বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিলের নাম নীলচর।
এলাকার মানুষজনের ভাষায় নীলচর বিল।
জমির মানচিত্রের ভাষায় এর নাম নীলের চর মৌজা।
কিশোর মুন্না এটাকে বলে নীলবিল। মাঝেমাঝে ছন্দ মিলিয়ে বলে, নীলের চর বিল মাছের কিলবিল।
এলাকারলোকজন এই বিলে মাছ ধরতে যায়না। কারন, নীলচরের বিলে রয়েছে ভূতের উৎপাত। কেউ যদি মাছ ধরতে যায় তাহলে নাকি ভূতেরা দূর থেকে ঢিল ছোঁড়ে। কাদা পানি তে জ্যান্ত পুঁতে ফেলে। নাকানি-চুবানি দিয়ে মেরে ফেলে, চড়-থাপ্পর দিয়ে কানা-বোবা করে দেয়।
এ-সবের পরেও কেউ আর মাছ ধরতে যাবে? কেউ না গেলেও মুন্না সেখানে যাবেই। মাছ ধরা মুন্নার অন্যতম শখ, শখ নয় বলা যায় তুমুল নেশা। তাই ভূতে ঢিল ছুঁড়ুক আর জ্যান্ত পুঁতে ফেলুক এ-সবে ভয় পায়না মুন্না। ভয় পায়না মাঘ মাসের কুয়াশামাখা প্রচণ্ড শীতকেও। সবকিছুকে উপেক্ষা করেই নীলচরের বিলে যায় ও প্রতিদিন আর ধরে নিয়ে আসে এত্তো এত্তো মাছ।
মুন্না দিব্যি মাছ ধরে নিয়ে আসে,ভূতেরা তাকে কিছু বলেনা অথচ অন্যরা মাছ ধরতে গেলেই ভূতদের পোয়াবারো।ফাজলামো বেড়ে যায়।এই নিয়ে শোকে তাপে হিংসায় জ্বলে-পুড়ে খাক হচ্ছে এলাকার কেউ কেউ। বিশেষ করে মুন্নার সমবয়েসী বন্ধুরা তো ভেবেই কূল পায়না।
আজ মিঝিবাড়ির উত্তরে খড়ের গাদায় বসে এই নিয়ে আক্ষেপ করছে তারা।
ফাজিল ভূত মুন্নাকে কিছুই বলছেনা? দলের একজন নয়ন প্রশ্ন করল দিলুকে। কি জানি রে !! আমার মনে হয় ওই ব্যাটা মুন্না নিজেই একটা ভূত, তাই ভূতেরা ওকে কিছু বলেনা, দিলুর সহজ উত্তর।
তুই ঠিকই বলেছিস, ভূত বলেই তো ওর গায়ে একটু শীতও লাগেনা। অবশ্য এ-কথাও সত্য পাজিটার বেজায় সাহস। আমি শুনেছি ভূতেরা সাহসী লোকেদের ভয় পায়। হয়তো এই জন্যেই ভূতেরা ওকে কিছু বলেনা। মুন্নার প্রতি নিজের ধারণা প্রকাশ করল আরেক বন্ধু রাসেল।
আমিও ঐসব ফালতু ভূতটুত কে ভয় পাইনা। দিলু বুক ফুলিয়ে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করতে চাইল।
উফ্ যা! তুই কতটা বাহাদুর সে পরশু মাছ ধরতে গিয়েই টের পেয়েছি। জাল-ডুলা রেখে যেভাবে দৌড় দিলি ভাবলে এখনো আমার হাসি পায়। হাটে হাড়ি ভাঙ্গলো বিন্দু।
তুই কি বুঝবি? বিলের মাঝে গেলেই না বুঝতে পারতিস !
মাত্র আমি জালের খ্যাপ দিয়েছি, তখনি কোত্থেকে যে এক্টার পর একটা ঢিল পড়তে শুরু করল, আল্লাহ মালুম। আত্মপক্ষ সমর্থন করে দিলু যুক্তি তুলে ধরল।
তাই-তো জাল-ডুলা রেখে তুই দৌড় দিয়েছিস। এরপরেও বলছিস ভূতকে তুই ভয় পাসনে। তুই কিন্তু সেমসাইড টক করছিস। নয়ন দিলুকে বলল।
এই একটু আধটু ভয় পেতেই পারি। যাক্, কথা সেটা না, মুন্না কেন ভয় পায়না বা মুন্নাকে ভূতেরা কেন কিছু বলেনা, বিষয় সেটা। অন্য প্যাঁচাল বাদ দে।
দিলুর কথায় সায় দিয়ে নয়ন বলল, একটা কাজ করলে কেমন হয়?
কি কাজ আগে তো বল, রাসেল জানতে উদ্গ্রীব হল।
মুন্না যখন মাছ ধরতে নীলের চর বিলে যাবে সেসময় আমরাও যাবো।
কিন্তু মুন্না কি আমাদের বলে যাবে ! ও তো চুপচাপ একা একা মাছ ধরতে যায়। ও তো না তোয়াক্কা করে ভূতকে না শীতকে, বিন্দু বলল।
কষ্ট হলেও আমাদের উচিত হবে ওকে দু-একদিন খেয়ালে রাখা, দিলু বলল।
হ্যাঁ, তুই ঠিকই বলেছিস, তাহলে এই কথাই রইল। এখন থেকে ওর সাথেই মাছ ধরতে যাবো, বিন্দু বলল।
দিলুর কথায় সবাই সায় দিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now