বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কেন?
বাবা মারা গেছেন ।
সেকি !
আমি বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলাম । মজিদ বলল, এত অবাক হচ্ছিস কেন?
বুড়ো হয়েছে মারা গেছে। কিছুদিন পর আর বোনকেও টাকা পাঠাতে হবে না ।
সে ও কি মারা যাচ্ছে?
না । তার ছেলে পাস করে গেছে । বি এ পাস করেছে । চাকরিবাকরি কিছু পেয়ে যাবে।
তুই চাস না তোর একটা গতি হোক?
আরে দূর দূর । ভালোই তো আছি ।
মজিদ হাই তুলল। আমি বললাম ভাত খেয়েছিস?
না , চল খেয়ে আসি ।
রাস্তায় নেমেই মজিদ বলল, বিয়েবাড়ি ু টাড়ি কিছু পাওয়া যায় কি না খুঁজে দেখবি? বিরিয়ানি খেতে ইচ্ছে করছে।
আমি বললাম, বিয়েবাড়ি খুঁজতে হবে না । চল পুরনো ঢাকায় নিয়ে গিয়ে তোকে বিরিয়ানি খাওয়াব। টাকা আছে।
আবার এতদূর যাব? আজ ছুটির দিন ছিল। একটু হাঁটলেই বিয়েবাড়ি পেয়ে তোকে বিরিয়ানি খাওয়াব। টাকা আছে।
তুই কি একটা বিয়ে করবি নাকি?
আমি? আরে দূর দূর । বিয়ে করা মানে শতকে যন্ত্রণা। শতকে দায়িত্ব ভালো লাগে না ।
সিগারেট খাবি?
মজিদ হ্যাঁ-না কিছুই বলল না । দিলে খাবে । না দিলে খাবে না ।
আমি রাস্তার মোড়ের দোকান থেকে সিগারেট কিনলাম । মজিদ নির্লিপ্ত ভঙিতে টানছে । আমি বললাম, তুই দিন দিন কী হয়ে যাচ্ছিস বল তো?
কী হচ্ছি?
গাছ হয়ে যাচ্ছিস ।
সত্যি সত্যি গাছ হতে পারলে ভালোই হত।
আমরা রিকশার খোঁজে বড়রাস্তা পযর্ন্ত চলে এলাম। রিকশা আছে তবে ওরা কেউ পুরনো ঢাকার দিকে যাবে না । দূরের ট্রিপে ওদের ক্ষতি । কাছের ট্রিপে পয়সা বেশি, পরিশ্রম ও কম। এতকিছু মাথায় ঢুকবে না এ রকম বোকা এক জন রিকশাঅলার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
মজিদ।
বল।
তুই দেখ রিকশা পাস কিনা । আমি চট করে একটা টেলিফোন করে আসি।
আচ্ছা ।
আমি টেলিফোন করতে ঢুকলাম তরঙ্গিণী নামের ষ্টেশনারী দোকানে।
আজকাল চমৎকার সব দোকান হয়েছে । এদের নামও যেমন সুন্দর ,সাজসজ্জাও সুন্দর। আমাকে দেখেই দোকানের সেলসম্যান-জামান এগিয়ে এল। এই ছেলের বয়স অল্প। সুন্দর চেহারা । একদিন দেখি দোকানে আর আসছে না। মাস দু এক পরে আবার এসে উপস্থিত- সমস্ত মুখভরতি বসন্তের দাগ। ব্যাপারটা বিস্ময়কর,কারণ পৃথিবী থেকে বসন্ত উঠে গেছে। এই ছেলে সেই বসন্ত পেল কী করে? সবসময় ভাবি জিজ্ঞেস করব, জিজ্ঞেস করা হয়ে ওঠে না । তার মূখে দাগ হবার পর তার ব্যবহার খুব ভালো হয়েছে। আগে খুব খারাপ ব্যবহার ছিল ।
জামান হাসি মূখে বলল, স্যার ভালো আছেন?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now