বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাগিন নাটকের বাস্তবতা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PS Sumon (০ পয়েন্ট)

X কালকে নাগিন সিরিয়াল দেখতে বসেছি। অবশ্য আমি এসব দেখি না,তবে কালকে আমার ফ্রেন্ড রূপা খুব রিকুয়েষ্ট করছিলো নাটকটা দেখার জন্য। ও নাকি এ কয়েকদিন দেখতে পারবে না তাই আমি দেখে কি কি কাহিনি ঘটেছে ওর কাছে বলতে হবে। বিনিময়ে কলেজের নতুন সুন্দরী মেয়েটাকে নাকি আমার সাথে সেটিং করিয়ে দিবে। যাই হোক, খুবই আগ্রহ নিয়ে দেখছি। নায়িকা নাগিন আর নায়ক মানুষ! ওমা নায়কের মা ও নাগিন। এতো নাগিনের ভীড়ে বেচারা একলাই মানুষ। ওমা! হঠাৎ দেখি ছোট্ট একটা মেয়ে নাগিন আর নাগিনেরও জামাইকে মেরে ফেলেছে! আহারে বেচারা, আমি তো ইমোশনাল হয়ে কাঁদতে কাঁদতে শেষ। টিস্যু না পেয়ে কখন যে পকেট থেকে পাঁচশ টাকার নোটটা বের করে নাক মুছে ফেলে দিয়েছি টেরও পাইনি। আমি বসে বসে কান্নাকাটি করছিলাম এরই মধ্যে নাকি দুইশ বছর পার হয়ে গেছে! নায়ক নায়িকা আবার দুইশো বছর পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করেছে! আমি মনে মনে ভাবলাম " বাব্বাহ্, পুরো দুইশো বছর বসে বসে কেঁদেই পার করে দিলাম! আরে আমারে তো অস্কার দেওয়া উচিৎ!" নাকট দেখা শেষ করে দুইশো বছর পর উঠে দাঁড়ালাম। তারপর রূপাকে ফোন দিলাম। - হ্যালো রূপা - কিরে অভি নাটকটা দেখেছিস? - হুম, দুইশো বছর পার হয়ে গেলো আর তুই আমাকে একটিবার ফোন করে খবর নিলি না। এখন আমি ফোন করলাম তাও একটিবার জিজ্ঞেস করলি না কেমন আছি। - আরে কি বলছিস এসব, পাগল হয়ে গেলি নাকি! নাটকে কি হলো আজকে। - দুইশ বছর পার হয়ে গেছে। - আরে ধ্যাৎ, কি বলিস পাগল ছাগলের মতো। বলেই রূপা লাইন কেটে দিলো। আমি বিষন্ন মনে আম্মুর কাছে গিয়ে বললাম - আম্মু কিছু খেতে দাও, দুইশ বছর কেঁদেই পার করেছি। এখন ক্ষুদা লেগেছে। - রোজা রমজানের দিন কি শুরু করলি? রোজায় ধরেছে নাকি! - আমি দুইশ বছর কিছু খাই নাই। আমার এখন খুব ক্ষুদা লেগেছে। আম্মু হাতে ঝাড়ু জুতা যা আছে সব নিয়ে শাড়ির আঁচলটা কোমরে গুঁজে- কি যেনো বললি? আবার বল শুনি। আমি তো এবার শেষ! আমতা আমতা করে বললাম- কই মা, আমি তো কিছু বলিনি! ও হ্যাঁ মনে পড়েছে - আম্মু আমি একটু আসছি। কোন রকমে আম্মুর হাত থেকে বেঁচে রুমে চলে এলাম। বিছানার গা এলিয়ে দিলাম। হঠাৎ আমার কানে বেজে উঠলো-- ম্যা তেরা দুশমন, দুশমন তু মেরা ম্যা নাগিন তু সাপেরা আ আ আ ম্যা নাগিন তু সাপেরা........... ওমা একি! নাটকের সব নাগিনরা দেখি আমার সামনে নাগিন ড্যান্স দিচ্ছে! বাহ্ কি চমৎকার! আমি তো রাজাদের মতো হেলান দিয়ে বসে বসে নাচ দেখছি আর টাকা ছুড়ে ছুড়ে মারছি।কিন্তু এরপর যা দেখলাম! দেখি আমার মা আর রূপাও আছে তার সাথে! সবাই নাগিন, শুধু আমি ছাড়া। তখনি হঠাৎ করে একটা নাগিন এসে আমার কপালে দিলো এক ছোবল। আমি চিৎকার করে উঠে দেখি আমি যেটাকে নাগিনের ছোবল ভেবেছিলাম সেটা আসলে খুনতির বাড়ি।আম্মু আমার দিকে কড়া নজরে তাকিয়ে আছে। - দিনে দুপুরে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস আর ঘুমের মধ্যে কোলবালিশটা ছিড়ে তুলা ছুড়ে ছুড়ে মারছিস। ব্যাপার কি? -ইয়ে মানে কিছু না আম্মু। - কিছু না হলেই ভালো। বেসন শেষ হয়ে গেছে, নিচের দোকান থেকে গিয়ে বেসন নিয়ে আয়। আমি কিছুক্ষন ভেবে তারপর আম্মুকে বললাম- আচ্ছা আম্মু, তুমি কি মানুষ না নাগিন? আম্মু তো রেগেমেগে কটমট করে আমার দিকে তাকালো। পরিস্থিতি ভালো না বুজে আমি তাড়াতাড়ি উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম দোকানে যাওয়ায় জন্য। হঠাৎ দেখি রাস্তা দিয়ে যেনো এক পরী হেঁটে যাচ্ছে। আহা! কি অপরুপ। আমি আর দেরি না করে দৌড়ে গিয়ে খপ করে ধরে ফেলি মেয়েটার হাত। আর ওমনি মেয়েটা ছেড়ে শয়তান, তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না ইস্টাইলে চিৎকার করতে থাকে। আমি তো নাছোড়বান্দা, কিছুতেই ছাড়বো না। পেয়েছি আমার আগের জন্মের ভালোবাসাকে। এই মেয়েটাই নিশ্চয়ই আমার আগের জন্মের ভালোবাসা। আমি নাগিন নাটকে দেখেছি আগের জন্মেরও ভালোবাসা থাকে। তাই মেয়েটাকে বোঝাতে লাগলাম যেনো চিৎকার না করে। অতঃপর........... আমি আজকে চারদিন ধরে হসপিটালের বেডে ভর্তি আছি। কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না। কোত্থেকে যেন মৌমাছির মতো একঝাঁক মানুষ এসে আমাকে কেলিয়ে ভর্তা করে দিয়ে গেলো। হটাৎ দেখি সেইদিনের সেই মেয়েটা হসপিটালে এসেছে। আমি তো দেখে ভয়ে জমে ঠান্ডা হয়ে গেছি। এবার কি চোদ্দগুষ্টি নিয়ে এসেছে নাকি আমাকে মারার জন্যে! পরে দেখি মেয়ে এসে আমাকে সরি টরি বলে চলে গেলো। কি হলো! আমি বেডে শুয়ে শুয়ে ভাবছি। পরে শুনি আমার পাশে দাঁড়িয়ে দুইজন নার্স বলাবলি করছে- -আহারে বেচারা, পাগল মানুষটাকে না বুঝে কি মাইরটাই না দিলো মানুষ। - হ্যাঁ, কি হ্যান্ডসাম ছেলেটা পাগল,আহারে। - ডাক্তারেরা বলেছে ওর শরীর একটু সুস্থ হলেই ওকে পাবনা পাঠানো হবে মানষিক চিকিৎসার জন্য। এই কথা শুনে তো আমি টাস্কি! একে তো চারদিন ধরে হসপিটালের বেডে ভর্তি, তারপর আমাকে আবার পাবনাও পাঠানো হবে! দীর্ঘশ্বাস ফেলে কষ্টে মনে মনে বললাম **হায়রে নাগিন সিরিয়াল ** অতঃপর আমি বেঁহুস......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাগিন নাটকের বাস্তবতা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now