বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল খামের চিঠি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "নীল খামের চিঠি" -------------------- "লিখেছেন - অধরা চৌধুরী মেঘলা" ________________________ ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে চলেছে একটা চিঠি|নীল খামের চিঠি… চিঠিটার ঠিক পাশেই একটা মেয়ে হাটুগেড়ে বসে কাঁদছে|অসম্ভব মায়াবী মুখের এমন একটা মেয়ের মনে কি এমন দুঃখ যে তাকে এত বৃষ্টির মাঝে এভাবে কাঁদতে হয়?আর ঐ নীল খামের চিঠিটাতেই বা কি রহস্য?কি এমন লেখা আছে ঐ চিঠিটাতে? প্রশ্ন বানে বিদ্ধ হয় ফাহিমের কৌতুহলী মন|এই স্বপ্নটা দেখলেই কেন জানি আর ঘুম আসেনা|ইচ্ছে করে মেয়েটার হাত ধরে তুলতে;চোখের পানি মুছে দিতে|ওর কেন জানি মনে হয় ঐ নীল চিঠিটা ওকেই লেখা|কে জানে হয়ত এমনি একটা নীল চিঠি নিয়ে ওর জন্যে কেউ সত্যিই অপেক্ষা করছে|“আমি কি ওই চিঠিওয়ালী কে ভালবাসি?”নিজের প্রশ্ন শুনে নিজেই অবাক হয়|নাহ এরকম একটা অস্তিত্বহীন প্রেমের কোন মানেই হয়না|নিজে নিজে ভাবতে থাকে ও| ভার্সিটির গেটেই এই রকম একটা ডাকাত সর্দারের সাথে দেখা;আজকের দিনটাই মাটি|মোটা ফ্রেমের চশমাটা কোন রকমে ঠিক করেই মাথা নীচু করে ফেলল ফাহিম|অঙ্কিতাকে দেখলেই ওর ভয় লাগে|বাপরে কি মেয়ে! ভয়তো লাগবেই…|একবার একটা ছেলে ওকে টিজ করেছিল বলে ছেলেটাকে এমন চর দিয়েছিল চরের শব্দটা শুনেই ফাহিমের মাথা বোঁ বোঁ করে ঘুরছিল|তাই ঐ মেয়ের থেকে দশ হাত দুরে থাকে ফাহিম|মনে মনে ভাবে স্বপ্নের চিঠিওয়ালীর কথা|এই ছেলেটাকে দেখলেই হাসি পায় অঙ্কিতার|নাহ ছেলেটা বোকাসোকা নয়,হ্যাংলা বা নেকু টাইপেরও নয় তবুও পেট ফেটে হাসি আসে|অবশ্য একেবারে বিনাকারনেও নয়| অঙ্কিতাকে দেখলে কেমন যেন গুটিসুটি মেরে যায় ছেলেটা;হাসিটা একারনে|এমন সুন্দর,হ্যান্ডসাম একটা ছেলে ওকে ভয় পায় কেন এটা অঙ্কিতা নিজেও জানেনা|ছেলেটা ক্লাসেও বেশ মনোযোগী,প্রথম কয়েকটা সেমিষ্টারেও ভালই করেছে|এমন একটা ছেলে ওকে দেখেই কেন যে এমন করে! রোজ রোজ স্বপ্নে চিঠিওয়ালীকে দেখতে দেখতে আজকাল কেমন যেন অভ্যেস হয়ে গেছে ফাহিমের|ইদানিং সে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে কেউনা কেউ অবশ্যই আছে যে একটা নীল খামের চিঠি লিখবেই|তাই ফাহিম একটা কবিতা লিখে ফেলল- একটা নীল খামের চিঠি জানি সেটা আসবেই; যার অপেক্ষায় আজো আমি অপেক্ষারত সে আসবে___| প্রবল বর্ষনে যাকে স্বপ্নে দেখি, হয়তো ভালবাসার কিছু মিষ্টি বুলি ভালবাসা পাবার আকুলতা, নতুবা হৃদয়ভাঙ্গা কিছু শব্দের সমাহারে… গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি, জানি সেটা আসবেই| হয়তো আজ নতুবা আমার ইতিতে জানি সেটা আসবেই| ফাহিম কবিতাটা তার ডায়রীতে রেখে দিল|এদিকে বন্ধু মহলে নীল খামের চিঠি আর চিঠিওয়ালীর ব্যাপারে জানাজানি হয়ে গেল|সবাই বুঝে গেল ফাহিম এমন একটা মেয়ের প্রেমে ডুবসাতার কাটছে যে সম্পূর্ণ অজানা,অচেনা|আদৌ সে মেয়ের কোন অস্তিত্ব আছে কি না এটাও কেউ জানেনা|ধীরে ধীরে অঙ্কিতার কান পর্যন্ত কথাটা পৌছে গেল|এমনকি ফাহিমের কবিতাটাও বন্ধুদের মাধ্যমে পড়ে ফেলল| কবিতাটা বন্ধুরা সবাই ফাজলামি হিসেবে নিলেও অঙ্কিতার মনে কবিতার প্রতিটা চরন ঘুরেফিরে আসছে|অঙ্কিতার মনে হচ্ছিল সে কবিতাটার প্রেমে পড়ে গেছে|কবিতা,চিঠি এসব ওর কাছে সারাজীবন ন্যাকামি মনে হলেও আজ অঙ্কিতার খুব ইচ্ছে করছিল একটা নীল খামের চিঠি লিখতে,কিন্তু চিঠিতে কি লিখবে সেটা অঙ্কিতার অজানা| ইদানিং অঙ্কিতার চঞ্চলতাটা একটু বেড়েছে|বিশেষ করে ফাহিমের সামনে পড়লে তো ব্যাপারটা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়|মনের কোন একটা কোনে প্রতি মুহুর্তে ফাহিম কে খুজে পায় সে|আমার জানামতে প্রেমে পড়লে নাকি মানুষের চঞ্চলতা কমে যায়;তবে এখানে সে ধারনা ভুল প্রমানিত হল| অনেক ভেবে চিন্তে অঙ্কিতা ফাহিম কে একটা চিঠি লিখবে ঠিক করল|কয়েক দিস্তা পৃষ্টা শেষ হয়ে এল তবু ফাহিমের মত সাহিত্যের ভাষা তায কলম দিয়ে বেরুল না|তাই অবশেষে যা লিখল তা… মোটা ফ্রেমের চশমা পড়া কানা ফাহিম, আমাকে দেখে আগে যেমন ভয় পেতে এখনো কি তেমনি ভয় পাও?খেয়াল করিনি|তবে ইদানিং যেটা খেয়াল করেছি সেটা হল আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি|এখন থেকে আর আমাকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই|শুধু ভালবাসলেই চলবে|তবে হ্যা ভালবাসার মাঝে যদি কোন খাদ খুজে পাই তাহলে ঘুষি দিয়ে নাক ফাটায় দেব| জীবনে প্রথম প্রোপস করলাম|এতেই চলবে নাকি কলার ধরে ভালবাসি বলতে হবে??উত্তরটা জানিও| ইতি অঙ্কিতা চিঠিটা নীল খামে ভরে পরের দিন ভার্সিটিতে গেল অঙ্কিতা|কলিডোরে দাড়িয়ে ফাহিম কে ডাকল|ফাহিম তো ভয়ে অস্হির|হাত পা যেন শরীরের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে ওর|তবুও ডাকাত সর্দার ডেকেছে|যেতেই হবে|ফারিহার সামনে যেতেই নীল খামের চিঠিটা ফারিহা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে পড়তে বলল|এসব কান্ড দেখে ফাহিম তো পুরাই আকাশ থেকে পড়ল|“এই মেয়ে ভালবাসে?? তাও আমাকে??” এই ভেবে মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে চিঠি ফেলে ভো দৌড় দিল ফাহিম| ফাহিমকে উল্টোদিকে দৌড়াতে দেখে অঙ্কিতা চিঠিটা হাতে নিল|ভার্সিটির সামনের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় অঙ্কিতা দেখল রাস্তার ওপারে ফাহিম দাড়িয়ে আছে|ঠিক এই সময়ে বৃষ্টি শুরু হল|তবু রাস্তার ওপারে গিয়ে সরাসরি ফাহিমের হাতটা ধরল অঙ্কিতা| -আমার চিঠিটার জবাব দিলে না? এবার আর ভয় না পেয়েই ফাহিম বলল -দেখ অঙ্কিতা,আমি আসলে তোমাকে ভালবাসিনা| -তবে কাকে ভালবাস?তুমি তো নীল খামের চিঠি চেয়েছিলে… -হুম চেয়েছিলাম,তবে তোমার থেকে নয়|সে আলাদা… তাকে ভালবাসি কিনা জানিনা তবে সে তুমি নও| ফাহিম চলে যাচ্ছে|হঠাত কি মনে হল পেছনে তাকাল|দেখতে পেল স্বপ্নে দেখা সেই মুখটা,অঙ্কিতা হাটু গেড়ে বসে কাঁদছে|পাশে নীল খামের চিঠিটা বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে| তবে কি সেটা অঙ্কিতাই ছিল? ওর মুখটা এত মায়াময় লাগছে আজ!!এমন একটা ঝগড়াটে মেয়েকে আজ কেন এত মায়াময়ী লাগছে এটা ফাহিমের কল্পনারো বাইরে|এবার নিজের অজান্তেই অঙ্কিতার দিকে হাটতে লাগল ফাহিম|কাছে গিয়ে সেও হাটু গেড়ে বসে ভেজা নীল খামের চিঠিটা হাতে নিয়ে অঙ্কিতাকে বলল,“কলার ধরে বলতে হবে ভালবাসি|”বৃষ্টির মাঝেওফাহিম তার গাল বেয়ে গরম কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করল|ততক্ষনে অঙ্কিতার হাত ওর কলার অবধি চলে গেছে| কান্নাভেজা বৃষ্টিভেজা কন্ঠে বলছে ভালবাসি|ফাহিম ওকে জড়িয়ে ধরে বলছে,“তুমিই আমার চিঠিওয়ালী;নীল খামের চিঠি…|” [উৎসর্গ:আমার বড় ভাই ফাহিম ভাইয়াকে|আমার কল্পনাতে ভাইয়াকে একটা ইয়ে গিফট করলাম|হিহি হি হি……]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীল খামের চিঠি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now