বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রায় দশদিন পর আস্তানায় ফিরলাম।
আস্তানা মানে মজিদের মেস–দি নিউ বোর্ডিং হাউস।
মজিদ ঐ বোর্ডিং হাউসে দীর্ঘদিন ধরে আছে। কলেজে যখন পড়তে আসে তখন এই অন্ধ গহ্বর খুঁজে বের করে। নামমাত্র ভাড়ায় একটা ঘর। সেই ঘরে একটা চৌকি, একটা টেবিল। চেয়ারের ব্যবস্থা নেই কারণ চেয়ার পাতার জায়গা নেই।
মজিদের চৌকিতে একটা শীতল পাটি শীত-গ্রীষ্ম সবসময় পাতা থাকে। মশারিও খাটানো থাকে। প্রতিদিন মশারি তোলা এবং মশারি ফেলার সময় মজিদের নেই। তাকে সকাল থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত নানান ধান্ধায় ঘুরতে হয়, প্রতিমাসে তিনটি মানি অর্ডার করতে হয়। একটা দেশের বাড়িতে, একটা তার বিধাব বড়বোনের কাছে এবং তৃতীয়টি আবু কালাম বলে এক ভদ্রলোককে। এই ভদ্রলোক মজিদের কোনো আত্নীয় নন। তাকে প্রতিমাসে কেন টাকা পাঠাতে হয় তা মজিদ কখনো বলে নি। জিজ্ঞেস করলে হাসে। এইসব রহস্যের কারণেই মজিদকে আমার বেশ পছন্দ। আমাকে মজিদের পছন্দ কিনা জানি না। সে মানুষের সঙ্গে সম্পূর্ণ অন্যগ্রহ নিয়ে মেশে। কোনোকিছুতেই অবাক বা বিস্ময় প্রকাশ করে না। সম্ভবত শৈশবেই তার বিস্মিত হবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে।
ইউনিভার্সিটিতে পড়বার সময় তাকে একবার একটা ম্যাজিক শো দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ডাচ এক জাদুকর জার্মান কালচারাল সেন্টারে জাদু দেখাচ্ছেন । বিস্ময়কর কান্ডকারখানা একের পর এক ঘটে যাচ্ছে। একসময়ে তিনি তাঁর সুন্দীর স্ত্রীকে করাত দিয়ে কেটে দুই টুকরা করে ফেললেন। ভয়াবহ ব্যাপার । মহিলা দর্শকরা ভয়ে উুঁ উুঁ জাতীয় শব্দ করছে তাকিয়ে দেখি মজিদ ঘুমিয়ে পড়েছে । ক্ষীণ নাকতাকার শব্দও আসছে । আমি চিমটি কেটে তার ঘুম ভাঙলাম।
সে বলল,কী হয়েছে? আমি বললাম , করাত দিয়ে মানুষ কাটা হচ্ছে।
মজিদ হাই তুলে বলল, ও আচ্ছা।
সে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইল। অথচ আমি অনেক ঝামেলা করে দুইটা টিকিট জোগাড় করেছি যাতে একবার অনন্ত সে বিস্মিত হয় । আমার ধারণা তাজমহলের সামনেও যদি তাকে নিয়ে যাওয়া সে হাই চাপতে চাপতে বলবে ও এইটাই তাজমহল। ভালোই তো। মন্দ কী ।
মজিদকে আমার একবার তাজমহল দোখানোর ইচ্ছা । শুধু দেখার জন্য-সত্যি সত্যি সে কী করে । বা আসলেই সে কিছু করে কি-না।
দশদিন পর মজিদের সঙ্গে আমার দেখা-সে একবার মাত্র মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। তারপর পত্রিকা পড়তে লাগল। বছরখানেক আগের বাসি একটা ম্যাগাজিন।একবার জিজ্ঞেস ও করল না, আমার খবর কী । আমি কেমন। এতদিন কোথায় ছিলাম।
আমি বললাম , তোর খবর কিরে মজিদ ?
মজিদ এই প্রশ্নের উত্তর দিল না। অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রশ্নের উত্তর সে দেয় না ।
তোর আজ টিউশনি নেই? ঘরে বসে আছিস যে?
আজ শুক্রবার ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now