বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নারীর অমূল্য সম্পৎ..........

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জিহান সরকার (০ পয়েন্ট)

X একজন নারীর কাছে নিজের ইজ্জত সব থেকে বেশি মূল্যবান। আর সেই মূল্যবান জিনিষটাও যদি জোর করে কেউ কেড়ে নেয় সেখানে আর কি বা থাকে? আমরা যখন শুনি অমুক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে তখন মনে হয় ধর্ষণ কি আমাদের সমাজের একটা চলমান কার্যক্রম হয়ে গেছে? আর কত ধর্ষণের খবর পড়তে হবে দেশ পরিচালনাকারীরা বলতে পারেন? একটু ভেবে দেখা যাক, একটা নারী যখন বেড়ে উঠে তার প্রতি আমাদের সবার একটা দায়িত্ব থাকে। সে কি করছে কোথায় যাচ্ছে। কাদের সাথে মিশছে। আমরা কি সেই খবর নিচ্ছি? যদি উত্তর না হয়, তাহলে ওই নারীর সর্বনাশের জন্য দায়ী কে? হয়তো আমার প্রশ্নের উত্তর আমি পাবো না। কিন্তু এটা সত্য যে অধিক মেলামেশা আর অচেনা কাউকে বিশ্বাস করার কারণেই এই ধর্ষণের মতো নোংরা কর্মকান্ড ঘটছে। আমরা যদি একটু চিন্তা করে দেখি যে, কোন নারী কি ইচ্ছাকৃত ভাবে ধর্ষিত হতে চায়? যদি উত্তর না হয় তাহলে কেন সেই ধর্ষিতাকে আমরা দোষারোপ করব? আমাদের সমাজ কেন একটা নারীর নিরাপত্তা দিতে পারছে না? আমাদের ব্যর্থতা কোথায়? নারী আমি আপনাকে বলছি, আপনি যার সাথে মেলামেশা করেন, আপনি কি করে তাকে বিশ্বাস করেন? কি করে তার সাথে ঘুরতে যান? কেন এত কিছু দেখার পরও আপনার ভেতরে ভয় বা ভীতি কাজ করছে না? তাহলে আপনার সর্বনাশের জন্য দায়ি কে হবে? আমি যতদুর জানি বর্তমান ধর্ষণের পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও কাছের বন্ধু দ্বারা এমন ঘটনাই ঘটে। আমরা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে যে কতটুকু সামাজিকতা হারিয়ে ফেলেছি তা হয়তো জানিনা। তাই এখনও সময় আছে নিজেক শক্ত করে প্রতিবাদ করতে শিখুন। না হলে আপনার ভুলের কারণে আপনাকেই সারা জীবন চোখের পানির ফেলতে হবে। আপনার একটু অসাবধানতাই আপনার জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াবে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ধর্ষক থাকছে না তখন আপনাকেই শক্ত হতে হবে। এ বিষয়ে বলতে গেলে বর্তমান প্রজন্মের প্রেম-ভালোবাসা নিয়েও কথা বলতে হয়। এখন কার প্রেম তো ভার্চুয়াল হয়ে গেছে। এখন শুধু শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্যও মনে হয় একটা সম্পর্ক গড়ে উঠছে। আমাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনার্স পড়ুয়া এক ছাত্রী মেইল করেছেন। সেখানে তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে তথ্যটি প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন। আমি তার ভাস্যটি হুবুহু তুলে ধরছি:- “আমি যখন লেখাপড়ার জন্য শহরের দিকে আসলাম তখন একটা ছেলের সাথে আমার পরিচয় হয়। এক পর্যায় তার সাথে প্রেম হয়। কিন্তু আমি জানতাম না যে সে আমার সাথে অভিনয় করছে। আমাকে একদিন ডেকে নিয়ে একটা স্যারের বাসায় যায়। আমাকে সেখানে অনেক মারধর করে এবং স্যার আর ওই ছেলেটা মিলে আমার সাথে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। আমার উপর সকাল থেকে বিকেল পযর্ন্ত নির্যাতন চালানো হয়। আমাকে পরে বাসে উঠিয়ে দেয়। আমি কি তাহলে বিশ্বাস করে ভুল করেছি?” আমি যদি ওই নারীর কথার সাথে বলি যে আপনি ভুল করেননি কিন্তু আপনাকে খেয়াল রাখতে হতো যে আপনি যার সাথে সম্পর্ক জড়াচ্ছেন তাকে ভালো করে না জেনে না বুঝে কেন তার সাথে অচেনা পথে পা বাড়ালেন? হয়তো আপনার ভুল ছিলো না। কিন্তু বর্তমান সমাজকে আপনাকে জানতে হবে। একজনকে আপন করে নেওয়ার আগে তার সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করুন। এমন আর কত নারী অজান্তে নিজের ইজ্জত হারাবে? কি দোষ করে নারীরা? তারা কেন স্বাধীন ভাবে চলা ফেরার সুযোগ পাচ্ছে না? আমার উত্তর কি কেউ দিতে পারবেন? আমাদের চারপাশটা কেমন যেন এক বৈচিত্র্যে ছেয়ে গেছে। আর এই ধর্ষণ বা গভীর মেলামেশা যেন বেড়েই চলেছে। এর পিছনের কারণ হিসেবে নির্দিষ্ট কোন কিছুর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সারা দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিন চার-পাঁচজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে। প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষিতার চিকিৎসা দিতে হচ্ছে সেখানে। এ তথ্য ওসিসি থেকে পাওয়া। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫৫৪টি অভিযোগ রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রাস্তা থেকে অপহরণ করে গাড়ির মধ্যে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলাও রয়েছে বেশ কয়েকটি। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে সারা দেশে ৬২০ জন, ২০১২ সালে ৮৩৬ জন, ২০১৩ সালে ৭১৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। তবে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেড়েছে”। রাজধানীসহ সারা দেশেই নারী নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। অপহরণের পর নারীদের ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বিশেষজ্ঞদের এসব পরিসংখ্যান ও মন্তব্যের পাশাপাশি গত বেশ কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণেও দেখা যায়, রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণপ্রবণতা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। তাই এই ধর্ষণকে বন্ধ করতে হলে একমাত্র উপায় নিজেকে শক্ত করা। আর কোন ধর্ষক যেন ঝাপিয়ে পড়তে না পারে ধর্ষণের জন্য। আসুন আমরা আমাদের সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলি। তাদের মনের কথা গুলো বোঝার চেষ্টা করি। পরিবারের নজর সন্তানের উপর কঠোর ভাবে থাকলে দূর্ঘটনা কমতে পারে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নারীর অমূল্য সম্পৎ..........

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now