বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

___নীলবর্ণ___

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . ___নীলবর্ণ___ লেখা- সাদিয়া আফরিন সঞ্চিতা . প্রায় দুপুর ৩টা বাজতে যাচ্ছে। রাত্রি কে পড়াতে যাবে বর্ণিল। কিন্তু কোন রিক্সা পাচ্ছে না। অবশেষে আর কোন উপায় না দেখে হাটা শুরু করলো। একটু সামনেই রাজার গলি। হাঁটতে গিয়ে লক্ষ্য করলো, একটা ছেলে রাস্তার একপাশে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার দৃষ্টি উপরের দিকে। এইবার বর্ণিল ছেলেটার দৃষ্টি লক্ষ্য করে উপরের দিকে তাকালো। একটা দোতলা বাড়ির বারন্দায় একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। বর্ণিলের বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠল। মনে পড়ে গেলো তার নীলিমার কথা। বর্ণিল যখন কোন দোষ করতো, তখন নীলিমা তাকে এভাবেই শাস্তি দিতো। নীলিমার কথা ভাবতে ভাবতে রাত্রিদের বাসার সামনে চলে আসে বর্ণিল। সিঁড়ি বেয়ে উঠে রাত্রির বাসার কলিং বেল চাপতেই রাত্রির আম্মু দরজা খুলে দিলো। বর্ণিল বাসার ভিতরে গিয়ে রাত্রির পড়ার টেবিলের সামনে বসলো। চোখ বন্ধ করলো। এখন আর আগের মতন নীলিমার মুখটা ভালো মতো দেখতে পায়না। যখন ক্লাস সেভেনে ছিলো, তখন রাফায়েতের সাথে খেলার জন্য তাকে এভাবে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখে ছিলো নীলিমা। তাও, পুরো একটা বিকাল। সব সময় খুব শাসনের মধ্যে রাখতো বর্ণিলকে... বাজে কোন ছেলেদের সাথে মিশতে দিতো না। মেয়েটা খুব জল্লাদ টাইপের ছিলো। যদিও সবার সামনে এমন জল্লাদগিরি দেখাতো না... দোষ করলেও বর্ণিলকে ঝাড়ি খেতে হতো, না করলেও ঝাড়ি খেতে হতো। আর সবার সামনে যেন তার মতো শান্ত মেয়ে একটাও এই দুনিয়াতে নাই। সব সময় ২জন একসাথে থাকতো। একসাথে স্কুলে যাওয়া, এক সাথে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া, একসাথে বসে টিফিন খাওয়া। আবার এক সাথে সাইকেলে করে বাসায় ফেরা। তাদের দুজনের বাসা মোটামুটি কিছুটা দূরে। এর মাঝামাঝি একটা বট গাছ আছে। আর তার পাশেই পুকুর পাড়। সেখানে বসে গল্প করতো তারা দুজন। তাদের বন্ধুত্ব ছিল অটুট। দুজনের কেউই অন্য কারোর সাথে মিশতো না। বিশেষ করে নীলিমা মিশতে দিতো না। কিন্তু তাদের একসাথে থাকাটা ভাগ্যে লেখা ছিল না.।। নীলিমার বাবা প্রবাসী ছিলেন। কিছুদিন পর নীলিমা সহ তার পরিবারকে তিনি সেখানে নিয়ে গেলেন। যাওয়ার দিন নীলিমা বর্ণিলকে দেখা করতে বলেছিল সেই বট গাছটার নিচে। সেদিন একটা বাক্স দিয়ে ছিল বর্ণিলের হাতে... বাক্সটার মধ্যে একটা চিঠি, আর একটা রুমাল ছিলো। সাদা রুমালটাতে নীল সূতো দিয়ে লেখা “নীলবর্ণ”। আর চিঠিটাতে লেখা ছিলো- “কথা দিলাম কুট্টুস, ফিরবো আমি এই দিনেই......। আমার অপেক্ষায় থাকবি তো? ঠিক এখানেই...” . তারপর কেটে গেলো ৯ বছর... প্রতিবছর ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে বর্ণিল সেই বট গাছটার নিচে অপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কিন্তু নীলিমা আসেনা। বর্ণিল আগে জানতোনা কেন নীলিমাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে তার ভালো লাগতো না। কেন সে অন্য কোন মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারতো না। কিন্তু এখন সে বুঝে। এর কারণ ছিল বর্ণিলের মনের ক্যানভাসটা জুড়ে শুধুই নীলিমার ছবি আঁকা। খুব ভালোবাসে সে নীলিমাকে, তাই আজও আছে নীলিমার অপেক্ষায়। নীলিমার দেয়া রুমালটা এখনো আছে বর্ণিলের শার্টের ভিতরের পকেটে। এটা সব সময় নিজের কাছে রাখে বর্ণিল। ৯টা বছর খুব যত্নে আগলে রেখেছে রুমালটাকে। বর্ণিল মনে মনে ভাবে, হয়তো নীলিমা ভুলেই গেছে তাকে। না জানি কেমন দেখতে হয়েছে!! এখনো কি সেই জল্লাদের মতোই রয়ে গেছে...? এরকম হাজারো প্রশ্ন বর্ণিলের মনে ঘুরপাক খায়। রাত্রির ডাকে বাস্তবে ফিরল বর্নিল। রাত্রি-ভাইয়া আপনাকে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন? আপনি কি অসুস্থ? বর্ণিল-নাহ আপু আজকে পড়াতে ভালো লাগছেনা। আমি আসি... হ্যাঁ? রাত্রি-ঠিক আছে ভাইয়া সাবধানে যাবেন। বর্ণিল-ঠিক আছে।। বর্ণিল অন্যমনস্ক ভাবে সিঁড়ি বেয়ে নামছিলো। এমন সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কেউ একজনের ধাক্কাতে সম্বিত ফিরলো বর্ণিলের... একটা মেয়ে!! হাতে বড় একটা লাগেজ। আগে এই মেয়েকে কখনো দেখেনি। কিন্তু তবুও চোখ দুটো কেমন চেনা চেনা লাগছে। অনেকটা কড়া গলায় মেয়েটা বলল -এই যে মি. চোখে দেখতে পান না, নাকি? বর্ণিল-স্যরি... অন্যমনস্ক ছিলাম তাই লক্ষ্য করিনি। মেয়ে-আপনাদের মতো ছেলেদের ভালো করে চেনা আছে আমার। মেয়েদের দেখলেই ধাক্কা দিতে ইচ্ছা করে। তাইনা? দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলেই মনে হয়... বর্ণিল-অনেক বলেছেন থামুন এইবার... বললাম তো সরি... ইচ্ছা করে ধাক্কা দিইনি। তাও এতো কথা কেন বলছেন? মেয়ে-আপনাদের স্বভাব সম্পর্কে জানা আছে। যতোসব... এই বলে লাগেজ নিয়ে উপরে উঠতে লাগলো মেয়েটা। বর্ণিল সিঁড়ি দিয়ে নেমে একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলো। পরের দিন যখন রাত্রিকে পড়াতে আসছিলো, দেখলো গতকালকের দেখা সেই ছেলেমেয়ে ২টা বারান্দাতে দাঁড়িয়ে আছে। আজ ছেলেমেয়ে ২টাকে বেশ হাঁসিখুশি লাগছিল। সম্ভবত তাদের ঝগড়াটা মিটে গেছে। দৃশ্যটা দেখে বর্ণিলের আবার নীলিমার কথা মনে পড়ে গেলো। চোখ বন্ধ করে কল্পনাতে নীলিমার ছবি আঁকতে লাগলো... কিছুক্ষণ পর...... রিক্সাওয়ালা বললো, “ভাইজান... আইয়া পরছি, নামেন।” বর্ণিল রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে থার্ড ফ্লোরে গেলো। কলিং বেল চাপতেই বাড়ীর কাজের মেয়েটা দরজা খুলে দিলো। বর্ণিল ভিতরে ঢুকে রাত্রির পড়ার রুমে যাচ্ছিলো। রাত্রির রুমের আগেই পড়ে ড্রয়িং রুমটা। একটা মেয়ে সেখানে বসে আছে। মুখে ময়দার প্রলেপ, কানে ইয়ারফোন, আর চোখের উপর সানগ্লাসের মতো ২টা শসার স্লাইস বসানো। মেয়েটাকে আগে কখনো এই বাসায় দেখেনি। যদিও ময়দার প্রলেপের কারণে চেহারাটা ঠিক স্পষ্ট না। যাই হোক...। বর্ণিল রাত্রির পড়ার টেবিলের সামনে গিয়ে বসলো। কিছুক্ষণ পর রাত্রি আসলো। তার মুখে বেশ খুশী খুশী ভাব। বর্ণিল-কি ব্যাপার রাত্রি? আজ এতো খুশী খুশী মনে হচ্ছে? কারণ কি? হুমম? রাত্রি-ভাইয়া... গতকাল আমার ফুফাতো বোন এসেছে দেশের বাইরে থেকে। আমার জন্য এই ফোনটা নিয়ে আসছে। ফোনটা সুন্দর না? দেখেন...। বর্ণিল-হুমম সুন্দর। রাত্রি-ভাইয়া আপনার ফেসবুক এক্যাউন্ট আছে? বর্ণিল-হুমম, আছে। এখন বই বের করো..... . পড়ানো শেষে বর্ণিল যখন রুম থেকে বের হচ্ছিলো, পর্দার জন্য ওপাশটা দেখতে পায়নি। ঠিক তখনি আবার কালকের সেই মেয়েটার সাথে ধাক্কা খেলো। মেয়েটা-আরেহ...!! আপনি? আবার? চোখ কি পকেটে নিয়ে হাঁটেন নাকি? কথাটা বলতে বলতে রাত্রির রুমে প্রবেশ করলো মেয়েটা... বর্ণিল কিছু না বলে সেদিন বাসায় ফিরে গেলো। রুমে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলো আর ভাবছিলো। হাতে আর মাত্র ২দিন বাকি। হয়তো এই বছরেও নীলিমা ফিরবেনা। তার ভাবনায় ছেদ পরলো ফোনে বেজে উঠা রিংটোনে... রাত্রি ফোন করেছে। বর্ণিল-হ্যাঁ রাত্রি... বলো... রাত্রি-ভাইয়া কাল আমার বার্থডে... আপনাকে কিন্তু সন্ধ্যা বেলা অবশ্যই আসতে হবে... বর্ণিল-আচ্ছা দেখি... রাত্রি-দেখি বললে হবে না, আপনাকে আসতেই হবে। বর্ণিল-আচ্ছা। আসবো। রাত্রি-ভাইয়া... আরেকটা কথা... বর্ণিল-হ্যাঁ বলো। রাত্রি-কাল আসার সময় আপনার গিটারটা অবশ্যই নিয়ে আসবেন। কাল কিন্তু আমাকে গান শোনাতে হবে। বর্ণিল-কিন্তু... রাত্রি-কোন কিন্তু না ভাইয়া...।। আপনি কাল গান শোনাবেন। প্লীজ ভাইয়া... বর্নিল-আচ্ছা আপু, ঠিক আছে। . পরের দিন সন্ধ্যা বেলায় বর্ণিল তার গিটার আর রাত্রির জন্য জন্মদিনের উপহার নিয়ে একটা রিক্সায় উঠলো। রাজার গলির মধ্য দিয়ে রিক্সাটা যাচ্ছিলো। এমন সময় কয়েকজন ছেলে এসে রিক্সাটা থামালো। শার্টের কলার ধরে বর্ণিলকে রিক্সা থেকে নামালো। রিক্সাওয়ালা প্রাণ বাঁচানোর ভয়ে ভাড়া না নিয়েই চলে গেলো। ছেলেগুলো বর্ণিলের কাছ থেকে উপহারের বক্স র গিটারটা জোর করে ছিনিয়ে নিলো। বর্ণিল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেই বর্ণিলকে ছেলেগুলো তাকে বেদম মার শুরু করলো। মার খাওয়ার এক পর্যায়ে বর্ণিল অজ্ঞান হয়ে গেলো। ঘন্টাখানেক পর যখন বর্ণিলের জ্ঞান ফিরলো, তখন চোখ খুলে দেখলো সে রাত্রিদের বাসায় শুয়ে আছে। পাশে রাত্রির আম্মু বসে আছে। একটু দূরে রাত্রির ধাক্কা খাওয়া ফুফাতো বোন, রাত্রি, আর রাত্রির আব্বু দাঁড়িয়ে আছে। বর্ণিলের মাথায় ব্যান্ডেজ। বর্ণিল উঠে বসতে চাইলে রাত্রির আম্মু উঠতে নিষেধ করলো... বর্ণিল বললো -আন্টি... আমি এখানে কীভাবে আসলাম? রাত্রির আম্মু বললো, “বাবা... তুমি রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলে। তোমার আঙ্কেল তখন ওই রাস্তা দিয়েই অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলো। তোমাকে দেখে রাস্তায় ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে বাসায় নিয়ে আসে। এখন বলোতো, কিভাবে কি হলো?” বর্ণিল সংক্ষেপে সব বলে গেলো। সবাই চুপচাপ শুনলো। বর্ণিল দেখলো তার গায়ে পরা শার্টটা নেই। রাত্রির আম্মুকে জিজ্ঞেস করলো-আন্টি, আমার শার্টটা কোথায়? রাত্রির আম্মু-তুমি যখন অজ্ঞান অবস্থায় ছিলে, তোমার মাথায় পানি ঢালার সময় শার্টটা ভিজে গেছে। ওটা ওয়াশরুমে রাখা আছে। তুমি এই শার্টটা পরে নিও। আর কোন দরকার হলে আমাকে অবশ্যই ডাকবে...। এখন বিশ্রাম নাও। এই বলে রাত্রি ছাড়া সবাই একে একে রুম থেকে চলে গেলো। রাত্রি এসে বর্ণিলের পাশে বসলো। রাত্রি-সরি ভাইয়া। আমার জন্যই আজকে আপনার এই অবস্থা। আমি যদি জোর না করতাম, তাহলে আজ আপনার এই অবস্থা হতোনা... বর্ণিল-সরি কেন বলছো? আমার সাথে এটা হওয়ার ছিলো। তাই হয়েছে। আমি দুঃখিত, তোমাকে জন্মদিনের উপহারটা দিতে পারলাম না। আর ছেলেগুলো গিটারটাও নিয়ে গেছে। এখন তোমাকে খালি গলায় একটা শোনাই। কথাগুলো বলতে বলতে বর্ণিল উঠে বসলো। রাত্রি-ভাইয়া... থাক আজ আর গান শোনাতে হবেনা আপনি এমনিতেই অসুস্থ। এখন বিশ্রাম করেন। আর, কাল তো ১৪তারিখ। আপনি প্রতিবছর এইদিনটার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। আপনিতো অসুস্থ কীভাবে যাবেন কাল? বর্ণিল-চিন্তা করোনা। কাল আমি ঠিক সুস্থ হয়ে যাবো। . রাত্রির মা-বাবার চাপে রাতটা ওদের বাসাতেই থাকতে হয়। পরের দিন বর্ণিল খুব সকালে সেই বট গাছের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়.. সারাদিন বট গাছের নিচে অপেক্ষা করে। বেলাও শেষ হয়ে এলো। সূর্যটা ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। নাহ... এই বছরেও নীলিমা আসলোনা। কে জানে, এতদিনে হয়তো বর্ণকে ভুলেই গেছে সে। সন্ধ্যা হয়ে গেলো। বর্ণিল পুকুর পাড়ের বট গাছের নিচে বসে আছে। আজ তার আর উঠতে ইচ্ছা করছেনা। এমন সময় কেউ একজন বর্ণিলের কাঁধে হাত রাখলো। এক মুহূর্তের জন্যে বর্ণিলের মনে হচ্ছিলো, তার নীল তার কাছে ফিরে এসেছে। কিন্তু না... চা ওয়ালাটা বলে- বাজান... আজ অনেক বছর ধরে দেখছি, তুমি এখানে অপেক্ষা করো এই দিনটাতে। সে ফিরবেনা বাজান। তুমি ফিরে যাও, জীবনটা নতুন ভাবে শুরু করো। কথাটা বলেই চা ওয়ালা চলে গেলো। অন্ধকার হয়ে আসছে। আকাশে চাঁদ উঠেছে। চার পাশটা জ্যোৎস্নার আলোতে আলোকিত হচ্ছে। হিমশীতল বাতাস বইছে। এখন বর্ণিলও ভাবছে, হয়তো সত্যিই নীল তাকে ভুলে গেছে। তা না হলে, আজ ১০টা বছর হয়ে গেলো, তাও সে ফিরলো না। বর্ণিল কাঁদছে। চাঁদের আলোতে তার চোখের পানি চিকচিক করছে... বেশ কিছুক্ষন সে মাথা নামিয়ে চুপটি করে বসে আছে। এমন সময় আবার তার কাঁধে কে যেন হাত রাখলো। বর্ণিল ভাবলো, হয়তো চা ওয়ালা আবার ফিরে এসেছে। তাই মুখটা তুললো না। কিন্তু খুব চেনা একটা পারফিউমের ঘ্রাণ পাচ্ছিলো সে। চোখমেলে পাশে তাকালো। রাত্রির ধাক্কা খাওয়া সেই আপুটা। বর্নিল- আরে...! আপনি! এখানে! এই সময়? -আগে বলুন আপনি কি করছেন এখানে? বর্নিল-অপেক্ষা করছি... -কার জন্য? বর্নিল- আমার নীল... এবারও এলোনা... -কে সে? বর্নিল-আমার স্বপ্নপরী -তাই বুঝি? আচ্ছা, আপনি নীলিমাকে দেখলে চিনতে পারবেন? বর্নিল- ও ফিরবেনা। ওর সাথে আর কোনো দিনও দেখা হবেনা আমার। -আমাকে দেখোতো ভালো করে?? বর্নিল-(অবাক হয়ে) কি বলছেন এসব? -আমার মাঝে কি নীলিমাকে খুঁজে পাচ্ছো তুমি? বর্নিল-দেখুন... এধরনের ফাইজলামি আমার পছন্দ না.. নিশ্চই রাত্রি আপনাকে বলেছে সবটা? তাই বলে এভাবে মজা করা ঠিক হচ্ছে না আপনার? (রেগে চলে যাচ্ছিল বর্নিল) এমন সময় পেছন থেকে কে যেন বলে ওঠে। -এই কুট্টুস দাঁড়া বলছি। বর্ণিল আর এগোতে পারেনা। কোনো এক অদৃশ্য শক্তি যেন বর্ণিলের পা দুটো বেঁধে রেখেছে। বর্ণিল আর সামনে এগোতে পারছে না। সেই পরিচিত ডাক। সেই পরিচিত মায়া। নীলিমা বর্ণিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। নীলিমা-কি হলো? থেমে গেলি কেন? যা... চলে যা.. খুব তো নাকি ভালোবাসিস আমায়। এতোটা কাছে আছি, তবুও চিনতে পারছিস না...?(অভিমানী মুখে) বর্ণিল কিছু বলতে পারছেনা। আনন্দে তার দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। সবটা ঘোরের মতো লাগছে। যার জন্য এত বছর ধরে অপেক্ষা করলো, সে এভাবে তার সামনে আসবে, বর্ণিল তা কখনো কল্পনা করেনি। নীলিমা-কি হলো? যাচ্ছিস না কেন? বর্ণিল-কই যাবো আমার নীল কে ছেড়ে? কথাটা বলেই শক্ত করে বর্ণ তার বাহুডোরে নীলিমা কে আবদ্ধ করে নিলো... নীলিমাও বর্ণিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। বর্ণিল নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর...... নীলিমা-অনেক হয়েছে। আমাকে এবার ছাড়ো কুট্টুসটা। রাত্রি গাড়ীতে একা একা অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বর্ণিল আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো... নীলিমা-ছাড়ো বলছি...(মিষ্টি ধমকের সুরে বললো) বর্ণিল সাথে সাথে ছেড়ে দিলো... নীলিমা-আমিতো ভেবে ছিলাম যে আমার কুট্টুসটা হয়তো আমাকে ভুলেই গেছে। বর্ণিল-আমিও ভেবেছিলাম হয়তো তুমিও আমাকে ভুলে গেছো, আর কখনো ফিরবেনা... নীলিমা-কীভাবে ভুলি বলো? আমার কুট্টুসটাকে কথা দিয়েছিলাম তো, ফিরে আসবো... কথাটা বলেই বর্ণিলের গালটা টেনে দিলো নীলিমা। বর্ণিল নীলিমার হাত ধরে বট গাছের কাছে নিয়ে গেলো। তারপর গাছের কোটর থেকে একটা বাক্স বের করলো ... বাক্সের মধ্যে একটা আংটি ছিলো... আংটিটা বের করে হাঁটু গেড়ে নীলিমার সামনে বসলো... তারপর আংটিটা নীলিমার হাতে পরিয়ে দিয়ে হাতে একটা চুমু খেলো... আর বলল-ভালোবাসি অনেক। বাকীটা পথ একসাথে হাঁটতে চাই তোমার হাতটা ধরে। রাখবে তো আমাকে তোমার পাশে? আবার হারিয়ে যাবে না তো কখনো, আমাকে একা রেখে? নীলিমা-নাহ আর কক্ষনোই যাবোনা। বর্ণিল-প্রমিস তো? নীল-হুম... এইবার উঠো। নাহয় বাসায় ফিরতে ফিরতে সকাল হবে... গাড়ীতে রাত্রি একা বসে আছে। . অবশেষে বহু অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুজন একসাথে হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে... দুজনে এগিয়ে চলল নতুন আগামীর পথে। একটা সম্ভাবনাময় জীবনের অগ্রযাত্রায়। বেঁচে থাকুক তাদের ভালোবাসা। সুখের হোক তাদের সম্র্। উৎসর্গঃ-আফসানা কাশেম মিমি,শাহানা আনাম সেঁজুতি,ইয়াসির আরাফাত. February 9, 2016 at 10:20pm · Romantic Story l... Save · More Like React Comment LikeLoveWow280 View previous comments… Fouzia Parveen Rumana ভাল লাগলো Like · 1 · Reply · Report · Jan 26 Km Saiful Rahman S... replied · 1 reply নীল অভ্র Pretty Impressive theme .. hmm nice.. gj gj Like · 1 · Reply · Report · Jan 26 Agnila Bristy Apni novel lekhen na keno??? Like · 4 · Reply · Report · Jan 26 Helaluddin Prince NICE Like · Reply · Report · Jan 27 Niha Akter Lamia Like · 1 · Reply · Report · Jan 27 Km Saiful Rahman S... replied · 1 reply MD Ashadul Islam Asad nice story Like · Reply · Report · Jan 27 Z.r. Philips Nice.. Like · Reply · Report · Jan 27 সঙ্গিহীন পথিক ভালো লাগলো তাই তোকে.... Musrat Jahan Moon Like · Reply · Report · Jan 28 Atiqul Islam Atik গল্পটা ভাল লাগলো Thanks Like · Reply · Report · Jan 28 Arnab Koley Valo Like · Reply · Report · Jan 28 Write a comment... Attach a Photo · Mention Friends GROUP MENU Discussion Info Add Members Members 102443 Photos 69 Events Files Install Facebook on your Galaxy J2 and browse faster English (US) অসমীয়া Português (Brasil) বাংলা Español + Your Pages Help Settings & Privacy Win iPhone 5s from GPStore Report a Problem Terms & Policies Logout (Rean Sharker) Back To Top


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ___নীলবর্ণ___

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now