বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মো:তুহিন (দুস্টু বয়)
( বিশেষ করে এইচএসসি পরিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের জন্য )
.
কলেজের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত রাজু। এসএসসি পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে GPA-5 পেয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিকে সে বিভাগ বদলাতে চেয়েছিল। বিজ্ঞানের পরিবর্তে সে কমার্স নিতে চেয়েছিল । কিন্তু তার বাবা দেননি। তিনি ছেলেকে ডাক্তার বানানোর জন্য জোর করেই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিষয় তার কাছে খুব কঠিন মনে হয়। এই বিষয়ের জন্য সে বিভাগ পাল্টাতে চেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যা ভেবেছিল তাই হয়েছে।
ফলাফল শুনে তার বাবা রেগে আগুন। সে যা চেয়েছে তাই দিয়েছেন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক রেখেছেন। তার পরও ছেলে অকৃতকার্য। সম্মান যে ধুলোয় মিশে গেলো। সবাইকে মুখ দেখাবেন কি করে ? তাই প্রচন্ড রেগে বাড়িতে গেলেন। গিয়েই হাতের কাছে পেলেন একটা লাঠি, সেটা নিয়ে ছেলের ঘরে ঢুকলেন।
ঘরে ঢুকে যা দেখলেন তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। নিজেকে সামলাতে পারলেন না। হাতের লাঠি কখন যে হাত থেকে পরে গেল বুঝতেই পারেননি।
মেধাবী ছাত্রটির শরীর ঝুলন্ত । নাক দিয়ে ঝরছে রক্ত। নিচে রক্তমাখা চিঠি । যার মধ্যে কাঁপা হাতে লেখা ..
"
প্রিয় বাবা
আপনার অল্প আয়ে আমাদের সংসারও ঠিকমতো চলে না। তারপরও আমার পড়াশোনার পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক রেখে পড়িয়েছেন। এতে আপনাকে অনেক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেক কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমার লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন।
কিন্তু আমি তার উপযুক্ত ফলাফল দিতে পারিনি। তাই এই মুখ আর কখনও আপনাকে দেখাতে পারবো না। আমায় ক্ষমা করে দিও।
.
ইতি
আপনার অযোগ্য সন্তান"
.
.
তিনি কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পরলেন। নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে। একমাত্র ছেলের উপর এতো চাপ দেওয়া ঠিক হয়নি। ছেলেটি আগেই বলেছিলো সে বিজ্ঞান নিবে না। জোর করে তার উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। যার ফলে একমাত্র সন্তানকে হারাতে হলো।
তবে কি রাজুর কাজটা উচিত হয়েছে ? জীবনে কখনও হার মানা উচিত নয়। সব সময় লড়াই করতে হবে। তার বাবা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যই চাপ দিয়েছিলেন। এর জন্য এতো বড় শাস্তি দেওয়া কি উচিত ?
সবারই মেধা আছে। একেকজন একেক বিষয়ে মেধাবী। সবারই ইচ্ছা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারো উপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত না। ইচ্ছাশক্তি আর বিশ্বাস না থাকলে কোনো কিছু সম্ভব নয়।
একটা মানুষ একটা ঠিক কতটা চাপ সহ্য করতে পারে ? সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে জীবনের প্রতি আর মায়া থাকে না। ভুলে যায় আত্মহত্যা মহাপাপ। তবু রাজু কিন্তু আত্মহত্যা করেনি ! নিরবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা সব সময় আড়ালেই থেকে যাবে ।
কে হত্যা করেছে নিশ্চই বলা লাগবেনা..।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now