বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুপথ-০৪

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "মৃত্যুপথ" নাজিম-উদ-দৌলা ----------------- (পর্ব ৪) “রাউন্ড ফোর” বদি মেকানিকের দিন কাল ভাল যাচ্ছেনা। হঠাৎ করে তার আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে। বদি অনেক ভেবে চিন্তে এই দুরবস্থার একটা সম্ভাব্য কারণ উদ্ঘাটন করতে সমর্থ হয়েছে। এলাকার সমস্ত লোকজন সম্ভবত বিরাট বড়লোক হয়ে গেছে! নষ্ট ইলেকট্রনিক সামগ্রী এখন আর কেউ মেরামত না করিয়ে নতুন জিনিস কিনে ফেলে! এছাড়া আর কিছু মাথা খেলছে না তার। মাঝে মধ্যে মানুষের বাড়ি গিয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ সমস্যা ঠিক করার কাজটাই এখন তার রুজি রুটির ভরসা। নইলে পেট চালাতে ভিক্ষা ভিন্ন অন্য কোন পথ খোলা থাকবে না। “হে খোদা! তুমি ঠাডা ফালাইয়া সব বাড়ির কারেন্টের লাইন নষ্ট কইরা দেও। তাইলে যদি গরীবের পেটে একটু দানাপাতির ব্যবস্থা হয়!” আজ দোকানের কাছেই একটা বাড়ির তিনতলার ডান পাশের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ঠিক ঠাক করার কাজ মিলেছে। নতুন ভাড়াটিয়া উঠেছে ফ্ল্যাটে। লোকটাকে পয়সা ওয়ালা পাবলিক মনে হল। বদির চেহারায় উৎফুল্ল ভাব। ভাল মজুরি পাওয়া যাবে মনে হচ্ছে! ফ্ল্যাটের কলিং বেল চাপতেই ফ্ল্যাটের মালিক দরজা খুলে দিল। মুখে অমায়িক হাসি। “আসুন, ড্রয়িং রুমের ফ্যানের লাইনটা কাজ করছে না। কি সমস্যা একটু দেখে দিন”। বদি ফ্ল্যাটের ভেতর ঢুকল। সমস্ত ফ্ল্যাট খালি দেখে অবাক হল। “স্যার, বাসা তো পুরা খালি! মালপত্র কই?” ফ্ল্যাটের মালিক বলল, “মাত্রই তো নিলাম। আগে একটু ঠিক ঠাক করে নেই, তারপর ধীরে সুস্থে মালামাল আনা যাবে”! বদি ড্রইং রুমে ঢুকল। স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে নাট গুলো খুলে বিদ্যুতের বোর্ডটা খুলে আনল। ভেতরে অনেক ধুলা জমে আছে। “স্যার, মুছার মত কিছু আছে? ভীতরে অনেক ধুলা বালি জইমা কারেন্টের লাইন জাম কইরা দিছে মনে হয়”। “না, মুছার জন্য তো কিছু নেই... দাঁড়ান...” বলে পকেটে হাত দিল ফ্ল্যাটের মালিক। একটা কাগজ বের করে আনল। “এইটা কাজে লাগাতে পারেন কিনা দেখেন”। কাগজটা হাতে নিল বদি। বলল, “কাপড় হইলে ভাল হইত”। “কাপড় তো নাই ভাই। এখনও কিছু আনিনি”। “এইটা কি কোন দরকারি কাগজ? পকেটে ছিল যে”! “তেমন দরকারি না, তবে আপনার আর আমার জন্য খুব দরকারি”। বদি অবাক হল, “এইটা আমার জন্য দরকারি হইতে যাইব ক্যান?” “ওমা! এইটা ছাড়া তো ধুলা মোছার আর কিছু নাই। তাহলে এইটা আপনার জন্য দরকারি না?” বদি কতক্ষণ হে হে করে হাসল। “স্যার, আপনি মজার মানুষ”। বদি কাগজটা কাজে লাগিয়ে ধুলা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করল। খুব একটা সুবিধে করতে পারছে না, মাঝে মাঝে ফুঁ দিতে হচ্ছে। এক ফাঁকে প্রশ্ন করল, “আপনার নামটা কি জানতে পারি স্যার?” “কেন নয়? আমার নাম মাহতাব চৌধুরী। আপনার?” “আমার নাম বদিউজ্জামান”। “ভাল নাম রেখেছেন”। “নাম আমি রাখতে যামু ক্যামনে? বাবা মায় রাখছে”। “ঐ তো। আমি ওনাদের কথাই বললাম, ছেলের জন্য ভাল নাম রেখেছেন তারা। তো আপনার দিন কাল কেমন যাচ্ছে বদিউজ্জামান?” ধুলা পরিষ্কারের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলছে বদি, “বেশি সুবিধার যাইতেছে না স্যার... মানুষ জন সব কিপটা হইয়া গেছে... নষ্ট জিনিস আর ঠিক করায় না... আমার আয় ইনকাম কইমা শূন্যের গোঁড়ায়... এক্কেরে পেটে পিঠে লাইগা যাওয়ার অবস্থা... মানুষ জন সব কি...” কথা শেষ করার সুযোগ পায়নি বদি। পিস্তলের বাটের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ল তার দেহ। বদির জ্ঞান ফিরতে মনে হচ্ছে সময় লাগবে, এই ফাঁকে আসুন দেখে আসি মাহতাবের পকেট থেকে বের হওয়া সেই পেপার কাটিংটা আসলে কেন গুরুত্বপূর্ণ! নরসিংদীতে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ পিতাকে পান খাইয়ে অচেতন করে ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেছে রফিক নামের এক পান দোকানদার। সোমবার দুপুরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত পান দোকানী রফিককে (৩০) আটক করে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের নিকট সোপর্দ করার চেষ্টা করতে গেলে সে পালিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। ভৈরব রেলওয়ে থানার এস.আই রফিক ও স্থানীয় লোকজন জানান, বিক্রমপুর জেলার বালুচর গ্রামের এক ব্যক্তি (নজরুল ইসলাম) তার অসুস্থ স্ত্রীর অপারেশনের (পা কেটে ফেলতে হবে) জন্য মানুষের নিকট থেকে সহযোগিতা চাইতে রাস্তায় নামেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি তার ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে ট্রেনে ঘোড়াশাল রেলস্টেশনে এসে নামেন। এসময় স্টেশনের প্ল্যাটফরমের উপর ভাসমান পান দোকানী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বলরদী গ্রামের আ: বারিকের ছেলে মো: রফিকের (৩০) সাথে গল্প শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে পান দোকানী রফিক ওই ব্যক্তিকে পানে বেশি পরিমাণ জর্দা দিয়ে পান খাইতে দেন। পান খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকটি অচেতন হয়ে পড়ে গেলে রফিক তার ৬ বছরের মেয়েকে ফুসলিয়ে স্টেশনের নির্জনস্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করে । কান্নার আওয়াজ পেয়ে এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে রফিক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে এসে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের এস.আই রফিকুল ইসলাম ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। শিশুটি টানা ছয় ঘণ্টা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানে। জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে সম্পূর্ণ দিগম্বর অবস্থায় আবিষ্কার করল বদি। তার দুই হাত মোটা দড়ি দিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে শক্ত বাঁধা। পা দুটোও একই রকম দড়ি দিয়ে একসাথে বাঁধা আছে। চিৎকার করতে গিয়েও নিজেকে থামাল সে। মাহতাব লোকটার হাতে ধরে থাকা পিস্তলের দিকে নজর পড়েছে তার। “কেমন লাগছে বদিউজ্জামান? নাকি রফিক নামে ডাকব তোমায়?” মাহতাব বিদ্রূপের সুরে প্রশ্ন করল। মুহূর্তের মাঝে পাঁচ বছরের পুরনো অতীত ফিরে এলো রফিকের চোখের সামনে। সেই দিন রেলওয়ে স্টেশন থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরার সাহস হয়নি তার। স্টেশনের অনেকেই তাকে চেনে। লুকিয়ে ঢাকায় পালিয়ে এসে গা ঢাকা দেয়। ভাগ্যের সন্ধানে কিছু দিন এখানে ওখানে ঘুরে একসময় জামাল উস্তাদের কাছে আশ্রয় পায়। তার কাছ থেকেই মেনাকিনের কাজ শেখে বদি। এভাবেই পানের দোকানদার রফিকের বদি মেকানিক হয়ে ওঠা! “কোথায় হারিয়ে গেলে রফিক? কিছুতো বল! তবে চিৎকার করার চিন্তা ভুলেও মাথায় এনোনা”! রফিক একটা ঢোক গিলে বলল, “কে আপনে? আমারে আপনে বাইন্ধা রাখছেন ক্যান? আর আমার কাপড় খুলছেন ক্যান?” “সেটা একটু পরেই টের পাবে, আগে বল তোমার নাম রফিক কিনা”! “জি না! আমার নাম রফিক না, আমি বদি”। “ওমা! নিজের বাপ মায়ের দেয়া নাম ভুলে গেছ? পাঁচ বছর আগের রেল স্টেশনের ঘটনা তো আর ভুলে যাও নি”! “কোন ঘটনার কথা বলতেছেন? আমি কিছুই বুঝতেছি না”। “এক্ষুনি বুঝতে পারবে...” বলে পকেট থেকে একটা ছুরি বের করল মাহতাব। আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করে বলল, “বাহ! বেশ ধার আছে দেখছি”! প্রচণ্ড আতংক গ্রাস করল রফিক কে। তোতলাতে শুরু করল, “আ... আমি পাপ করছি, অন্যায় কইরা ফেলছি। মাফ করে দেন আমারে”! মাহতাব বদির মুখে একটা টেপ লাগিয়ে দিল যেন চিৎকার করতে না পারে। তারপর এক হাত বাড়িয়ে বদির পুরুষাঙ্গ ধরল, অন্য হাতে ছুরি প্রস্তুত। বলল, “বাচ্চা মেয়েটা তোমার কাছ থেকে মাফ পায়নি রফিক! আমি হয়ত মাফ করে দিতাম, কিন্তু অদৃষ্ট সে পথ খোলা রাখেনি”। কাজ টা করতে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড সময় লাগল মাহতাবের। সমস্ত শক্তি এক করে একটানা চিৎকার করে চলল রফিক। মুখ আটকানো থাকায় সেই চিৎকার রুমের বাইরে যাচ্ছেনা। মিনিট খানেক টানা চিৎকার করে অসহ্য ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে জ্ঞান হারিয়ে ঝুলে পড়ল। জানালার গ্রিলে হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলে আছে আরব্য রজনীর সেই খোঁজা চাকরদের মত পুরুষাঙ্গ হারানো এক যুবকের অজ্ঞান দেহ। দুই পা বেয়ে নামা রক্তে ভেসে যাচ্ছে ড্রয়িং রুমের ফ্লোর। দরজা আটকে দিয়ে বেরিয়ে এলো মাহতাব। গুলি খরচ করার প্রয়োজন হবেনা। রক্তক্ষরণেই মরবে রফিক। যেমন মরেছিল ছয় বছরের ছোট্ট শিশুটি। (শেষ পর্ব আজকেই দেওয়া হবে) ----------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মৃত্যুপথ-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now