বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"এই! এই! এই! মোবাইল রাখো,মোবাইল রাখো।নিহান চলে এসেছে মনে হয়।"
.
আমি তনুর কথাটা স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি।এতোক্ষণ সম্ভবত কারো সাথে কথা বলছিল।নিশ্চই মা অথবা বাবার সাথে নয়।কারণ বাবা-মা'র সাথে কথা বললে,আমার উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে মোবাইল রেখে দিতো না।
.
বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তনুর মধ্যে কিছু পরিবর্তন হয়েছে।কিন্তু পরিবর্তন গুলো কিসের সেইটাই ধরতে পারছিলাম না।
বাহ্যিক নাকি অভ্যন্তরীণ?
তবে মনের মধ্যে জোরালো সন্দেহ আছে যে,তনুর কারো সাথে সম্পর্ক আছে।
আর সেটা ওর কাজিন হাসনাতের সাথেই।কারণ ইদানীং কললিস্টে মামাতো ভাই হাসনাতের কল হিসটোরির আয়তন সুদীর্ঘ।
আমার কেনো যেনো মনে হয়,হাসনাতের আসা-যাওয়াও আছে আমার বাসায়।মাঝে মাঝে আমার অনুপস্থিতিতে বাসার ফ্লোরে হাসনাতের পায়ের স্পর্শ পড়ে,এটা আমি কিছুটা নিশ্চিত।
কিন্তু আমি তনুকে এই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাস করি না।
ভালোবাসার মসলায় পূর্ণ বিশ্বাসের কাঁচের কৌটোয় আঘাত আসবে ভেবে।
-"অফিস থেকে কখন এলে? "
এক প্রকার দৌড়ে এসে কথাটা জিজ্ঞেস করলো তনু।
-"এইতো মাত্র!" (আমি)
-"আমায় ডাকলে না যে?"
-"ভাবলাম তুমি ঘুমোচ্ছ।"
-"এই অবেলায় কেউ ঘুমোয়? মায়ের সাথে ফোনে কথা বলছিলাম আমি।"
কথাটা বলার সময় আমি তনুর দিকে তাকালাম।কি নির্বিকার ভাবে মিথ্যে বলছে মেয়েটা।কোনো দ্বিধা নেই,কোনো ভাবনা নেই।
-"কি বলল মা?" (আমি)
তনু আমার প্রশ্নটা শুনতে পায়নি সম্ভবত অথবা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি।প্রসঙ্গ পালটে সে বলল,
-যাও! ফ্রেশ হয়ে।আমি ভাত দিচ্ছি।
.
২
তনু এবং আমার বিয়েটা হয়েছে পারিবারিক ভাবেই।
একান্ত নিরিবিলিতে দুজনের সম্মতি নিয়েই কাজী ডেকে বিয়ে হয়েছিল।ওকে যেদিন প্রথম দেখতে গিয়েছিলাম,সেদিনই সে আমায় ডিরেক্ট বলে দিয়েছিল,"আপনার যদি আমায় পছন্দ হয়, কাজী ডেকে ,দুচার জন নিয়ে কলমা পড়ে নিয়ে যাবেন।হই হট্টগল আমার একদমই পছন্দ নয়।"
কথাটা বলার সময় তনুর নাক অসম্ভব রকম লাল হয়ে গিয়েছিল।মনে হচ্ছিল,নাকটা স্পর্শ করলেই রক্ত বেরিয়ে আসবে।
একবার ইচ্ছে হলো,ছুঁয়ে দেই ওর নাক।কিন্তু হাতটায় শক্তি পাচ্ছিলাম তখন।মুখ দিয়ে কখন যেনো একটা বাক্য বেরিয়ে গেলো অকপটে।
"আমি তোমার ঐ লাল রঙে রাঙানো নাক প্রতিদিন ছুঁতে চাই।"
নিজের কথায় নিজেই বেশ খানিকটা অবাক হলাম।মনে মনে ভাবলাম,এই বুঝি তনুর হাতটা উসাইন বোল্ড গতি আমার গাল স্পর্শ করবে।কিন্তু না! বালিকা আমার প্রতি সদয় হয়ে,মৃদু হেসে চলে প্রস্থান করল।
আমি অনুভব করলাম,"এই হাসির স্রোত,টেনে নিয়েছে আমায় ভালোবাসার সমুদ্রে।"
.
৩
ছাদে দাঁড়িয়ে আছি আমি।আকাশে আজ বিষাদের মেঘের উপস্থিতি।
বৃত্তাকার চাঁদটারাও মন খারাপ আজ।
আচ্ছা চাঁদের ম্লান আলোয় মন খারাপের আভা বাসা বাঁধারতো কথা নয়।
নাকি আমার দৃষ্টিতে আজ "মন ভালো নেই" ভাব!
মানুষ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা নির্ভর করে মনের উপর।মন ভালো,দৃষ্টিভঙ্গি ভালো।মন খারাপ,দৃষ্টিভঙ্গিও খারাপ।
হ্যাঁ! আজ আমার মন খারাপ।আয়োজন এবং প্রয়োজন দুটোই আছে এই মন খারাপের মধ্যে।
তনু কাল পালিয়ে যাবে হাসনাতের সাথে।ব্যাপারটা আমি জেনেছি একটু আগেই তনুর মোবাইল থেকে।কিছুদিন আগে ওর মোবাইলে অটো কল রেকর্ডার ইন্সটল করে দিয়েছিলাম।তনু সেটা জানে না।প্রণয়ের ঘোরে এতোটাই ব্যস্ত যে, ভাবালাপের প্রতিটি সেকেন্ড যে রেকর্ড হচ্ছে সেদিকে তার খেয়াল নেই।
আচ্ছা! আমি কি ওকে আটকাবো?
নাহ! একদমই না।অর্থ-অভাবগ্রস্ত সংসারে বিশ্বাসের জোরে দিন পাড়ি দেওয়া যায়।কিন্তু দারিদ্র্য বিশ্বাসে সংসার করা যায় না।
.
-"তুমি এখানে?"
পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তনু দাঁড়িয়ে আছে।
আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বিষণ্ণ ভাবে হাসলাম।
এই হাসির কোনো মানে নেই।
নিরর্থক হাসি বলা যায় একে।
তনু আমার পাশে এসে বলল,
-"কি করছো এখানে?"
-"চাঁদটাকে সঙ্গ দিচ্ছি।বড্ড একা সে।
এক আকাশে এতো তারা,তবুও সে নিঃসঙ্গ।"
তনু আমার দিকে তাকালো।এলোমেলো ভাবে কিছু একটা বলতে চাইলেও সুযোগ দেইনি আমি।
-"আচ্ছা তনু! পৃথিবীর কোনো কিছুই স্থির নয় না?"
তনু কিছু বলল না।আমিও উত্তরের অপেক্ষা না করে আবার বলতে শুরু করলাম,
-"নাহয় এতো যত্নে লালন করা ভালোবাসাটাই কেনো নতুন এবং চকচকা হৃদয় খুঁজে?"
বাক্যটা শুনেই তনু আমার দিকে এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালো।এই দৃষ্টিতে অবাকের উপস্থিতি অনেকটাই।
আমি চোখ সরিয়ে নিলাম ওর চোখ থেকে।
বিষয়টাকে হালকা করতে বললাম,
-"অনেক রাত হয়েছে।যাও! ঘুমোতে যাও।"
কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ও বলল,
-"তুমি আসবে না?"
-"আসছি খুব শীঘ্রই।বিবেকের সাথে কিছুটা লেনদেন আছেতো,ওগুলো মিটিয়েই আসছি।তুমি যাও।"
তনু আবার সেই অবাক হওয়ার দৃষ্টিতে তাকালো।কিছুক্ষণ ওভাবে থেকেই ছাদ থেকে চলে গেলো।একবার ইচ্ছে হলো ওকে ঢেকে বলি,
"যদি জল আসে আঁখিপাতে,
এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,
তবু মনে রেখো।
এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে-- মনে রেখো।
যদি পড়িয়া মনে
ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে--
তবু মনে রেখো।"
ইচ্ছেটাকে পরক্ষণে দমিয়ে একা ছাদে দাঁড়িয়ে রইলাম।এলোমেলো ভাবনার কিছু হিসেব কষতে হবে আজ অথবা
একাকীত্বে অনুশীলন।
পরিবিষ্টঃ
সবার ভাগ্যে ভালোবাসার পূর্ণতার স্বাদ জোটে না।অপূর্ণতার তিক্ত স্বাদ নিয়ে কেউ হয়ে যায় নিঃসঙ্গ।আস্তে আস্তে তিব্র যন্ত্রণায় নিঃসঙ্গতাকে আপন করে হয়ে যায় নিঃসঙ্গ-প্রিয় অথবা নিঃসঙ্গতার নাগরিক।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now