বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(পর্ব-২২)
-----------
***
সন্ধ্যায় হোটেল থেকে বের হবার পর থেকেই
সুমাইয়া লক্ষ্য করেছে সাইফ ঘন ঘন তাকাচ্ছে
রিয়ারভিউ মিররের দিকে। মুখের ভাব দেখে কিছুই
বোঝা যাচ্ছে না। যেন পাথর কুঁদে বানানো একটা
ভাষ্কর্য গাড়ি চালাচ্ছে। এক পর্যায়ে অস্থিরতা
চেপে রাখতে ব্যর্থ হল সুমাইয়া।
‘বারবার রিয়ারভিউ মিররে কী দেখছেন?’
‘আমাদের ফলো করা হচ্ছে।’ নির্বিকার ভঙ্গিতে
বলল সাইফ। ফলো করা হচ্ছে শুনে যতটা না তার
চাইতে বেশি সাইফের নির্লিপ্ততা দেখে অবাক হল
সুমাইয়া।
‘তারমানে এখন আমরা মরুভূমিতে যেতে পারছি না,
তাই তো?’
‘সেটা কখন বললাম?’
‘পেছনে লেজ নিয়ে যাবেন?’
কথা না বলে মুচকি হাসল সাইফ। সুমাইয়ার দেখে
অবশ্য নিষ্ঠুরই মনে হলে হল হাসিটা!
ঘ্যাঁচ করে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে ব্রেক কষল
সাইফ। চোখ কপালে তুলে ওর দিকে তাকাল
সুমাইয়া।
‘আপনি কি এখন খাবেন?’
‘মিশরের রেস্টুরেন্টে কি খাওয়া ছাড়া অন্য কাজও
করা যায়? জানতাম না তো!’
‘আপনি গিয়ে খেয়ে আসুন, আমার গলা দিয়ে নামবে
না কিছু।’
‘নামাতে হবে। এমন ভাব করুন যেন আমরা সদ্য প্রেমে
পড়া যুগল ডেট করতে এসেছি!’ সাইফ নেমে পড়ল
গাড়ি থেকে। এগিয়ে এসে খুলে দিল সুমাইয়ার
দরজা। চোখে মুখে প্রবল বিস্ময় নিয়ে গাড়ি থেকে
নামল মেয়েটা। সাইফ ওর হাত ধরল কোমলভাবে।
নিয়ে চলল রেস্টুরেন্টের দিকে। কোনো এক অজ্ঞাত
কারণে সুমিয়ার ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে!
সাইফ ভেতরে ঢুকতেই একজন ওয়েটার এসে এমনভাবে
স্বাগত জানাল যেন সাইফের সাথে তার জনম জনমের
পরিচয়। কোণার দিকের একটা টেবিলে নিয়ে গেল
ওদের। এখান থেকে খুব সুন্দরভাবে দরজা নজরে আসে
এবং তারচাইতেও সুন্দরভাবে দেখা গেল ওদের ফলো
করা গাড়িটাও পার্কিং লটে এসে দাঁড়িয়েছে।
ভেতরে দু’জন মানুষের ছায়া ছায়া অস্তিত্ব টের
পাওয়া যাচ্ছে। তবে নামল না কেউ গাড়িটা থেকে।
নিজেদের চেহারা আড়াল করে নজর রাখছে।
ধীরে সুস্থে ডিনার শুরু করল ওরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক
লাগিয়ে এটা ওটা চাখল সাইফ। যেন এ দুনিয়ায় ওর
আগমনের একমাত্র উদ্দেশ্য মিশরীয় রন্ধনপ্রণালীর
স্বাদ আস্বাদন করা। সামনে বসা সুমাইয়ার উৎকন্ঠা
যেন ওর নজরেই আসছে না। ওদিকে বাইরে বসে
থাকা লেজুড়দুটো ধৈর্যের শেষ সীমা অতিক্রম করে
ফেলেছে। শুধু পারছে না ভেতরে এসে সাইফের ঘাড়
ধরে আবার গাড়িতে ওঠাতে!
‘আচ্ছা, বলতে পারেন, ডেজার্টে কোন জিনিসটা
খেতে অমৃতের মত লাগে?’ মুখে চকলেট ফ্লেভার
আইসক্রিম নিয়ে প্রশ্ন করল সাইফ।
এবার আর বিরক্তি লুকোনোর কোনো চেষ্টাই করল
না সুমাইয়া। ‘আপনার যদি আমাকে নিয়ে
পিরামিডে যেতে আপত্তি থাকে তখন বললেই
পারতেন, এখানে এসে...’ কথা শেষ করতে পারল না
সুমাইয়া। সাইফের মুখভঙ্গি আচমকা বদলে গেছে।
সেই পুরনো পাথুরে চেহারায় ফিরে গেছে। খপ করে
ওর হাত ধরেই টেনে নিয়ে চলল রেস্টুরেন্টের পেছন
দিকে। সুমাইয়া যেতে যেতে একবার পেছন ফিরে
দেখল দশ বারোজন টুরিস্টদের একটা দল রেস্টুরেন্টে
ঢুকছে। দরজাটা সাময়িক সময়ের জন্য আড়ালে চলে
গেছে ছোটখাট জনস্রোতে।
আরো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুমাইয়া নিজেকে
রেস্টুরেন্টের পেছনের রাস্তায় আবিষ্কার করল। ওর
হাত ধরে হন হন করে হেঁটে চলেছে সাইফ। প্রায় দশ
মিনিট হাঁটবার পর একটা কালো মিশমিশে গাড়ির
কাছে এসে থামল। দরজা খুলে ইশারায় উঠতে বলল
সাইফ ওকে।
গাড়িতে বসে মুখ খুলল সুমাইয়া। ‘এই রেস্টুরেন্ট,
গাড়ি...?’
‘প্রি প্ল্যানড। মোসাদকে ঠাণ্ডা মেরে যেতে
দেখেই ধারণা করেছিলাম ওরা মতলবে আছে।
আমাদের উপর সরাসরি হামলা না করে প্রতিটা
মুহূর্ত নজরে রেখে পৌঁছতে চাইছে ট্রেজারের
কাছে। সময়মত অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে
নেবে ট্রেজার। কিন্তু এমন আনাড়ি লোকজনকে
আমার পেছনে লাগিয়েছে দেখে রীতিমত
অপমানিতবোধ করছি!’ গাড়ি ছেড়ে সাঁ করে মূল
রাস্তায় বেরিয়ে এল সাইফ। ছুটে চলল পিরামিডের
দিকে।
***
ভগ্ন প্রায় পিরামিডের একেবারে সামনে এসেও
সুমাইয়া বুঝতে পারেনি এটা একটা পিরমিড। সাইফ
বুঝিয়ে না দিলে আরো খানিকটা সময় লাগত বুঝে
উঠতে।
‘ওহ মাই গড! এটাই সেই পিরামিড?’
মাথা ঝাঁকাল সাইফ। আধো অন্ধকারে সুমাইয়ার
চোখে পড়ল কিনা দেখার প্রয়োজনবোধ করল না
সাইফ। নেমে পড়ল মাটির নিচের চেম্বারে। হাত
বাড়িয়ে সাবধানে সুমাইয়াকেও নামিয়ে আনল।
গা শিরিশির করে উঠল সুমাইয়ার। এবারই প্রথম
পিরামিডে আসেনি ও। কিন্ত একগাদা টুরিস্ট আর
গাইডের সাথে পিরামিডে ঘুরে বেড়ানোর সাথে
আজকের রাতের অভিজ্ঞতার তফাৎটা অনেক।
ভাবতেই অবাক লাগছে, নির্মাণের পর মাত্র দু’জন
মানুষের পা পড়েছে এই জায়গাটাতে!
ফ্ল্যাশলাইট জ্বালল সাইফ। লুকনো লিভার চেপে
দরজা খুলল। অল্প সময়ের মধ্যেই চলে এল মূল
চেম্বারে। মাঝের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে পকেট
থেকে নাসের বিন ইউসুফের নির্দেশিকাটা বের
করে চোখ বোলাল। ত্রিশ হাত অর্থাৎ দশ ফুট এগোতে
হবে ওদের এখন। সাইফ দশ ফুট মেপে আগেই একটা
সুতো কেটে রেখেছিল। ওটা বের করে একপ্রান্ত
সুমাইয়ার হাতে ধরিয়ে দিল, ওকে কফিনের পাশে
দাঁড়াতে বলে অপর প্রান্ত নিয়ে এগিয়ে গেল
সামনের দিকে। দশ ফুট দূরে এসে থামল। ওর মনে
ক্ষীণ আশা ছিল সঠিক জায়গায় দাঁড়ালে চাপ
লেগে হয়ত কোনো দরজা-টরজা খুলে যাবে। কিন্তু
এমন কিছুই ঘটল না।
‘এবার কী?’ সুমাইয়ার গলায় চাপা হতাশা।
সাইফ জবাব না দিয়ে হাতের ফ্ল্যাশ লাইটটা
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো চেম্বারটা দেখতে লাগল। সঠিক
জায়গায় দাঁড়াবার কারণেই ছবিটা চোখে পড়ে গেল
সহজেই। পাথুরে দেয়াল খোঁদাই করে আঁকা ছবিটা
এমন এক অবস্থানে রয়েছে ঠিক এ জায়গায় না
দাঁড়ালে চোখে পড়া অসম্ভব। খুব সাধারণ একটা
ছবি। জ্বলন্ত একটা মশালের। কী বোঝাচ্ছে এটা
আল্লাহ মালুম। আদৌ কিছু বোঝাচ্ছে কিনা সেটাই
বা কে বলবে।
সাইফকে এক দৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে
থাকতে দেখে এগিয়ে এল সুমিয়া। পাশে দাঁড়িয়ে
সাইফের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাল।
‘ছবিটা কী বোঝাচ্ছে?’
‘বুঝতে পারছি না। এত হেঁয়ালি করে শেষ পর্যন্ত এই
ছবিটা আমাদের দেখাতে চাইছিল আপনার চাচা?
মনে হয় না।’
‘আমারও... এক মিনিট!’
সুমাইয়ার উত্তেজিত কন্ঠ শুনে ঝট করে ওর দিকে
তাকাল সাইফ।
‘আমি একবার একটা পিরামিডে গিয়ে গাইডের মুখে
শুনেছিলাম, প্রাচীন মিশরীয়রা গোপন দরজা খুলতে
মশাল ব্যবহার করত। এমনভাবে মেকানিজম সেট করত
যাতে মশালের সাথে দরজার কানেকশন থাকত।
মশালে আগুন জ্বালালেই দরজা খুলে যেত
আপনাতেই।
‘তাই নাকি?’ নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে
সাইফ। ‘এখন তাহলে আমাদের মশাল খুঁজে বের করতে
হবে, তাই তো?’ বলতে বলতেই চোখ বোলাতে লাগল
সাইফ। কী খুজতে হবে জানা থাকায় খুঁজে পেতেও
সময় লাগল না। দেয়ালের একটা খোপে গুঁজে রাখা
হয়েছে একটা পাথুরে মশাল। প্রথমবারও চোখে
পড়েছিল সাইফের কিন্তু এটাই যে সম্ভাব্য
চাবিকাঠি সেটা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি সাইফ।
পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল সাইফ। গভীর মনোযোগে
পর্যবেক্ষণ করল। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় মশালটার
জ্বালানি ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে গেছে। নতুন করে
জ্বালানি না দিলে জ্বলবে না।
সুমাইয়াকে ব্যপারটা বুঝিয়ে বলল, ‘আপনি তবে
এখানে থাকুন, আমি পেট্রোল নিয়ে আসছি গাড়ি
থেকে।‘
‘না না, আমিও যাব আপনার সাথে,’ হড়বড় করে বলে
উঠল সুমাইয়া।
হেসে ফেলল সাইফ। ‘আমার নিজেরও অবশ্য একা
একা এখানে থাকতে ভয় করত।’
‘আমার মোটেও ভয় করছে না। মুখ বাঁকাল সুমাইয়া।
সাইফ ছোট্ট করে হেসে উপরে যাবার রাস্তার দিক
এগোলো।
একটা খালি ক্যানে খানিকটা পেট্রোল ঢেলে
ফিরে আসতে বেশি সময় লাগল না। ক্যানটা
মশালের উপর খালি করে ফেলল সাইফ। লাইটারের
শিখা ছোঁয়াতেই দপ করে জ্বলে উঠল মশাল। ঠিক
সেই মুহূর্তে কিছু একটা ঘটে গেল ঘরটাতে। চারিদিক
থেকে গুঞ্জন উঠল। কিছু একটায় সাড়া পড়ে গেছে।
গুঞ্জনটা বাড়তে বাড়তে গর্জনে রূপ নিল। গুরু গম্ভীর
ঘর ঘর শব্দে ভরে গেলে জায়গাটা। কাপুনি শুরু হল এর
পরের ধাপে। গোটা রুম কাঁপছে, ঝাঁকি খাচ্ছে। এক
সময় আচমকাই নিভে গেল মশালটা। সেই সাথে অদৃশ্য
কারো হাতের ইশারায় যেন থেমে গেল সকল তর্জন
গর্জন আর কাঁপুনি। ঝড়ের পরের পরিবেশের মতই
শান্ত সব। মশাল নিভে যেতেই আলো কমে গেছে
খানিকটা। ফ্ল্যাশ লাইটের আলোয় পাশেই দেখা
গেল নতুন একটা দরজা।
‘এটাই কী...’ গলা কেঁপে যেতেই থেমে গেল
সুমাইয়া।
‘জানি না, জানতে হবে। সাবধানে আমার পেছনে
পেছন আসুন, বিপদ ওঁত পেতে থাকতে পারে।’
সাইফ এগোলো খুবই সন্তর্পণে। দরজার ওপাশের
দৃশ্যটা নজরে আসতেই বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল
সাইফের। ওপাশেও ঠিক এটার মতই হুবুহু আরেকটা রুম
দেখা যাচ্ছে। ওতেও সাতটা কফিন রাখা সারি
দিয়ে।
দ্বিতীয় রুমে ঢোকার আগে ভালমত চোখ বুলিয়ে
নিল সাইফ। বিপদের কোনো চিহ্ন আপাতত দেখা
যাচ্ছে না। তবে সাইফের ভালই জানা আছে- যে
বিপদ বলে কয়ে আসে সেটা আসলে বিপদই না!
মাঝখানের কফিনটার সামনে এসে দাঁড়াল সাইফ।
বড় করে দম নিল। এক ঝটকায় ডালাটা উঁচু করে ধরতেই
দ্বিতীয়বারের মত আকাশ ভেঙে পড়ল ওর মাথায়।
এবারও বাক্সটা সম্পূর্ণ খালি!
তেরো
তেলআবিব, ইসরাঈল
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ
ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল এসাইনমেন্ট,
সংক্ষেপে মোসাদের হেড কোয়ার্টারে তখন পর্দা
উঠছে নতুন এক নাটকের। প্রথম দৃশ্যের কুশীলব দু’জন,
মোসাদের ডেপুটি চিফ আব্রাম এয়াহুদ আর ইউরি
কোলম্যান। খানিক আগেই স্বদেশের মাটিতে পা
রেখেছে ইউরি। সরাসরি চিফের সাথে দেখা করতেই
চেয়েছিল ছিল সে, কিন্তু চিফ হোম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জরুরি মিটিং-এ থাকায়
ডেপুটি চিফের কাছেই খুলে বলতে হল গোটা
কাহিনি।
সেফ হাউস থেকে সাইফের পলায়ন এবং সুমাইয়াকে
দ্বিতীয়বার কিডন্যাপ করতে গিয়ে সাইফের হাতে
ঘোল খেয়ে ইউরি বেশ ভালমতই বুঝে ফেলেছে
সাধারণ গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে সাইফের সাথে লাগতে
যাওয়া মস্ত বোকামি হবে। তাছাড়া পুরো
ব্যাপারটা আয়ত্বের বাইরে চলে যাবার আগেই হেড
কোয়ার্টারে সব জানিয়ে রাখা ভাল মনে করেছে
সে। একা একা হজম করতে গিয়ে বদ হজম হলে পরে
তাকে আর আস্ত রাখবে না মোসাদ। এবং সেটাই
ঘটতে যাচ্ছে বুঝতে বেগ পেতে হয়নি ইউরির। আসার
আগে সাইফের উপর নজর রাখার জন্য লোক লাগিয়ে
এসেছিল সে। এইমাত্র খবর পেল ওরা সাইফের ট্র্যাক
হারিয়ে ফেলেছে।
এই মুহূর্তে মুখটা তোম্বা বানিয়ে চেয়ারে হেলান
দিয়ে আছেন ডেপুটি চিফ। পুরোটা শুনে তিনি
মোটামুটি থ হয়ে গেছেন।
‘তুমি শিউর ব্যপারটা ট্রেজার নিয়ে?’
‘নিশ্চয়ই স্যার, ট্রেজারের ব্যাপারই যদি না হবে
তবে এতদূর থেকে কেন উড়ে আসবে এক বাঙালী
মেজর?’
‘এতক্ষণ যা বললে, সব যদি সত্যি হয় তাহলে তুমি বড়
ধরনের একটা অন্যায় করে ফেলেছ এতদিন না
জানিয়ে।’
গোমড়া মুখে মৌন সম্মতি দিল ইউরি।
ডেপুটি চিফের কথা শেষ হয়নি, আবার খেই ধরলেন
তিনি, ‘ব্যাপারটা মনে হচ্ছে আমারও নাগালের
বাইরে। চিফকে জানাতে হবে।’ ইন্টারকম তুলে নিয়ে
কয়েক সেকেন্ড কথা বললেন ডেপুটি চিফ। এরপর
ইউরির দিকে তাকিয়ে বললেম, ‘চিফ ফিরেছেন,
তাকে সব জানাতে হবে, এসো আমার সাথে।’
পরবর্তী আধ ঘন্টায় মোসাদ চীফকে পুরো ঘটনা খুলে
বলল ইউরি। ডেপুটির মত না হলেও চিফও বেশ
ভাবনায় পড়ে গেছেন মনে হল। চুপ করে রইলেন বেশ
কিছুক্ষণ। চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজে আছেন
এই মুহূর্তে। এই লোকটাকে বাঘের মত ভয় পায়
সার্ভিসের সবাই। বিশেষ করে কোনো সংকটের
মুহূর্তে। আর এখন তেমনই একটা সংকট যাচ্ছে
মোসাদের উপর দিয়ে। আইজ্যাক কোহেনের
ব্যাপারটা নিয়ে চিফকে বেশ ঝামেলা পোহাতে
হচ্ছে।
‘শাইলকের কোনো খবর পাওয়া গেল?’ আচমকা
চেয়ারে সোজা হয়ে বসে বললেন চিফ।
‘না স্যর, ওকে তো চেনেনই নিজের মর্জিমত
যোগাযোগ করবে।’ জবাব দিলেন ডেপুটি আব্রাম।
‘ওকে এসাইনমেন্ট শেষ করে দ্রুত দেশে ফেরার
নির্দেশ দাও।’
‘স্যর, সেলফোন ছাড়া ওর সাথে যোগাযোগের
কোনো উপায় নেই। এমন অনিরাপদ লাইনে
যোগাযোগ করাটা...’
‘যা বলেছি সেটাই করো। ওকে দরকার আমাদের।’
‘স্যার, ইউরির ব্যাপারটা বেশ জটিল তাতে কোনো
সন্দেহ নেই কিন্তু তাই বলে শাইলককে পাঠাবার মত
পরিস্থিতি কি তৈরি হয়েছে?’
‘তোমরা এখনও ওই বাঙালী ছোকরাকে চিনতে
পারোনি মনে হচ্ছে। ছোকরা বেশ ঘোড়েল। যদি
সত্যি এতে ট্রেজারের সম্পর্ক থাকে আমি রিস্ক
নিতে চাই না। শাইলককেই দরকার আমাদের। কল
হিম।’
চোদ্দ
সাইরেনের আওয়াজ শুনতেই খানিকটা সময়ের জন্য
বুকের রক্ত ছলকে উঠল আততায়ীর। কিন্তু ওই পর্যন্তই।
এর চাইতেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার
ট্রেনিং তাকে দেয়া হয়েছে সুনিপুনভাবে। মাথা
ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে তাকে। রিমোর্ট
চেপে গেট খুলে ফেলল। পুলিশ পজিশন নেবার আগেই
বের হতে পারলে পালাবার একটা সম্ভাবনা আছে।
গেট খুলে যেতেই বুকের সাথে চেপে ধরা লাশটা
টেনে হিঁচড়ে সেদিকে এগোলো। ঠিক সেই মুহূর্তে
বাড়ির ভেতর থেকে অপর কমান্ডো এবং সিআইএর
স্পেশাল ট্রেনিং প্রাপ্ত মেইড বেরিয়ে এসেছে
হাতে উদ্যত অস্ত্র নিয়ে। আগের কমান্ডো বাকি
দু’জনকে আসতে দেখেই গুলি ছোড়ার মাত্রা
বাড়িয়ে দিল। এদিকে লাশটাকে নিয়ে এগোনোর
ফলে নিজে একটাও বুলেট ছুড়তে পারছে না
আততায়ী। ভেতরের কম্পাউন্ডে তিন শত্রুই কাভার
নিয়ে ফেলল। ততক্ষণে বাইরে চলে এসেছে
আততায়ী। বাইরে এসেই বুঝতে পারল খেল খতম!
তিনটা পুলিশের গাড়ি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে
আছে। অন্তত জনা বারো পুলিশ কাভারও নিয়ে
ফেলেছে। এক ডজন অস্ত্র লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আছে তার দিকে।
----
---
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now