বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীলয়

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নীলয় একটি ডেভেলপার কোম্পানীতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করে।বেতন তেমন একটা বেশি না তবে চলে যায় ওর। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা শেষ করেছে সে।জব করছে সাথে বি.এস.সি ও পড়ছে। এভাবেই চলছিল নিলয়ের একদিন প্রজেক্ট এর সামনের চায়ের দোকানে বসে সিগারেট ফুকছিল নিলয়।হঠাত করে সিগারেট এর ধোয়া তার চোখের সামনে থেকে সরতেই নজর পরল একটা স্কুল ড্রেস পরা মেয়ের দিকে।কেন জানিনা চোখটা আটকে গেল তার।মেয়েটা খুব বেশি লম্বা না, ভারী ব্যাগের বোঝায় হয়ত নূয়ে পড়েছে। মেয়েটা একটানা হেটে আসছিল, একদম মাটির দিকে তাকিয়ে।ওর হাতে একটা ঘড়িও পরা ছিল। এই সব কিছু দেখতে দেখতেই মেয়েটা তার বাসার গলিতে ঢুকে পরল।হুশ ফিরল দোকানদার খালার ডাকে,,,, "মামা সিগারেট লও" নিলয় সিগারেটটা নিয়ে তার প্রজেক্টে চলে গেল। কিন্তু মেয়েটার সেই মায়াবী মুখ নিলয় ভুলতে পারছিল না।সবচেয়ে ভাল লাগছিল ওর ঘড়ি পরার ব্যাপারটা। কেন জানি মনে হয়েছিল এই মেয়েটা খুব ভদ্র আর বুদ্ধিমতী। অবশ্য এটাও ভেবেছিল যে মেয়েটা হয়ত ওর থেকে বয়সে ছোট অনেক।কিন্তু সে নিজেই তো এস এস সি দিয়েছে ২০১২ তে। সে তো আর বুড়ো হয়ে যায় নি। আর তাছাড়াও বিয়ের জন্য বয়সের পার্থক্যটা পারফেক্ট। একবার দেখেই বিয়ে????? হা হা হা, নিজের আনমনেই হেসে উঠল নিলয়,, তারপর মাঝে মধ্যেই দেখতো মেয়েটিকে। দেখলেই বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো।মেয়েটি তাকে দেখতো কিনা সে নিজেও জানেনা একদিন দুপুরে নিলয় এর প্রজেক্টের দারোয়ান বলল "স্যার, আপনার সাথে একজন দেখা করতে আসছে" "কে" " ওই যে পাসের বাসার একটা মেয়ে আছে না সে" নিলয় আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিচে নেমে গেল।কিন্তু নিজের আবেগ আর উদ্দীপনাকে দমন করে ঠাণ্ডা ভাবে বলল "জ্বি বলুন"(নিলয়) "জ্বি আসলে আমাদের বাসার পানির লাইন এর কাজ চলছে, কিন্তু আমাদের এখন পানির খুব দরকার। আপনার এখান থেকে আমাদের একটু পানি দেওয়া যাবে??"(মেয়েটা) "আপনার নামটা জানতে পারি??" "জ্বি??? " "না মানে আসলে পাইপ লাইন দিলে খাতায় নাম এন্ট্রী করাতে হবে তো তাই আর কি" "তন্দ্রা" "কিসে পরেন আপনি" "আচ্ছা আমি আসি হ্যা" বলে আর দারালোনা মেয়েটি। ঠিক সেই একইভাবে মাটির দিকে তাকিয়ে হন হনিয়ে চলে গেলো। নিলয় হয়ত এমন লজ্জা কখোনো পায়নি। সে তার দারোয়ান কে দিয়ে পানির পাইপ দিয়ে পাঠালো। সন্ধ্যার দিকে তন্দ্রা আবার আসলো আর পাইপ লাইন নিজেই নিয়ে আসল। নিলয় ওকে দেখার সাথে সাথে হাত থেকে সিগারেট টা ফেলে দিলো।এটা দেখে মুচকি হাসলো তন্দ্রা। সে হাসি দেখে নিলয় স্তব্ধ হয়ে গেছিল। নিরবতা ভাংলো তন্দ্রার কথায় "এই যে আপনাদের পাইপ টা রেখে গেলাম" " জ্বি,, ওওও,,,, আচ্ছা ঠিক আছে" মেয়েটা চলে যাচ্ছিল আর নিলয় ভাবছিল কি বলে কথা বলা যায় ঠিক তখনই তন্দ্রা বলে উঠল "ক্লাস টেন এ পড়ি" "জ্বি??" "ক্লাস টেন এ পড়ি আমি" "কোন গ্রুপ???" "কেনো এটাও কি আপনার খাতায় এন্ট্রি করাবেন নাকি??" "না ঠিক তা না,, এইভাবেই জিজ্ঞাসা করলাম" "আমাকে দেখে সিগারেট ফেলে দেওয়ার কিছু নেই,, একেবারে ছেরে দিলেই তো পারেন" "ছেড়ে দিলে কি খুশি হবেন??" "আপনার ভালোর জন্য বলছি। একজনের ভালো যদি আমার দ্বারা হয় তাইলে খুশি তো হবই" "আচ্ছা চেষ্টা করব" "ধন্যবাদ আসি তাহলে" "ঠিক আছে আসুন" নিলয় এর চেষ্টা সফল হতে লাগল। প্রায় ৩ সপ্তাহে ছেরে দিল সিগারেট। কষ্ট খুব হলো কিন্তু তাও কিছু পাওয়ার আনন্দে এই কষ্টটুকু মেনে নিল নিলয়। কিছুদিন পর,,,, প্রচন্ড ঝড় হচ্ছিলো সেদিন। নিলয় দাঁড়িয়ে ছিল তার প্রজেক্টের গেটের সামনে। তন্দ্রা তার সামনে দিয়েই জোর পায়ে বাড়ির দিকে এগুচ্ছিলো ঠিক তখনই সামনের বাসা থেকে একটা টিনের চাল বাতাসে উরে এসে রাস্তাই পরল তাও ঠিক তন্দ্রার সামনে। নিলয় দোওড়ে গেল তন্দ্রার কাছে। তন্দ্রা রিতীমত ভয়ে কাপছে আর নিলয় পাশে যেয়ে বলল "আপনার লাগেনি তো?? ভয় পেয়েছেন আপনি?? বাতাসটা একটু কমলে বাসায় যেয়েন ততক্ষন এখানে দারান" তন্দ্রা কিছু না বলে ভিতরে যেয়ে দারালো। ঝুম ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে আর নিলয় তন্দ্রা এক ছাতির নিচে দারিয়ে বৃষ্টি দেখছে। "বৃষ্টিতে ভিজেছ কখনো??" (নিলয়) "নাহ"(তন্দ্রা) "আজ ভিজবে??" " কেনো??" "আমার খুব ইচ্ছে করছে আপনার সাথে ভিজতে " "এটা কেমন ইচ্ছা, আমি ভিজবো কি না সেটা তো আমার ব্যাপার তাই না?? নিজের ইচ্ছেগুলোকে একটু আয়ত্তে রাখেন বুঝলেন" "তাহলে যে আমি আপনার ইচ্ছায় সিগারেট ছেরে দিলাম সেটা??" "সেটা তো আপনি আমার ইচ্ছায় করেননি। আপনাকে আমি একটা ভালো উপদেশ দিয়েছিলাম যেটা আপনি রেখেছেন। ব্যাস" "তোমার সত্যিই মনে হয় তাই করেছি আমি?" "তা না তো আর কি কারণে করবেন??" হঠাত নিলয় তন্দ্রার হাতের আংগুল গুলো নিজের হাতে ধরে বলল "তুমি বোঝোনা কেনো করেছি" হাতটা ছাড়ানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলো না তন্দ্রা। নিলয়ের চোখে চোখ রেখে তন্দ্রা বলল "কেন করেছ নিলয়?" "তোমাকে ভালবাসি বলে" নিলয়ের হাত থেকে ছাতিটা ফেলে দেয় তন্দ্রা। তারপর নিলয়ের হাত ধরে বৃষ্টিতে নিজেকে মিশিয়ে ফেলল তন্দ্রা। কে জানেই হয়তো এই বৃষ্টিই সাক্ষী ছিলো এক নতুন ভালবাসার। #shopnil_saniat_nibir


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীলয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now