বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(পর্ব-১৮)
----------
নয়
ডিনার সেরে বেশ আগেই শুয়ে পড়েছে
সুমাইয়া,কিন্তু ঘুম আসছে না কিছুতেই।যেন আড়ি
নিয়েছে ওর সাথে।কিছুতেই ধরা দিচ্ছে না।
ছোটবেলা থেকেই থ্রিলারের পোকা সুমাইয়া।
ভুতটা এসেছিল নাসের বিন ইউসুফের কাছ থেকে।
জার্নালিজমে পড়ার কারনও এটাই।দেশের সবচাইতে
নামকরা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট হতে চায় ও।
তবে এখন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা এত সহজ কিছু না।শুধু
উত্তেজনাই নয়,এই লাইনে প্রতিটা মুহূর্ত কাটাতে হয়
জীবনটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে।
সাইফের কথা ভাবলেই আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছে সুমাইয়া।
কী আশ্চর্য কৌশলে তাকে নিয়ে পালাল।আর
বিপদের মুহূর্তেও ঠোঁটের কোনে এক টুকরো স্মিত
হাসি অভয় দিতে থাকে সবসময়।কেমন যেন রহস্যময়।
চেহারার লাজুক ভাবটা দেখলে মনে হয় এই লোকের
বন্ধুত্ব পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।আবার সংকটের সময়
তার চেহারায় যে ইস্পাত কঠোর দৃঢ়তা ফুটে ওঠে
সেটা দেখে ধারণা করা যায় এর শত্রু হওয়া বড়
ধরনের দুর্ভাগ্যই বটে।ওদের রুমে দিয়ে যাবার পর
আজ সারাদিনে একবারও দেখা হয়নি মানুষটার
সাথে।কী করছে কে জানে?তবে নিশ্চয়ই ঘুরে টুরে
বেড়াচ্ছে না।
বিছানায় শুয়ে আকাশ পাতাল ভাবছিল সুমাইয়া।সব
ভাবনাই ঘুরে ফিরে সাইফ কেন্দ্রীক হয়ে পড়ছে
দেখে একটু লজ্জা পেল।তবে অস্বীকার করতে চাইল
না,মানুষটাকে ওর ভাল লেগে গিয়েছে।ভাল
লাগাটা কোন পর্যায়ের সে ব্যাপারে অবশ্য ও
নিজেও পরিষ্কার জ্ঞাত না।
সুমাইয়া আরো একটা ব্যাপারে জ্ঞাত না।বারান্দা
থেকে যে দুটো ছায়ামুর্তি নিঃশব্দে তার রুমে
প্রবেশ করেছে সেটা ঘুনাক্ষরেও টের পেল না
সুমাইয়া।যখন টের পেল,তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে।
ধড়মড় করে উঠে বসে চিৎকার করতে চাইল,তার
আগেই একটা নিষ্ঠুর হাত মুখ চেপে ধরল ওর।এর আগেই
চাপা একটা আর্তনাদ করতে পেরেছে ও।এই
আওয়াজটাই সাইফ বাইরে দাঁড়িয়ে শুনেছিল।তবে এই
মুহুর্তে ওকে খুঁজলে ওখানে পাওয়া যাবে না।
‘ম্যাডাম,আপনি বুদ্ধিমতি,আমাদের সাথে ভালয়
ভালয় গেলে আমাদের সবারই মঙ্গল।আপনার কোনো
ক্ষতি করা হবে না।সাইফ ট্রেজার আমাদের হাতে
তুলে দিলেই আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে।’ মৃদু গলায়
বলল মোবারক।
আতঙ্কে জ্ঞান হারাবার উপক্রম হল সুমাইয়ার।আজই
এত ঝক্কি করে পালাল আর আজই আবার কিডন্যাপ!
‘বারান্দায় মই লাগানো আছে,চুপচাপ নেমে যাবেন
আমাদের সাথে।নইলে বাধ্য হয়েই আপনার বাবার
সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে হবে আমাদের।আমরা
জানি,তিনি এখন পাশের কামরাতেই ঘুমোচ্ছেন।’
যাও বা একটু প্রতিরোধের ইচ্ছে ছিল,শেষ কথাটা
শুনে ইচ্ছেটা বেমালুম উবে গেল।মাথা ঝাঁকিয়ে
সায় জানাল সুমাইয়া।
পরবর্তী দশ মিনিটের মধ্যে সুমাইয়াকে নিয়ে
গাড়িতে পৌঁছে গেল মোবারক আর শরীফ।ওরা ওঠে
বসতেই গাড়িটা রওনা হয়ে গেল।মোবারক সুমাইয়ার
পাশে বসে পিস্তল তাক করে রেখেছে ওর দিকে।
গাড়িতে বসার পর একটা ব্যাপার উপলব্ধি করে
অবাক হয়ে গেছে সুমাইয়া।ওর যতটা ভয় পাওয়া উচিৎ
ছিল,ততটা ভয় ও পাচ্ছে না।কেবলই মন হচ্ছে,সাইফ
ওকে উদ্ধার করবেই।যদিও ধারনাটার পেছনে
জোরালো কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না।যে
মানুষটাকে আজ সারাদিন চোখেই দেখেনি সে
কিভাবে ওকে উদ্ধার করবে।ও যে কিডন্যাপ
হয়েছে,এটা জানতেই তো রাত পেরিয়ে যাবে।
মোসাদ হয়ত এবার ওকে সেই আগের জায়গায় নাও
রাখতে পারে।আর রাখলেও ওই দুর্ভেদ্য বাড়িটা
থেকে ওকে উদ্ধার করবেই বা কিভাবে?এবার
নিশ্চয়ই মোসাদ আগের চাইতে অনেকগুন সতর্ক
থাকবে।
আচমকা কড়া ব্রেক কষায় সম্বিৎ ফিরে পেল
সুমাইয়া।কী হল? এত তাড়াতাড়ি তো পৌঁছে যাওয়ার
কথা না।সামনে তাকাতেই কারনটা বুঝতে পারল।এই
রাস্তাটা বেশ নির্জন।ওদের থেকে কিছুটা দূরে এক
বিদেশী টুরিস্ট দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে।সম্ভবত
ইয়োরোপ কিংবা আমেরিকান হবে।চেহারা দেখা
যাচ্ছে না।চাপ দাড়িতে ঢাকা পড়েছে।তবে মাথার
চওড়া ব্রিমের হ্যাট আর বেশভুষা সেরকমটাই বলছে।
পাশেই একটা গাড়ি দাঁড় করানো।সম্ভবত নষ্ট হয়ে
গেছে,ওদের কাছে লিফট চায়।লোকটা এমনভাবে
দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে,ড্রাইভার ইচ্ছে থাকা সত্বেও
পাশ কাটাতে পারেনি।
গাড়ি থামতেই বিদেশী লোকটা এগিয়ে আসতে
লাগল ওদের দিকে।মোবারক পিস্তলটা পকেটে ভরে
ফেলল।
লোকটা জানালার পাশে মাথা নামিয়ে মার্কিন
টানে বলল,‘আমার গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে,একটা
লিফট পেলে খুব উপকার হত।’
‘মিস্টার,আমরা একটা জরুরী কাজে যাচ্ছি,লিফট
দেয়া সম্ভব না,সরি।’ মোবারক জানাল।
‘ও তাহলে আর কী করা।’ হাল ছেড়ে দেয়ার
ভঙ্গিতে বলল লোকটা।
সবাই বেশ অবাক হয়েছে।এই লোকের হাত থেকে এত
সহজে ছাড়া পাওয়া যাবে কেউ ভাবেইনি।
তবে লোকটার কথা শেষ হয়নি।আগের কথার খেই ধরে
বলল,‘ঠিক আছে,তোমরা যাও,কিন্তু মেয়েটাকে
রেখে যাও।’
চোখ কপালে উঠে গেল সুমাইয়া সহ গাড়ির বাকি
আরোহীদের।
‘হোয়াট দ্যা হেল...,’ কথাটা শেষ করতে পারল না
মোবারক।লোকটার হাতে ভোজবাজির মত বেরিয়ে
এসেছে একটা অস্ত্র।ডেজার্ট ঈগল! লোলূপ দৃষ্টি
মেলে তাকিয়ে আছে মোবারকের দিকে
অস্ত্রটাই ধারকের পরিচয় জানিয়ে দিল
সুমাইয়াকে।‘সাইফ হাসান?!’ অস্ফুটে বলে ফেলল
সুমাইয়া।
ঝট করে একবার সুমাইয়ার মুখের দিকে তাকিয়েই
আবার সাইফের দিকে নজর দিল মোবারক।চোখে
মুখে নগ্ন অবিশ্বাস খেলা করছে।
‘সাইফ হাসান!’ প্রশ্ন না মন্তব্য বোঝা গেল না।
‘নিঃসন্দেহে।’ হাসল সাইফ।‘ওকে,এবার কাজের
কথায় আসা যাক।আগামী পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে
যদি সুমাইয়াকে গাড়ি থেকে নামিয়ে না দাও
তাহলে একটা ম্যাসাকার ঘটে যাবে।আমার হাতে
যে এটা খেলনা নয় তা তো বুঝতেই পারছো।’
সেকেন্ড গুনতে হল না।তার আগেই সুমাইয়াকে বের
করে দিল মোবারক।ওরাও জানে,গাড়ির ভেতর
থেকে গোলাগুলীতে মোটেও সুবিধে করতে পারবে
না।পিস্তল বের করবার আগেই সাইফ তিনজনকেই
ঝাঁঝরা করে দিতে পারবে।
সুমাইয়া নামার পর সাইফ ওর হাতে কালোমতন কী
একটা জিনিস ধরিয়ে দিয়ে বলল,‘এটা গাড়ির
পেছনে লাগিয়ে দিয়ে আসুন।চুম্বক লাগানো
আছে,ধরলেই লেগে যাবে।’
আধো অন্ধকারে গাড়ির আরোহীরা বুঝতে পারল না
জিনিসটা কী।
সুমাইয়া বস্তুটা হাতে নিয়ে বেকুবের মত তাকিয়ে
রইল সাইফের দিকে।
‘জলদি করুন।’ তাড়া দিল সাইফ।
সুমাইয়া আর ইতস্তত করল না।জিনিসটা নিয়ে গাড়ির
পেছন দিকে চলে গেল।কয়েক সেকেন্ড বাদেই যখন
ফিরে এল,হাতের বস্তুটা আর দেখা গেল না।
‘শোনো,মোবারক,ইচ্ছে করলে তোমাদের এখানেই
মেরে রেখে যেতে পারতাম।তবে ছুঁচো মেরে হাত
গন্ধ করতে আমার মোটেও ভাল লাগে না।এ যাত্রায়
বেঁচে গেলে।তবে তোমাদের মত দুই পয়সার গুন্ডাদের
বিশ্বাস করতেও আমি রাজি নই।তোমাদের ছেড়ে
দিলে কিছুদূর গিয়ে গাড়ি থামিয়ে হামলা করবে না
তার নিশ্চয়তা কি?’
কোনো নিশ্চয়তা নেই।মোবারক সেটাই করতে
চাইছিল।কিন্তু এই ব্যাটা সেটা কিভাবে বুঝল ওর
মাথায়ই ঢুকল না!
‘সেজন্য তোমাদের গাড়ির পেছনে একটা
শক্তিশালী বম্ব ফিট করে দিলাম।আমার দৃষ্টিসীমা
পেরোনোর আগে যদি তোমাদের গাড়ির গতি ষাটের
নীচে নামতে দেখি,সোজা বম্ব লক্ষ্য করে গুলী
করব।ভেবো না,লাগাতে পারব না।অবশ্য লাগাতে না
পারলেও ক্ষতি নেই।বোমাটা অত্যন্ত সেনসিটিভ।
গুলীর কারণে সৃষ্ট শক ওয়েভেই ব্লাস্ট হয়ে যাবে।
পরিনাম,বুঝতেই পারছো,স্রেফ কিমা হয়ে যাবে!’
ভয়াবহ একটা হাসি ফুটে উঠল সাইফের ঠোঁটে।
‘আর হ্যা,ইউরিকে আমার পেছনে লাগতে মানা করে
দিও।অন্তত তোমাদের মত সস্তা গুন্ডা পান্ডা নিয়ে।
এখন লেজ তুলে ভাগো,যাও।’
ড্রাইভার বোমার কথা শুনে ভয়ে ভিড়মি খেয়ে
গেছে।গাড়ি স্টার্ট দিতেও ভয় পাচ্ছে।যদি ব্লাস্ট
হয়ে যায়!
‘গো!’ গর্জে উঠল সাইফ।
আর ইতস্তত করল না ড্রাইভার।গাড়ি স্টার্ট দিয়ে
আক্ষরিক অর্থেই লেজ তুলে পালাল।
গাড়িটা দৃষ্টিসীমা পার হতেই সুমাইয়া জামার
হাতা থেকে সেই কালোমত বস্তুটা বের করে ওর
হাতে দিয়ে বলল,‘এই নিন,আপনার সুপার সেনসিটিভ
বম্ব!’
হাত বাড়িয়ে নিজের সেলফোনটা নিল সাইফ।‘বম্ব
না হলেও সেনসিটিভ যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’
হেসে বলল।
‘হুম,যেভাবে লেজ পড়িমরি করে পালাল! তা আপনি
জানলেন কিভাবে ওরা আমাকে আবার কিডন্যাপ
করেছে?’
‘ওদের বিশ্বাস নেই,কিছুদূর গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে
ফিরে আসতে পারে।গাড়িতে উঠুন,যেতে যেতে
বলছি।’
গাড়িতে উঠে বসল ওরা দুজন।ড্রাইভ করতে করতে সব
খুলে বলল সাইফ।
চোখ বড় বড় করে শুনে গেল সুমাইয়া।সাইফ থামতেই
প্রশ্ন করল,‘আচ্ছা,যখন বুঝতে পারলেন ওরা আমার
রুমে ঢুকে পড়েছে,তখন কী করলেন?’
‘তখন আসলে কিছুই করার ছিল না।হঠাৎই বুদ্ধিটা
আসে।রুমে ছদ্মবেশ ধারনের বাড়তি কিছু জিনিস
কিনে রেখেছিলাম।ওগুলো নিয়ে সোজা হোটেলের
পার্কিং এরিয়ায় চলে আসি।গিয়ে দেখি এক লোক
গাড়ি থেকে নামছে।গিয়ে বললাম,আপনার গাড়িটা
আমার দরকার।’
‘আপনি গিয়ে বললেন,আর লোকটা দিয়ে দিল?’
আবারও বিস্ময়ে চোখজোড়া বড় বড় হয়ে গেল
সুমাইয়ার।
‘উহু,দিল না।শেষে মাথায় সামান্য এক গাট্টা
মারতে হল।মাপা মার।ঘন্টাখানেকের মধ্যেই জ্ঞান
ফিরবে।এরপর গাড়ি নিয়ে চলে এলাম হোটেলের
পেছনে।সেখানে মোবারকদের গাড়িটা রাখা ছিল।
গাড়ি চিনে নিয়ে আপনাদের আগেই এখানে পৌঁছে
অপেক্ষা করতে লাগলাম।বাকিটা তো জানেনই।’
হোটেলে পৌঁছে গিয়েছে বলে আর কোনো কথা হল
না।গাড়িটা নিয়ে পার্কিং এরিয়ায় চলে এল।
গাড়ির মালিককে অন্য একটা গাড়ির আড়ালে শুইয়ে
রেখে গিয়েছিল সাইফ।যথাস্থানেই পাওয়া গেল
তাকে।যদি আদৌ সেটাকে যথাস্থান বলা যায়
আরকি! জ্ঞান এখনো ফেরেনি দেখে সস্তিবোধ
করল সাইফ।গাড়ি জায়গামত রেখে যে যার রুমে চলে
এল।
রাত বেশি বাকি নেই।
-------------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now