বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টেক্সিচালক যখন গ্যাং স্টার
Writer--Md. Omar
Part--11
ঘুমাচ্ছি এমন সময় কারো চিৎকার চেঁচামেচি যে ঘুম ভেঙ্গে গেল,,
তাই খাট থেকে নেমে, তাড়াতাড়ি নিচে নামলাম,,
নিচে নামতে নামতে,,
বাবা--এই লোক গুলো এখানে কেন,,অস্ত্র হাতে,,
----আমরা ইমরান স্যার এর গার্ড,,
বাবা--কোন ইমরান,,?
----মাফিয়া ড-----
আমি--কি হয়েছে,,এত চিৎকার চেঁচামেচি কেন,,(নিচে নামতে)
সাথে সাথে সবাই আমার দিকে তাকালো,,
বাবা তো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,,
মা--বাবা তুই উঠেছিস,,যা হাত মুখ ধুয়ে আই আমি নাস্তা দিচ্ছি,,
আমি---তোযাদের খাওয়া দাওয়া হয়ছে,,?(গার্ডদের)
----জি স্যার,,
তারপর আমি যখনি উপরে উঠতে যাবো তখনি
বাবা--বাবা ইশান,,
সাথে সাথে আমি থেমে গেলাম,
আমি---আপনি ভুল করছেন আমি ইশান না,, আমি হলাম ইমরান,
বাবা--বাবা তুই আমাকে ক্ষমা করে দে,, আমি না জেনে তুর গায়ে আঘাত করেছি,,(কান্না করে)
আমি-----এই যে মিস্টার আমজাদ চৌধুরী সম্মান দিয়ে কথা বলুন,, আপনার মতো মন্ত্রী আমার পায়ের নিচে থাকে,,
মা--বাবা এসব কি বলছিস,,,ও তুর বাবা হয়,,
আমি---হাহাহা কিসের বাবা কার বাবা,,যে নিজের ছেলেকে বিশ্বাস না করে অন্য মেয়ের কথা বিশ্বাস করে,,
বাবা--আমি তুর কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি,,বাবা আমাকে তুই মাফ করে দে,,এই দু'বছর চুকে আমি অনেক জায়গায় খুঁজেছি,, কিন্তু পাইনি,, আমি বাবা হয়ে তুর কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি,,(আমার হাত ধরে,,))
হৈয়চৈয় শুনে সবাই চলে এল,,
আমি--চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি,,
ফুফা--বাবা তোমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও,, তোমার জন্য ওনি প্রতিদিন কান্না করে,,আর নিজেকে ধিক্কার দেই,,
ফুপু--হ্যা বাবা ভাইয়াকে ক্ষমা করে দে,,যা শাস্তি আমাদের দে,, কারণ সবকিছু আমার আমার মেয়ের জন্যে হয়েছে,,,
লামিয়া--হ্যা ভাইয়া,, হাজার হলেও ওনি তোমার বাবা,,মা বাবার উপর এত রাগ থাকা যাই না,,
লিমা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,,
আমি--কি করবো বুঝতেছি না,,,
মা--বাবা ওনাকে মাফ করে দে,,
সবাই যখন এত করে বলছে,,তাই মাফ না করে থাকতে পারলাম না,,
আমি। বাবা বলে বুকে জড়িয়ে নিলাম,,
দুজনে হাওমাও করে কান্না করতেছি,,,
সবার চোখে পানি,,,
মা--যাক এ বাড়িতে আবার শান্তি ফিরে এলো,,
আমি--আচ্ছা বোন কোথায়,,
মা--ও কলেজ থেকে ও কোন একটা ফ্রেন্ড এর বাসায় গেছে,,চলে আসবে,,
আমি--আচ্ছা ওকে কিছু বলো না,, আমি ওকে সারপ্রাইজ দিবো,,
---কে কাকে কি বলবে না শুনি,,আর কে কাকে সারপ্রাইজ দিবে,,(দরজা দিয়ে একটা মেয়ে ঢুকতে ঢুকতে)
আমি--মা ও কে তো চিনলাম,,?
মা--ও তুর বোন আর কি,,
আমি-কিহ,,কত বড় হয়ে গেছে,,
রাধিকা--মা এই ছেঁমড়া টা কে,,,আর এই লোক গুলো কে খেলনার রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
আমি--বোন কেমন আছিস,,
রাধিকা--কে আপনি,,,,(বোন আমার উপর অভিমান করেছে,,)
মা--ও তুর ভাই,,চিনতে পারছিস না,,
রাধিকা--আমার কোন ভাই নাই,, আমি রুমে গেলাম,,
এই বলে হন হন করে চলে গেলো,,
আমি--শাকচুন্নী টা তো,,হেভি রেগে আছে,,
মা--তুই চলে যাওয়ার পর থেকে আমরা কারো সাথে ভালো করে কথা বলেনা,,, এখন দেখ উপরে গিয়ে কান্না করতেছে বোধ হয়,,
আমি--আচ্ছা আমি যাই,,ওর রাগ ভাঙ্গিয়ে আসি,,
তারপর আমি বোনের রুমে গেলাম, গিয়ে দেখলাম ও সত্যি সত্যি কান্না করতেছে,,
আমি--বোন,,(ওর কাঁধে হাত দিয়ে,,)
রাধিকা----আপনি কে,, আমি কারো বোন না,,,চলে যান এখান থেকে,,
আমি--তুই আমার উপর খুব রেগে আছিস তাই না,,,
রাধিকা--আমি কারো উপর রেগে নেই,,যান তো এখান থেকে,,
আমি--সত্যি চলে যাবো,,
রাধিকা--হ্যা,,
আমি--ওকে যাচ্ছি,,তবে বলে রাখছি এইবার গেলে আর কখনো আসবো না,,(দেখি লাইন এ আসে কিনা)
এই বলে যখনি দরজার দিকে পা বাড়াবো অমনি,,
ও এসে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল,,
রাধিকা----আরে যদি যাস,,তাহলে তুর খবর আছে,,
আমি--নারে বোন তুকে ছেড়ে আর কোথাও যাবো না,,(ওকে জড়িয়ে ধরে)
রাধিকা--তুর কি আমার কথা একবার ও মনে পড়ে নি,,সবার উপর রাগ করে চলে গেলি,,,
আমি--তুদের কথা খুব মনে পড়েছে,,,
রাধিকা----আরে যদি যাস,, তখন দেখবি,, গন্ডার কোথাকার,,
----বোন কে পেয়ে এই বোনদের তো ভুলে গেলে,,(বাইরে থেকে)
তাকিয়ে দেখলাম লামিয়া সাইরা নিলা,,
আমি--নারে তুদের কিভাবে ভুলি,,,আই ভিতরে আই,,
রাধিকা--ভাইয়া ওদের তো চিনলাম না,,
আমি--ওরা ও আমার বোন,, আমার দুঃখের দিনে ওরাই আমার পাশে ছিলো,,
রাধিকা--তূর বোন মানে আমার বোন,,তা আপুরা কেমন আছো,,
---ভালো তুমি কেমন আছো,,
রাধিকা--ভালো,,,আচ্ছা এই সহজ সরল ছেলেটা এত স্মার্ট হলো কেমনে,,?
লামিয়া--শুধু স্মার্ট না,, তোমার ভাই যেদিকে যায় সেদিকে তোফান সৃষ্টি হয়,,, বাঘের মতো ভয় পায়,,
রাধিকা--ওর এত পরিবর্তন হোওয়ার গল্পটা বলো,,
লামিয়া--অন্য সময় বলবো,,এখন নিচে চলো,,ডাকছে,,
তারপর আমরা সবাই নিচে গেলাম,,
সবাই একসাথে বসে নাস্তা করলাম,,
সবাইকে পেয়ে খুব ভাল লাগছে,,
মাঝরাতে ঘুমাচ্ছি এমন সময়,,
আমার পায়ে পানি অনুভব করলাম,,
আর কে যেন পা ধরে কান্না করতেছে,,
একটু নড়ে উঠার সাথে সাথে কে যেন আমার রুম থেকে দৌড়ে বেড়িয়ে গেল,,
অন্ধকার হওয়ায়,,ভালো করে দেখতে পাইনি,,
আমি। তো মহা চিন্তায় পড়ে গেলাম,,কে হতে পারে,,
সব চিন্তা এক সাইটে রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম,,
পরদিন কারো ধাক্কাধাক্কি যে ঘুম ভেঙ্গে গেল,,
চোখ খুলে দেখলাম বোন,,
আমি++কি হয়েছে এভাবে ধাক্কাচ্ছিস কেন,,
রাধিকা--কি হয়েছে মানে বাড়িতে কতো কাজ পড়ে আছে,,আর তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো,,
আমি--আমার আবার কি কাজ,,
রাধিকা--আজ না লিমা আপুর গায়ে হলুদ,, তাড়াতাড়ি উঠ,,নাহয় পানি ঢেলে দিবো,,
আমি--আচ্ছা উঠছি,,তুই যা,,
তারপর উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসলাম,,
নাস্তা শেষ করে সোফায় গিয়ে বসলাম,,
মা--বাবা আজ মেয়েটার গায়ে হলুদ,,কাল কে শশুর বাড়ী থেকে চলে যাবে,,
আমি--তো,,
মা ---কোন সিনক্সিয়েট করিস না বাবা,,হাসি খুশি থাক,,,
আমি--আমি এ ডাইনি টার বিয়েতে থাকতে পারবো না,, আমি আছি চলে যাবো,,
মা--বাবা এমন করিস না,,,মেয়েটা না বুঝে এমন করেছে,,আর তুর ফুফি শুনলে কতোটা কষ্ট পাবে ভেবে দেখেছিস,,তাই বলছি একটু মানিয়ে নে,,
আমি--হুম,,
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেল,,
আস্তে আস্তে সব মেহমান আসতে শুরু করলো,,
বাড়িতে একটা বিয়ের আমেজ এসে গেছে,,
আমার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও রেডি হয়ে নিচে নামলাম,,
মেহমান দের আপ্যায়ন করতে লাগলাম,,,,
অবশেষে অনুষ্ঠান শুরু হলো,,
সব মেয়েরা হলুদ শাড়ি পরেছে,
লিমা খুব সুন্দর লাগছে,,, কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে ওর মন খারাপ,,
তাতে আমার কি,,,
একে একে সবাই ওকে হলুদ লাগাচ্ছে,,
আমি এক জায়গায় বসে বসে জুস খাচ্ছি,,
হঠাৎ মায়ের ডাক পড়ল,,
আমি মায়ের কাছে গেলাম,,
আমি--হ্যা মা বলো,,
মা--সবাই হলুদ লাগাচ্ছে,,যা তুই ও হলুদ লাগিয়ে আই,,
আমি--মায়ের দিকে একটা রাগী লুক নিয়ে তাকালাম,,
মা--দেখ বাবা সবকিছু লাগাইছে,,এখন যদি তুই না লাগাস সবাই কি ভাববে বলতো,,
আমি লিমার দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে আছে,
আমি--আচ্ছা যাচ্ছি,,
এই বলে হলুদ এর বাটি নিয়ে স্টেজের দিকে গেলাম,,
আমাকে যেতে দেখে লিমার মুখে হাসি ফুটে উঠল,,
আমি ওর কাছে গিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে হলুদ লাগিয়ে সুজা আমার রুমে চলে আসলাম,
রুমে শুয়ে আছি কিছুক্ষণ পর রাধিকা আসলো,,
রাধিকা--তুই এভাবে চলে এলি কেন,,?
আমি--এমনি ভালো লাগছে না,, অনুষ্ঠান শেষ,,?
রাধিকা--হ্যা,,তুকে আব্বু ডাকতেছে,,
আমি--আচ্ছা চল,,
তারপর আব্বুর সাথে কথা বলে রুমে চলে আসলাম,,,
রুমে ঢুকে দেখলাম-----------------
চলবে-------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now