বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃন্ম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মৃন্ম ১ -- মামা, শাহবাগের মোড় যাবা? --পঁচিশ টাকা। রিকশাওয়ালা টিএসসি থেকে শাহবাগ যেতে পঁচিশ টাকা ভাড়া কেমনে চায় বুঝল না আসিফ। মাথা অন্য দিকে ঘুড়িয়ে হাঁটা শুরু করল আসিফ। দশ টাকার ভাড়া পনের হতে পারে তাই বলে পঁচিশ? পকেটে আছেই বিশ টাকা। সাধারণত টিএসসিতে আড্ডার পরে আসিফ হেঁটে শাহবাগ পর্যন্ত এসে তারপর বাসে করে মিরপুর যায়। বর্তমানে সে বাসে উঠলেও হয় ইটিসিতে নাহলে সেফটিতে উঠে। স্টুডেন্ট ভাড়া নিতে তেমন ঝামেলা করে না। অন্য বাসে উঠা মানেই ঝামেলা। মাঝে মাঝে আসিফের মনে হয় মিরপুরের বেকার ছেলেপেলেরা টিকেই আছে সেফটি আর ইটিসি বাসের জন্য। হাঁটতে হাঁটতে পা প্রচন্ড ব্যাথা করছে আসিফের। এই মুহূর্তে সে আছে ঠিক চারুকলার সামনে। পৃথিবীটা যেন পেন্ডুলামের মত দুলছে। প্রত্যেকটা পা দিচ্ছে আর মনে হচ্ছে রাস্তার ভেতর পা ডেবে যাচ্ছে। আজকে অনেক হাঁটা হয়েছে। মিরপুর এক নম্বর থেকে শুরু করে ছয় পর্যন্ত বাসার জন্য দৌড়াদৌড়ি। আগের বাড়িওয়ালা আর ব্যাচেলর ভাড়া দিবে না। নতুন বাসা খুঁজে পাওয়াও অনেক কঠিন একটা কাজ। আজকে যতগুলা টু-লেট লাগানো বাসায় গিয়েছে সব জায়গাতেই ব্যাচলর শোনা মাত্রই বাড়িওয়ালা মুখের উপর প্রায় দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে আসিফের মনে হয় সরকার যদি সব ব্যাচেলরদের গণবিয়ের ব্যবস্থা করে দিত খুব একটা খারাপ হত না। হাঁটতে হাঁটতে আসিফ একদম শাহবাগের মোড়ে চলে এসেছে। হঠাত করে একটি মেয়েলি কন্ঠে ডাক এল, “আসিফ ভাইয়া, কেমন আছেন।” আসিফ নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল। হঠাত মেয়েলি ডাকে মাথা এদিক সেদিক ঘুড়িয়ে দেখতে লাগল। মেয়েদের সাথে আসিফের তেমন কোন সখ্যতা কখনই ছিল না। এখন হুট করেই থিয়েটারে যোগ দিয়েছে আসিফ। তাও মেয়েদের সাথে কথা বলতে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। মফস্বলের বাঁধাধরা নিয়ম কানুনের মধ্যে অনেক দিন থেকে থেকে মেয়েদের সাথে ঠিক ভালভাবে মিশতে না পারার এই বদ অভ্যাসটা ছেলেটা দূর করতেই পারছে না। আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল কোন মেয়ের সাথে কথা বললে ঠিক কি নিয়ে কথা বলবে এটাই বুঝতে পারে না ছেলেটা। এমনকি দুই একটা কথা বলার পর কথা বলারই টপিক খুঁজে পায় না। আসিফ মাথা নিচ থেকে তুলে দেখল নীলা দাঁড়িয়ে আছে বাসের জন্য। -- এইতো ভালই। এক্সাম কেমন দিলা? হুট করে বেকুবের মত এই প্রশ্ন করে বসল আসিফ! নীলা হাসতে শুরু করল। -- ভাল ভাইয়া। নীলার হাসি দেখে পুরোই অপ্রস্তত হয়ে গেল আসিফ। হঠাত করেই বাস চলে আসাতে নীলা বলল, “ভাইয়া আসি। পরে কথা হবে। ভাল থাকবেন।” নীলা হুড়মুড় করে বাসে উঠে গেল। আসিফ মনে মনে আল্লাহকে অনেক থেঙ্কস দিতে গেল! কেমন আছে জিজ্ঞাসা না করেই বেকুবের মত জিজ্ঞাসা করে বসল কেমন দিয়েছে এক্সাম? কি হাস্যকর। কি হাস্যকর! নীলা মনে হয় হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছে। আসিফ মোটামোটি নিশ্চিত নীলা না হাসলেও তার পাশে থাকা হস্তিনী সদৃশ বান্ধুবীটা হাসছে। শুধু তাই না, খুব সম্ভবত আজকে রসিয়ে রসিয়ে সবাইকে এই গল্প শুনিয়ে বেড়াবে। আসিফকে কে যেন কয়েকদিন আগে বলেছিল মৃদুলার রিলেশন ব্রেক আপ হয়েছে কয়েক মাস আগে। অথচ মেয়েটা প্রেম করত তারই এক বন্ধুর সাথে। প্রেম ভালবাসা বিষয়ে বরাবরই নিরামিষ থাকা আসিফের এসব খবরে তেমন কোন আগ্রহ কোন কালেই ছিল না। এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দেয়। তবে বন্ধুদের আলোচনায় কোন মেয়ে কি রকম সেটা না চাইলেও শুনতে হয়। ছেলেদের আলোচনায় নারী আসবে না এটা কোন কথা না। -- শিট ম্যান। আসিফ চিৎকার করে উঠে। এক পাগলা বাইকওয়ালা উল্কার বেগে বাইক চালিয়ে তার ডান হাতে বাইকের মিরর লাগিয়ে চলে যায়। আসিফ ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে। হাত অনেকটা ছিড়ে গেছে। আসিফ রাস্তায় পড়ে আছে। চোখ তুলে তাকিয়ে দেখতে পেল তার আশেপাশে একটা ছোটখাট জটলা হয়ে গেছে। আসিফ উঠে দাঁড়ায়। দৌড়ে সামনে প্রায় স্টার্ট নেওয়া একটা ইটিসি বাসে উঠে পড়ে। ২ নীলা ফেসবুকের সামনে বসে আছে। আসিফের সাথে দেখা হওয়ার দুইদিন পার হয়ে গেল। আসিফকে নক দিতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু নীলার মন খুবই খারাপ। তাই হুট করেই নক দিয়ে বসল। নীলাঃ কি খবর ভাইয়া? কি করেন? গল্প লেখার সময় কেউ ডিস্টার্ব করলে আসিফের মেজাজ খুবই খারাপ হয়ে যায়। আসিফঃ এইতো ভাল। গল্প লেখছি অনেক দিন পর। আসিফ ও নীলার কথা চলতে থাকে। ইদানিং বিসিএস এর পড়া পড়তে পড়তে ক্লান্ত আসিফ। ইঞ্জিনিয়াররাই যেখানে বেকার সেখানে বিবিএ পড়ে লাভ কি হল আসিফ বুঝতে পারছে না। তার ধারণা শুধু শুধু চার বছর পড়া লেখা না করে ছোট খাট ব্যবসা করলেও এতদিনে সে দাঁড়িয়ে যেতে পারত। অবশ্য ব্যবসার ধারণা আসিফের মাঝে মাঝেই আসে। টাকা পয়সার ক্রাইসিস চূড়ান্ত হলে এ ধরণের উদ্ভট ধারণা হয়। একটামাত্র টিউশনির টাকা দিয়ে চলছে না। সব কিছুর দামই বাড়ছে হু হু করে। ৩ আসিফ ও নীলা এই মূহুর্তে বসে আছে একটি রেস্টুরেন্টে। পরশুদিন নীলা তাকে ধুম করে প্রপোজ করে বসল। যদিও নীলাকে সে পছন্দ করত কিন্তু আসিফের বর্তমান যা অবস্থা তাতে তার পক্ষে প্রেম করা সম্ভব না। নীলা প্রপোজ করার সময় কাঁদছিল। সব সহ্য করা গেলেও নীলার চোখের পানি কেন যেন আসিফের সহ্য হত না। তারপর থেকে শুরু হয় আসিফ নীলার প্রেমের গল্প। মধ্যবিত্ত প্রেমের গল্প। কি সুন্দর! কি পবিত্র। হালের প্রেমিক প্রেমিকাদের মত তাদের রেস্টুরেন্টে বসে সব সময় গল্প করা হয় না। কারণটা অবশ্যই টাকার অভাব। ফুসকা খেয়ে ধানমন্ডির লেকে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা দিত দুজন! হয়ত ক্যাম্পাসের আশেপাশে বসেই গল্প করত তারা দুইজন। টিএসসি থেকে কার্জনের পুকুর… সব জায়গায় তাদের অবাধ বিচরণ। প্রচন্ড গরমে রেস্টুরেন্টে বসলে হয়ত একটা কফি দুইজন শেয়ার করে খেত। – এই শোন, আমাদের না মেয়ে হবে। মেয়ে হলে নাম রাখব মৃন্ম। আসিফ গম্ভীর হয়ে বলে, এটা হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের মৃন্ময়ী থেকে মৃন্ম? নীলা আসিফের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। তাদের খুনসুটি চলে অবিরাম। সময় কাটতে থাকে হু হু করে। এক বছর কেটে যায়। নীলার গ্র্যাজুয়েশনও শেষ হয়ে যায়। আসিফ একটা যায়গায় চাকরীতে ঢুকেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর চাকরীটা ছেড়ে দেয়। গাধার খাটনি খাটাচ্ছিল কিন্তু সেই হিসেবে বেতন দেয় না। এর মধ্যে ঘটে যায় একটা দূর্ঘটনা। আসিফের সাথে নীলার একদিন প্রচন্ড ঝগড়া হয়। সেদিন বাসায় আসিফ একা ছিল। তার মা বাবা দুইজনই ঢাকার বাইরে। ঝগড়া ভাঙ্গানোর জন্য নীলা আসিফের বাসায় চলে আসে। বাসায় আসার পর কি থেকে কি হয়ে যায় তাদের কেউ জানে না। হয়ত তাদের একদমই ইচ্ছে ছিল না কিন্তু তারপরেও! কিংবা আসিফ জীবনে প্রথম কোন মেয়ের সংস্পর্শে এসেছে বলে! বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল মুষলধারে! ৪ আসিফ ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিল। চাকরীর জন্য ধরনা দেওয়া তার ডেইলি রুটিন হয়ে গেছে। এদিকে নীলার বিয়ের জন্য তার বাসা থেকে প্রেসার দিচ্ছে। নীলা অনেক কষ্টে বিয়ে আটকে রেখেছে। জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংবাদটি সেদিন শুনে আসিফ! নীলার শরীর খারাপ ছিল। কিছু একটা সন্দেহ তাদের হচ্ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত! আসিফ আর ভাবতে পারে না। কেন সেদিন নীলা তার বাসায় এসেছিল? কেন আসিফ নিজেকে আটকাতে পারল না? পরের দিনগুলো উল্কার মত পার হতে লাগল। সমাজের দেয়াল ভাঙ্গা আসিফের পক্ষে সম্ভব হয় না। অ্যাবোরশন করানোটাই ছিল বোধ হয় একমাত্র সমাধান! হসপিটালে নীলাকে যখন অজ্ঞান করানো হবে ঠিক তখন নীলা আসিফের হাত রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমার বাচ্চাটাকে আমি মেরে ফেলছি তাই না? আমার মৃন্মকে আমি মেরে ফেলছি।” আসিফ কিছু বলতে পারে না। নার্স এসে আসিফকে সড়িয়ে দেয়। অপারেশনের পর আসিফ অজ্ঞান হয়ে থাকা নীলার দিকে তাকিয়ে থাকে। কষ্টের নীল রঙ্গে রাঙ্গানো নীলা। ৫ মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা ঘটে যা সে না চাইলেও ঘটে। কিছুই করার নেই। অ্যাবোরশনের পর থেকে নীলা কিরকম অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে। প্রায়ই আনমনা হয়ে যায়। এদিকে বাসা থেকে বিয়ের প্রেসার আসতেই থাকে। আসিফের সাথে দেখাও কমে যায়। চাকরীর জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুড়তে ঘুড়তে ক্লান্ত হয়ে প্রতিদিন বাসায় আসে আসিফ। কিভাবে বিয়ে করবে বুঝতে পারে না। মাঝে মাঝে নীলাকে পালিয়ে আসতে বলতে চায়। আসিফকে নীলা অনেক অনেক ভালবাসে কিন্তু যেই বাবা মা নীলাকে বড় করেছেন তাদের ছেড়ে কিভাবে আসবে নীলা? আসিফই বা কি পড়ালেখা করেছে যে একটা চাকরী যোগাড় হচ্ছে না? ৬ নীলার বিয়ে হয়েছে পনের দিনের মত। ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট। নীলার উপর আসিফের কোন রাগ নেই। বরং আসিফের সাথে থাকলে মেয়েটা কষ্টেই থাকত! গত কয়েকমাসে যারা আসিফকে দেখেছে কেউ বলবে না সুস্থ! আসিফের নিজেরও ধারণা সে পাগল হয়ে যাচ্ছে। তা না হলে এই ভ্যাপসা গরমে রাত দুইটার দিকে ঢাকা শহরে কেউ উদ্ভ্রান্তের মত হাঁটে না। কত অদ্ভুত চিন্তা ঘুড়ছে আসিফের মাথায়। সে নীলাকে কতটুকু ভালবাসত? যদি ১০০ এর মধ্যে নাম্বার দেওয়া হয় তাহলে? নীলাকে সে ৫০ ভাগ ভালবাসত! বাকি ৫০ ভাগ তার মৃন্মকে। সেই মৃন্মকে সে মেরে ফেলল? ভাবতে ভাবতে নিজের দুই পায়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটা ইটের টুকরার উপর পড়ল আসিফ। কপালটা অনেকটুকু কেটে গেছে। এই মূহুর্তে সে হাঁটছে শাহবাগের রাস্তা ধরে। নির্জন, নিশ্চুপ। বহুদিন আগে এমনি এক রাস্তায় নীলার সাথে দেখা হয়েছিল আসিফের। আহা! সেই দিনগুলো! কপাল থেকে রক্তের বন্যা বইছে। আসিফের সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। সে আবার হাঁটা শুরু করেছে। আসিফ কোথায় যেন পড়েছিল পৃথিবীতে কোন খারাপ বাবা নেই। কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসিফের মত খারাপ বাবা পৃথিবীতে কখনও আসে নি। কোনদিন আসবেও না। আসিফ যে মানুষ হিসেবে খুব খারাপ তাই না সে লেখক হিসেবেও খারাপ। আসলে সে কিছুই লিখতে পারে নি কখনও! শুধু মাত্র নিজের জীবনের সব হতাশাকে ইনিয়ে বিনিয়ে গল্পের মধ্যে লিখে গেছে। আসিফের হাঁটতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। চোখের সামনে লাল রঙ ছাড়া কিছু দেখতে পাচ্ছে না। তার খুব ইচ্ছে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রচন্ড অভিশাপ দিবে। কিন্তু কাকে অভিশাপ দিবে? হঠাত করেই ঠান্ডা লাগছে তার। এমন সময় ছোট্ট একটা মেয়ে ডেকে উঠল- “বাবা, এই বাবা! বাবা!” আসিফ এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। কোথাও কেউ নেই। তার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে। কোন রকমে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে ফ্যালফ্যাল করে কেঁদে দিল। দিনের পর দিন না খেয়ে থেকেছে, মাইলের পর মাইল হেঁটে গেছে, একের পর এক ব্যর্থ হয়েছে, জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার অন্যের সাথে বিয়ে হয়ে যেতে দেখেছে, ডাক্তার তার মৃন্মর ভ্রুণকে নীলার পেট থেকে বের করে বালতিতে ফেলে দিয়েছে। সবকিছু সে সহ্য করে গেছে। কিন্তু আজ? আসিফ রাস্তায় পড়ে যাওয়ার আগে বিড়বিড় করে একটা কথাই বলতে পারল- “মৃন্ম! আমার মৃন্ম!” বৃষ্টি নেমেছে আকাশ ভেঙে! রক্তের স্রোত মুছে পবিত্র হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী… --- তানভীর সাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মৃন্ময়ী
→ মৃন্ম
→ প্রিয় মৃন্ময়ী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now