বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিশাত

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নিশাত ঘুম থেকে উঠে দেখে সতেরটা মিসকল।আকাশের নামটা দেখেই স্কীপ করে দেখে মেসেজগুলো।প্রতিটা মুঠোবার্তায় লেখাঃ বারান্দায় আয়। নিশাত বারান্দায় গিয়ে দেখে বাইরে কেউ নাই।ফোন করে গাধাটাকেঃ : তোরে না বলছি ফোন দিবি না। - ফোন তো তুই দিছিস ! : সকালবেলা মেজাজের ফালুদা বানাবি না।সামনে আসলে খাবলা দিয়ে তোর সব চুল তুলে নিবো। - এটাও কিন্তু অসম্ভব।কারন খাবলা দিয়ে সব চুল তোলা যাবে না । তোর মাথায় ট্রাই করতে পারিস । তোরে নিয়ে পেজ খুলবোঃ টাকি নিশাত ! : টাকের স্ত্রীবাচক শব্দ আছে ? মেয়েরা কখনো টাক হয় না। আর সকালবেলা গাঁজাগুরি গল্প মারতেছিস তুই কই ? - গাছের ওপর । : WHAT THE .... কোন গাছ ? - সিরিয়াসলি তোর মনে হয় আমি গাছে ? : দেখতেছি না ক্যান ? বাট জানি তুই আশে পাশেই আছোস ! - কুত্তা আমি সামনের রাস্তায় ! : কই ? - চশমা পড়ছোস ? : ধ্যাত ঘুম থেকে উঠে ভুলে গেছি।দাঁড়া পড়ে আসি। চশমা পড়ে এসে দেখে কেউ নেই । আবার ফোন দেয় আকাশ কে - ঐ তুই কই ? : খুঁজে দেখ। - মজা নিতাছোস ? [কলিংবেল বাজে ] : ঐ দাড়া কে জানি আসছে। - আচ্ছা দেখ।আমি গেলাম। নিশাত দরজা খুলে দেখে আকাশ দাঁড়িয়ে আছে। ফিসফিস করে বলেঃ : সাহস বাড়ছে ? ভেতরে আসছিস কেন ? - পনের মিনিটের মধ্যে নীল শাড়ি পড়ে নিচে আসবি।এক মেয়েকে প্রপোজ করবো।তুই না থাকলে সাহস পাবো না ! : সিরিয়াসলি ? - হুম।আমি নিচে যাচ্ছি আয়। : আমি যাবো না । আমার ঠ্যাকা পড়ছে। বলে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয়। আকাশ নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে।ও জানে নিশাত আসবে।ঠোঁটের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা কথাটাও পড়তে পারে মেয়েটার। নিশাতের চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে।ওয়াশরুমে কয়েকবার পানির ঝাপটা দিয়ে বের হয়ে আসে। নীল শাড়ি পড়ে। বাসায় বলে ভার্সিটিতে প্রোগ্রাম আছে। নিচে নেমে রাস্তায় দাঁড়াতেই আকাশ গাড়ি থামিয়ে ফ্রন্ট ডোর খুলে বলেঃ তাড়াতাড়ি ! দেরি হয়ে যাচ্ছে ! নিশাত হাসিমুখে পাশে বসে। ভেতরে কেন যেন কষ্ট হচ্ছে।তবু আজ ভালো থাকার অভিনয় করতে হবে।আগের দিনগুলোর আড্ডা আর ঘোরাঘুরির কথা ভাবতে থাকে।ফ্রাশব্যাকে বাধা পড়ে আকাশের কথায়ঃ : সামনের প্যাকেটে চুড়ি আছে দেখতো ! - আমি কেন দেখবো ? : কাজ আছে ! তোর পছন্দ ইম্পর্টেন্ট। - কেন ? : এমনি। আকাশ ফোন দেয় কোন মেয়েকে।কথা হয়।নিশাত উইন্ডশীলের কাঁচ নামিয়ে বাইরে তাকায়।অভিনয় ভালো হচ্ছে না।ওর চোখে পানি জমছে।নিজেও বুঝতেছে না যে গাধাটার জন্য এত খারাপ লাগতেছে কেন?নিজেই তো বলেছিলো প্রেম করতে।শেষের দিকে আকাশের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছিলো। ব্রেক করে তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে আকাশ নেমে ওপরে যায়।পিছে আসে নিশাত।গিয়ে দেখে আকাশ একটা মেয়ের সাথে কথা বলছে।কাছে গিয়ে দেখে জারিনকে।আশ্চর্য হয় নিজের বেস্টফ্রেন্ডকে দেখে।জারিনও ভূত দেখার নিশাতকে দেখে লাফিয়ে ওঠে। নিশাত আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না।এ পর্যায়ে জারিন বলেঃ : আকাশ প্লিজ তাড়াতাড়ি ! - আচ্ছা কাজ হবে তো। : মাইর খাবা ? - আচ্ছা ।উল্টা কিছু হলে খবর আছে। নিশাত অবাক হয় যে ওকে কেউ দেখছে না ভেবে ! হঠ্যাত্‍ আকাশ নিশাতের হাত ধরে পাশের পার্টি রুমে নিয়ে যায়। জারিন আসে । এসে বলেঃ বেস্ট অফ লাক। বলে বাইরে যায়। ভেতরটায় পর্দা দেয়া। হাত ছাড় বলে নিশাত চলে আসতে ধরে।হঠ্যাত্‍ প্রজেক্টরে ভেসে ওঠে নিশাত আর আকাশের ছোট বেলার একের পর এক ছবি।আর ব্যাক গ্রাউন্ডে বাজতে থাকে আকাশের গলা। প্রথম কত তারিখে দেখা । কবে কথা .. এমনকি ক্লাসে কতবার পিছে তাকায় নিশাত সেসব প্রতিধ্বনি তোলে যেন ! কি হচ্ছে ভেবে পাশে তাকাতেই পাশের সোফার ওপর বসিয়ে দেয় আকাশ।ভিডিও চলছে। হঠ্যাত্‍ কথা থেমে যায়। এবার আকাশ নিশাতের হাত টেনে নিয়ে একটা একটা করে কাঁচের চুড়ি পড়িয়ে দেয় আর বলতে থাকেঃ আমাদের গল্পটা বন্ধুত্ব দিয়েই।দুজনেই ভালোবাসা হারিয়েছি।কিন্তু তারপর প্রতিটা দিন এভাবেই ছায়ার মত একে অপরকে সাপোর্ট করেছি। জানি বন্ধুত্বে ভালোবাসা আসে না।বরং আমাদের ভালোবাসায় হয়েছে বন্ধুত্ব ! একটু দুরত্ব আর হারানোর ভয়ে আমি বুঝেছিঃ You are the one for me ! উত্তর দিতে হবে না । হ্যাঁ তোকে আমি ভালোবাসি। লাইফ তো একটাই! তোর আর আমার মিষ্টি ঝগড়া চলুক প্রতিদিন। অন্য কারো সাথে গেলে প্রতিটা দিন তোকে মিস করবো।তাই রিস্ক নিতে চাচ্ছি না।তারচেয়ে প্রতিদিন তোর বকা খাবো।রাজি হলে হাতে আংটি পড়াবো ! না হলে না ! নিশাত কিছু না বলে উঠে বলেঃ গাড়িতে আয়! আরো প্লান ছিলো আকাশের কিন্তু নিশাত উঠে গেছে।গিয়ে দেখে নিশাত ড্রাইভিং সীটে।আত্‍ কে ওঠার মত আকাশ বলেঃ : তুই পারবি ? - বিশ্বাস করিস আমাকে ? : করি। - চাবি দে ! নিশাত গাড়ি সুন্দর করে রাস্তায় উঠিয়ে ফেলে।আকাশ কাঁপছে , কষ্টে আর আতংকে।নিশাত হঠ্যাত্‍ থামিয়ে দেয় গাড়ি।দিয়ে হাত বাঁড়িয়ে বলেঃ যদি অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাস খুন করব । সারাজীবন হাত ধরে থাকবি তো ? : তুই ড্রাইভ কেমনে করলি ? - আমিও সারপ্রাইজ প্লান করেছিলাম । তুই আগে দিয়েছিস ! বাই দ্যা আমাকে প্রোপজ কর ! : সিরিয়াসলি ! প্রোপজ কেমনে করে ! - দাঁড়া । বের হ গাড়ি থেকে । : ওকে ! - একশবার কান ধরে উঠবস কর ! তোর জন্যে আমি কাঁদছি ! আকাশ হাসিমুখে কান ধরতে যেতেই নিশাত নেমে হাত বাড়িয়ে দেয়।আকাশ পকেট থেকে আংটি বের করে কিন্তু মধ্যমাতে আংটি যাচ্ছে না।জোর করতেই আউ করে হাত সরিয়ে নেয় নিশাত।তারপর হাত থেকে কেঁড়ে নিয়ে নিজেই পড়ার চেষ্টা করে।চোখে পানি জমে গেছে! আংটি পড়া হয়ে যেতেই আকাশ বন্ধ করে রাখা দম ছেড়ে দেয়। ওর নিজের চোখেও পানি জমে যায়।মেয়েটার কান্না সহ্য হয় না আকাশের।পরস্হিতি হালকা করতে বলেঃ : নীল শাড়িতে তোরে অনেক ইয়ে লাগে ! - কিয়ে ? : বিয়ে টাইপ । - বিয়ে টাইপ মানে ? : মানে ইচ্ছে করে বিয়ে করে ফেলি । - আমার ঠ্যাঁকা ! আবার ঝগড়া শুরু হয়।একটু পরে দুজনেই হেসে ওঠে! কাছের মানুষকে আপন করে পাওয়াটা নিঃসন্দেহে ভাগ্যের ব্যাপার।আর ভেতরে লুকিয়ে না রেখে কাছের মানুষটিকে আপনার অনুপস্হিতি বুঝিয়ে দিয়ে জানিয়ে দিন মনের কথা।সত্যিকার ভালোবাসা উপেক্ষা করা যায় না!কে জানে আপনার বিশেষ মানুষটি পাশেই আছে।হয়তো আপনি চিনতে পারছেন না। [] কাব্যপ্রেমী রিফাত []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিশাত
→ নিশাতের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now