বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-২৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-২৪) ------------ এসাইনমেন্টে থাকলে সাইফের চিরকেলে অভ্যেস- রুম থেকে বেরোবার আগে দরজার ফাঁকে একটা চুল গুঁজে রেখে যায়। এতদিন চুলটা জায়গামত পেলেও আজ সেটাকে যথাস্থানে দেখা যাচ্ছে না। চুলটা এমনভাবে সেট করা ছিল দরজা না খুললে পড়ে যাবার উপায় নেই। সাইফ করিডরের দু’পাশটা চকিতে দেখে নিল; দেখা যাচ্ছে না কাউকে। ডেজার্ট ঈগল সাথে নিয়ে বেরোয়নি ‘নাইল’-এ যাবে বলে। সতর্কতার সাথে দরজার নবে হাত রাখল। বড় করে দম এক ঝটকায় দরজা খুলেই শরীরটা গলিয়ে দিল ভেতরে। কাভার নিল কাবার্ডের আড়ালে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে না। উঠে দাঁড়িয়ে গোটা রুমে চোখ বোলালো। আস্তে আস্তে সার্চ শুরু করল। পুরো রুমে সার্চ করেও কোনো অসামঞ্জস্য ধরা পড়ল না, কিছু খোয়াও যায়নি। তবে কেন এসেছিল অবাঞ্চিত অতিথী? একটাই উদ্দেশ্য থাকতে পারে... আইডিয়াটা মাথায় আসতেই আবার সার্চ শুরু করল। অবশেষে ইন্টারকমের রিসিভার খুলতেই খোঁজ পাওয়া গেল ওটার। ক্ষুদে মাইক্রোফোনটা দেখেই ক্রুর হাসি ফুটে উঠল সাইফের ঠোটের কোণে। মাইক্রোফোনটা ইন্টারকমের পাশে রেখেই সুমাইয়াকে ডাকতে গেল ওর রুমে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সুমাইয়াকে নিয়ে ফিরে এল সাইফ। মুখোমুখি বসল সোফাতে। মুখ খুলল সাইফ। ‘ট্রেজার যেহেতু পেয়ে গেছি আপনাদের আর কষ্ট দেব না। আপনারা কাল বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। আমি রাতে ট্রেজার নিয়ে রওনা হব।’ সুমাইয়া কিছু বলত যাচ্ছিল সাইফ কথা ঘুরিয়ে ফেলল। আরো টুকটাক দু একট কথা বলে মেয়েটাকে রুমে ফিরিয়ে দিয়ে এল। টোপ ফেলা হয়ে গেছে, এবার শিকারের অপেক্ষা! *** সেদিন দুপুরে। অডিও ক্লিপটা মনোযোগ দিয়ে শুনল শাইলক। পাশেই বসে আছে ইউরি কোলম্যান, দরজার কাছে দেহরক্ষীর ভঙ্গিমায় বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে মোবারক। সেদিকে একবার তাকিয়ে তাচ্ছিল্য ভরে হেসেছে শাইলক। ‘ট্রেজার পেয়ে গেছে ওরা।’ যেন খবর দিল শাইলককে ইউরি। ‘হু্ম, এবং ট্রেজার বের করে নিয়ে যাবার প্ল্যানও করে ফেলেছে।’ ‘কীভাবে, বুঝতে পারছো কিছু?’ ‘অবশ্যই সমূদ্রপথে। এয়ারপোর্টে ট্রেজার নিয়ে যাবার বোকামি করবে না সাইফ। হোটেলে আমাদের এজেন্টকে সতর্ক করে দিন, সাইফের প্রতিটা মুভমেন্টের খবর আমার চাই। বিশেষ করে চেক আউট করামাত্রই যেন আমি জানতে পারি। আর কয়েকজন দক্ষ লোককে স্ট্যান্ডবাই রাখুন। রাস্তার গুন্ডাপান্ডা না হলেই ভাল!’ খোঁচাটা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোবারকের ভালই লাগল। ইউরির মুখটাও মুহূর্তের জন্য কালো হয়ে গেল। কিন্তু শাইলকের উপর দিয়ে কথা বলার সাহস তার নেই। মোসাদের এই দুর্দান্ত এজেন্ট কাউকে গোণায় ধরে না। এমনকি মোসাদ চিফের রুমেও যখন তখন ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে সদ্যই যে এসাইনমেন্ট শেষ করে এল, এরপর থেকে তার প্রতি সবার সমীহ আরো কয়েক কাটি বেড়েছে। আইজ্যাক কোহেন কিলিং মিশনটা ছিল এক কথায় সুইসাইড মিশন। ‘আর সুয়েজ ক্যানেলে একটা শক্তিশালী বোট চাই, এমুনিশন সহ।’ চাহিদা জানান দিল শাইলক। ‘থাকবে। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, সাইফ নিশ্চয়ই একা একা ট্রেজার বের করে নিয়ে যেতে পারবে না। বিশ্বস্ত লোক লাগবে অবশ্যই। কোথায় পাবে সেটা?’ প্রশ্ন করল ইউরি। ‘এই একটা প্রশ্নের উত্তর আমিও খুঁজে চলেছি অনেকক্ষণ ধরে।‘ চিন্তিত দেখাল শাইলককে। *** পরদিন। আজই মিশরে শেষ রাত সাইফের জন্য। সন্ধ্যা ঘনাতেই ডিনার সেরে নিল ধীরে সুস্থে। দিনের বেলাতেই সুমাইয়া আর শেইখ সালাহউদ্দীনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। ডিনার শেষ হতে না হতেই আকিল হাসানের কল এল সাইফের ফোনে। জানাল, নিচে গাড়ি নিয়ে পৌঁছে গেছে সে। শেষবারের মত রুমে চোখ বুলিয়ে নিল সাইফ। কেমন একটা মায়া পড়ে গেছে রুমটার প্রতি। সব কিছু চেক করে বেরিয়ে এল। চেক আউট করে ড্রাইভওয়েতে পা রাখতেই আকিলকে দেখা গেল একটা কালো রেঞ্জ রোভার নিয়ে অপেক্ষা করছে ওর জন্য। সাইফকে আসোতে দেখেই দরজা খুলে দিল। ‘এখন মিস সুমাইয়ার বাড়িতে যাব?’ ‘হ্যাঁ।’ ছোট্ট করে জবাব দিল সাইফ। গাড়ি ছেড়ে দিল আকিল। সন্ধ্যা থেকেই ঘুরঘুর করছিল এক লোক হোটেলের ড্রাইভয়েতে। গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে একটা ক্ষুদে বিপার লাগিয়ে দিতে তেমন অসুবিধায় পড়তে হয়নি তাকে। গাড়ি স্টার্ট দিতেই একটিভ হল সেটা। আধমাইল পেছনে থাকা শাইলকের রিসিভারে স্পষ্টই জানিয়ে দিল সাইফের গাড়ির অবস্থান। দূরত্ব না কমিয়েই ড্রাইভারকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিল শাইলক। মিনিট বিশেক পরেই সাইফের গাড়ি শেইখ সালাহউদ্দীনের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। এখানে কিছু সময় গেল বিদায় পর্বে। সুমাইয়াকে যতটা মনে করেছিল মেয়েটা নিজেকে তার চাইতেও শক্ত প্রমাণ করল। কান্নাকাটি ছাড়াই বাপকে বিদায় জানাল, অথবা ও পর্ব আগেই সেরে নিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজন আরোহীকে নিয়ে গাড়িটা শহর ছেড়ে বেরিয়ে এল। হাইওয়ে ধরে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলল কিছুক্ষণ। কিছুদুর যাবার পরই দুটো ট্রাককে থেমে থাকতে দেখা গেল রাস্তার পাশে। গাড়ি থামিয়ে দিল আকিল। ট্রাক দুটোর একটা খালি, আরেকটাতে পোর্টেবল ক্রেন বসানো রিয়েছে একটা। দুটো ট্রাকেই দুজন করে আরোহী। ‘অল ওকে?’ গলা উঁচিয়ে প্রশ্ন করল সাইফ। ‘ইয়েস বস!’ লোকগুলো তেমন কোনো কারণ ছাড়াই সাইফকে বস বলে ডাকা শুরু করেছে। মাত্র একদিনের পরিচয়েই ওকে দারুণ পছন্দ করে ফেলেছে কঠোর এই মানুষগুলো। ‘আল্লাহর নাম নিয়ে তবে যাত্রা শুরু করা যাক।’ খানিকবাদেই গাড়ির ছোট্ট বহরটা রওনা হয়ে গেল ধ্বংসপ্রায় পিরামিডটার উদ্দেশ্যে। পাক্কা এক ঘন্টা লাগল গন্তব্যে পৌছতে। জায়গামত পৌছেই ঝুঁকি থাকা সত্বেও ট্রাকের ব্যাটারির সাহায্যে দুটো শক্তিশালী লাইট জ্বালানো হল। একটা লাইট বড় কেবলের সাহায্যে পাঠিয়ে দেয়া হল পিরামিডের অভ্যন্তরে ট্রেজাররুমে। বাকিটা বাইরেই থাকল। ক্রেনের দায়িত্বে আবু গায়াসিকে রেখে সুমাইয়া বাদে বাকিরা ঢুকে পড়ল ভেতরে। এই পাঁচজনের কাজ ট্রেজাররুম থেকে বাক্সগুলো প্রবেশপথের নিচে এনে রাখা, আবু গায়াসি ক্রেনের সাহায্যে সেটা তুলে রাখবে খালি ট্রাকটায়। সোনার মত ভারী ধাতুর কারণে বাক্সগুলো জগদ্দল পাথরের মতই ভারী। পাঁচজন শক্তিশালী মানুষেরও কালঘাম ছুটে যাচ্ছে! এক ঘন্টার বেশি লেগে গেল ছয়টা বাক্স ট্রাকে ওঠাতে। খানিক বিশ্রাম নিয়ে তেরপল দিয়ে বাক্সগুলো বাঁধতে বাঁধতে আরো আধঘন্টা। ক্রেনের কাজ শেষ, সেই সাথে আবু গায়াসিরও। ক্রেন বসানো ট্রাকটা নিয়ে ফিরে যেতে হবে ওকে। মন খারাপ হয়েছে বেচারার, বোঝাই যাচ্ছে। তবে কাউকে না কাউকে তো কাজটা করতেই হবে, মেনে নিয়েছে সে। আবু গায়াসির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম আর বাদরু আজিজি উঠে পড়ল ট্রেজার ভর্তি ট্রাকে। বাকিরা রেঞ্জ রোভারে। রওনা হয়ে গেল সুয়েজ ক্যানেলের উদ্দেশ্যে। দূরত্ব ১২৮ কিলোমিটার। ঠিক সেই মুহূর্তেই নড়ে উঠল কিছুটা সামনে এগিয়ে থাকা শাইলকের গাড়িটা। সেই সাথে শুরু হয়ে গেল অঘোষিত যুদ্ধটাও। ---------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-২৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now