বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিষ্টি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ছোটগল্প "মিষ্টি" মাহমুদুল হাসান মিজু। ================ সাদা এপ্রন পরা লোকগুলো দেখলেই আজকাল মন্তাজ মিয়া সেখান থেকে কেটে পড়ে।হামাগুড়ি দিতে দিতে রাস্তার অন্যপাশে চলে আসে। মন্তাজের সঙ্গী সাথীরা বুঝতে পারেনা সে কেন এমন করছে। মন্তাজ নিজেও বুঝতে পারেনা। পায়ে পচন ধরার পর ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে ভর্তি হয়েছিল।সেখানে অবর্ণনীয় কষ্ট। দালালগুলো একেকটা খচ্চর্। বড় বড় ডাক্তাররা পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে মন্তাজ করুন চোখে তাকিয়ে থাকত। একটু আশা নিয়ে। কখন তার পা দেখবে। ভাল হওয়ার আশ্বাস দিবে। ১৫ দিন বাইরে থাকার পর ভেতরে জায়গা পায় মন্তাজ। তবুও বেডে নয়,ফ্লোরে। নার্সদের চোখ মুখ রাগী রাগী। নার্স হতে হলে চোয়ালের চামড়া মনে হয় শক্ত হতে হয় -হাসপাতালের দিনগুলোতে এমনটাই ধারণা হয়েছে মন্তাজের্। বড় ডাক্তার শুধু একদিন দেখে গেল। তারপর থেকে শুরু হল নার্সদের জুলুম। পঁচা জায়গা নিয়ে প্রতিদিন নাড়াচাড়া আর ঘুঁটাঘুঁটি।জ্বালাপোড়ায় চিৎকার দেয় মন্তাজ মিয়া। নার্সদের ধমকে চিৎকার থামাতে হয়। প্রতিদিন এমন কষ্টের মাঝে একদিন ডাক্তার এক টেস্ট দিয়ে গেল। টাকা পয়সার টানাটানি ।১৫-২০ দিন কাজ বন্ধ রেখে হাসপাতালে পড়ে থাকলে টাকা আসবে কোত্থেকে? তবু কুলসুম যেন কোথা থেকে টাকা নিয়ে আসল। ওহো বলাই হয়নি,কুলসুম মন্তাজ মিয়ার নাতনী। বয়স ১৮-১৯। মন্তাজ মিয়া ৬৫-৭০ বছরের বৃদ্ধ। পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। কমলাপুর বস্তিতে দুজনের কোনরকম চলে যায়।কুলসুম অন্যের বাসায় কাজ করতে চায়। কিন্তু মন্তাজ রাজী হয়নি। মিশনারী স্কুলে ফ্রী পড়েছে কুলসুম। স্কুল পাশ দেয়ার দিন কোথা থেকে খবরের লোক এসে হাজির্। মন্তাজ আর কুলসুমের ফটো তুলে নিয়ে যায়। মন্তাজের মত বস্তির সকলে বুঝতে পারে,কুলসুম শুধু পাশ দেয়নি,বড় পাশ দিয়েছে। তারপর ওই লোকগুলোই কুলসুমের কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়। বইও কিনে দেয়। মনে মনে গর্ব বোধ করে মন্তাজ। তাই সে চায় না কুলসুম অন্যের বাসায় কাজ করুক। মন্তাজের মন ডেকে বলে,তার নাতনী একদিন অনেক বড় কিছু হবে।সেদিন হয়ত মন্তাজ বেঁচে থাকবে না। ভাবতেই মন্তাজের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। না,নিজের মৃত্যুর কথা চিন্তা করে নয়। মা- বাপ হারানো কুলসুমের কথা ভেবে। সোনার চামচ মুখে দিয়ে না জন্ম নিলেও বেশ ভাল ঘরেই জন্ম নিয়েছিল কুলসুম। বাবা রশিদ ছিল বাজারের সবচেয়ে বড় মুদি দোকানী। একদিন রাত দুপুরে বাড়ি ফিরছিল। খাঁ বাড়ীতে ডাকাতি হচ্ছে বুঝতে পেরে চুপ থাকতে পারেনি। খাঁ বাড়ির লোকগুলোকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই বাড়ি ফিরল লাশ হয়ে। কুলসুমের মা ফরিদা কুলসুমকে নিয়ে যেন অথৈ জলে পড়লেন। শেখের ব্যাটা ভুয়া কাগজপাতি দিয়ে মুদি দোকানটা দখল করে নিল। অনেকদিন থেকেই লোভ ছিল ওটার উপর্। কিছুই করতে পারল না ফরিদা। রশিদ আর ফরিদা যেদিন পালিয়ে বিয়ে করেছিল সেদিন থেকেই শ্বশুরবাড়ি,বাবারবাড়ি বলে কিছু ছিল না ফরিদার্। অসহায় ফরিদা নতুন করে সেই সম্পর্ক খুঁজতে গেল না। পা রাখল শহরে। ঢাকা শহরের বাতাসে টাকা ওড়ে। কিন্তু এত উঁচুতে ওড়ে যে নীচতলার মানুষগুলোর তা ধরার সামর্থ নেই। হতাশ হয় ফরিদা। এখানে এসে অথৈ জল আরও অথৈ হয়। দারিদ্র্যের চেহারা ফরিদা বহুবার দেখেছে কিন্তু ক্ষুধার এত তীব্র কষ্ট ঢাকায় আসার আগে কখনোই করতে হয়নি। ধনী সম্প্রদায়ের ফরিদার দিকে ফিরে তাকাবার সময় নেই। অথচ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভিক্ষুক মন্তাজ। মন্তাজের কেউ নেই। ফরিদা,কুলসুম কে পেয়ে তাই মন্তাজ ভীষণ খুশি হয়। খুব সহজে রক্তের সম্পর্কের উর্ধ্বে উঠে ফরিদা হয়ে যায় মেয়ে আর স্বভাবতই কুলসুম নাতনী। দিনগুলো বেশ কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু এ সুখও বেশিদিন টিকল না কুলসুমের্।ফরিদা বস্তির পাশের এক গার্মেন্টস কর্মীর সাথে পালিয়ে গিয়ে ঘর পাতল। তাদের খোজ আর পাওয়া গেল না। মন্তাজ ভাবে, মেয়েটা একবারের জন্যও কি আসতে পারত না? মা কি কখনো এত নিষ্ঠুর হয়? এত অভাবের মাঝেও যখন কুলসুম মন্তাজের মেডিকেল টেস্টের জন্য নিজের বৃত্তির টাকা এনে দিল তখন মন্তাজের মনে হল,রক্তের টান ছাড়াও পৃথিবীতে কিছু অদৃশ্য টান আছে। এ টান যখন ওঠে তখন তা রক্তের টানকেও ছাপিয়ে যায়। টেস্ট রিপোর্টে মন্তাজের ডায়াবেটিস ধরা পড়ল। এ যেন গরীবের ঘোড়ারোগ। এতদিন মন্তাজ এই রোগ 'বড়লোকদের' রোগ বলে মনে করে এসেছে। ভোরে ভিক্ষার থালা নিয়ে বের হলে কিছু থলথলে ভুড়িওয়ালা কে দৌঁড়াতে দেখে তাদের জন্য একধরনের মায়া হত মন্তাজের্। চারপাশ থেকে শুনে শুনে এ দৌঁড়ের পেছনের রোগটা সম্পর্কে এমন ধারণাই হত তার্। মনে মনে খুশিও হত। "দেখ ,কেমন লাগে,মাইনষের ট্যাকা মাইরা খাইছস,তোরা তো চোর।পুলিশের দাবড়ানি খাস না সত্য,তয় ডায়বডিস রোগের দাবড়ানি ঠিকই খাইতাছস। কিন্তু এই রোগ নিজের ঘাড়ে এসে পড়ায় খুসি হতে পারল না মন্তাজ। ফর্সা গালের চশমাপরা ডাক্তার এসে বলল,"ডায়াবেটিক গ্যাংগ্রিন।" আগা মাথা কিছুই বুঝল না মন্তাজ মিয়া। নাতনী কুলসুম এসে দু'একবার নামটা বলেছিল,তবুও মনে রাখতে পারেনি। মনে মনে বিস্মিত হয়,"কি চমেৎকার বেরেন্ট এই ডাক্তার গো,কি চমেৎকার মাথা আমার কুলসুমের্।" ক্রমশ এই ভালোলাগা ফিকে হতে থাকে। সাদা কোটপরা কতগুলো বাচ্চা বাচ্চা ডাক্তার এসে পচা পা টা নিয়ে পরীক্ষা করে,একজনে পর আরেকজন। অসহ্য লাগে। "আমি থার ডিয়ারের ইসটুডেন,আপনারে পরীক্ষা করব,কুনো সমেস্যা নাই " শুনতে শুনতে মুখস্ত হয়ে গেছে,"আরে ব্যাটা সমেস্যা হবে কি হবেনা তুই কি জানস?কথার কি ছিরি!" এই জ্বালাও বুখ বুজে সহ্য করেছিল শুধু কুলসুমের মুখের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু যেদিন ডাক্তার সরাসরি বলল,পায়ের কিছু অংশ কেটে ফেলতে হবে,সেদিন আর সহ্য করতে পারল না সে,হাসপাতাল থেকে পালাল। তারপর থেকে সাদা কোট পরা লোক দেখলেই সেখান থেকে সটকে পড়ে মন্তাজ। হাসপাতাল পালানো তে কুলসুম অবশ্য অনেক রাগ করেছে। প্রতিদিন কানের কাছে সাইরেন বাজাতে থাকে। সাইরেন শুনে মন্তাজ ঘুমাতে যায়,সাইরেন শুনে ঘুম থেকে উঠে। তবু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেনা কুলসুম। তারপরও সে সুখে নেই। একদিকে পায়ের সমস্যা বেশ ভোগাচ্ছে।অন্যদিকে ডায়াবেটিসের নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে। প্রতিবেলা খাবার শেষে মন্তাজ একটা করে বাতাসা মুখে দিত। এখন সেটাও বন্ধ। কুলসুমের কড়া নির্দেশ। কোন মিষ্টি খাওয়া যাবেনা। মন্তাজের সঙ্গী সাথীদেরও বলে আসে কুলসুম,"ও ভুলুনানা,দেইখ তো আমার নানা যেন মিষ্টি না খায় ,নানার কিন্তু ডায়াবেটিস।" নিষেধের দেয়ালে ছিদ্র সবাই খোঁজে। মন্তাজও ফাঁক ফোকর খুঁজতে থাকে। ডায়াবেটিস হওয়ার পর মিষ্টির প্রতি লোভ আরও বেড়ে গেছে। "ও বুজি দে না এক খান বাতসা,খাই।" মন্তাজ কুলসুম কে আদর করে বুজি বলে ডাকে। আদরের ডাক গলাতে পারেনা কুলসুমের মন। কুলসুম যখন রেগে যায় তার ফর্সা গালে লাল আভা ফুটে ওঠে। "বুইড়া কইলাম না,মিষ্টি খাওয়া যাবেনা?" মন্তাজ বুঝে কুলসুমকে রাগিয়ে তার লাভ নেই। তাই সে কুলসুমের মান ভাঙাতে বলে,"এত তাড়াতাড়ি শ্বশুরবাড়িতে গিয়া উঠবার চাস,বুজি?" এমন কথায় কুলসুমের রাগ উবে যায়। লজ্জা পায় সে। নানা নাতনীর মান অভিমানের পালা চলতে চলতেই কুলসুম একদিন মাথার দিব্যি দিয়ে বসে,"মাথা ছুঁয়ে কিরা কাট নানা,নইলে সত্য সত্যই আমি বাড়ি ছাড়ব। নাতনীর জোরাজুরিতে মাথা ছুঁয়ে কিরা কাটে মন্তাজ। মিষ্টির জন্য হাহাকার করে ওঠে বুকটা তার্। আজ শরীরটা ভালো লাগছে না মন্তাজের্।দুর্বল লাগছে। রোদে বসে ভিক্ষা করতে মন চাইছে না। "ভুলু আইজ শরীলডায় বল পাইনা,আমি গ্যালাম,তুই থাক।" খোঁড়াতে খোঁড়াতে বস্তির দিকে রওয়ানা হয়। পথে পাড়ার পরিচিত কয়েকজন যুবক ছেলেকে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে নাচানাচি করতে দেখে মন্তাজ। প্যাকেট ছাপিয়ে বড় বড় রসগোল্লায় চোখ পড়ে তার্। নিজের অজান্তে নিচের ঠোঁটে জিহবা আশ্রয় পায়। মন্তাজের লোলুপ দৃষ্টির সাথে চোখে চোখে সাক্ষাত হয় এক যুবকের্।"কি বুইড়া দাদা,রসগোল্লা খাবেন নাকি?" একটা রসগোল্লা বাড়িয়ে দেয় মন্তাজের দিকে আর অন্যসব যুবকেরা অট্টহাসিতে মেতে ওঠে। চোখের সামনে রসগোল্লা দেখে জিভে জল আসে মন্তাজের,চোখ বড় বড় হয়। কুসুমের মাথার দিব্যি বা যুবকগুলোর তাচ্ছিল্যভরা হাসি কিছুই মাথায় আসে না তার্। কতকটা ছোঁ মারার ভঙ্গিতে রসগোল্লাটা নিয়েই মুখে পুরে দেয়। মুখ রসে ভরে যায়,"আহ কি স্বাদ,যেন,বেহেশতী চীজ।"হাতের রসটুকুও চেটেপুটে খায়। যুবকের দল থেকে একজন তাড়া দেয়,"চল বল্টু,এখনও অনেক জায়গায় মিষ্টি দিতে হবে,নেতার বাসায় তো এখনও যাওয়াই হয় নি।"যুবকের দল নাচতে নাচতে এগিয়ে যায়। কৃতজ্ঞতা নিয়ে তাকিয়ে থাকে মন্তাজ। পরক্ষনেই মনে পড়ে কুলসুমের কথা। কোনভাবেই জানতে দেয়া যাবেনা কুলসুমকে। রাস্তার পাশের কলের পানিতে ভাল করে মুখ ধুয়ে নেয় মন্তাজ। বস্তিতে ফিরতে ফিরতে বেশ কয়েকবার হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে মুখ মুছে নেয়। ঘরে ফিরে দেখে রাবেয়া বসে আছে,কুলসুমে বান্ধবী। মন্তাজ মনে মনে খুশি হয়,"যাক বাঁচা গেল,ঘরে ঢুইকাই কুলসুমরে দ্যাখলে সব তালগোল পাকায়া ফেলতাম।" কিন্তু "কুলসুম কই গেছে?" এই প্রশ্নের উত্তরে রাবেয়া যা বলে তাতে খুশি হতে পারেনা। "নানা,ও ময়নার মায়ের সাথে গেছে। ময়নার মা কুলসুমের মায়ের খোঁজ পাইছে,কোন হাসপাতালে আছে,কুলসুমরে একবার দেখবার চাইছে,সেইখানে ওরে নিয়া গেছে। " "ময়নার মা ফরিদার খোঁজ পাইছে?"- বিস্মিত হয় মন্তাজ,সাথে সাথে চিন্তিতও হয়। ময়নার মা খারাপ চরিত্রের মহিলা। তারে নিয়া বিশ্বাস নাই। তখন মসজিদ থেকে সন্ধ্যার আযান ভেসে আসছিল। কাটাবনের পাশে কুলসুমের ক্ষতবিক্ষত লাশ খুঁজে পায় মন্তাজ। ঠিক তখন নেতার বাসার পাশের মসজিদ থেকেও আযান ভেসে আসছিল। কয়েকটা শেয়ালের হুক্কা হুয়া ডাক শোনা যাচ্ছে।সে ডাক ছাপিয়ে আনন্দ করছে বল্টু আর তার সাঙ্গপাঙ্গ। ধর্ষণের অর্ধসেঞ্চুরী পুর্তিতে জীবনকে অর্ধেক সফল মনে হচ্ছে বল্টুর কাছে। সে আনন্দে আজ পুরো শহর মিষ্টি খাইয়েছে সে। রাতে নেতার বাসায় হুইস্কি পার্টি। পঞ্চাশ নম্বর পাখিটা সহজে ধরা দেয়নি। অনেক প্লান করতে হয়েছে কুলসুমকে বাগে আনতে,ময়নার মায়ের পিছনে অনেক মালপানি খসাতে হয়েছে। বস্তির সবার সামনে ময়নার মা স্বীকার করে টাকার লোভে সেই ফুসলিয়ে কুলসুমকে বল্টুর হাতে তুলে দেয়। মন্তাজ সেদিন জানতে পারে পাড়ার বল্টুর দেয়া রসগোল্লা কিসের মিষ্টি ছিল। গলার নালী আর পেট ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে তার । মন্তাজের পায়ের পচন বেড়েছে। ডায়াবেটিস লাগামহীন ঘোড়া। খাঁ খাঁ রোদে রাস্তায় বসে বেলা কাটে তার্। এখন আর সে মিষ্টি খায় না। মিষ্টির জন্য লোভও হয়না। মিষ্টিতে কুলসুমের রক্তের ঘ্রাণ পায় সে। মাঝে মধ্যে ডুকরে কেঁদে ওঠে আর চিৎকার করে ওঠে,"আমি তোর কাছে মিষ্টি খাইতে চাইছিলাম আর তুই এমনে খাওয়ায়লি?আমি তোর ইজ্জত খোয়ানো মিষ্টি খাইতে চাই নাই ,আমি তোর মরণের মিষ্টি খাইতে চাই নাই রে বুজি,বুজিরে তুই ফিরা আয়,আমি আর মিষ্টি খাইতে চামুনা,তুই ফিরা আয়। " বিশাল বিশ্বের ক্ষুদ্রতমস্থানে বৃদ্ধের এই আহাজারি,কান্না শোনার কেউ নেই। সূর্যের তেজ আরও বাড়ে,বুঝিয়ে দেয় প্রকৃতিরও আজ কান্নার সময় নেই। বৃদ্ধ মন্তাজের কান্নার সঙ্গী তখন কেবলই ল্যাম্পপোস্টে বসে থেকে থেকে করুণ সুরে ডেকে ওঠা নাম না জানা দুটি অচিন পাখি। (পরিশিষ্ট:আমি এই কাহিনী কে গল্প বলব না,কারণটা সবার জানা। ভাবতে অবাক লাগে,স্বাধীন বাংলার বুকে নারী সম্ভ্রম লুণ্ঠণের সেঞ্চুরী পূরণের সুখে মিষ্টি বিতরন করা হয় আর এ ন্যাক্কারজনক কাহিনীকে কীর্তি বলে আখ্যায়িত করে গলাবাজি করা হয়। আরও স্তব্ধ হয়ে যেতে হয় যখন ভাবি এগুলো কারা করে? বাংলার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত বিদ্যাপীঠ "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের" ছাত্র! আদৌ এরা ছাত্র?যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলায় সম্ভ্রমহানির ঘটনা যদি বর্ণনার অযোগ্য হয় তাহলে স্বাধীন বাংলার এই ঘটনা কি?রাজাকারের শাস্তি পেতে ৪২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে,এদের শাস্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবেনা,কারণ এদের শাস্তি কোনদিনও হবেনা। -লেখক )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিপোর্টকার্ডের মিষ্টি হুল
→ মিষ্টি বউ
→ মিষ্টি ভালোবাসা
→ স্বামী স্ত্রীর এক মিষ্টি প্রেমের গল্প
→ দুষ্টু মিষ্টি অভিমানে ঘেরা ভালোবাসা
→ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা
→ মিষ্টি ভালোবাসা
→ মিষ্টি বোন
→ ভূতের মিষ্টি
→ ঝাল-মিষ্টি-টক এই নিয়েই স্কুল জীবন
→ মিষ্টি ছোট্টপরী ৩
→ মিষ্টি ছোট্টপরী ২
→ মিষ্টি ছোট্টপরী ১
→ "মিষ্টি ভালোবাসা"
→ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now