বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠল মুন্না। আজ একটু আগে আগে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আসলে ওকে কখনো ঘুম থেকে জাগাতে হয়না, মাছের নেশায় প্রতিদিন ওর এমনি এমনিই ঘুম ভেঙ্গে যায়। আজ ও তেমনি ঘুম ভেঙ্গে গেল। শরীর থেকে কাঁথা সরিয়ে উঠে বসল।চোখ মুছতে মুছতে জাল-ডুলা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে গেল বাইরে।
ঘরের পেছন দিক দিয়ে পশ্চিমের রাস্তায় পা বাড়ালো মুন্না। পূবের রাস্তায় গেলে যদি বজ্জাতগুলো দেখে ফেলে !
সতর্ক দৃষ্টি ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাড়ি থেকে নীলের চর বিল প্রায় এক কিলোমিটার পথ।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে নীলের চরের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। সামনের কবরস্থানটা পার হলেই বিল। কিন্তু কবরস্থানের দিকে তাকিয়েই হঠাত থেমে গেল মুন্না। কবরস্থানের কাছেই মানুষজনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে যেন কারা হতে পারে? বজ্জাতগুলো নয়তো আবার! আবছা অন্ধকারে পুরোপুরি ঠিক ঠাহর করা যাচ্ছেনা।
মুন্না একটা গাছের আড়ালে দাঁড়ালো এবং তার গতিপথ ঘুরিয়ে দিল। কুয়াশাভেজা সর্ষেক্ষেতের মাঝামাঝি দিয়ে কবরস্থানের পেছনের দিকে পা বাড়ালো। কুয়াশায় ভিজে পা হিম হয়ে গেলেও সেদিকে খেয়াল নেই। তার লক্ষ্য মানুষগুলোকে চেনা।
চুপিসারে কবরস্থানের পেছনদিকে গিয়ে দাঁড়াল। এখান থেকে দিলুদের কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
আজ আর আমাদের ফাঁকি দিতে পারবেনা, দিলু বলল।
ও এখনো আসছেনা কেন? ঠাণ্ডায় আমার পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। তোদের জন্যে সারারাত আজ ঘুমোতে পারিনি, এতো আগে আসার কি দরকার ছিল? আরেকটু পরে এলেই তো হত, নয়ন বলল।
বোকার মতন কথা বলিসনা, এমনিতেই মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। তুই একাই কি কষ্ট করছিস? আমাদের ও তো একই অবস্থা। একদিন কষ্ট করে ওর সাথে মাছ ধরতে পারলেই আর কোন ঝামেলা নেই। ভূতেরা তখন আমাদের ও ভয় পাবে। বিন্দু বলল।
এতদিন ভয় পেলনা, অথছ আজ থেকে কেন ভয় পাবে? রাসেল জানতে চাইল।
ভূতেরা মনে করবে আমরা মুন্নার বন্ধু, মুন্নার মতন আমাদের ও সাহস আছে। তাইতো ওর সাথে মাছ ধরতে এসেছি, বিন্দু বিজ্ঞের মতন বলল।
কিন্তু ভূতেরা যদি এখনি চলে আসে, দিলু এদিক-ওদিক তাকিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করল।
আরে না-না, ভূতেরা কবরস্থানের কাছে আসেনা, কবরস্থানকে ভয় পায়। বিন্দু সাহস দিল বন্ধুদের।
তাতে কেউ সাহসী হতে পারল কিনা বোঝার আগেই কাদামাটির একটা ঢিল রাসেলের শরীরে এসে আছড়ে পড়ল।
এই কে কে??? ভয়েতে দিলুকে জড়িয়ে ধরল রাসেল।
এরপর কবরস্থানের পেছন দিক থেকে একের পর এক ঢিল ছুটে আসতে শুরু করল ওদের দিকে। সেই সাথে ভয়ঙ্কর শব্দ।
তোঁদেঁর খুঁব সাঁহঁস নাঁ ?......আমাঁরঁ এঁলাঁকায় এঁসেঁছিঁস......এঁক্ষুঁণিঁ সঁরেঁ পঁরঁ বঁলঁছিঁ......নয়ঁতঁ তোঁদেঁরঁ সঁবঁকঁটাঁরঁ ঘাঁড়ঁ মঁটঁকাঁবোঁ............
ভূতমামা তোর পায়ে পড়ি আমাদের মারিসনা, আমরা এক্ষুনি বাড়ি চলে যাচ্ছি, বিন্দু বলল।
ঠিঁকঁ আঁছেঁ এঁকঁ দৌঁড়েঁ যেঁ যাঁরঁ বাঁড়িঁ চঁলেঁ যাঁ।
হ্যাঁ যাচ্ছি।
বিন্দুরা ভয় পেয়ে গেল, কোন কথা না বলে যে যার বাড়ির দিকে দৌড় দিল।
মুন্নার পথ পরিষ্কার হয়ে গেল। সে জাল-ডুলা নিয়ে বিলের দিকে এগিয়ে গেল। যেতে যেতে মনে মনে বলল, যাক, এবার ও বজ্জাতগুলোকে ভূততাড়া করা গেছে। মনে হয় তার সাথে পাল্লা দিয়ে আর কেউ মাছ ধরতে আসবেনা এই নীলচরের বিলে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now