বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
___মিস্ট্রিয়াস___পর্ব 11ও12
________পর্ব-১১_________
আমার কথা শুনে কালাম সাহেব আমতা
আমতা করতে লাগল। আমি ঘড়িটা তার
হাতে তুলে দিয়ে বললাম: এই নিন কালাম
সাহেব, আপনার ঘড়ি..."
কালাম সাহেব ঘড়িটা নিয়ে চলে গেল। আমি
একা একা বাংলোতে পায়চারি
করতেছিলাম। হঠাৎ দরজায় কারো
উপস্থিতি ঠের পেলাম।
--কে?" চিৎকার করে উঠলাম আমি।
দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকল পর্সিয়া। অবাক
হয়ে জিজ্ঞেস করলাম: পর্সিয়া তুমি?"
রহস্যময় হাসি দিয়ে পর্সিয়া বলল: হ্যা
আমি। কি? আমার আসল পরিচয় জেনে ভয়
পাচ্ছে নাকি?"
--মোটেও না।"
--গুড। সেদিন তো খুব গর্ব করে বলেছিলে
ভূত/অশরীরী বিশ্বাস করনা। আজ
তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে একটা
অশরীরী। তোমাকে একটা প্রস্তাব দিতে
এলাম।"
--কি প্রস্তাব?"
--আমার আর আমার স্বামীর খুনিদের
ধরে শাস্তি দিতে হবে। নইলে তোমাকেও
মৃত্যুর জগতে নিয়ে যাব।
--কিন্তু তোমাদের খুন করেছে কে?"
--সেটা তো বলবনা। তুমি তো গোয়েন্দা।
আমাদের খুনিদের খুঁজে বের কর। তারপর
শাস্তির ব্যবস্থা কর যদি নিজেকে বাঁচাতে
চাও।"
তারপর "হা হা হা" করে উঠে কোথায় যেন
মিলিয়ে গেল পর্সিয়া।
আমি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। একটা
অশরীরী এসে আমাকে থ্রেট দিয়ে গেল?
আসলেই কি সে এসেছিল? না মনের ভুল?
প্রথম থেকে যা ঘটছে সব আমার মনের
ভুল? তাহলে মাহমুদের ঘটনাটা? এটা তো
মিথ্যে হতে পারেনা। এখন আমি কি করব?
মাহমুদকে খুঁজব? নাকি পর্সিয়া আর তার
স্বামীর খুনিদের খুঁজ করব? ভাবতে ভাবতে
কেটে গেল রাতটা। খুব ভোরে চোখে ঘুম
নেমে এল। কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানিনা।
কারো চিৎকার চেঁচামেচিতে আমার ঘুম
ভাঙল। চোখ মুছতে মুছতে বিছানা থেকে
নামলাম। দরজা খুলে অবাক হয়ে গেলাম।
পুলিশ এল কি কারণে হঠাৎ? আবাক হয়ে
জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা....???
--মাহমুদকে এ্যারেস্ট করতে এসেছি
আমরা। তাকে ডাকুন।" একজন পুলিশ
অফিসার বলল।
--ও তো নেই। কেন? কি হয়েছে?"
--মার্ডার করেছে সে।"
--হোয়াট?"
--জি, কালাম সাহেবকে খুন করেছে সে।
টিলার উপরে কালাম সাহেবের লাশ পাওয়া
যায়।"
--লাশ দেখে কিভাবে বুঝলেন মাহমুদ
খুনি?"
--এ খুনের "আই উইটনেস" আমাদের সাথে
আছে, এই যে ফাহিম।"
আমি দেখলাম, মাহতাব সিকদারের কাজের
ছেলেটা একপাশে মাথা নিচুকরে দাঁড়িয়ে
আছে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম: ফাহিম,
তুমি নিজ চোখে দেখেছ এই খুন মাহমুদ
করেছে?"
ফাহিম বলল: শুধু আমি না, আমার সাথে
রহিম সাহেবও ছিলেন। উনিও দেখেছেন।"
--তখন তোমরা কোথায় ছিলা?"
--আমরা টিলার উপরে ছিলাম।"
--কিন্তু এতরাতে তোমরা আমার
বাংলোতে কি করতে এসেছিলে?"
ফাহিম আমতাআমতা করে বলল: ইয়ে
মানে আমরা কালাম সাহেবকে খুঁজতে
এসেছিলাম।"
--ও তাই? কেন এসেছিলে সেটা পরে আমি
বের করব। এখন বল, মাহমুদ কিভাবে খুন
করেছে কালাম সাহেবকে?"
--সেটা বলার মতো না, কি ভয়ংকর দৃশ্য!
আমরা দেখলাম, গতরাতে কালাম সাহেব
বাংলো থেকে বের হয়ে নেমে যাচ্ছিল টিলা
থেকে.....
--দাঁড়াও, দাঁড়াও.... তোমরা তো টিলার
নিচে ছিলে, তাহলে কেমনে জানলে কালাম
সাহেব বাংলো থেকে বের হয়েছে?"
--ইয়ে মানে আমরাও টিলার উপর
উঠেছিলাম, মাহমুদকে দেখে ভয়ে পালিয়ে
গেলাম। কারণ তার চেহারা তখন মানুষের
মতো ছিলনা, অনেক ভয়ংকর ছিল। আমরা
দৌড়ে নিচে নেমে গেলাম, কিন্তু কালাম
সাহেবের রক্ষা হয়নি। মাহমুদ তাকে মেরে
ফেলেছে।"
--কি দিয়ে মেরেছে?"
--কি দিয়ে আবার? মাহমুদ তো মানুষ না।
তার শরীরে অসুরের মতো শক্তি।"
আমি সাব-ইন্সপেক্টর লতিফের দিকে
তাকিয়ে বললাম: অফিসার, চলুন.... আমি
লাশটা একবার দেখতে চাই।"
--হুমমম....চলুন। আর মাহমুদের খোঁজ
পেলে জানাবেন। তার উপর এনকাউন্টারের
অর্ডার হয়ছে। দেখলেই গুলি।"
--হোয়াট?" এটা তো অন্যায়.....
--মি.রানা, মাহমুদের এখন যে কন্ডিশন,
তাতে নিরীহ মানুষের ক্ষতি হতে পারে।
শুনেছি, আপনাকেও সে মেরে ফেলতে
চেয়েছিল।"
আশ্চর্য! মাহমুদ যে আমাকে মেরে
ফেলতে চেয়েছিল, তা সবাই জানল কি
করে? আমি তো কাউকে বলিনি। তারমানে
সেইরাতেও কেউ আমাদের ফলো
করেছিল। কি চাই তারা?
কালাম সাহেবের লাশটা অনেক্ষণ ধরে
খুঁটিয়ে দেখলাম। তারপর সাব-ইন্সপেক্টর
লতিফকে উদ্দেশ্য করে বললাম: অফিসার
দেখুন, লাশের মাথায় একটা আঘাতের
চিহ্ন, লাঠি দিয়ে খুব জোরে আঘাত না
করলে এরকম চিহ্ন হবেনা, যেহেতু
মাহমুদের শরীরে অশরীরী শক্তি, সেহেতু
লাঠি দিয়ে আঘাত করার কোন দরকার
নেই। আর কালাম সাহেব খুন হয়েছে চুরির
আঘাতে। একই যুক্তিতে অশরীরী শক্তি
থাকতে চুরির প্রয়োজন পড়বে কেন খুন
করতে?"
--মি.রানা, আপনার কথায় যুক্তি আছে,
কিন্তু কিছুই করার নেই, কোর্ট অর্ডার
হয়ে গেছে মাহমুদকে এনকাউন্টার করার।"
--কেন কিছু করার নেই? একজন নিরীহ
ছেলেকে এভাবে মেরে ফেলতে চান কেন?
একটা আত্মা তার মাঝে প্রবেশ করেছে
বলে কি আপনারা তাকে মেরে ফেলবেন?
সে তো কোন অপরাধ করেনি।" চিৎকার
করে বললাম কথাগুলো।
লতিফ বলল: কিন্তু খুনগুলোতো
মাহমুদের মাধ্যমেই হয়ছে....
--আরে রাখেন আপনার খুন। আপনাকে
পুলিশের চাকরিতে কে নিয়েছে। ঘুষ দিয়ে
চাকরিতে ঢুকছেন মনে হয়? তাই আসল
খুনিদের কাছ থেকে ঘুষ খেয়ে মাহমুদকে
অপরাধী সাজাচ্ছেন।"
--মি.রানা, আমাকে অপমান করার অপরাধে
আপনাকে এ্যারেস্ট করতে বাধ্য হব।
মুহূর্তে আরো একটা পুলিশের গাড়ি এসে
থামল। দেখলাম, গাড়ি থেকে নেমে এল
ইন্সপেক্টর সৈয়দ তারেক। আমার স্কুল
ফ্রেন্ড। তাকে দেখে খুশি হলাম আবার
অবাকও হলাম। সে এখানে কি করে এল?
তারেক কাছে আসতেই অন্য পুলিশগুলো
তাকে স্যালুট করল। আমি হ্যান্ডশেক
করলাম তার সাথে। জিজ্ঞেস করলাম:
কেমন আছিস?"
হাসিমুখে তারেক জবাব দিল: ভালো আছি।
দেখে অবাক হচ্ছিস নাকি? আসলে
এখানকার থানায় বদলি হয়ে এসেছি
কয়েকদিন হচ্ছে। মাহমুদের ব্যাপারে সব
শুনেছি। তুই কোন চিন্তা করিসনা। আমি
চেষ্টা করব কিছু করা যায় কিনা। এখন চল,
তোর বাংলোতে গিয়ে আড্ডা দেব।"
--হুমম....চল।"
কালাম সাহেবের লাশটা পোস্ট মর্টেম
করতে নিয়ে যাওয়ার অর্ডার দিয়ে তারেক
আমার সাথে বাংলোর ভেতরে এল।
--এই তাহলে তোর বাংলো?" তারেক
জিজ্ঞেস করল।
--হুমম.....কিন্তু জানিস, এই কয়দিনে
এখানে অনেক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে।
তুই তো জানিস, আমি ভূত/অশরীরী
এগুলো বিশ্বাস করিনা। কিন্তু এখন
সেগুলো বিশ্বাস করতে হচ্ছে। গতরাতে
একটা অশরীরী মেয়ে এসে আমাকে থ্রেট
দিয়ে গেল, সে এবং তার স্বামীর খুনিদের
খুঁজে শাস্তি দিতে না পারলে নাকি
আমাকেই বাঁচতে দেবেনা।"
--কি বলছিস? কোন স্বপ্ন দেখিসনি
তো?"
--না রে দোস্ত। সত্যিই।" তারপর
তারেককে প্রথম থেকে এই পর্যন্ত সব
খুলে বললাম।
শুনে তারেক বলল: শুনে তারেক বলল: তুই
কোন চিন্তা করিসনা, আমি তোর সাথেই
আছি। আর আমার পুরো বিশ্বাস, সব
রহস্য একদিন উন্মেষ করবি তুই। তোকে
তো আমি চিনি"
--হুমম....তাই যেন হয়। আর শুন, মাহমুদের
কেসটা একটু দেখিস।
--হুমম....অবশ্যই। তোকে কথা দিলাম
মাহমুদের কিছুই হতে দেবনা আমি। আচ্ছা
এবার চলি, আবার আসব।"
--আচ্ছা....
তারেককে কিছুদূর এগিয়ে দিয়ে এলাম। ও
চলে যাওয়ার পর আমি একা একা ভাবতে
লাগলাম কি করা যায়। ডায়রিটা খুলে যেসব
প্রশ্নের উত্তর জেনেছি, প্রশ্নগুলো
কেটে দিলাম। তারপর নতুন করে আরো
কয়েকটা প্রশ্ন লিখলাম:
*কালাম সাহেবকে কারা খুন করেছে? কেন
খুন করেছে?
*জয়নাল সাহেব কি পুরো ব্যাপারটার
সাথে জড়িত?
*ফাহিম, রহিম সাহেব, জয়নাল সাহেব
এদের মাঝে কি সম্পর্ক?
*রহিম সাহেব আর ফাহিম আমাকে ফলো
করে কোন উদ্দেশ্যে?
প্রশ্নগুলো লিখে গালে হাত দিয়ে ভাবতে
লাগলাম। কখন যে শিখা এসেছে বুঝিনি।
তার ডাকে সচেতন হলাম:
--কি ব্যাপার মি.জিনিয়াস? এত ভাবনা
কিসের?"
ডায়রিটা বন্ধ করে বললাম: ও শিখা,
আপনি কখন এসেছেন"
--এইতো মাত্র এলাম।
--হুমমম.....বসুন।
--আরে, আপনি আপনি করেন কেন
আমাকে? "তুমি" করে বলুন।
--আচ্ছা বস......
শিখা বসতে বসতে বলল: আমিও কি
আপনাকে "তুমি" করে বলতে পারি?"
বুঝলাম শিখা আমার ঘনিষ্ঠ হতে চাই।
আমি বললাম: হুমমমম....শিওর, একটা
সুন্দরী মেয়ে আমার ঘনিষ্ঠ হতে চাই, মন্দ
না....
--তুমি বুঝি সামনাসামনি লজ্জা দিতে
ভালোবাস?"
--লজ্জা পেলে নাকি? কই মুখ লাল হয়নি
তো?"
--আগে থেকেই কি দুষ্ট তুমি?"
--নাহ, সুন্দরীর দর্শনে মনটা মনটা দুষ্ট
হতে চাই।
--তাই বুঝি? মনটা আর কি কি হতে চাই?
--অনেক কিছু। বলা যাবেনা এখন।
--তো, কেমন আছ?
--তোমাকে দেখে মনটা ভালো হল।
--ইস!! ঢং!!
--ঢং না, সত্যি। তোমার নাক ছুয়ে বলতে
পারব।
--নাক ছুয়ে?
--না মানে, নাকটা তোমার সুন্দর কিনা....
--হয়ছে, দুষ্টামি থামাও এবার।
--আর একটু করলে মন্দ কি?
--না, চল এখন আমার সাথে।
--কোথায়?
--বাইরে ঘুরব।
--লোকে ভাববে আমরা প্রেম করছি।
--লোকে ঐটা ভাবলে কি তোমার
অসুবিধা হবে?" কথাটি বলে শিখা তাকাল
আমার চোখের দিকে। আমিও তাকালাম।
তার চোখে আমি স্পষ্ট প্রেমের আহ্বান
দেখতে পাচ্ছি।
--একদম না। বরং লোকের ভাবনাটা
সত্যিই করতে পারলেই খুশি হব....."
অজান্তে বলে ফেললাম কথাটা।
________পর্ব-১২________
শিখা লজ্জা পেয়ে মুখ নিচু করে ফেলল।
আমি তার হাতটা ধরে বাংলো থেকে বের
হলাম। জিজ্ঞেস করলাম: কোথায় যাবে?"
--যেখানে নিয়ে যাও....
--আজ কয় তারিখ জান?" শিখার চোখের
দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
--১৪ ই ফেব্রুয়ারি।" শিখা জবাব দিল।
--আজ ভালোবাসা দিবস। তোমাকে নিয়ে
ঘুরলে সবাই মনে করবে আমি তোমার......
--প্রেমিক।" আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে
শিখা বলল।
--প্রেমিক বানাবে নাকি?"
--প্রথম দিন থেকেই তো চেয়েছি। সেই
প্রথম যখন তোমার বুদ্ধির পরিচয় পাই,
তারপর থেকেই তো মনটা তোমাকে
দিয়েছি।"
--চল আমার সাথে.....
--কোথায়?
--কাজি অফিসে। বিয়ে করব....
--মানে?
--প্রেমে পড়েছ, বিয়ে করবেনা?
--তাই বলে আজকেই?
--পরে যদি পাখি উড়াল দেই খাঁচা ছেড়ে?
--পাখি আজ নীড় খুঁজে পেয়েছে, আজ
থেকে সে ভালোবাসার স্বপ্ন বুনবে।"
--ইসসস!!! এভাবে বলোনা, বুকের ভেতর
ধড়পড় ধড়পড় করে। হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে,
বুকে হাত দিয়ে দেখ......
--দুষ্টামি কর? চল তো...."
বাইকের পেছনে শিখাকে তুললাম। দু'হাত
দিয়ে যখন সে আমাকে জড়িয়ে ধরল মনে
মনে বললাম প্রেম আসলেই স্বর্গ থেকে
আসে।
অনেক ঘুরলাম দু'জন এখানে সেখানে। একটা
জিনিস খেয়াল করলাম। আমরা যেদিকে যায়
একটা কালো রঙের প্রাইভেট কার
আমাদের পেছনে পেছনে যায়। কে ফলো
করতেছে আমাদের?
--শিখা, পেছনে তাকাবেনা, আর আমাকে
শক্ত করে ধর।" বললাম আমি।
শিখা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল,
আমি বাইকের স্পিড বাড়িয়ে দিলাম।
মুহূর্তেই হারিয়ে গেলাম অনেক দূরে। একটা
পার্কে ঢুকলাম। এখানে অনেক প্রেমিক
যুগল আগে থেকেই হাজির। আমরাও মিশে
গেলাম ওদের সাথে। হঠাৎ দেখলাম সেই
কালো গাড়িটা এখানেও এসে হাজির।
আশ্চর্য! আমরা যে এখানে ফলোয়ারটা
জানল কি করে?"
--শিখা চল, এখানে আর এক মুহূর্তও
নয়....." শিখার হাত ধরে বললাম আমি।
--কেন?" জিজ্ঞেস করল শিখা।
--ঐ দেখ কালো গাড়িটা, লোকটা
এখানেও চলে এসেছে ফলো করে।"
--চল ফিরে যায়......."
শিখাকে পেছনে নিয়ে আবারও বাইক
স্টার্ট দিলাম। সোজা চলে এলাম
বাংলোতে। বাংলোতে এসে হঠাৎ থমকে
দাঁড়ালাম। ভেতরের সব জিনিসগুলো
এলোমেলো। বুঝাই যাচ্ছে এখানে আমার
আগে অন্য কেউ এসে তছনছ করে গেছে।
মনে হয় কিছু একটা খুঁজেছে। কিন্তু কি
খুঁজেছে? আর কে এসেছিল? দরজায় তো
লক ছিল, চাবি পেল কই? চাবি তো একটা
আমার কাছে, আরেকটা মাহমুদের কাছে।
তবে কি মাহমুদ এসেছিল? কিন্তু মাহমুদ
এসে থাকলে, জিনিসপত্রের এই অবস্থা
করবে কেন?
হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম এলোমেলো
জিনিসগুলোর দিকে। শিখা এসে হাত রাখল
আমার কাধে। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল
সে: কে করল এসব?"
--জানিনা...." অস্ফুটে জবাব দিলাম আমি।
শিখা জিনিসপত্রগুলো গুছাতে শুরু করল।
গুছাতে গুছাতে হঠাৎ চিৎকার করে বলল:
রানা, এইদিকে দেখ.....
--কি?
--একটা মোবাইল ফোন....."
শিখার হাত থেকে মোবাইল ফোনটা
নিলাম। চিনতে পারলাম ওটা মাহতাব
সিকদারের। তারমানে মাহতাব সিকদার
এসেছিল? কিন্তু কেন?
--শিখা চল, মাহতাব সিকদারের বাসায়
যেতে হবে।" বলেই আর দেরি করলামনা।
বাংলো থেকে বের হলাম। শিখা নিরবে
অনুসরণ করল আমাকে।
মাহতাব সিকদারের বাসার গেইটে এসে
দেখলাম সেই কালো গাড়িটা পার্ক করা।
এই গাড়িটা এখানে, তারমানে এটা মাহতাব
সিকদারের গাড়ি? তড়িৎবেগে ঢুকলাম
মাহতাব সিকদারের বাসায়। উনি সোফায়
বসে পত্রিকা পড়ছিলেন। আমি
মোবাইলটা উনাকে দিয়ে বললাম:
আঙ্কেল, এসবের মানে কি?"
--কিসের মানে? আর ফোনটা কোথায়
পেলে তুমি??" মাহতাব সিকদার যেন অবাক
হলেন।
--আর কত অভিনয় করবেন আঙ্কেল?
আমার বাংলোতে ঢুকে জিনিসপত্র
তছনছ করার মানে কি?"
--হোয়াট? কি যা তা বলছ?"
--যা তা আমি বলছিনা, আপনার মোবাইল
ফোনটা আমার বাংলোতে গেল কি করে?
--আরে মোবাইলটা তো গতকাল থেকেই
খুঁজে পাচ্ছিনা, চুরি হয়ে গেছে।"
--আর বাইরে পার্কিং করা গাড়িটা? ওটা
দিয়ে আমাদের ফলো করেননি?"
--রানা, এইবার কিন্তু তুমি সীমা ছাড়িয়ে
যাচ্ছ। উল্টাপাল্টা কি বলতেছ এসব?
--কেন? গাড়িটা আপনার না?
--হ্যা, আমার। আজকেই কিনেছি মাত্র।"
--গাড়িটা আজ আপনি চালিয়েছিলেন?"
--আমি তো এখনও চালায়নি গাড়িটা,
মাত্র কিছুক্ষণ আগে গাড়ির কোম্পানি
নিজেদের লোক দিয়ে গাড়িটা পাঠাইছেন।
--ও, গাড়ি নিয়ে কে এসেছিল? তাকে আমার
দরকার।"
--আচ্ছা, কাল তোমাকে তার সাথে দেখা
করাব।"
--আচ্ছা।
--রানা......" হঠাৎ শিখা বলল। এতক্ষণ চুপ
ছিল সে।
--কি?" অবাক হয়ে তাকালাম শিখার দিকে।
শিখা আমাকে মাহতাব সিকদারের সামনে
থাকা ছোট টেবিলটার দিকে ইঙ্গিত করে
বলল: চাবি......
টেবিলের দিকে তাকিয়ে আমিও চমকে
উঠলাম। আরে এই চাবিতো মাহমুদের
কাছে থাকার কথা। মাহতাব সিকদারের
কাছে এল কি করে?
হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠল। তারেক
ফোন করেছে। ফোন রিসিভ করে বললাম:
--হ্যা তারেক বল, কি খবর?"
ওপাশ থেকে তারেকের কোন সাড়া এলনা।
--কি হল তারেক, কিছু বল?
--রানা....
--হ্যা বল....
--মাহমুদ বেঁচে নেই, তার লাশ উদ্ধার
করেছি আমরা।"
কথাটি শুনার জন্য মোটেও প্রস্তুত
ছিলামনা আমি। মনে হল পুরো আকাশ
ভেঙে আমার মাথার উপর পড়েছে। হাত
থেকে মোবাইলটা পড়ে গেল আমার।
নিজেকে সামলাতে পারলামনা। হাটুগেড়ে
বসে পড়লাম। চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে
পড়তে লাগল আমার। মাহতাব সিকদারের
দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম: মেরে
ফেললেন আমার মাহমুদকে????
(চলবে....)
লেখক - সোহেল রানা শামী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now