বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তানভির হাস্যজ্জল একজন ছেলে।ছেলেটার সমস্যা এক টাই সেটি হচ্ছে বহুপ্রেম রোগ।ব্যাপার টা এক টু ক্লিয়ার করি,ব্যাপার টা হচ্ছে সে যে মেয়েকেই দেখে তার মনে হয় এটিই তার জীবন।
যাইহোক তানভীরের বাবা ছাপোসা সরকারী চাকুরীজীবি।তানভীর লেখা পড়ায় তেমন ভালো না।মোটামুটি ভাবে কোনো মতো ইন্টারমেডিয়েট পাশ করেছে।
দিন কেটে যাচ্ছে হেসে-খেলে।এর মধ্যে তার প্রেম রোগ টা বিকট আকার ধারন কোরছে,যাকে দেখে তাকে দেখলেই মনে হয় এই পেয়ে গেছে তার সপ্নের ভালোবাসা কে।যাইহোক এর ই মধ্যে তার জীবনে আগমন ঘটে মিথিলা নামের এক মেয়ের,
মেয়েটি দেখতে গোল গাল পরিপাটি চেহারার।তানভিরদের পাড়ায় নতুন এসেছে মেয়েটি।পাড়ার ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে নাম্বার নিয়ে তানভির শুরু করে দেয় কথা বলা।
কথা বলার এক সময় মেয়েটির জন্য তার আবেগ ভালোবাসা কাজ করে,কিন্তু তানভির কেনজানি ভাবে মেয়েটি তাকে ভালোবাসে না।
মেয়েটির সাথে তানভিরের সম্পরকো গভীর হতে থাকে।তানভিরের সহজ সরল জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে।নিজেকে কেমন জানি এলোমেলো মনে হয়।মেয়েটির চাহিদা মেটাতে সে সক্ষম হয় না,তার বিভীন্ন চাহিদার সামনে তানভীর এর ভালোবাসা ফিকে হয়ে আসে।
তানভিরের বাবা খুব সহজ সরল একজন মানুষ।ছোট চাকরি করে পরিবারের কারো চাহিদা মেটাতে পারেনা সে।তবুও ছেলে বড় হয়েছে,তার পাশে দাড়াবে শেষ জীবনে সুখ দেখে যাবে চিন্তা করে মানুষ টি।
তানভিরের পুরো সত্তাজুরে তখন মিথিলার দখল।মিথিলার হাসি, মিথিলার কথা,মিথিলার পাগলামো সবকিছু জেনো তানভিরের চোখের সামনে থেকে সরে না,কবে আসবে মিথিলা।তানভির ভুলে যায়, তার এক টি পরিবার আছে, আছে তার অসহায় বাবা।সেদিন সকালে তানভির লাল রক্তগোলাপ নিয়ে মিথিলার বাড়ির সামনে যায়,হঠাত মিথিলা তাকে আজ দেখা কোরতে বলেছে।মিথিলা তানভিরের সামনে দাড়িয়ে বলে "তানভির কিভাবে বোলবো,বুঝতে পারছি না।তারপর ও বলি শুনো,আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।ওর নাম আকাশ, ওর সাথে জিদ করে আমি তোমার সাথে প্রেমের অভিনয় করি।তোমাকে আমি জোকারের মতো দেখতাম,শুধু মজা কোরেছি তোমার সাথে।আর প্রয়োজন হলে টাকা নিতাম তোমার কাছ থেকে।কিন্তু আজ আকাশ বোল্লো তোমাকে সব বোলেদিতে তাই বোলে দিলাম।তানভির সরি।বাই বাই, টেক কেয়ার" তানভির কি বোলবে ভাবছিলো।রাগে,ক্ষোভে তানভির চলে যায়।আর ভাবে মেয়েরা এতো খারাপ।
বাসায় ফিরে তানভির দেখে ওর আম্মু হাউ মাউ করে কাঁদছে।তানভির ওর মায়ের দিকে এগিয়ে যায়, প্রশ্ন করে কি হয়েছে মা।তার মা চুপ হয়ে যায়,বলে তার বাবার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরেছে।ছেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে চিতকার করে কেদে উঠে।সারা রাত মা-ছেলে কাদে,সেই কান্নায় আকাশ টাও ভারি হয়ে যায়।তানভির খুব ভালো করেই জানে তার বাবার চিকিৎসা করানোর মতো টাকা তানভীরদের নেই।
তানভির এর ই মাঝে নিজে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে,চার টা টিউশনি কোরছে।নিয়মিত নামাজ আদায় কোরছে,নিজেকে চেঞ্জ করার চেস্টা কোরছে।তানভীরের এক ছাত্রী, রেখা নাম।নবম শ্রেনীতে পরে,মেয়েটি তানভির কে অনেক করে সাহস দেয় নতুন করে বাচার, নতুন করে পরিবার কে গোছানোর জন্য।
এক সকালে,তানভিরের বাবা তানভির কে ডাকে।তানভির বাবার ঘরে গিয়ে বসে।বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে তানভির কেনো জানি ডুবে যায়।শুরু হয় তানভির ও তার বাবার কথাপোকোথন;
বাবা:তানভির আমি সব জানি,তোরা মন খারাপ করে থাকিস না।ব্লাডক্যান্সারের চিকিৎসার টাকা আমার নাই,শুধু শুধু টাকা গুলো নস্ট করে লাভ নাই।আমি যা বলি তাই কোরবি।
তানভির:জী,আব্বা বলেন।
বাবা:এই নে দশ হাজার টাকা।আমার আর তোর মায়ের জন্য আঙুর আনবি,আর বিশাল এক বোয়াল মাছ।তোর মা বিয়ের পর আঙুর খেতে চাইতো কিন্তু টাকা থাকতো না,তাই কিনতে পারি নাই,আজ তোর মাকে খাওয়াবো।আর বাকি টাকা দিয়ে নতুন কিছু জামা-কাপড় কিনবি।সেই চার বছর আগের জামা আর কয়দিন পোরবি।
তানভির বাবার কথাগুলো শুনে চোখের পানি আটকাতে পারলো না।এতো ভালোবাসা ছেরে বাবা কোথায় যাবে।তানভীর কাঁদছে,আর হাটছে।
এর মধ্যেই রাস্তায় রেখার সাথে দেখা,রেখা তানভীর কে বলে রেখা নাকি তাকে ভালোবাসে।
তানভির মেয়েটাকে অনেক বকা-ঝকা করে।মেয়েটি কাদে,অনেক কাদে।যাবার আগে মেয়েটি বলে যায়,
"স্যার শরীরের কামনা থেকে আপনাকে ভালোবাসি নি,আপনার অসহায় জীবনের সাথী হতে চেয়েছিলাম কিন্তু বুঝলেন না, স্যার। ভালো থাকবেন,পাশের মানুষগুলোকে ভালো রাখবেন।আমি গেলাম স্যার"
তানভির বাবার জন্য আঙুর, মাছ নিয়ে এসেছে।একসাথে বসে খাবে বাবার সাথে।বাসায় পৌছাতেই দেখে বাসার উঠান ভর্তি মানুষ।কি হয়েছে,কি হয়েছে তানভির সবাই কে জিজ্ঞাস কোরছে।তানভীর তোমার বাবা আর নেই,চলে গেছেন না ফেরার দেশে।সারাজীবন মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও বাবা সুখ দেখতে পান নি।তানভির কাঁদছে।বাবার জানাযা শেষে বাসায় ফিরে।মা কে কেমন জানি নি:স মনে হচ্ছে।
কয়েকদিন পর রেখার বাসায় ফোন দিয়ে,তানভীর জানতে পারে রেখা কোনো এক মানুষের জন্য সুইসাইড কোরেছে।তানভীর বুঝতে পারে সেই কোনো এক ব্যক্তিটি তানভির নিজেই।তানভীর শোকে পাথর হয়ে যায়।
মধ্যবয়স্ক তানভীর আজো বিয়ে করে নি,সে রেখার অপেক্ষায় আছে।আর বাবা,সে তো আকাশের তারা হয়ে ডাকে তাকে।তানভির তার মাকে নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে জীবন টাকে।তানভীর মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করে,
"আমি কি দু:খী,কিসের দু:খ আমার"
তানভীরের উত্তর জানা নেই।সহজ সরল তানভীর আজো একা আকাশে বাবাকে দেখে,আজো রেখার হাতের স্পর্শ অনুভব করে।তানভির দু:খী কি না আমি জানিনা,তবে সুখ কি তানভীর হয়তো একদিন দেখবে না হয় দেখবে না..........................................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now