বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিঃস্বার্থ সুখ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X রুপসী ঘুড়তে যাবার কথা শুনেই ঝটপট কাপড় পড়ে সেজে গুজে প্রস্তুত, অবনিশ আর রুপসী ঘর থেকে বের হয়ে গেলো, অবনিশ এর মা রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো, হঠাৎ রান্না ঘরে একটা কালো বিড়াল দৌড়ে এসে খাবার নষ্ট করে দিলো, অবনিশের মা ঘাবড়িয়ে গেলো, কালো বিড়াল খাবার নষ্ট করা শুভ লক্ষন না, মায়ের মন সন্তানের কোন বিপদ আসলে আগেই বুঝে যায়, ছুটে গিয়ে অবিনাশ কে ডাকতে লাগলো, ততক্ষনে অবনিশ আর রুপসী গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেছে, অবনিশ এর মোবাইলে বার বার ফোন দিচ্ছে মোবাইল বন্ধ, রুপসীর মোবাইলেও কোন সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। অবনিশ এর মা চুপিসারে বসে কান্না করতে লাগলো আর আল্লাহর দরবার এ ফরিয়াদ করতে লাগলো, যেন তার সন্তানের কোন বিপদ না হয়, কিছুক্ষন পর অবনিশ এর মোবাইল থেকে ফোন আসলো, মোবাইল টা রিসিব করেই বলতে লাগলো, ০- অবনিশ বাবা তোরা কোথায়, তোদের কিছু হয়নি তো, আমার খুব ভয় করছে তোরা চলে আয়, কোথাও যেতে হবেনা, তোদের আজ। অপর প্রান্ত থেকে কোন শব্দ নেই, কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পর, একজন বলতে লাগলো, -- সাভার হাইওয়ে তে এই ফোনের মালিকের এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে একটি ট্রাক এর সাথে ধাক্কা লেগে গাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে ক্ষেতের মাঝে পড়ে গেছে, গাড়িতে একটি মেয়ে আর ছেলে ছিলো তাদের কে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে আপনারা সেখানে চলে যান। অবনিশ এর মা এক চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন, অবনিশ এর বাবা খবর পেয়ে বাসায় এসে, অবনিশ এর মায়ের মুখে জল ছিটিয়ে তাকে জ্ঞান ফিরালেন, আর তারা দ্রুত চলে গেলেন, ঢাকা মেডিকেল এ, সেখানে গিয়ে খোজ নিয়ে জানতে পারেন, তারা দুজনেই বিপদ মুক্ত, কিন্তু দুজনেরই মাথায় প্রচন্ড আঘাত লাগার কারনে রুপসীর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গেছে আর অবনিশ এর দুটো চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে গেছে। তাদের আদরের সন্তান অন্ধ হয়ে গেছে আর পাগলী বউমা এবার সত্যি পাগল হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টার পরেও, অবনিশ এর চোখের সন্ধান মিললো না, অবশেষে, অবনিশ এর মা নিজের চোখ দেওয়ার পরিকল্পনা করলেন, অবনিশ এর বাবা রাজী ছিলেন না, কিন্তু অবনিশ কে তার মা অন্ধ দেখতে পারবে না, তার ছেলেকে নিজের জীবন দিয়ে হলেও, এই সুন্দর পৃথিবী দেখা থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।। । অবশেষে অবনিশ এর মায়ের কথায় রাজী হলেন সবাই, না হয়েও উপায় নেই, সে তার ছেলের জন্য সব বিসর্জন দিয়ে দিবেন, এতে কারো কথাই সে শুনবে না, আর সবাইকে বলে দিলো যেন এই কথা অপারেশন না হওয়া পর্যন্ত কেউ অবনিশ কে না জানায়। অবনিশের জ্ঞান ফিরে আসলো, অবনিশ এর কাছে গিয়ে তার মা জিজ্ঞেস করলো, ০- বাবা কেমন আছিস? -- মা ভালো আছি, তোমরা কেমন আছো, বাবা কোথায়, আর রুপসী কোথায়? -- তোর বাবা অসুধ আনতে গেছে, আর রুপসীর এখনো জ্ঞান ফিরে নাই। ০- মা ডাক্তার বললো আমি নাকি দেখতে পাবোনা, কেন আল্লাহ এমন করলো বলতে পারো? -- কে বলছে তুই দেখতে পাবিনা, আমরা চোখের ব্যবস্থা করে ফেলছি, কাল তোর চোখের অপারেশন হবে, তুই আবার দেখতে পাবি। ০- সত্যি বলছো মা, আমি আবার সবাইকে দেখতে পাবো। ০- হ্যা বাবা আবার সবাইকে দেখতে পারবি। -- তাহলে মা আমি সবাইকে এক সাথে দেখতে চাই যখন আমার চোখ ভালো হয়ে যাবে। ০- ঠিক আছে বাবা, এখন তুই বিশ্রাম নে। এই কথা বলে অবনিশ এর মা রুম থেকে বের হয়ে গেলেন, হাজারো কষ্ট লুকিয়ে একটি হাসি দিয়ে, রুপসীর রুমে গেলেন, রুপসীর জ্ঞান অনেক আগেই ফিরেছে, কিন্তু তার কাছে কেউ গেলেই বলতে থাকে, ০- এই এই তুই আমাকে মারতে আসছিস, আমাকে মেরে ফেলবি তাইনা, আমার অবনিশ কে তো মেরে ফেলছিস, এখন আমাকে মারবি তাই, দূরে যা সরে যা সবাই, এসব বলেই হাতের কাছে যা পায়, তাই ছুড়ে মারে সবার গায়ে। এমন কান্ড দেখে ডাক্তার বলতে লাগলো, তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গেলেও, অবনিশ কে সে এখনো ভুলে নাই, তাকে একবার অবনিশ এর কাছে নিয়ে যাই দেখা যাক কি হয়। ডাক্তারের কথায় তাকে অবনিশ এর রুমে নিয়ে গেলো, কাউকে না চিনতে পারলেও সে অবনিশ কে চিনতে পারলো, অবনিশ কে দেখেই কাদতে লাগলো আর বলতে লাগলো, ০- দেখো অবনিশ সবাই আমাদের শত্রু হয়ে গেছে, সবাই আমাদের দুজন কে মেরে ফেলতে চায়, চলো তুমি আর আমি অন্য কোথাও চলে যাই। অবনিশ রুপসী কে শান্তনা দিয়ে বলতে লাগলো, কেউ আমাদের শত্রুনা তুমি আমার বুকের উপর শুয়ে থাকো, কেউ আসবে না আমাদের মাঝে। রুপসী চুপচাপ বুকের উপর শুয়ে রইলো, কারোই বিশ্বাস হচ্ছে না, যাকে পুরো হাসপাতাল পরিবার মিলে শান্ত করতে পারলো না, সেই মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটিকে অবনিশ এক মুহুর্তেই শান্ত করে দিলো, সবাই এমন প্রেম দেখে অবাক হয়ে গেলো, যে পৃথিবীতে এখনো সত্যিকার ভালোবাসা রয়েছে যে ভালোবাসায় মানুষ সব ভুলে গেলেও ভালোবাসা ভুলে না, এমন ভালবাসা পৃথিবীর ইতিহাস বিখ্যাত অমর ভালোবাসার মধ্যে একটি। যা ভাগ্যবান মানুষের ভাগ্যে জোটে এমন ভালোবাসা, আর এমন ভালোবাসা বাস্তবে দেখতেও ভাগ্য লাগে। অবনিশ এর বুকেই ক্লান্ত দেহ লুটিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো রুপসী। সবাই তাকে ধীরে ধীরে উঠিয়ে তার ক্যাবিনে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুয়েই দিলো। । সবাই অপেক্ষা করছে, আজকের রাত্রিযাপনের আর কালকের সুর্যের আজ অবনিশ এর চোখের অপারেশন, সবার অপেক্ষা কাটিয়ে ভোরের সুর্য কিরন উঠলো, সবাই অবনিশ এর সাথে কথা বলল, অপারেশন এর আগে তার মা ও কথা বলে বিদায় নিলো, রাতের বেলা অবনিশ এর অপারেশন হবে, তাই এখন অবনিশ কে বিশ্রাম নিতে হবে। রাত ৯ টায় অবনিশ কে অপারেশন থিয়েটার এ নিয়ে যাওয়া হলো, অবনিশ কে নিয়ে যেতে দেখে, রুপসী পাগলের মত চিৎকার চেঁচামেচি করতে লাগলো, কোথায় নিয়ে যাও আমার অবনিশ কে, তাকে মেরে ফেলার জন্য নিয়ে যাচ্ছে, এসব বলে ডাক্তারের হাত মুখ খামচাতে লাগলো, ডাক্তার বাধ্য হয়ে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে অবনিশ কে নিয়ে গেলো। অপারেশন করতে করতে ভোর হয়ে গেলো, অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে, ৩ দিন পর তার ব্যান্ডেজ খুলবে। সবাই অপেক্ষা করতে লাগলো, সেই ৩ দিনের তারপর থেকে অবনিশ আবার দেখতে পাবে, এই পৃথিবীর সৌন্দর্য ভরা অপরুপ দৃশ্যকে। । আজ অবনিশ এর চোখের ব্যান্ডেজ খুলবে সবাই সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে, বাবা মা, তার আত্মীয় স্বজন, রয়েছে রুপসীও, রুপসী সবার থেকে আলাদা হয়ে, অবনিশ এর একদম বাহুডোরের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। ডাক্তার ধীরে ধীরে চোখের ব্যান্ডেজ খুলতে লাগলো, ব্যান্ডেজ খোলার পর অবনিশ সব কিছু ঘোলাটে দেখতে লাগলো, ধীরে ধীরে তার চোখের ঘোলাটে ভাব দূর হয়ে সব কিছু স্পষ্ট হতে লাগলো, একে একে সবাইকে প্রান ভরে দেখলো, নয়ন ভরে দেখলো, যেন কত বছর পর সবাইকে দেখতে লাগলো, অবনিশ এর দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবায় সবার মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে উঠলো, সবাই খুব আনন্দিত, কিন্তু অবনিশ এর চোখ আটকে গেলো তার মায়ের দিকে তাকিয়ে, তার মা একটি সাদা লাঠি হাতে চোখে কালো চশমা পড়ে একটি হুইল চেয়ার এ বসে আছে। অবনিশ মুখে একটু আনন্দ নিয়ে বলতে লাগলো ০- মা আমার এখন এসবের দরকার নেই, সাদা লাঠি দিয়ে চলতে হবে না, লাগবে না কালো চশমা তুমি কেন এগুলো পড়ে আছো, তোমার ছেলে এখন সব দেখতে পাচ্ছে। সবার মুখ অন্ধকারে ছেয়ে গেলো অবনিশ এর কথা শুনে, পাশ থেকে ডাক্তার সাহেব বলতে লাগলো, অবনিশ এগুলো হয়ত এখন আপনার প্রয়োজন নেই, কিন্তু আপনার মায়ের প্রয়োজন আছে। ০- কি আবোল তাবোল বলছেন ডাক্তার, মায়ের কেন দরকার হবে? -- কারন আপনার মায়েই সেই মানুষ যে আপনাকে চোখ দান করেছে, যার চোখ দিয়ে আপনি সবাইকে দেখছেন, সে মানুষটি আর কেউ না আপনার মা। আপনার মা তার দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে আপনার দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে এনেছে। ডাক্তারের কথা শুনে অবনিশ এর যেন দম বন্ধ হয়ে আসতেছিলো, কোনভাবেই তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না, গড় গড় করে ঝরে পড়তে লাগলো, তার চোখের পানি। অবনিশ এর চোখে পানি দেখে, রুপসী বলতে লাগলো, ০- অবনিশ তুমি কাদতেছো তাহলে আমিও কাদবো কথাটাই বলে রুপসী হাউমাউ করে কেদে দিলো, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষও চোখের পানির কষ্ট বুঝে, যদি হয়, সে ভালোবাসার মানুষ তাহলে তো আর কোন কথাই নেই, রুপসী কাদতে কাদতে অবনিশ এর বুকে তার দেহ লুটিয়ে দিলো, অবনিশ এখন কিভাবে কি বলবে বুজতে পারছেনা, এক পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন তার ভালোবাসা অন্যদিকে জন্মদাত্রী মায়ের অন্ধত্বের কারন। অবিনিশ নির্বাক দৃষ্টিতে একবার মায়ের দিক, একবার রুপসীর দিক, একবার পুরো পরিবারের দিক তাকিয়ে শুধু চোখের জল ফেলে যাচ্ছে, সবাই মিলে পুরো কলোনিকে নিস্তব্ধ কলোনী করে রেখেছে, সবাই যেন আজ মৌনব্রত করেছে এমন ভাব দেখে অবনিশ এর মা বলে উঠলো ০- কি হয়েছে সবাই এমন চুপ কেন, কেউ কথা কেন বলছে না। কেউ তার কথার উত্তর দিলোনা, কিছুক্ষন পর অবনিশ বলল মা তোমরা কোন মাটি দিয়ে তৈরি, কিভাবে পারো সন্তানের সুখের জন্য সবকিছুর কুরবানী দিতে? ০- অবনিশ তুই যখন আমার গর্ভে ছিলি, যেদিন থেকে আমার রক্ত মাংস খাইয়ে তোকে একটু একটু করে বড় করতেছিলাম, সেদিন থেকে একটু করে আমার সকল সুখ তোর সুখের সাথে মিলে গেছে, যখন তুই ক্ষুদার যন্ত্রনায় কেদে উঠতি, আমি আমার বুকের দুধ খাইয়ে তোকে শান্ত করতাম, কসম করে বলছি আমার ক্ষুদাও মিটে যেতো যখন তুই দুধ খেয়ে তৃপ্তির সহিত খিল খিল করে হেসে উঠতি। এ চোখ দিয়ে কি করবো, যখন নিজ গর্ভের সন্তান এই পৃথিবী দেখতে পারবে না, আমি কি করে এই পৃথিবী দেখবো, আজ থেকে আমার হয়ে তুই এই পৃথিবী দেখবি, আর আমাকে শুনাবী এতেই আমার সুখ। -- কি দিয়ে শোধ করবো মা তোমার ঋন, তোমার দুধের ঋন, তোমার দেওয়া আমার স্বপ্নের জন্য কুরবানীর ঋন, মা আবার যদি জন্ম হই, তাহলে যেন তুমি আমার ছেলে হয়ে জন্ম হও, আর আমি তোমার মা, এরপরেও যদি পারি তোমার ঋন শোধ করতে, আর এই জন্মে সব সময় যেন তোমার চরন পানে থাকতে পারি এই কামনা করি। কথাগুলো বলে অবনিশ গিয়ে তার মা কে জড়িয়ে ধরে তার কপালে একটি চুমু দিলো, সবাই অবনিশ কে জড়িয়ে নিলো ভালোবাসার আবেশে, রুপসীও এসে অবনিশ কে জড়িয়ে নিলো, আর বলতে লাগলো, ০- অবনিশ তুমি কেদোনা, তাহলে কিন্তু আমিও কাদবো আর এরা সবাই তোমাকে আমাকে মারতে চায়। অবনিশ রুপসীকে আলতো বেশে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো, ০- কেউ আমাদের মারতে চায়না, এরাই যে আমাদের বেচে থাকার উৎস, আমি যেমন তাদের ভালোবাসি তারা আমাদেরকে তার থেকে হাজার গুন বেশী ভালোবাসে। রুপসী মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলতে লাগলো, ০- ওহ, তাহলে আমিও তাদের জড়িয়ে ধরবো এই বলে রুপসী সবাইকে জড়িয়ে ধরলো। তারা সবাই হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে গেলো, এমন প্রেম এমন পরিবার দেখে ডাক্তারের ও দুচোখ নয়নে ভরে গেলো, হাসপাতালের সমস্ত কর্মকর্তা তাদের ভালোবাসা, মায়া, মমতা শ্রদ্ধা দেখে চোখের পানি না ফেলে পারলো না। অবনিশ তার ভালবাসার মানুষ রুপসী, দৃষ্টিশক্তি হীন মা, বাবা, ভাই সবাইকে নিয়ে সুখের জীবন ভোগ করতো লাগলো, যতই অভাব যতই বিপদ আসুক না কেন, তাদের সুখের সুতোয় বিন্দু পরিমান আচ আসতে দেয়না। এই তো মা, যে গর্ভধারিণী, যে জন্মদাত্রী, এ মায়ের তুলনা কখনো কোনদিন কোন কিছুতেই দেওয়া সম্ভব না, নাইবা দেওয়া সম্ভব মায়ের ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এর সংজ্ঞা। এই যে কালো মেয়েটি রুপসী, বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মেয়ে, এই মেয়ের ভালোবাসার সংজ্ঞাই বা কোন ক্যালকুলেটর দিবে? ভালোবাসা, সুখ কোনদিন টাকা দিয়ে কেনা যায়না, ভালোবাসা শুধু ভালোবাসলেই পাওয়া যায়, সুখ শুধু আত্মত্যাগ করলেই পাওয়া যায়। ধনী হোক গরীব হোক, চাইলেই সুখে থাকার অধিকার সবার আছে, কিন্তু ভালোবাসাকে যারা রুপ জ্ঞানে মাপে তাদের জন্য ভালোবাসা নেই, ভালোবাসা পেতে হলে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে হবে। আজ আমারো কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে। হ্যা জন্মদাত্রী মা, ১০ মাস ১০ দিন রেখেছিস তোর গর্ভে, খাওয়াইয়াছিস রক্তের মিশ্রনে তোর বুকেরই দুগ্ধ, কেমন করে মা, কেমন করে! শোধ করিবো তোর ঋন। একটু একটু করে শিখিয়েছিস মা, চলিতে কঠিন পথ, কেমন করে মা, কেমন করে! ভুলবো সে পথ। তোরই পায়ের নিচে, ও মা স্বর্গ যে আছে, স্বর্গ ছেড়ে কোথায় যাবো কোন দেশের তীরে, রাখিস রে মা, তোর চয়নে, মরনের ডাকে, শেষ নিশ্বাস যায় যেন মা তোর মাতৃক্রোড়ে। তুই বন্ধু, তুই আপন, তুই যে সুখের দিশা, এ সুখ মা তুই নিস না কেড়ে আমায় ফেলে দিয়ে, তোর আগে যেন মরন সুধা দেয়গো খোদা মোরে। আজো অবনিশ এর পরিবারে সুখের বিন্দু পরিমান কমতি নেই, মা, স্ত্রী বাবা সবাইকে নিয়ে সুখের জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে, আজ মানসিক ভারসাম্যহীন তার ভালোবাসা রুপসী মা হতে যাচ্ছে, যদিও তার মানসিক অবস্থা আগের থেকে অনেক ভালো ধীরে ধীরে সে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে এক মায়ের চরিত্র তে পদার্পন করবে। ভালোবাসা হোক ভালোবাসার মত, পরিবার, স্বজন, সবাইকে নিয়ে গঠিত হোক সত্যিকারের ভালোবাসা, ভালোবাসায় কোন স্বার্থ থাকতে নেই, স্বার্থের ভালোবাসায় সুখ নেই, আত্মত্যাগী ভালোবাসাতেই এই পৃথিবীর সুখ রয়েছে। এই ছিলো একটি গল্প, একটি পরিবারের গল্প, একটি প্রেমের গল্প, একটি আত্মত্যাগী গল্প, একটি নিঃস্বার্থ সুখের গল্প।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিঃস্বার্থ সুখ
→ নিঃস্বার্থ সুখ-(01)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now