বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাবিলা (শায়লা গল্পের দ্বিতীয় খন্ড) শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X হঠাৎ কি যেন হয় । ওই হাত ছুয়ে দেবার আগেই… নূরজাহানের মুখের হাসি হঠাৎ মিলিয়ে যায়। সেই সাথে ঘরের মাঝে একটা অস্বাভাবিক থমথমে ভাব চলে আসে…হঠাৎ করেই অনেকগুলো নারীর সম্মিলিত কন্ঠের ক্রুদ্ধ চিৎকার বেজে ওঠে নাবিলার মস্তিষ্কে…বাজতেই থাকে… বাজতেই থাকে…সেই সাথে ঘোর কেটে যায় ওর । আর সকল ভোঁতা হয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো তাদের সমস্ত অস্তিত্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভয়,আতংক,হতাশা…ঝট করে হাত সরিয়ে নেয়… চিৎকার করে হাত দিয়ে কান চেপে ধরে নাবিলা…লাভ হয়না…শব্দ তো আর ঘরের ভেতরে হচ্ছে না। এ যেন এক নিঃশব্দ চিৎকার… কিছু একটা যেন খুঁজছে ওরা। নাবিলা বুঝতে পারে না ওরা কি খুঁজছে…কেন খুঁজছে…ক্রুদ্ধ আর প্রচন্ড হতাশ ওরা। যেন কোন কিছুর অপেক্ষায় ছিল। না পাবার হতাশা…হঠাৎ ঘরের মাঝে কি যেন নড়তে দেখে নাবিলা…ছবি নয়…অন্য কিছু…ঘুরে দেখতে যাবার আগেই হঠাৎ প্রচন্ড শীতল কিছু একটা ওর পা চেপে ধরে…নিচে তাকায় নাবিলা…ঘরে ছড়িয়ে থাকা সাদা নারীমূর্তিগুলোর একটা ওর পা ধরে টানছে…আতংকে আবারো চিৎকার বেরিয়ে আসে ওর গলা চিরে…পা ঝাড়া দিতে থাকে নাবিলা। কিন্তু ছাড়াতে পারে না। আঁতিপাতি করে এদিকে ওদিকে তাকায় ও…শক্ত কিছু খোজে। এদিকে ঘরের আলোগুলো একে একে নিভে যেতে শুরু করেছে। একটা কাঁসার মোমদানি খুজে পায় নাবিলা। ওটা তুলে সর্ব শক্তি দিয়ে মারে মুর্তিটার হাতে। আবার মারে…আবার…হিস্টরিয়া গ্রস্ত মানুষের মত মারতেই থাকে। মূর্তির হাতটা ভেঙ্গে আসে। ঘরের প্রায় অন্ধকার আলোতে যা দেখে নাবিলা তা চোখের ভুল নাকি তা ও বলতে পারেনা হঠাৎ। কিন্তু ক্রমাগত চিৎকার করতে থাকা কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে আসে। সাদা প্লাস্টার অব প্যারিসের মাঝ দিয়ে যেন একটা কঙ্কালসার হাত উঁকি দিচ্ছে। ভাল করে তাকায় নাবিলা। হঠাৎ ঘটনার বীভৎসতা ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে। খানসামার হাতের ধোয়াঁ ওঠা বালতির রহস্যও পরিষ্কার হয়ে যায় নাবিলার। তাহলে কি এই সবগুলো মূর্তিই রাজীবের শিল্পের নিদর্শন?”নশ্বর দেহের সৌন্দর্য ধরে রাখা”র সত্যিকার অর্থ আবিষ্কার করে নাবিলার দেহ অবশ হয়ে আসে। নাবিলা পালাবার পথ খোঁজে…ঘরটা বেশী বড় না। কয়েক কদম দূরেই দরজা…কিন্তু পালাবার পথটা অসম্ভব মনে হল…ঘরের সবকিছুই যে এখন জীবন্ত… একটু আগের সেই শান্ত পরিবেশ এখন আমুল বদলে গেছে…শিকারকে বাগে আনার আগে যেমন শিকারি ভুলিয়ে ভালিয়ে কাছে আনে…ঠিক তেমন ছিল পরিবেশটা…হঠাৎ কি হল?শিকারীর হাত থেকে যেন শিকার হাতছাড়া হয়ে গেছে…কিন্ত ও তো এখানেই…তবে কি… এত কিছুর মাঝেও নাবিলার মাথা হঠাৎ কাজ করা শুরু করেছে। মূর্তিগুলোর রহস্য জানতে পেরে আর ছবিগুলোর আচরণে একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যায়। ওরা এই জমিদারের হাতেই অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে মারা গেছে। তাই ওই জমিদারের উত্তরাধিকারদের আজীবন এই ছবির অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। দুইএ দুইএ চার করে নিতে অসুবিধে হয় না। এ বাড়ির কোন পুরুষকে ওরা বাঁচতে দেবে না। “ওদের নিয়ে ভিতরে এসো”,আর ঘোরের মাঝে রায়ান আর রিমনকে নিয়ে আসতে চাইবার অযৌক্তিক ইচ্ছার কারণ বুঝতে পারে এখন নাবিলা। ওরা আসেনি নাবিলার সাথে । নাবিলা জানায়ই নি ওদেরকে যে ও বাংলাদেশ এ যাচ্ছে…এটাই হয়ত ওদের ক্রোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে… নাবিলা হাতের মোমদানিটা শক্ত করে চেপে ধরে। এটাই একমাত্র ভরসা এখন। ঘরে এখনও আলো আছে। বেশীক্ষন থাকবে না। তার আগেই এখান থেকে পালাতে হবে। মূর্তিগুলো পা হেঁচড়ে হেঁচড়ে এগিয়ে আসছে নাবিলার দিকে। নাবিলা দরজার দিকে দৌড় দেবার প্রস্তুতি নেয়। মাথার ভেতর চিৎকার গুলো বেজেই চলেছে…সমস্ত মানসিক শক্তি একত্র করে নাবিলা পা বাড়ায় দরজার দিকে… এর পরের ঘটনা গুলো খুব দ্রুত ঘটে যায়। হাতের মোমদানি টা পাগলের মত ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগোয় নাবিলা। প্রথম মুর্তিটার গায়ে যখন লাগে মোমদানিটা তখনও নাবিলা দরজা থেকে অনেক দূরে। হাতের নাগালের আরেকটা মূর্তি হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আরো তিনটা মূর্তি সামনে। মাটিতে পড়ে থাকা মূর্তিগুলোও গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে নাবিলার পা লক্ষ্য করে। নাবিলা মরিয়া হয়ে ওঠে বাঁচার জন্য। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জানতে পারলে মানুষের শরীরে অসুরের শক্তি চলে আসে। এলোপাথাড়ি হাত ছুঁড়তে ছুঁড়তে আর মোমদানির আঘাতে মূর্তিগুলো ধরাশায়ী করতে করতে নাবিলা যখন দরজার ঠিক সামনে যখন পৌছায় ঠিক তখনই ঘরের শেষ আলোটাও নিভে যায়। ঠিক তখনই নাবিলার পা চেপে ধরে একটা মূর্তি। দৌড়তে থাকা নাবিলা নিজেকে আর সামলাতে পারে না। হাত থেকে মোমদানিটা কোথায় যেন পড়ে যায়। মাটিতে আছড়ে পড়ার আগে অন্ধকারে কিছু একটা আঁকড়ে ধরার শেষ চেষ্টায় হাত বাড়ায় দরজার দিকে। কিন্তু সে হাত আর দরজার হাতল খুঁজে পায় না। হাতদুটো শূন্যে বৃথা হাতড়াতে থাকে। হঠাৎ সে হাত চেপে ধরে আরেকটা ভেজা বরফ শীতল হাত। হঠাৎ যেমন শুরু হয়েছিল তেমনি ভাবে ঘরের সবকিছুই থেমে যায়। নরম মোমের আলো জ্বলে ওঠে দরজার ঠিক পাশের ছবিটার ভেতরে। সে আলোয় দেখে নাবিলা, নূরজাহানেরই হাত ধরে আছে ও। নূরজাহানের মুখে প্রশান্তির হাসি…আহবানের হাসি। একটু আগের সেই ক্ষোভের একটুও অবশিষ্ট নেই। নাবিলা সব বুঝতে পারে, সব। একটি মাত্র স্পর্শই ওকে সবকিছু বুঝিয়ে দেয়। নাবিলাকে কখনোই মারতে চায়নি ওরা। রায়ানকে না পেয়ে ওরা প্রচন্ড রেগে গিয়েছিল এই যা। কিন্তু ওরা এখন অনেক শান্ত…কেবল একটা স্পর্শই প্রয়োজন ছিল ওদের। কেবল একটি মাত্র স্পর্শ… শরীর থাকার অনুভূতিটা আমি বোধহয় ভুলেই গিয়েছিলাম। নাহলে এত গরম লাগার তো কথা না…এখন তো শীতকাল হবার কথা। মেয়েটার স্মৃতি তো তাই বলে…রঙের মাঝে সবকিছুই এত শীতল ছিল…!!! দরজা খুলে ঘরের বাইরে বের হলাম… বাড়িটার কি অবস্থা…!! তা অবশ্য হবারই কথা…কেউ যত্ন করার নেই তো…ভাঙ্গা সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলাম। সারা শরীর খুব ব্যাথা…পায়ে বোধহয় কেটেও গেছে…সত্যিই দেহটা আমাদের খুবই…কি যেন বলতেন উনি…নশ্বর? অন্ধকারে দেখতে এখন আর সমস্যা হয় না…এখানে ওখানে অনেক কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে…সবকিছু ডিঙ্গিয়ে বাইরে বের হতে খুব একটা সমস্যা হল না। বাইরে এসেই চমকে গেলাম…আজকে পূর্ণিমা…এত্ত বড় চাঁদটা ওই অশ্বথ গাছের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে…সেদিন রাতটাও পূর্ণিমা ছিল না? সেদিন রাতের কথা মনে পড়তেই আবার মাথায় আগুন ধরে গেল আমার… আমার যে আর কোন উপায় ছিল না। ওদের যে আমার খুঁজে বের করতেই হবে…মেয়েটার স্মৃতি ঘাঁটতে থাকি আমি…দেখি কি পাওয়া যায়.. অনেক ঠান্ডা…কিন্তু কেন যেন শীত লাগছে না নাবিলার…সময় বোধহয় এখানে থমকে থাকে। নাবিলা প্রথম থেকেই জানে না ও কতদিন এখানে আছে…কখনো মনে হয় এক মুহূর্ত…কখনো মনে হয় সারাজীবন…এখানে নাবিলা কখনোই একা না…আবার ও প্রচন্ড একা…এখানে চারিদিকে কেবল রঙের ছড়াছড়ি তবুও কেন যেন সবকিছুই সাদাকালো… বোধহয় ছবির জগতে প্রবেশ করার ঠিক আগের চিন্তাটাই সারাজীবন গেঁথে থাকে ওদের সবার মাথায়। নাহলে নাবিলার চোখে বারবার রিমনের চেহারা ভাসবে কেন? “সারাজীবন” শব্দটা বোধহয় ঠিক হল না…শব্দটা বোধহয় হবে “অনন্তকাল…” -Amin-Al-Maksud


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাবিলা (শায়লা গল্পের দ্বিতীয় খন্ড) শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now