বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
Writer-Md. Omar
Part--05
পরদিন সকালে ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে গেলাম,,
গিয়ে দেখি তিনজনে দাড়িয়ে আছে,,,
লামিয়া---আসতে এতক্ষণ লাগে,,?
আমি--উঠেন,
তারপর তারা উঠলে আমি টেক্সি স্টার্ট দিলাম,,
টেক্সটিং তার আপন মনে চলছে,,
আর ওই তিনটা বকবক করে যাচ্ছে,,
তাদের চৌদ্দ গুষ্টির কে কি করেছে ইত্যাদি বলতেছে,,
এদিকে আমার কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে,,
আর সয়তে না পেরে কষে ব্রেক মারলাম,,
হঠাৎ ব্রেক মারায় ওরা ভয় পেয়ে গেল,,
----কি হল এভাবে ব্রেক মারলেন কেন,,?
আমি--এসে গেছি,,
---তাই বলে,,আমরাতো ভয় পেয়ে গেছিলাম,,
আমি--ব্রেক এ জুরে চাপ পড়ে গেছে,,তাই,,সরি
তারপর ওরা নেমে ভাড়া দিয়ে চলে গেল,
আমিও চলে এলাম রাস্তার মাথায়,,
এভাবে ভাড়া মারতে মারতে ছুটির সময় হয়ে গেল,,তাই আর দেরি না করে কলেজের সামনে চলে গেলাম,,,
গিয়ে কিছুক্ষণ বসার পর ওরা চলে এল,,
ওরা গাড়িতে ওঠার পর গাড়ি স্টাট দিলাম,,
---আপনার মোবাইল নাই,,
আমি--না কেন,,?
--না এমনি,,
তারপর ওদের জায়গা মতো নামিয়ে দিয়ে,,
মেসে চলে এলাম,,
৬ মাস পর,,
রাতে বসে বসে জমানো টাকা হিসাবে করে দেখলাম ১০০০০ হয়েছে,,
টাকাগুলো জমিয়ে ছিলাম একটা স্মার্ট ফোন কিনার জন্য,,
আমার অনেক দিনের শখ,,
তারপর টাকা গুলো ব্যাগে রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম,,
পরদিন সকাল ৮.৩০ এ ঘুম থেকে উঠলাম,,
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম
লামিয়াদের পিক আপ করার জন্য,,
ওদের কলেজের সামনে নামিয়ে দিয়ে,,
চলে এলাম মোবাইল এর দোকানের সামনে মোবাইল কিনার জন্য,,,
যখনি ভিতরে ঢুকতে যাবো তখনি দারোয়ান আমাকে আটকায়,,
দা---এই কি চাই,,?
আমি--মোবাইল কিনবো,,
আমার কথা শুনে দারোয়ান হাসতে হাসতে লাগলো,,
আমি--হাসেন কেন,,?
দা--তুর মতো ফকির কিনবে মোবাইল,,তুর গায়ের দিকে একবার দেখেছিস,,
আমি--মুখ সামলে কথা বলেন, আমি টাকা দিয়ে কিনতে এসেছি,,,ফ্রি না,,সরেন,,
দা--দুরে গিয়ে মর তুকে ঢুকতে দেওয়া হবেনা,,দেখে চুরের মতো লাগতেছে,,কি চুরির ধান্দায় এসেছিস,,
(( এরা পোশাক দেখে মানুষকে বিবেচনা করে,, গরিবদের ও কি শখ থাকতে পারে না,,দামি মোবাইল কি শুধু বড়লোক রা নিতে পারে,,)
আমি--সামনে থেকে সরেন,,
---না পরলে কি করবি ফকিরনির বাচ্চা,,
ব্যাস মাথায় রক্ত উঠে গেল,, এতক্ষণ আমাকে বলছে সমস্যা নেই,,এখন মাকে নিয়ে বলতেছে,,
তাই সাথে সাথে দিলাম এক ঘুসি,,
আরো কয়েকটা ঘুসি দেওয়ার কিছু মানুষ এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিলো,,,
ভাইরে গন্ডগোল দেখে দোকানের মালিক ও বেরিয়ে এল,,
মালিক--কি হয়েছে, দারোয়ান কে মারছো কেন,,
আমি--ছাড়েন আমাকে এই শালার পুতে আরো কয়েকটা দিই,,(ছাড়ানোর চেষ্টা করে)
মালিক--ও কি করেছে,,
আমি--আমি মোবাইল কিনতে ভিতরে ঢুকতে চাইলে,,এই শালার পুত আমাকে ভিতরে ঢুকতে দেইনা,আরো আমাকে যা নয় তা বলে অপমান করে এমনকি আমার মা কে পর্যন্ত বাদ দেয়নি,,
মালিক--দারোয়ান ও যেটা বলছে সেটা কি ঠিক,,?
দারোয়ান মাথা নিচু করে আছে,,
মালিক--তোমার থেকে তো এটা আশা করিনি,,,
মালিক--ওর হয়ে আমি আপনার থেকে ক্ষমা চাচ্ছি,, চলেন আপনি ভিতরে চলেন,,,
তারপর আমি ভিতরে গিয়ে একটা ভালো থেকে মোবাইল নিলাম,,৯৫০০ টাকা দিয়ে,,
তারপর বেরিয়ে একটা নতুন সিম কিনে মোবাইল এ সেট করে মোবাইল অন করলাম,,,
তারপর গাড়িতে এসে মোবাইল টা ভালোকরে দেখতে লাগলাম,,
((নতুন মোবাইল কিনার আনন্দ টা বলে বুঝানো যাবে না,,সেটা কম দামে হোক বা বেশ দামী হোক,,))
তখনি,,
--এইযে ভাই যাবেন,,
আমি--কোথায় যাবেন,,? মোবাইল পকেটে ঢুকিয়ে
---একটা জায়গায় নামলো,
আমি--চলেন,,ভাড়া ৫০ টাকা,,
তারপর লোকটা উঠলো,,
চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছি,,
লোকটা--তা ভাই আপনার হাতে দামি মোবাইল দেখলাম,,
আমি--তো,,
লোকটা--ওইটা কেউ ভুল করে গাড়িতে ফেলে গেছে মনে হয়,,
((দেখছেন এদের চিন্তাভাবনা কতো উন্নত,,))
আমি---আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে,,এটা আমার মোবাইল,,
লোকটা--আপনার মতো মানুষদের হাতে এটা মানায় না,,
((আজ ৬ মাস ধরে রকম কথাগুলো শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি,, প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন আর গায়ে লাগেনা,,
এতদিনে অনেক মানুষ কে চেনা হয়ে গেছে,,, কতগুলো অমানুষ কে খুন করতে ইচ্ছে হয়েছে,, কিন্তু কিসের একটা ভয় কাজ করে,,))
আমি---কেন ভাই গরিবদের কি শখ আল্লাদ বলতে কিছু থাকতে পারে না,,,দামি মোবাইল কি শুধু বহলোকের জন্য,,?
লোকটা--সরি ভাই কিছু মনে করবেন না,, আমি এমনি বললাম,,
((বাঁশ দিয়ে বলে- ব্যথা লাগেনি তো,,))
আমি---আর কিছু বললাম না,,
লোকটাকে ওনার বলা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে লামিয়া দের নিতে চলে এলাম কলেজে,,
এতদিনে ওদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে,, সাথে তাদের পরিবারের সাথেও,,
লামিয়ারা মোটামুটি বড়লোক,,
গিয়ে দেখি ওরা দাঁড়িয়ে আছে,,,
ভাইয়া তোমার আসতে এতক্ষণ লাগে,,?(৩ জনে একসাথে))
আমি--আগে উঠ তারপর বলতেছি,,
তারপর ওরা উঠে পড়লো,,
মোবাইল টা বের করে ওদের দেখালাম,,
সাইরা--ওয়াও,,নিউ মোবাইল কখন নিলে,,(আমার হাত থেকে নিয়ে,,)
লামিয়া--এত টাকা কোথায় পেলে,,?
আমি--জমিয়ে ছিলাম,,
ওরা মোবাইল টা ভালো করে দেখতে লাগলো,,
আমি গাড়ি স্টাট দিলাম,,
লোকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখি,,
ওরা সেল্পি নিতে নিতে মেমোরি ফোল করে ফেলতেছে,
আর ওদের মুখের ভঙ্গি দেখে আমার সেই হাসি পাচ্ছে,,,
((মেয়েরা সেল্পি নেওয়ার সময় যেভাবে মুখ টা বাকায় মনে হয়---তাক আর কমো না,,বললে আবার মেয়েরা আমার উপর রিমান্ড চালাবে,,))
লামিয়া--ভাইয়া নাও তোমার মোবাইল,,আর আমাদের নাম্বার সেইভ করে দিছি,
আমি--হুম,,,
তারপর ওদের নামিয়ে দিয়ে বাসায় চলে আসলাম,,
ও আপনাদের তো বলাই হয়নি,, আর এখন আংকেলের সাথে আংকেলের বাড়িতে থাকি,, আংকেলের কেউ নাই তাই আংকেল আমাকে নিজের ছেলের মতো দেখে,,
এসে আংকেলের সাথে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম,,
তারপর আংকেল কে মোবাইল টা দেখালাম,,
আংকেল খুব খুশি,,
তারপর আমি রুমে এসে শুয়ে পড়লাম,,
আর মোবাইল টা টিপতে লাগলাম,,
আমার আইডি টা লগ ইন করলাম,,
আইডি দেখে আমি তো--------
চলবে,,,,
কি-বোর্ড ডিস্টার্ব এর কারণে কিছু বানান ভুল হয়ে যায়,, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত,,
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now