বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিয়তি -১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X জেবা। বয়স ২১। বললেন ডা. মহিত কামাল স্যার। প্রখ্যাত মানষিক রোগ বিশেষজ্ঞ। এখন আমি তার চেম্বারে। আমার দিকে তাকিয়ে তিনি মিষ্টি করে হেসে বললেন, আপনার সমস্যা কি? কি ভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। যেখান থেকে তোমার বলতে সুবিধা হয়। শুরু করো। তুমি করে বললাম রাগ কর নায় তো? না, স্যার। তাহলে শুরু কর। স্যার আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই। কি দেখতে পাও। স্যার আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই। কতদিন ধরে? জানি না। স্বপ্নে দেখ না জেগে জেগে দেখ? স্বপ্নে না, জেগে থাকলে দেখি। সব সময়ই দেখি না হঠাৎ হঠাৎ। হঠাৎ হঠাৎ? রাতে ঘুম হয়? পৃথিবী সব মানষিক রোগ বিশেষজ্ঞ এই একটা প্রশ্ন দিয়ে সব উত্তর পান। যদি বলি ঘুম ঠিক মতো হয় তাহলে তিনি হতাশ হবেন। কারণ আমার কোন মানষিক রোগ নেই। সত্যি কথা বলতে আমার ঘুমের সমস্যা নেই। ঘুমের জন্য প্রতিদিন মায়ের বকুনি খাই । আমি দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা কুমিড়ের মতো বিছনায় পড়ে ঘুমাতে পারি। স্যার আমার ঘুম নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ও, হ। তুমি যেহেতু ভবিষ্যৎ দেখ বলতো আমার ভবিষ্যৎ কি? আমি তো বলেছি হঠাৎ হঠাৎ দেখি। চেষ্টা করে দেখ। আমি চেষ্টা করলেও পারি না। শেষ বার কত দিন আগে দেখেছ? পাঁচ দিন আগে। কি দেখেছ, বিস্তারিত বল? আমাদের বাড়ি মিরপুর। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। মিরপুর ১নাম্বার বাসস্টপে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি থামে। একদিন কাস শেষে বাড়ি ফিরছি। সাথে আমার দুই বন্ধু মিনহাজ, হুমায়ূন। হুমায়ূন কি শুধুই বন্ধু? ও আমাকে..। স্যার আপনি বুঝতে পারলেন কি ভাবে? তুমি হুমায়ূন নামটি উচ্চারণ করে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললে। ওসব থাক আমরা মূল কথায় ফিরে আসি। মিরপুর ১নাম্বার বাসস্টপে একটা ওভারব্রিজ আছে। হঠাৎ আমি চোখের সামনে ভাসতে দেখি মিনহাজ রাস্তা পার হচ্ছে ওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে। একটা নীল মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ও রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। আমার সাদাজামা রক্তে লাল হয়ে গেছে। আমি রাস্তার মাঝে মিনহাজের পাশে বসে কাঁদছি। নিজেদের আবিস্কার করলাম ওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছি আমরা। আমি মিনহাজের জামা টেনে ধরলাম। সাথে সাথে একটা নীল মাইক্রোবাস এসে মিনহাজকে চাপা দিয়ে চলে গেল। আমি ছিটকে পড়লাম। মিনহাজ আমার সামনে ছটফট করছে। রক্তে রাস্তা ভিজে যাচ্ছে। আমি চিৎকার করে কাঁদছি। মিনহাজকে দ্রুত একটি প্রাইভেট কিনিকে নেওয়া হলো। কতর্ব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে। আচ্ছা এমন হতে পারে না। ঘটনাটি ঘটার পর তোমার মনে হয়েছে তুমি আগে দেখেছিলে? তাহলে আমি মিনহাজের জমা শক্ত করে চেপে ধরব কেন? মেয়েরা এম্নিতেই রাস্তা পার হওয়ার সময় কাউকে না কাউকে ধরে পার হয়। সেটা সত্যি কিন্তু মিনহাজকে আমি শক্তা করে চেপে ধরেছি। যেন ও থেমে যায়। ওর জামার একাংশ ছিড়ে আমার হাতের মধ্যে রয়ে গিয়েছিল। আমার জীবনের একটা ঘটনা বলি। আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে। বরিশাল মেঘনা নদীর তীরে আমার জন্ম। বরিশালে জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাই ভাইকে খুন করে। আমাদের গ্রামে এক ছোট ভাই বড় ভাইকে বুকের উপর চাকু দিয়ে কোপ দিয়ে হত্যা করল। বড় ভাইয়ের লাশ হাসপাতালের বারান্দায় চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হল। আমার মনে আছে আমি লাশ দেখতে গেছি। একজন এসে বুকের কাপড় সরিয়ে লাশ দেখাল। বুকের উপর একটা কালচে গর্ত। বাস্তবতা হলো এই লাশ আমি দেখিনি। হাসপাতাল ছিলো আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় পনের কিলোমিটার দূরে। আমার মা লাশ দেখতে গিয়েছিলেন। আমি ছোট এই জন্য সাথে নিয়ে যাইনি। হয়ত লাশ দেখে ভয় পাবো এই জন্যও হতে পারে। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি লাশ দেখেছি। এখন তুমি কি বলবে যে আমি বাসায় বসে দূরে ঘটনা দেখতে পাই। কিন্তু স্যার আমার ক্ষতেরেই বিষয়টা ভিন্ন! দেখ মৃত্য হত্যা দূর্ঘটনা সবই ঘটনা। জগত সংসারের নিয়ম। কিন্তু মানব মন এসব আশা করে না। তবুও ঘটে। মনের বিপরিত ঘটনা মনকে বিশৃঙল করে দেয়। ফলে এর একটা প্রতিক্রিয়া মানুষে স্মৃতিতে অভিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই অভিক্রিয়া একেক জনের েেত্র একের রকম। দেখবে কোনে দূর্ঘটনা ঘটলে মেয়েরা বলে এখানে আসার আগে আমার মনে হয়েছিল একটা বিপদ হবে। তখন কেন যে বাড়ি থেকে বের হলাম। এটা সব মেয়েদের ক্ষেতেেত্রই বেশি হয়। তুমি কি তাকে বলবে তারা ভবিষ্যৎ দেখেছে। স্যার এটা সত্যি তো অনেক মানুষের অতিরিক্ত মতা থাকতে পারে। তুমি দাবি করছ তোমার অতিরিক্ত মতা আছে। যাক আমি তোমাকে আমার সেলফ ফোন নাম্বাটা দিচ্ছি। আবার যখন দেখবে আমাকে জানাবে। আমি সময় আর ঘটনা লিখে রাখব। দেখি ঘটে কিনা! স্যার তার কার্ড বের করে হাত দিলেন। আমি কার্ড নিয়ে বের হলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦নিয়তির বদলা♦
→ নিয়তির প্রেম [দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব]
→ নিয়তির প্রেম [প্রথম পর্ব]
→ নিয়তি (পর্ব-৩)
→ নিয়তি
→ নিয়তি (পর্ব-২)
→ নিয়তি (পর্ব-১)
→ "নিয়তি"
→ নিয়তির মিলন
→ নিয়তি
→ নিয়তি
→ নিয়তির লিখন
→ নিয়তি
→ নিয়তি
→ নিয়তির_খেলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now