বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যে কাজটিকে আমি এতদিন প্রচন্ড ঘৃণা করে এসেছি,শেষ পর্যন্ত আমাকে সেই কাজটিই করতে হচ্ছে।
কি করবো?এছাড়া যে আর কোন পথ খোলা নেই আমার।জীবন-মরণের প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানেতো পিছু হটলে চলবে না।
.
আচ্ছা,মা-বাবারা মাঝেমাঝে এমন করেন কেন ?
আমি জানি,তাঁরা যা করেন সন্তানের ভাল চিন্তা করেই করেন।কিন্তু আমার মনে হয়,কিছু কিছু ব্যাপারে অবশ্যই সন্তানের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া উচিত্।কারন জোর করে চাপিয়ে দেয়া কোন কিছুর ফলাফল কখনোই শুভ হয় না।আর বিয়ের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েতো না-ই।
.
ট্রেন ছাড়তে আর বেশী দেরী নেই। কি-যে একটা অবস্থার ভিতর দিয়ে প্রতিটি সেকেন্ড পার হচ্ছে!
মিল্টনের কোন খবরই নেই।হারামী ফোনই ধরে না।
না-কি শালা আমার সুন্দরী বউ নিয়ে নিজেই ভেগে যাচ্ছে কে জানে!
"তাড়াতাড়ি আয় বাপধন,ট্রেন ছেড়ে দিলো বলে!"
এদিকে মৌমির ফোন অফ সেই সন্ধ্যা থেকে।কি যে করি!বসে বসে মাথার চুল ছেঁড়া ছাড়া আর কিচ্ছু করার নেই এখন!
.
মৌমি তার বাবাকে অনেক বুঝিয়েছে,কোন কাজ হয়নি।তাঁর সেই এক কথা, "এই ছেলে তোর যোগ্য না।"
তাঁর কাছে ঐ ভুঁড়িওয়ালা লোকটাই যোগ্য।আমি বুঝি না. . .আমার মত এমন হ্যান্ডসাম, মেদহীন একটা ছেলেকে কিভাবে উনি অপছন্দ করেন?
সত্যি বলছি,মাঝেমাঝে আমি নিজের উপরই ক্রাশ খাই!!
.
মৌমির হবু বরের জন্য আমার খুব দুঃখ হচ্ছে।বেচারা বিয়ের আগের বিধবা হয়ে যাবে!
"সরি ব্রাদার।আমার কোন দোষ নাই।যে মেয়েকে নিয়ে আমি পাঁচ বছর ধরে তিলে তিলে একটা স্বপ্নের পৃথিবী সাজিয়েছি,তাকে কি করে তোমার হাতে তুলে দিই বলো?ঐ লিকলিকে রোগা মেয়েটা ছাড়া যে আমার পুরো পৃথিবিটাই তুচ্ছ।"
.
সামনের মাসেই আমার রেজাল্ট বেরুবে।আশা করি ছোটখাটো হলেও একটা চাকুরী পেয়ে যাবো।তাছাড়া কয়দিন পরই মৌমির অনার্স ফাইনাল।দেখতে দেখতে মাস্টার্সটাও কমপ্লিট হয়ে যাবে। তারপর চাইলে মৌমি নিজেও জব করতে পারবে।খুব সুন্দরভাবে চলে যাবে আমাদের।
আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী,মৌমিও। আমরা জানি,আমরা পারবো।এবং আমার বিশ্বাস,একসময় মৌমির ফ্যামিলি আমাদের মেনে নেবে।
.
মৌমির বাবা মানুষটা খারাপ না।ভদ্রলোক সরকারী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।ইয়া বড় এক ভূড়ি তাঁর।তাই বুঝি হবু জামাইটাও পছন্দ করেছেন ভূড়িওয়ালা দেখে!
কি আর করা?যার যেমন পছন্দ।
কিন্তু আমিতো আমার বৌকে ঐ ভূড়িওয়ালার হাতে তুলে দিতে পারি না।ভূড়িওয়ালা ছেলে মৌমি একদম পছন্দ করে না!!
.
মাঝেমাঝে একটা বিষয় ভেবে আমি অবাক হই।কি করে মা-বাবা ভালোর কথা বলে ছেলে মেয়েদের ইচ্ছের বিরুদ্ধ বিয়ে দেন?আরে বস. . .যাকে আমি মন থেকে মেনেই নিতে পারলাম না,তার সাথে কিভাবে সারাটা জীবন কাটাবো?ঐটা তো সংসার হবে না,হবে একটা দোযখ। ঐটা ঘর হবে না,হবে কারাগার।
হ্যাঁ,এটাও ঠিক যে আমরা ভালবেসে বিয়ে করলেই সুখি হবো এর কোন নিশ্চয়তা নেই।তবে একটা সান্ত্বনাতো পাওয়া যাবে। মনকে বুঝানো যাবে যে,আমরা একদিন ভালবেসেছিলাম।ভালবেসে ঘর বেঁধেছিলাম।কিন্তু যাকে কখনো ভালই বাসিনি,তার ক্ষেত্রে সান্ত্বনার কি কোন জায়গা আছে?
.
ঐতো মিল্টনকে দেখা যাচ্ছে,পাশে মৌমি।শালা দেখি আমার বৌয়ের হাত ধরে টানাটানি করছে!
আহারে. . .মেয়েটার এ-কি অবস্থা! ঘামে ভিজে একেবারে গোসল করে ফেলেছে।
এই প্লাটফর্মটা এত বড় কেন বুঝলাম না!কোন বেকুব এত বড় একটা প্লাটফর্ম বানাইছে কে জানে!
.
মিল্টন যে আমার কি উপকার করছে. . .সারা জীবন ঋনী থাকবো ।ওর কাছ থেকে ঠিকমত বিদায়টাও নিতে পারলাম না,ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে ।শার্টের হাতায় কপাল মুছতে মুছতে মিল্টন আমাদের বিদায় জানালো। আর "ভাল থাকিস শালা,ফোন দিস" বলে চেঁচাতে থাকলো।
.
যাক,এখন আর ভয় নেই।কেউ আর আমাদের আটকাতে পারবে না।তবে আসল কাজটা এখনো বাকী।সিলেট পৌঁছেই বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে।মামা বলেছে সব কিছু তৈরি আছে,শুধু আমাদের জন্য অপেক্ষা।ছোট মামা বেশ রসিক মানুষ,সাহসীও বটে। মামার উপর ভরসা করেই-তো এত দূর এসেছি।
.
জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢুকছে,ষোড়শী ফাল্গুনী বাতাস। মৌমির খোলা চুলে ওদের লম্প-জম্প দেখে মনে হচ্ছে,আমাদের ব্যাপারটা ওরা জানে।এদিকে রাতের আকাশটাও দেখছি তারার বাসর সাজিয়ে রেখেছে।
আচ্ছা,সবাই কি আমাদের গোপন খবরটা জেনে গেল না-কি?
.
মৌমি সেই কখন থেকে বাহিরে তাকিয়ে আছে,কোন সাড়া-শব্দ নেই।আমি ওর কাঁধে হাত রাখতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।আমার বোতামখোলা বুকে আশ্রয় খুঁজলো। ওর অবস্থাটা আমি বুঝতে পারছি। কোন মেয়েই এভাবে পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ে করতে চায় না।
আমারও যে খুব একটা ভাল লাগছে তা নয়।কিন্তু কি করবো?এছাড়া আর কি-ই বা করার ছিল? পরিবারের কথা মানতে গেলে-যে আমাদের দু'জনের পথ সম্পুর্ণ ভিন্ন হয়ে যেতো।
.
প্রিয় মানুষের কান্নার অদ্ভুত একটা শক্তি আছে,এটা দ্রুতই আপনাকে ছুঁয়ে ফেলবে।মৌমির কান্না ইতিমধ্যে আমার মাঝেও সংক্রমিত হয়েছে।
ছোট বেলাতেই বাবাকে হারিয়েছি। বুঝ হবার আগেই মা'ও পর হয়ে গেলেন।বড় খালা আমাকে নিজের ছেলের মত মানুষ করেছেন।খালা নিশ্চয় আমার এই ব্যবহারে অনেক কষ্ট পাবেন।ছোট মামা যদিও সব ম্যানেজ করবেন বলেছেন।কিন্তু আমি জানি,খালা ঠিকই কষ্ট পাবেন।
.
এদিকে হঠাত্ করে মৌমির মা-বাবার জন্যও খুব খারাপ লাগছে। তাদের একমাত্র মেয়েকে এভাবে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছি।যত যাই বলি. . .মেয়েকে নিয়ে তাদেরও তো অনেক আশা ছিল ,স্বপ্ন ছিল।তবে তাদের মেয়ে যে মানুষ চিনতে ভুল করেনি,এটা তারা ঠিকই বুঝতে পারবেন একদিন।
আগে বিয়েটা হয়ে যাক।তারপর দু'জনে গিয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাইবো।দরকার হলে পা ধরে পড়ে থাকবো।ক্ষমা না করে যাবে কোথায় !
.
জীবনে অনেক নিশিট্রেন ভ্রমন করেছি।তবে আজকের ব্যাপারটা আলাদা।এই মুহুর্তে কেউ একজন আমার বুকে মাথা লুকিয়ে কাঁদছে ,যাকে আমি প্রচন্ড ভালোবাসি।আমি তার নরম চুলে বিলি কেটে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছি।আর সে পরম বিশ্বাসে আমাকে আরো তীব্রভাবে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাইছে।অদ্ভুত এক ভালোলাগা আমাকে গ্রাস করে ফেলল।
আহ!এই রাতটা যদি আর না ফুরাতো. . .এই জার্নিটা যদি আর কখনোই শেষ না হতো. . .ফাল্গুনী রাতের এই মায়াবী ট্রেনটার "ঝিকঝিক ঝিকঝিক" শব্দ শুনে যদি সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারতাম দু'জনে. .।
- -
লেখা : FA Tarek
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now