বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিশ্চুপ প্রেমের গল্প
____ হৃদয় মাহমুদ ।
:
:
:
তিন বছর অপেক্ষার পর ইমন নামের ছেলেটি মনের কথা অপ্রকাশ্য রেখেই একবুক কষ্ট চেপে বিদেশ পাড়ি দিলো।
.
ভালো লাগতো অষ্টম শ্রেনীতে পড়া পাশের পাড়ার রুপা নামের মেয়েটিকে। দুজনের একই গ্রাম তাই প্রত্যহ রুপা পায়ে হেঁটে ইমনের বাড়ির সামনে দিয়েই স্কুলে যেতো। রাস্তার পাশেই ইমনের বাড়ি ; রাস্তা থেকে গেইট খুলে বাড়িতে প্রবেশ করে। এই গেইটে ইমন প্রতিদিন স্কুল টাইমে রুপাকে দেখার জন্য বসে থাকে। দেখেই সাধ মিটে যায় কিছু বলার আগেই গলা শুকিয়ে যায়।
.
মেয়েটির সৌন্দর্যের কোন বর্ননাই হয়না। দেহ গঠনও অন্য রকম। যে কেউ এক দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাবে এক্কেবারে love at first sight. যেমন রং তেমন চেহারা ; কোমল স্বরে পাগল করা হাসি ; এলোকেশে আকর্ষনীয়া চলন ; ঝিরো ফিগারে সেরকম হাইট ; সব মিলিয়ে পারফেক্ট একটা মেয়ে। যতদূর গিয়েছে নজর কাটেনি এমন ছেলে খুবই কম পাওয়া যাবে। রুপার বান্ধবীরা তো তাকে প্রায় বলে যে আমি যদি ছেলে হতাম তোকে একখুনি বিয়ে করে নিতাম। তোর ফ্যামিলি না দিতে চাইলে জোর করে তোকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম। রুপার কোন রিএ্যাক্ট নেই সবকিছু নিশ্চুপে শুনে যেতো আর মুখটি টিপে হেসে দিতো।
.
অষ্টম শ্রেণীতেই মেয়েটি পুরোপুরি উপযুক্ত। দেখে বুঝাই যায়না যে সে মাত্র অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে। এক ধরনের মধ্যম হাইব্রিড প্রজাতি। যে কেউ মনে করবে এসএসসি কমপ্লিট করে ফেলেছে। অপরদিকে, ছেলেটি সদ্য এইচএসসি কমপ্লিট করলো। ভদ্র শান্ত স্বভাবের ছেলেটিও দেখতে শুনতে বেশ ভালো। এলাকায় মোটামুটি সুনাম রয়েছে।
.
একদা অপেক্ষা করার পর দুই তিন দিনই রুপার দেখার পেলো না। স্কুলে যাওয়ার সময় দেখেনি মনে মনে ভাবতে লাগলো "হয়তো খেয়াল করিনি " ছুটি হলে আসার সময়তো দেখবো কিন্তু দেখা হলোনা। তখন নিজেকে শান্তনা দিলো "আজকে বোধহয় অন্য রাস্তা দিয়ে গেছে"। রুপা বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথ দুইটা আছে। একটা মেইন রোড যাহা বর্ষার সময় ব্যাহার করতে হয়। অন্যটা পানি ভর্তি থাকে। সুদিনে দুটোই ব্যবহার করা যায়। এভাবে প্রায় তিন দিনই রুপার কোন ছায়া দেখলো না মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেলো।
.
ইমন একেবারেই ভীতু প্রকৃতির ছেলে। সাহস করে রুপার সামনে দাঁড়ানোর কথা ভাবতেই দুই হাঁটু কেঁপে উঠে ভালো লাগার কথাতো বাদ। দূর থেকে আনমনে চেয়ে থাকে আর ভাবে " কবে যে তুমি এসে আমাকে বলবে 'আই লাভ ইউ ইমন, আই লাভ ইউ "। তার ভাবনাটাও উল্টা কোথায় সে বলবে ভালোবাসি ; কিন্তু চিন্তা করে বসে আছে মেয়ে বলবে তাকে। মনোবলটা এতই দূর্বল যে একটু তাকানোর সময়ও চারিদিকে শতবার চেয়ে নিশ্চিত হয়ে নেয় যে কেউ নেই। এত্ত ভয়ের কারনে রুপাকে কখনো মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেখেনি। বসে আছে পাশ দিয়ে রুপা হেঁটে চলে গেছে অথবা দাঁড়িয়ে আছে রুপা যতদূর যাচ্ছে দেখা যাওয়া পর্যন্ত তাকিয়ে আছে।
.
তাইতো সেদিন তিন দিন না দেখার পরও একটিবারের জন্য রুপার বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করতে সাহস করেনি। বারবার বুকের মধ্যে বস্তা বন্দী সাহস সঞ্চয় করেও বান্ধবীদের না' বলেই পিছিয়ে গেছে। এই রাস্তা সেই রাস্তা, স্কুল গেইট, ছুটির সময় কতবার যে খুঁজেছে হিসেব নেই। পরে জানতে পারলো রুপা সেই তিন দিন স্কুলেই আসেনি অসুস্থ ছিলো বলে।
.
ইমনের মনের সেই অব্যক্ত কথাটা কাউকে প্রকাশ করেনি এমনকি তার সাথের বন্ধুদেরও। একদিন বন্ধুদের সাথে কোথায় যাওয়ার জন্য রেডি হলো। সবাই তাড়াহুড়ো শুরু করে দিলেও ইমন ধীরে সুস্থে রেডি হচ্ছে। তার টারগেট হলো স্কুল টাইমে বের হবে। রুপাকেও দেখা গেলো, যেখানে যাওয়ার যাওয়াও হলো। গেইট থেকে বের হতেই মুখোমুখি তখন ইমনের এক বন্ধু রুপার সৌন্দর্য বর্ননা করতে গিয়ে একটু বাজে ভাবে মন্তব্য করলো। তাতেই ইমন রেগে গেলো এমন করে চটলো যেনো তার সাথে মেয়েটির এ্যাফেয়ার আছে। সবাই সন্দেহ করে চিপে ধরলে সেদিন ইমন তার মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ভালো লাগার কথাটা বলতে বাধ্য হলো। তখন থেকেই বন্ধরা দুষ্টুমি করে বলতো রুপার জামাই। কিন্তু কারো সামনে বলা যাবে না খুব রাগ করবে।
.
বন্ধুরা সবাই তাকে অনেক বুঝালো রুপাকে সরাসরি বলতে কিন্তু ইমন রাজি না। সে শুধু চেয়ে থাকবে নিরবধি যুগের পর যুগ। তার ভয় হচ্ছে যদি প্রত্যাখ্যান করে ফিরিয়ে দেয়, যদি কোন ঝামেলা হয়ে যায়, যদি বদনাম হয় ইত্যাদি ভয়গুলো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তাই নিজেও বলার সাহস করেনা, কাউকে বলতেও দেয় না।
.
এভাবে কথাগুলো মেয়েটির কানে গিয়ে পৌঁছালো। তখন প্রায় এসএসসির পরীক্ষার শেষ পর্যায়। ইমনের এক কাছের বন্ধু কথাগুলো রুপার বান্ধীকে বললো। আর এভাবে রুপা শুনতে পেলো প্রত্যহ দাঁড়িয়ে তার দিকে এক নজরে চেয়ে থাকা ছেলেটি তাকেই পছন্দ করে। রুপা বিষয়টি পজিটিভলি নিলো। জানালো পরীক্ষা শেষে ইমনের সাথে সরাসরি দেখা করবে। বান্ধবীরা ইমনকে নিয়ে একগাদা প্রশংসা ছুঁড়ে দিলো। রুপাও ইমনের চেহারা ভেবে ভেবে ছোট্ট একটি কুঠির রচনা করে নিলো। এদিকে ইমন কিন্তু কিছুই জানেনা। তাকে কোন কিছু জানানো হয়নি।
.
ইমন প্রতিদিন রুপার পরীক্ষার কেন্দে চলে যেতো তাকে দেখার জন্য। রুপার পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো ইমনের বাড়ির বিপরীতে তাই দেখা হতোনা বলে কেন্দ্রে চলে যেতো। সেখানে রুপার বান্ধবীরা জানার পর রুপার সাথে দুলাভাই বল মজা করতো। রুপা কোন কথা বলতোনা শুধু হেসে দিতো।
.
পরীক্ষা শেষে ইমন খুব চিন্তিতো যে রুপার সাথে আর দেখা হবেনা। কিভাবে কি করা যায় ভাবছে। এদিকে বন্ধুরা সবাই প্রস্তুত রুপাসহ ; ইমনকে সারপ্রাইজ দিবে। সবাই একত্রে তাকে ডেকে এনে তার অদৃশ্য প্রেমের দৃশ্যায়ন ঘটাবে। একটা তারিখ নির্ধারন করলো সবাই সেখানে উপস্থিত হবে।
.
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সবকিছু উলট-পালট করে দিলো। ইমনের সাথে দেখা করার আগের রাতেই এক ডাকু বর রুপাকে বউ সাজিয়ে কোন এক অচিন গাঁয়ে নিয়ে চলে গেলো। দেখতে এসেই রাতে রাতে বিয়ে, পিছানোর কোন সুযোগ ছিলোনা। কাউকে জানানোর সময়ও ছিলোনা। রুপা কাঁদতে কাঁদতেই হারিয়ে গেলো। আর কারো সাথে কারো দেখা হয়নি। অতঃপর একবুক কষ্ট চেপে রুপাকে না' বলা ভালো লাগার কথা অপ্রকাশ্য রেখে ইমনও কিছুদিন পর দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি দিলো।
fb.fatin.israk.3
fb.hemo.rean
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now