বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নবীজীবনের একটি ঘটনা : নবীশিক্ষার একটি ঝলক-----

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X -হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. বলেন, জাহেলী যুগে আমিযখন মানুষকে মূর্তিপূজা করতে দেখতাম আমার কাছেমনে হত, নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট। এদের এ সকল কাজ সম্পূর্ণঅসার। হঠাৎ একদিন শুনতে পেলাম, মক্কায় এক ব্যক্তিরআবির্ভাব হয়েছে যিনি গায়েবের খবর বলেন। তখন আমিমক্কার উদ্দেশে বের হলাম। মক্কায় পৌঁছে জানলাম,তিনি গোপনে ইসলাম প্রচার করছেন আর কওম তাঁর প্রতিচরম ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।আমি চুপিচুপি তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। তিনি মক্কায়ওকাজ নামক স্থানে ছিলেন। আমি সেখানে পৌঁছেতাঁকে সালাম দিলাম। এবং জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারপরিচয় কী?’ তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর নবী।’ বললাম,‘আল্লাহর নবী মানে কী?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহরবার্তাবাহক।’ বললাম, ‘কে আপনাকে পাঠিয়েছেন?’বললেন, ‘আল্লাহ।’ আমি বললাম, ‘সত্যিই কি আপনাকেআল্লাহ পাঠিয়েছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ বললাম,‘(আল্লাহ) আপনাকে কী বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন?’তিনি বললেন, ‘আত্মীয়তা রক্ষা করা, মূর্তি (মূর্তি পূজা)ও সকল বাতিল ধর্ম বিলুপ্ত করা, রক্তপাত-হানাহানি বন্ধকরা, মানুষের (জানমাল) চলার পথের নিরাপত্তা বিধানকরা, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা ও তাঁর সাথেকাউকে শরীক না করা।’ আমি বললাম, ‘আপনার রব কতসুন্দর সুন্দর বিষয় দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন!’ আমিআপনাকে সাক্ষী রাখছি, আমি আপনার উপর ঈমানআনলাম এবং আপনাকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করলাম।আর কে কে আপনার এই দ্বীন গ্রহণ করেছে?’ বললেন,‘একজন আযাদ ও একজন গোলাম (অর্থাৎ আবু বকর রা. ওবেলাল রা.)।’আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথেথাকতে চাই এবং আপনার অনুসরণ করতে চাই।’ বললেন,‘এখন তা সম্ভব নয়। দেখছ না, পরিস্থিতি কত প্রতিকূল?আমি গোপনে দাওয়াত দিচ্ছি আর আমার কওম চরমবিরোধিতা করছে। তুমি এখন পরিবারের কাছে ফিরেযাও। যখন শুনবে আমার বিজয় হয়েছে তখন আমার কাছেচলে এসো।’ একথা শুনে আমি আমার পরিবারের কাছেফিরে এলাম।আমর ইবনে আবাসা বলতেন, ‘তখন আমি ছিলাম ইসলামের(মুসলমানদের) চারভাগের একভাগ। অর্থাৎ চারজনেরএকজন।’এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামমদীনায় হিজরত করলেন। আমি স্বদেশেই অবস্থানকরছিলাম ও সব খবরাখবর রাখছিলাম। ইতিমধ্যে একদিনমদীনার একটি কাফেলা এল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম,‘মক্কা থেকে যিনি মদীনায় গিয়েছেন তার খবর কী?’তারা বলল, ‘মানুষ খুব দ্রুত তাঁর ধর্ম গ্রহণ করছে। তাঁর কওমতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, পারেনি।’তখন আমি মদীনায় গেলাম ও রাসূলের সাথে সাক্ষাতকরে বললাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতেপেরেছেন?’ তিনি বললেন, ‘মক্কায় আমার সাথে তোমারসাক্ষাত হয়েছিল।’আমি বললাম, ‘জ্বি, হাঁ।’ তারপর আরজ করলাম, ‘আল্লাহররাসূল! আমার অজানা বিষয়, যা আল্লাহ তাআলাআপনাকে শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষাদিন। আমাকে নামায শেখান।’ আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ফজরেরনামায আদায় করবে। তারপর সূর্য পূর্বাকাশে উঁচু হওয়াপর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ সূর্য উদিতহয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে। ঐ সময় কাফেররাসূর্যকে সিজদা করে।‘যখন সূর্য উঁচু হয় তখন নামায পড়বে। কারণ নামায আল্লাহরদরবারে পেশ করা হয়। এরপর যখন বর্শার ছায়া সংক্ষিপ্তহয় (অর্থাৎ সূর্য মধ্য গগণে উঠে আসে) তখন নামায পড়াথেকে বিরত থাকবে। কারণ এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্তকরা হয়।এরপর যখন ছায়া দীর্ঘ হতে আরম্ভ করে তখন নামাযপড়বে। মনে রাখবে, সকল নামায আল্লাহর দরবারেউপস্থাপন করা হয়।আসরের নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামায পড়া থেকেবিরত থাকবে। কারণ সূর্য অস্ত যায় শয়তানের দুই শিংয়েরমাঝে। ঐ সময় কাফেররা সূর্যকে সিজদা করে।আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমাকে অযুশেখান।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, ‘যখন তোমার সামনে অযুর পানি আসবে প্রথমেকুলি করবে। তারপর নাকে পানি দিবে ও নাক ঝাড়বে।তখন চেহারার, মুখের ও নাকের গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে।এরপর যখন আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক মুখমন্ডল ধৌতকরবে তখন পানির সাথে দাড়ির অগ্রভাগ দিয়ে চেহারারগুনাহসমুহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন কনুইসহ দুই হাত ধৌত করবেতখন আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে দুই হাতের গুনাহসমুহ ঝরেপড়বে। এরপর যখন মাথা মাসেহ করবে তখন চুলের অগ্রভাগদিয়ে মাথার গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন টাখনুসহ দুইপা ধৌত করবে তখন পায়ের আঙ্গুলির অগ্রভাগ দিয়েপায়ের গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যদি বান্দা নামাযেদাঁড়ায় এবং আল্লাহর শান মোতাবেক হামদ, ছানা ও তাঁরমহত্ব বর্ণনা করে, অন্তরকে সবকিছু থেকে খালি করেএকমাত্র আল্লাহমুখী হয়, তাহলে সে নামায শেষ করারপর সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’এ হাদীস শুনে সাহাবী আবু উমামা রা. বললেন, ‘হে আমরইবনে আবাসা! কী বলছেন ভেবে দেখুন। এভাবে একবারনামায পড়লেই বান্দা এই ফযীলত লাভ করবে?আমর বললেন, ‘আবু উমামা! আমায় বয়স হয়েছে, মৃত্যুর সময়ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় কীসের আশায় আমিআল্লাহর রাসূলের নামে মিথ্যা বলতে যাব? আমি যদিরাসূল থেকে এ কথা একবার দুইবার তিনবার সাতবার নাশুনতাম আমি তা বর্ণনা করতাম না। আমি তো এই কথাআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরনিকট থেকে এর চেয়েও বেশিবার শুনেছি।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নবীজীবনের একটি ঘটনা : নবীশিক্ষার একটি ঝলক-----

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now