বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(পর্ব- ২৩)
----------
পনেরো
দেঁতো হাসি হাসতে থাকা খালি বাক্সটার দিকে
তাকিয়ে বসে পড়তে খুব ইচ্ছে হল সাইফের। এতটা
হতাশ এর আগে কখনও হয়নি। হয়ত বসেই পড়ত যদি না
পাশ থেকে সুমাইয়ার আতকে ওঠার অস্ফুট
আওয়াজটা না শুনত। সাইফের দেখাদেখি সুমাইয়াও
পাশের বাক্সটা খুলে ফেলেছে। সে বাক্সের
দিকে তাকিয়ে দম বন্ধ হবার যোগাড় হল সাইফের। এ
বাক্সটা অপেক্ষা করছিল রাজ্যের যত বিস্ময় নিয়ে।
বিপুল ঐশ্বর্যের বিস্ময়। ফারাও রাজার ট্রেজার!
কয়েক মুহূর্ত নিজের দৃষ্টির উপর আস্থা আনতে পারল
না সাইফ। মস্তিষ্ক স্থবির হয়ে পড়েছে আকস্মিক
আবিষ্কারে। হয়ত চরম হতাশার পর সাফল্য এমনই
অবিশ্বাস্য মনে হয়। উত্তেজনায় সাইফ আগে লক্ষ্যই
করেনি মাঝের বাক্সটা মূলত খালিই থাকার কথা।
কারণ এই বাক্সটায় যে মমি ছিল সেটা এখন শোভা
পাচ্ছে বাইরের রুমের কফিনে।
‘ওফ খোদা!’ বলে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল সাইফ। আরো
কিছুক্ষণ পর নড়াচড়ার শক্তি অর্জন করতে পারল।
পাগলের মত একে একে বাকি ছয়টা বাক্সের ডালা
খুলল। প্রতিটা বাক্সই স্বস্তির শিতল পরশ বুলিয়ে
গেল। প্রতিটাই কানায় কানায় পূর্ণ। ফ্ল্যাশ লাইটের
আলোয় দ্যুতি ছড়াচ্ছে কাঁচা সোনা, নাম না জানা
শত রত্ন! পেয়ে গেছে সাইফ সহস্রপ্রাচীন গুপ্তধনের
সন্ধান।
দম বন্ধ করা সৌন্দর্যে দুজনেই নির্বাক তাকিয়ে
আছে খোলা ছয়টা বাক্সের দিকে।
‘ক...কংগ্রাচুলেশনস।’ নীরবতা ভাঙল সুমাইয়া।
‘থ্যাংক ইউ।’
‘ওয়েলকাম!’
‘এগুলোর দাম কত?!’
‘আন্দাজ করতেও ভয় হচ্ছে! শুধু সোনা আর রত্নের
বাজার মূল্যই হবে কয়েক বিলিয়ন ডলার, সেই সাথে
অ্যান্টিক ভ্যালু যুক্ত হয়ে এগুলোকে অমূল্য করে
তুলেছে।’
দুজনের কেউই চোখ সরাতে পারছে না বাক্সগুলো
থেকে। নিজেকে ফিরে পেল সাইফই আগে। আস্তে
করে এগিয়ে গেল একটা বাক্সের দিকে। ব্ল্যাক
ডায়মন্ডের একটা অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর আঙটি
অনেকক্ষণ ধরেই ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। হাত
বাড়িয়ে তুলে নিল ওটা সাইফ। ফিরে এল সুমাইয়ার
পাশে। মেয়েটার হাত তুলে নিয়ে অনামিকায়
আঙটিটা পরিয়ে দেবার পরই মেয়েটার ঘোর কাটল।
‘এটা কী করছেন?’ বলে হাত থেকে আঙটিটা খুলে
ফেলতে গেল সুমাইয়া।
‘ভয় পাবার কিছু নেই, ওটা এঙ্গেজমেন্ট রিং না!’
লজ্জায় রাঙা হল সুমাইয়া। ফ্ল্যাশ লাইটের
আলোতেও নজর এড়াল না সাইফের।
‘কিন্তু... এটা আমি নিতে পারি না।’
‘অবশ্যই নিতে পারেন না। আপনি সেটা করেননিও,
আমি দিয়েছি। ছোট্ট একটা উপহার বলতে পারেন।’
‘কিসের জন্য?’
‘এতক্ষণ ধরে খাড়া আছেন তাই!’ ফিচেল হাসি হাসল
সাইফ।
আবারও রাঙা হল মেয়েটার মুখ। এবার সম্ভবত রাগে।
রেগেমেগে কিছু বলতে যাবার আগেই সাইফ প্রসঙ্গ
পাল্টাল, ‘এখন বেরুতে হবে এখান থেকে। মোসাদ
আমাদের হারিয়ে ফেললেও যদি সন্দেহের বশে
এখানে চলে আসে তাহলে সব শেষ।’
সাইফ এগিয়ে গিয়ে সবগুলো বাক্সের ডালা বন্ধ
করে দিয়ে রুমটা থেকে বেরিয়ে এল। মশালে আগুন
দিতেই পুনরাবৃত্তি ঘটল ঘটনার। তর্জন-গর্জন আর
কাঁপুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল দরজা। এরপর বহু খুজেও
সাইফ বুঝতেও পারল না, দরজাটা আসলে কোথায়
ছিল!
***
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল সাইফের।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক হল। এখন খুব ভোর।
আরেকটু পরই সূর্য উঠবে। এ সময় কে আসবে? সতর্ক
হবার প্রয়োজনবোধ করল সাইফ। বালিশের নিচ
থেকে ডেজার্ট ঈগলটা বের করে হাতে নিল। পা
টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে চোখ রাখল পিপহোলে।
ওপাশে সুমাইয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে
যারপরনাই বিস্মিত হতে হল ওকে। মেয়েটার
চেহারায় দুশ্চিন্তার সামান্য ছাপ থাকলেও মনে
হচ্ছে না কেউ আড়াল থেকে পিস্তল ধরে ওকে
দরজায় নক করাতে বাধ্য করেছে। দরজা খুল দিল
সাইফ।
‘আপনি?’
‘আপনার সাথে কথা আছে।’
সাইফ কথা না বলে দরজা ছেড়ে দিল। ভেতরে ঢুকে
মুখোমুখি সোফায় বসল দুজনে।
‘আপনি কি চলে যাবেন?’ প্রথমে সুমাইয়াই কথা
বলল।
‘নাহ, ভাবছি ট্রেজার বিক্রি করে কফিশপ দেব
একটা, চলবে না?!’ সুমিয়াকে কটমট করে তাকাতে
দেখে রসিকতা তুলে রাখল সাইফ। ‘চলে তো যেতেই
হবে। যে জন্য এসেছিলাম সেটা পেয়ে গেছি।
আমার দেশ অপেক্ষা করে আছে আমার জন্য।’
‘আমিও যাব।’
হাই আসছিল একটা, সুমাইয়ার কথা শুনে ওটা বন্ধ হয়ে
গেল।
‘কোথায় যাবেন?!’
‘বাংলাদেশে।’
রসিকতা করে কিছু বলতে গিয়েও বলল না সাইফ।
‘কেন, জানতে পারি?’ গম্ভীর হয়ে গেছে।
‘আমি আপনাদের সিক্রেট সার্ভিসের জন্য কাজ
করতে চাই।’
‘এ ক’দিন আমার সাথে থেকেও বোঝেননি কাজটা
কী পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ? যদি না বুঝে থাকেন তাহলে
বলি, বিপদের কিছুই আপনি দেখেননি। বিপদ সামনে
আসছে। মোসাদ তার মরণকামড় বসাবে এবার।’
‘হ্যাঁ, বুঝেছি, আর বুঝেছি বলেই আমি আপনাদের
সাথে কাজ করতে চাচ্ছি। আমি জার্নালিজমে
পড়েছি এই একটা কারণেই। আমি ঝুঁকি নিতে পছন্দ
করি।’
‘ম্যাম, জার্নালিজম আর স্পাইগিরির মধ্যে পার্থক্য
আছে। এর জন্য কঠোর ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে যেতে
হয় একজন মানুষকে।’
‘বেশ তো, আমিও ট্রেনিং নেব। মায়ের পেট থেকে
তো আর নিশ্চয়ই কেউ এসব শিখে আসে না। আর
ঝুঁকির কথা বলছেন? গৃহিণীরা কি গ্যাস সিলিন্ডার
বিস্ফোরণে রান্নাঘরে বসে মারা যায় না?’
অকাট্য যুক্তি! সাইফ খানিকটা ভাবার অবকাশ পেল।
মেয়েটাকে এখানে একা রেখে যাওয়াতে
মোসাদের তরফ থেকে বিপদের ভয়ও থাকবে।
‘ভিসা?’
‘তিনমাসের টুরিস্ট ভিসা পেয়েছি। আপাতত আগে
যাই, পরেরটা পরে দেখা যাবে।’
‘ভিসা পেয়েছেন মানে?’
‘সিদ্ধান্তটা তো আর আজই নিইনি!’
‘আপনার বাবা রাজি হবেন না।’
‘ও দায়িত্ব আমার!’ বলেই মুচকি হাসি দিয়ে উঠে
গেল মেয়েটা। যেন সিদ্ধান্ত জানিয়ে গেল- আমি
যাচ্ছি!
ষোল
কর্নেল আজহার চৌধুরী বরাবরই গম্ভীর প্রকৃতির
মানুষ হলেও তার চেহারায় দুঃশ্চিন্তার ছাপ কখনও
তেমন একটা চোখে পড়েনি জাফরের। কিন্তু গত
কয়েকদিন ধরে সেটাই দেখতে হচ্ছে তাকে। সাইফ
হাসান সেদিন বাড়িতে আসার পর থেকেই
দুঃশ্চিন্তার মুখোশ পাকাপাকি এঁটে বসেছে
কর্নেলের মুখে। খাবার যেভাবে কর্নেলের রুমে
নিয়ে যায় প্রায় সেভাবেই পরেরবেলায় ফেরত
আনতে হইয়। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সব কিছু
বদলে যেতে লাগল। কর্ণেলকে অনেকদিন পর বেশ
উৎফুল্ল মনে হল। সে রাতেরই গভীরে একটা গাড়ি
এসে থামল কর্নেলের বাড়ির দরজায়। চারজন আগন্তুক
নিয়ে কর্নেল রুদ্ধদ্বার মিটিং-এ বসলেন। শেষ
রাতে বিদায় নিল রহস্যময় আগন্তুকরা।
সতেরো
নাইল শিপিং করপোরেশনের বহুতল ভবনের সামনে
এসে ট্যাক্সি দাঁড়াতেই হকচকিয়ে গেল সাইফ।
ট্রেজার পাবার পরই সবচাইতে বড় চিন্তা ছিল
ওগুলোকে এখান থেকে বের করে বাংলাদেশে
নিয়ে যাওয়া। বলাই বাহুল্য কাজটা করতে হবে
সমূদ্রপথে। কিন্তু এই বিদেশ বিভূঁইতে জাহাজ পাবে
কোথায় সাইফ? ঠিক সেই মুহূর্তে ওর মনে পড়ে
আহমাদ হোসেনের কথা। লোকটাকে বাঁচিয়েছিল ও
হোটেল হিলটনে তার পার্টনারের হাত থেকে।
লোকটা নিজের কার্ড দিয়েছিল সাইফকে। যদিও
ব্যস্ততার কারণে দেখা হয়নি কিন্তু সাইফের মনে
ছিল লোকটা একজন ব্যবসায়ী, অনুরোধ করলে হয়ত
জাহাজের একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারবে। খুঁজে
পেতে কার্ডটা বের করে চোখ বোলাতেই হতভম্ব
হয়ে যায় সাইফ। লেখা ছিল :
আহমাদ হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, নাইল শিপিং করপোরেশন
মেঘ না চাইতেও একেবারে টর্নেডো টাইপ ব্যাপার!
সকাল হতেই নাইল শিপিং করপোরেশনের উদ্দেশ্যে
বের হয়ে পড়ে সাইফ। এখানে এসে দ্বিতীয়বারের
মত হকচকিয়ে গেছে নাইল শিপিং করপোরেশনের
বিশালতা উপলব্ধি করে। ট্যাক্সিকে শুধু নাম
বলাতেই চিনে ফেলায় ওর ধারণ ছিল কোম্পানিটা
বেশ প্রসিদ্ধ হবে, এতটা হবে ভাবেনি।
নাইল মিশরের সবচাইতে বড় শিপিং
করপোরেশনগুলোর অন্যতম। গোটা পৃথিবীর প্রায়
প্রতিটা সমূদ্রপথে ভেসে বেড়াচ্ছে নাইলের
কয়েকশো জলযান। নাইলের বহরে রয়েছে বিলাসবহূল
ইয়ট থেকে শুরু করে বিশালাকৃতির সুপার ট্যাংকার
পর্যন্ত।
ট্যাক্সি ভাড়া মিটিয়ে বিশাল ভবনটার দিকে
এগোলো সাইফ। সিকিউরিটি বেশ কড়া। পুরো দস্তুর
সার্চ করা হল ওকে, এরপর অনুমতি মিলল ভেতরে
যাবার। সাইফ সোজা রিসিপশনে চলে এল।
‘হাউ মে আই হেল্প ইউ স্যর?’ কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে
সুন্দরী রিসিপশনিস্ট জানতে চাইল।
‘আমি সাইফ হাসান। আহমাদ হোসেনের সাথে দেখা
করতে চাই।’
খটখট শব্দে ল্যাপটপের কীবোর্ড চেপে মেয়েটা
বলল, ‘দুঃখিত স্যর, আপনার এপয়েন্টমেন্ট নেই
দেখতে পাচ্ছি।’
‘নেই। তবে ব্যাপারটা খুব জরুরি।’
‘সরি, স্যর।‘ বলেই আবার ল্যাপটপে মনোযোগ দিল
মেয়েটা।
‘এক্সকিউজ মি, আমি জানি এভাবে অনুরোধ করা
ঠিক হচ্ছে না, তবে আমি একটা নোট লিখে দিচ্ছি
আপনি দয়া করে সেটা তাঁকে পৌঁছবার ব্যবস্থা করুন।
এরপরও তিনি দেখা করতে রাজি না হলে আমি চলে
যাব।’
‘দুঃখিত সেটাও সম্ভব না। স্যর মিটিং-এ আছেন।’
এবার বেশ রুষ্ট শোনাল মেয়েটার গলা।
‘আপনার বস হেঁটে হেঁটে মিটিং করেন জেনে ভাল
লাগল!’
‘সরি?!’
সাইফকে কিছু বলতে হল না। মেয়েটা সাইফের দৃষ্টি
অনুসরণ করেই জবাব পেয়ে গেল। নাইল শিপিং
করপোরেশনের কর্ণধার সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছেন!
মিথ্যে ধরা পড়ে যাওয়ায় লজ্জা পেলেও সেটা
তেমন স্থায়ী হল না। পরের দৃশ্যটা তাকে রীতিমত
চমকে দিল। তাদের রাশভারী মালিক সাইফকে
দেখে প্রায় বাচ্চা ছেলের মত দৌড়ে এলেন।
বাল্যকালের বন্ধুর মত জাপটে ধরলেন পরিবেশ ভুলে।
এরপর হড়বড় করে কিছু কথা বলে প্রায় বগলদাবা করে
নিয়ে চললেন উপরে।
সাইফ যেতে যেতে একবার ফিরে তাকাল
রিসিপশনিস্টের দিকে। মেয়েটা দু’চোখে নীরব
আকুতি নিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। মুচকি হেসে
সাইফ বুঝিয়ে দিল, ভয় নেই, মেয়ে, আমি নালিশ
করব না তোমার নামে!
***
সাইফের প্রবল আপত্তি সত্বেও আপ্যায়নের বিরাট
আয়োজন করা হল, সাইফ সেসব গলধঃকরণ করার আগ
পর্যন্ত কিছু শুনতে রাজি নন আহমাদ হোসেন। অতঃপর
গলা পর্যন্ত নাস্তা করে এখন কফি নিয়ে বসেছে
দু’জন। কফি খেতে খেতেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব বলল
সাইফ, কোনো রাখঢাক না করেই। এই মানুষটার
সাহায্য তার খুবই প্রয়োজন। চাইলে অন্য কোথাও
টাকা দিয়ে সার্ভিস পাওয়া যাবে কিন্তু
বিশ্বস্ততা নয়, যেটা দিতে পারবে আহমাদ হোসেন।
আর তার জন্য সব কিছু খুলে বলার বিকল্প নেই।
‘আমি গর্ববোধ করছি আপনি সবার আগে আমাকে
স্বরণ করেছেন দেখে। এখন বলুন আমি ঠিক কী
সাহায্য করতে পারি।’ সব শোনা হতে মুখ খুললেন
আহমাদ হোসেন।
‘আমি একটা প্ল্যান দাঁড় করিয়েছি ট্রেজার বের
করে নিয়ে যাবার জন্য। আমি সেটা আপনাকে
বলছি, শুনলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কতটুকু
করতে পারবেন আমার জন্য।’ প্ল্যানটা খুলে বলল
সাইফ।
‘জাহাজের ব্যাপার নিয়ে টেনশন করতে হবে না
সেটা তো বুঝতেই পারছেন। লোকবলও আমি যোগাড়
করে পারব। কতজন দরকার আপনার?’
‘চার পাঁচজন। তবে সবাইকে অবশ্যই বিশ্বস্ত হতে
হবে।’
‘সে আর বলতে। এরা আমার কোম্পানির
সিকিউরিটির লোক। আমার কথায় জীবন দিতে এবং
নিতেও পারে। দাঁড়ান এখনই পরিচয় করিয়ে দেয়া
যাক।’ ইন্টারকম তুলে নিলেন আহমাদ হোসেন। কাকে
যেন দু’একটা নির্দেশ দিলেন। কয়েক মিনিটের
মধ্যেই রুমের দরজায় টোকা পড়ল।
‘কাম ইন।’
দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল পাঁচজন লোক। পরনে
ইউনিফরম। শক্ত সমর্থ গড়ন। একজন বাদে বাকিদের
বয়স ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ। বাকিজন বোধহয় চল্লিশ
পার করেছে। বোঝা যাচ্ছে সেই দলনেতা। সাইফের
ধারণাই সত্যি হল। পরিচয় করিয়ে দিলেন আহমাদ
হোসেন।
‘ও আকিল হাসান, আমার সিকিউরিট ইনচার্জ। এক্স
আর্মিম্যান। আর ও আনোয়ার ইব্রাহিম, বাদরু
আজিজি, আবু গায়াসি, আর জাহী হামাদি।’ একে
একে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন আহমাদ
হোসেন। এরপর সাইফের পরিচয় দিলেন বাকিদের
কাছে। সাইফের মেজর পরিচয় ওদের চেহারায়
সমীহের ভাব এনে দিল।
পরিচয় পর্ব শেষ হতে সাইফের আগমনের উদ্দেশ্য
এবং পরবর্তী পরিকল্পনা সংক্ষেপে খুলে বললেন
আহমাদ হোসেন।
আধঘন্টা পর মুখে স্বস্তির ছাপ নিয়ে বেরিয়ে এক
সাইফ নাইল শিপিং করপোরেশনের অতিকায় ভবন
থেকে।
***
সাইফ যখন হোটেলে প্রবেশ করছে ঠিক সেই মুহূর্তে
কেউ একজন সন্তর্পণে বেরিয়ে এল সাইফের রুম
থেকে। লোকটা এইমাত্র ওর রুমে একটা শক্তিশালী
মাইক্রোফোন বসিয়ে গেল। এর পেছনে রয়েছে
মোসাদের টপ এজেন্ট শাইলকের পরোক্ষ নির্দেশ।
আমেরিকা থেকেই সরাসরি কায়রো চলে এসেছে
শাইলক। ইউরিও চলে এসেছে কায়রো। তার কাছেই
পুরো এসাইনমেন্টের ব্রিফিং পেয়েছে সে।
পুরো ঘটনা ইউরির মুখে শোনার পর শাইলকের প্রথম
কথা ছিল, ‘গোটা ব্যাপারটাই ভুলে ভরা। প্রথম ভুল,
সাইফ আর ওই মেয়েটাকে কিডন্যাপ করে নিজেদের
অস্তিত্ব জানান দেয়া। দ্বিতীয় ভুল, মেয়েটাকে
আবারও কিডন্যাপের চেষ্টা করা। এবং তৃতীয় ভুল,
সাইফের পেছনে ফেউ লাগানো। এই তিনটা ভুলের
কারণে সাইফ আমাদের পরিচয় আর উদ্দেশ্য জেনে
ফেলেছে। ফলে এখন ও আগের চাইতেও অনেক বেশি
সতর্ক। অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ট্রেজার ছিনিয়ে
নেবার অবস্থানে আমরা আর নেই।’
লজ্জা পেল ইউরি। ডেক্স ওয়ার্কার আর ফিল্ড
এজেন্টের পার্থক্য পরিষ্কার ধরতে পারছে।
‘এখন তাহলে কী করার?’
‘ওর রুমে ছাড়পোকা বসাবার ব্যবস্থা করুন।
----------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now