বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঢাকার ব্যস্ততম সকাল। মাত্র ৮ টা বাজে, অথচ এর মধ্যেই জ্যাম লেগে আছে প্রায় সকল রাস্তায়। কর্মজীবীগন ছুটছেন যার যার কর্মস্থলে। ছাত্র-ছাত্রীরা ছুটছে স্কুল-কলেজের উদ্দেশ্যে। সিফাত ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তার স্কুলে মর্নিং শিফটের ক্লাশ শুরু হয় সকাল ৯ টায়। বাসা থেকে স্কুলে বাসে করে যেতে হয়। সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। প্রচন্ড ভীড়ের কারনে এসময় বাসে উঠা খুব কস্টকর। অবশেষে ২০ মিনিট অপেক্ষার পর সিফাত একটি বাসে উঠতে পারলো। দু' স্টপেজ পরে ভাগ্যজোরে একটি সীটও পেয়ে গেল সে।
সিটে বসেই সিফাত বিভিন্ন যাত্রীদের দিকে তাকাতে লাগলো। বাসে উঠার পর প্রায় প্রতিদিনই সে এই কাজটি করে। বিভিন্ন পেশার মানুষের আচরন সম্পর্কে জানার ব্যাপারে তার প্রচন্ড কৌতুহল রয়েছে। একদম পেছনের সীটে জানালার পাশে গোমড়ামুখো একজন পুলিশ অফিসার বসে আছে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ অফিসারটি আয়েশ করে সিগেরেট ধরালো। তার পাশের সীটে একজন বুড়ো সিগেরেটের ধোয়া সহ্য করতে না পেরে শব্দ করে কাশছেন। কিন্তু পুলিশকে কিছু বলতে ইতস্ত: করছেন, হয়তো কিছু বলতে ভয় পাচ্ছেন। অবাক দৃষ্টিতে পুলিশটির দিকে তাকিয়ে রইলো সীফাত। ধীরে ধীরে তার দৃষ্টি উঠে গেল জানালার উপরের দিকে। সেখানে বিস্কেট রংঙের ফ্রেমের উপর লাল কালিতে লেখা রয়েছে- "পাবলিক প্লেসে ধুমপান নিষেধ"। মলিন এক টুকরো হাসি ফুটে উঠলো সীফাতের ঠোঁটে। তার কচি মনে ভাবনার উদয় হলো- আইন রক্ষাকারী ব্যক্তি যদি নিজেই আইন ভঙ্গ করার অবাধ সুযোগ পান, তাহলে সে আইনের যৌক্তিকতা কি? "যে সমাজে আইনের রক্ষকগনকে জবাবদিহীতার মুখোমুখি হতে হয় না, সে সমাজের শাসন ব্যবস্থা হবে ভংঙ্গুর ও দুর্নীতিপূর্ণ"- সমাজ স্যারের বলা এই উক্তিটি বারংবার সীফাতের মানসপটে ভেসে উঠতে লাগলো।
আচমকা বদানুবাদের চেঁচামেচিতে সীফাতের কল্প-জগৎ বিচ্ছিন্ন হলো। চমকে উঠে সে সামনে তাকিয়ে দেখলো, একজন মাঝ বয়েসী ভদ্র মহিলা ও একজন তরুণ পরস্পর তর্কে লিপ্ত। মাঝ বয়েসী মহিলাটি তরুণ কে বলছে- "বাবা! এটা মহিলাদের জন্যে নির্ধারিত সীট। তোমাকে এটা ছেড়ে দিতেই হবে।" তরুণটি জবাব দিল- "নারী-পুরুষের সমান অধিকার। সুতরাং কেন নারীদের জন্যে আলাদা সীট বরাদ্দ থাকবে? কেন নারীদের জন্যে শুধু পুরুষরাই সীট ছেড়ে দিবে! পুরুষরা যদি দাঁড়িয়ে যেতে পারে, তাহলে নারীরাও দাঁড়িয়ে যেতে পারবে।" বাস কন্টাক্টর তরুণটিকে সীট ছেড়ে দিতে বলল। কিন্তু তরুণটি কিছুতেই রাজী হচ্ছিল না। এরিমধ্যে কয়েকজন তরুণটির সাথে সুর মিলিয়ে বলল- "হ...হ! ভাইজান! এক্কেবারে উচিত কথা কইছেন।" মহিলাটি আর কি করবে! বাসের রড ধরে দাঁড়িয়ে থাকলো। ওদের আচরণে মনে দারুণ ব্যাথা পেল সীফাত। সে নিজের সীট ছেড়ে দিয়ে মহিলাটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললো- "আন্টি! আপনি আমার সীটটিতে গিয়ে বসুন। আমি দাঁড়িয়েই যেতে পারবো।" ছোট্ট ছেলেটির মহানুভবতায় মহিলাটির চোখে পানি এসে গেল গিয়েছিল। তিনি মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারলেন না, শুধু বিড়বিড় করে ছেলেটির জন্যে দোয়া করে সীটটিতে গিয়ে বসলেন।
তর্কে লিপ্ত হওয়া সেই তরুণ এবার সীফাতকে বললো- "বোকার মত তুমি ঐ মহিলাকে তোমার সীটটি ছেড়ে দিলে কেন? এখন তো তোমার দাঁড়িয়ে যেতে কষ্ট হবে।" সীফাত জবাব দিলো- "ভাইয়া, উনি আমার মায়ের বয়েসী। আজ যদি আমার মা এমন অবস্থায় পড়তেন, তাহলে আমি কি বাসে বসে থেকে তাকে দাঁড়িয়ে যেতে দিতাম!" সিফাতের আবেগমাখা জবাব শুনে তরুণটি লজ্জায় মাথা নীচু করলো। একটি ছোট্ট ছেলের বিবেকের কাছে, মনুষ্যত্যের কাছে হেরে গেল সবাই। জ্যাম কাটিয়ে তখন বাস ছুটে চলছে দ্রুত। সীফাতের চোখের তারায় ভাসছে আলোর দীপ্তি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now