমায় ভালবাসি।
চোখ বন্ধ করে সাহস নিয়ে বলেই ফেলল কথাটা প্রলয়। আর রুহি পুরু অবাক হয়ে গেল। কারন যে আজ ২ মাস ধরে শুধু হা করে চেয়েই থাকে সে কি করে বলল ভালবাসার কথা। তখন রুহি প্রলয়ে কানের কাছে গিয়ে বলল....
-- এক কাপ কফি দিয়ে তো ভালবাসার কথা বললে তাহলে আরেক কাপ কফি অর্ডার দেওয়া যাক সামনের জীবনটা চলার জন্য।
এই থেকে শুরু হয়ে যায় প্রলয় আর রুহির ভালবাসা। খুব ভালই যাচ্ছিল তাদের দিন গুলো।
তারপর পারিবারিক সম্মতিতে প্রলয় আর রুহির বিয়ে হয়ে যায়। যেহেতু প্রলয় ভাল চাকরী করে তাই রুহির পরিবার তাকে মেনে নেয়। বিয়ের পর কয়েক মাস পার হয়ে যায়। তাদের ভালবাসা কমার বদলে আরো বাড়তে লাগলো। তারপর একদিন......
গল্পটাবআর লেখার সাহস হচ্ছে না কারন আমার হাতটা কাপছেঁ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে পার্কের মাঝে চলে যাই। কারন আজ নিশুর জন্মদিন আর হাতে ডায়রীটাও নিয়ে আসছি। আমি বরাবরের মত সব সময় লেট করি তবে আজ তারাতারি চলে আসছি। ওই তো নিশু আসছে। আজ হলুদ রংয়ের থ্রী পিছ পড়ছে যা আমার প্রিয়।
-- কি হলো এমন হা করে কি দেখছো মশাই?
-- না কিছু না।
-- আমার গিফট কই?
--( ওর দিকে ডায়রীটা বাড়িয়ে দিলাম)
ও একটা হাসি দিয়ে আমার হাত থেকে ডায়রীটা নিয়ে ঘাসের উপর বসে পরলো। আর খুব উৎসুক হয়ে পড়তে লাগলো প্রলয় আর রুহির কাহিনী। আমি জানি নিশু গল্প পড়তে পড়তে আমার কাছে বাকি কাহিনীটা জানতে চাইবে। যা ভাবনা ঠিক তাই হলো....
-- রাজি বাকী কাহিনী কোথায়? এরপর একদিন কি হয়েছিল? তুমি লেখো নি কেন আর এটা কার কাহিনী?
-- চলো তোমায় আজ একজনের সাথে দেখা করাবো।
-- কোথায়?
-- চলো না।
নিশু কে নিয়ে হাটতে লাগলাম। আর হাটতে হাটতে আমাদের বাড়িতে আসলাম।
-- নিশু এটা আমাদের বাড়ি?
-- বুঝলাম কিন্তু গল্পের সাথে এই বাড়ির কি সম্পর্ক?
-- ভিতরে চলো তাহলেই বুঝতে পারবে।
তারপর তাকে বাড়ি নিয়ে এসে প্রথমে মাকে সব বললাম পরে মায়ের অনুমতি নিয়ে ওরে একটা রুমের সামনে নিয়ে গেলাম। আর এই রুমে একটা মহিলা শুয়ে আছে।তখন কৌতুহল বশত নিশু আমায় বলল....
-- ওনি কে রাজ?
-- ওনি আমার ভাবি। আর এটা আমার ভাই প্রলয়ের রুম। আর ওনার নাম হচ্ছে রুহি। তুমি গল্পের পরের কাহিনী শুনতে চেয়ে ছিলে না। তাহলে শুনো....
একদিন প্রলয় আর রুহি গাড়িতে করে আমাদের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল আর আমি তখন হোস্টেলে থেকে লেখা পড়া করি। মাঝে মাঝে ভাই আর ভাবীর সাথে দেখা হয়। যে গাড়ি দিয়ে তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি ওই গাড়িটা ভাইয়া নিজেই চালাচ্ছিল। হঠাৎ একটা ট্রাকের সাথে গাড়ীটার ধাক্কা লাগে আর ওদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। ভাইয়া ওই খানেই মারা যায় আর ভাবীকে কিছু লোক মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ভাবী মাথায় চুট পাওয়ার কারনে সবাইকে ভুলে যায় শুধু প্রলয় নামটা ভুলে না। ভালই হয়েছে যে ওনি সব ভুলে গেছে নয়ত অতীত ওনাকে কূড়ে কূড়ে শেষ করে দিত। ভাবী বলতে গেলে এখন মানসিক রোগী। ওনাকে হাসপাতালে রাখতে চায় সবাই তবে আমি আর মা মিলে ওনাকে বাসায় নিয়ে আসি।
-- রাজ আমি দুঃখিত?আমি কখনো বুঝতে পারি নি তোমার বুকে এতো কষ্ট লুকিয়ে আছে। প্লিজ আমায় মাফ করে দাও।
-- ধ্যাত পাগলী। তুমি খুব ভালো যদি একটু জেদী।
-- কী?
-- না কিছু না।
জীবনের গল্পের কোথায় শেষ আবার কোথায় থেকে শুরু হয় কেউ বলতে পারে না। তবে গল্প থেকে বাস্তব যেমন রোমান্টিক তেমন মর্মান্তিক হয়ে থাকে। প্রলয় আর রুহি হারায় নি বরং রাজ আর নিশুর বুকে বেচেঁ আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now