বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিরুপাই

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X এই রিক্সা ধানমন্ডি যাবেন? হয় আপা জামু.. তয় দশ টাকা বেশি দিতে হইবো? আচ্ছা দিবো... চলো এখন। . রিক্সা চলছে গতির বেগে। আপা একটা কথা কইতাম? হ্যা বল? ঈদটা আপনার কেমন কাটলো? আলহামদুলিল্লাহ ভাল। তোমার কেমন কাটলো? আর গরিবের ঈদ আছে নাকি! ঈদের দিনও বাড়িতে যাইতে পারলাম না। বাড়িতে যাও নাই কেন? কিভাবে যামু।বাড়িতে যাইতে তো টাকা লাগবো.. টাকা যা কামাই ছিলাম সব গুলো টাকা বিকাশে বাড়িতে পাঠাইয়া দিছি বউ পোলাপানের ঈদ করা জন্য। আপা গরিবের দু:খো আর অভাব কখনো পুড়াই না। তুমি যে অবস্তায় আছো সেই খানে থেকে শুকরিয়া আদায় করবে। তাই আল্লাহ তালা তোমার অবস্তা বদলাইয়া দিতে পারে। ঠিক আছে আপা। . সাদিয়া এতোক্ষন একটা রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বলছিলো। ধানমন্ডি এসে নামার পর ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে তার বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য একটা হোষ্টেলে উঠলো। সাদিয়ার জন্য সবাই উপেক্ষা করছে। ওখানে যারা আছে তারা সবাই কোটি পুতির মেয়ে। . সাদিয়া তাদের সাথে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে আর মনে মনে ভাবছে আমরা কতো সুখে আছি আর যারা গরিব তারা কতো কষ্টে জীবন যাপন করে ঈদ টাও ভালো মতো করতে পারে না। সাদিয়া শুকরিয়া আদাই করতাছে আল্লাহ তালার কাছে। . . রিক্সা চালক আজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ঢাকা টু সিলেট। কমোলাপুর রেলষ্টশেন থেকে সিলেট এর ট্রেনে উঠছে। বাড়িতে যাওয়ার সময় ভাবছে। বউ এর জন্য তো কিছু নিতে পারলাম না। ছেলেটা জন্য একটা সার্ট নিয়েছে। আর একটা মেয়ের জন্য ফোরাক নিয়েছে। মানুষের ঈদ করা শেষ আর রফিক মিয়া বাড়িতে যাওয়ার পর ঈদ করবেন।(রফিক মিয়া হলো রিক্সা চালক) . সিলেট এসে নামার পর বাড়ির দিকে যাচ্ছে এখান থেকে প্রায় আরো দশ কিলোমিটারের রাস্তা তো রফিক মিয়া ভাবছে গাড়িতে জামু না হেঁটে হেঁটে জামু দিশা না পেয়ে একটা বাস আসতাছে বলতাছে খালেদ পুর খালেদ পুর সেই বাসে ওঠে গেলো। . বাসে বসে রফিক মিয়া ঘুমিয়ে পড়ছে। ঘুমের মাঝে একটা স্বপ্ন দেখতাছে সেটা হলো। রফিক মিয়ার ছেলেটা বড় হয়েছে। লেখা পড়া শেষ করে একটা চাকুরি পেয়েছে।সেই চাকরি করে প্রথম মাসে বেতন পেয়ে বাবা মার জন্য পোশাক নিয়ে এসেছে। বাবার জন্য একটা পাঙ্জাবি নিয়ে এসে বলতাছে এইটা নাও বাবা তোমার জন্য এনেছি। মাকে এরকম ভাবে দিয়ে বলতাছে এইটা নাও মা তোমার জন্য এনেছি। রফিম মিয়া এতে অনেক খুসি হয়েছে। রফিক মিয়ার ছেলে আরো বলতাছে বাবা তোমার আর রিক্সা চালাতে হবে না। তোমার আর কষ্ট করতে হবে না। আমি প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা পাবো সেই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে যাবে। বাবার চোখে খুশি অশ্চু ঝরছে তাই দেখে ছেলের চোখেও অশ্চু ঝরছে। . . বাসটা একটা ঝাকুনি খাইলো আর সাথে সাথে রফিক মিয়ার স্বপ্ন বেঙেঁ গেলো....... স্বপ্নটা দেখে রফিক মিয়া আল্লাহর কাছে দুআ করতাছে যে আল্লাহ তুমি আমার এই স্বপ্নটা পুরন কইরো। . বাসের গতি বাসছে আর মাএ পাঁচ মিনিট লাগবে তাই রফিক মিয়ার বাড়ির কাছে চলে আসবে। আর তখনি বাসটা একটা টাটা গাড়ির সাথে এক্সসিডেন করে। সাথে সাথে বাসের যতো লোক ছিলো সবাই আহত এবং অনেকেই নিহত হলো। কিন্তু রফিক মিয়া আহত হলেন। দুইটা পা গাড়ির সিটের ভিতর দিয়ে গেছেন এজন্য রফিক মিয়ার দুইটা পা নষ্ট হয়ে গেছে। . কয়েক বছর পর।রফিক মিয়ার ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে। মেয়ে কে বিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে। কিন্তু রফিক মিয়া মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছে না। ছেলে যা টাকা ইনকাম করে তা সংসার কোন মতে চলে। রফিক মিয়া এখন কিছুই করতে পারে না। নিরুপাই হয়ে বসে বসে বস দেখে আর ভিতরে ভিতরে ক্ষরে খায় আমি যদি এখন ভালো থাকতাম তাহলে মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারতাম। . . ........সমাপ্ত......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিরুপাই

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now