বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১০

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-১০) ----------- কতগুলো মুহুর্ত স্থাণুর মত দাঁড়িয়ে রইল সাইফ তার কোনো হিসেব নেই ওর কাছে।প্রতিটা সেকেন্ড বুকের মধ্যে হাহাকার আরো বাড়িয়ে দিয়ে গেল। চিন্তাশক্তি লোপ পেল সাময়িকের জন্য। একটা সময় নিজেকে ফিরে পেল সাইফ।মাথা ঝাঁকি দিয়ে যেন দুঃস্বপ্নটাকে ঝেড়ে ফেলতে চাইল। পায়ে পায়ে এবার এগিয়ে গেল মাঝের মমির কফিনের দিকে।উঁচু করে ধরল ডালাটা।সাথে সাথে আরেকটা বিস্ময় ঝাঁকি দিয়ে গেল আবারও ওকে। চুপচাপ কফিনে শুয়ে আছে লিনেন কাপড়ে আচ্ছাদিত একটা মমি।মুখের জায়গায় একটা মুখোশ। বাকি দেহটা কোনো এককালে সাদা কাপড়ে জড়ানো থাকলেও কালের পরিক্রমায় সেটা এখন হলদেটে।বোটকা একটা গন্ধ ঝাপটা মেরে গেল নাকে।দীর্ঘদিন বদ্ধ থাকায় মৃত মানুষের স্বাভাবিক গন্ধ আর কেমিকেলের গন্ধ মিলে উৎকট একটা গন্ধ তৈরি করেছে। বেশ অবাক হল সাইফ।বুঝতেই পারছে ট্রেজার চলে গেছে অজ্ঞাত কারো হাতে।আসলেই অজ্ঞাত? নাকি ওর পরিচিত কেউ? এখন প্রশ্নটা হল,ট্রেজার যেই নিয়ে থাকুক,সে মমি ফেলে যাবে কেন।মমিও তো আকাশ ছোঁয়া দামে বিকোয়।নাকি ট্রেজারের পরিমাণ দেখে আর উটকো ঝামেলায় জড়াতে চায়নি।হতে পারে।ওই ট্রেজার আসলেই অমূল্য।এই মমি তাঁর কাছে কিছুই না।কিন্তু লোভ এমন একটা জিনিস,কাউকে পেয়ে বসলে সাতরাজার ধন হাতে রেখেও মমিকে ছাড়তে চাইবে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলল সাইফ।আর কিছু ভেবে লাভ নেই। পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে ও।কালই ফিরে যাবে দেশে। কর্নেলের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে বলবে,‘আমি পারিনি।’ কফিনের ডালাটা বন্ধ করে ফিরে যাবার জন্য পা বাড়িয়েও থেমে গেল সাইফ।একটা ব্যাপারে খটকা লেগেছে।ডালাটা বন্ধ করার আগ মুহুর্তে কি কফিনের ভেতর কিছু দেখতে পেয়েছিল ও? আবারও ডালাটা উঁচু করে ধরল।ভাল করে আলো ফেলতেই নজরে এল জিনিসটা। একটা কাগজ। মমির শরীরে প্যাঁচানো লিনেনের ভাঁজে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে।দেখতে প্যাপিরাসে লেখা প্রাচীন পার্চমেন্টের মত লাগছে না।হাল আমলের কাগজ।অবশ্য বেশ পুরনো।হলদেটে হয়ে আছে লিনেনের মতই।এজন্যই প্রথম নজরে ধরা পড়েনি। কাগজের টুকরোটা ধরে খুব সাবধানে বের করে আনল সাইফ। ওর ধারণাই ঠিক।খুব বেশিদিন আগের লেখা নয়।অন্তত এই মমি কিংবা সারকোফেগাসের আমলে তো নয়ই। আস্তে করে ভাঁজ খুলল কাগজটার। এটা একটা চিরকুট।চিরকুটটাতে অদ্ভুত একটা কথা লেখা।লেখাটা পড়ে এই পিরামিডে ঢোকার পর তৃতীয়বারের মত বিস্ময়ের চূড়ান্তে পৌঁছে গেল সাইফ।লেখটার বাংলা করলে দাঁড়ায়ঃ “একটা ঘোড়া একলাফে পনেরো হাত যেতে পারলে দুই লাফে কতদূর যেতে পারে? তুমিও এগিয়ে যাও অতটা।” মানে কী! মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা ঠেকছে।নাসের বিন ইউসুফের ইমেইলের একটা লাইন মনে পড়ে গেল সাইফের। “ট্রেজারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য আমি কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।” এটাই তাহলে সেই নিরাপত্তা ব্যাবস্থা।সাইফের বুঝতে বেগ পেতে হল না,এই চিরকুটের লেখক কে। যদিও চিরকুটের কোথাও ট্রেজার শব্দটা উল্লেখ করা হয়নি তবুও সাইফ নিশ্চিত নাসের বিন ইউসুফ ট্রেজারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেছিলেন।যাতে পিরামিডটা কেউ খুঁজে পেলেও ট্রেজারগুলো না পায়।আর সেগুলো খুঁজে পাবার জন্য এই ধাঁধাটা লিখে রেখে গেছেন।আগে থেকে জানা না থাকলে আশ্চর্য হলেও একপর্যায়ে বাজে প্রলাপ বলে যে কেউ ছুঁড়ে ফেলে দিত কাগজটা।সাইফ নিজেও দিত।কিন্তু ও এখন জানে,এই কাগজেই লুকিয়ে আছে সাত রাজার ধন খুঁজে পাবার চাবিকাঠি। পুরো ব্যাপারটা ধারণা করতে পারল সাইফ।নাসের বিন ইউসুফ তাঁর ইমেইলে অনেক কিছুই গোপন করে গেছেন।মূলত তিনি এই পিরামিডে একবার নয়,কমপক্ষে দুবার এসেছিলেন।দ্বিতীয়বার এসেছিলেন ট্রেজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য।তবে সেটা কবে জানে না সাইফ।সম্ভবত প্রথমবার আসার কিছুদিন পরই।তখন এসে তিনি ট্রেজার লুকিয়ে ফেলেন কোথাও।তিনি বুঝতে পেরেছিলেন,এখানে হয়ত আর কোনোদিন আসা নাও হতে পারে তার।সেজন্য তিনি তার পরবর্তী উত্তরসূরির জন্য একটা ধাঁধা রেখে গেলেন।যেটার মাধ্যমে ট্রেজার খুঁজে পাওয়া সম্ভব।আর পিরামিডটা খুঁজে পাবার জন্য সেই টিলার মাথায় অদ্ভুত কায়দায় পাথর সেট করলেন। হুম,জিনিয়াস! ভাবল সাইফ। এবার ধাঁধাটা নিয়ে মাথা ঘামানো প্রয়োজন। আবারও পড়ে দেখল চিরকুটটা “একটা ঘোড়া একলাফে পনেরো হাত যেতে পারলে দুই লাফে কতদূর যেতে পারে? তুমিও এগিয়ে যাও অতটা।” প্রথমবার পড়ার সময় মস্তিষ্ক উত্তপ্ত ছিল,এজন্য ধাঁধার অন্তর্নিহিত অর্থ উপলব্ধি করতে পারেনি। এবার ঠান্ডা মাথায় ধাঁধাটা পড়ে বুঝতে পারল অসম্ভব একটা কথা বলা হয়েছে এখানে। স্বাভাবিক নিয়মে একটা ঘোড়ার এক লাফে পনেরো হাত দুরত্ব অতিক্রম করার কথা না।যদি ধরেও নেয়া যায়,হেঁয়ালির জন্য নাসের বিন ইউসুফ এটা লিখেছেন তাহলেও সমস্যা আছে।ঘোড়াটা যদি একলাফে পনেরো হাত যেতে পারে তাহলে দুই লাফে ত্রিশ হাত যাবার কথা।সমস্যাটাও ওখানেই। সাধারনত এক হাতকে যদি একফুট ধরা হয় তাহলে হয় ত্রিশ ফুট।অর্থাৎ ত্রিশ ফুট সামনে এগিয়ে যেতে বলা হয়েছে কফিন থেকে।কিন্তু সেটা অসম্ভব।কারণ এখান থেকে সামনের দেয়ালের দুরত্ব সর্বোচ্চ বিশ ফুট।ত্রিশ ফুট যেতে চাইলে দেয়াল ফুঁড়ে যেতে হবে। আচ্ছা,এখানে কি সেই ইঙ্গিতই করা হয়েছে? অর্থাৎ দেয়ালের ঠিক ওপাশেই লুকনো আছে ট্রেজার? সাইফের মন মানতে চাইল না এই সাদামাটা যুক্তি। ব্যাপারটা এত সহজ হবে না।চিরকুটটা পড়লে এই চিন্তাটাই যে কারও মাথায় আসবে আগে। সেক্ষেত্রে নাসের বিন ইউসুফের এতটা হেঁয়ালি করবার প্রয়োজন ছিল না। একটা দুর্বল আইডিয়া মাথায় খেলে গেল।অনেকটা “ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো আঁকড়ে ধরা” টাইপ।কিন্তু একেবারে কিছু না করার চাইতে অন্তত কিছু তো করা ভাল।সাইফ কফিন থেকে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। আজকালকার আধুনিক অনেক ভবনেই দেখা যায় আগন্তুক দরজার সামনে দাঁড়ালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাচ্ছে সেটা।দরজার সামনে এক ধরনের প্রেশারপ্যাড থাকে।কেউ প্রেশারপ্যাডের উপরে দাঁড়ালে চাপ লেগে মেকানিজম চালু হয়ে দরজা খুলে যায়।প্রাচীন মিশরীয়রা প্রযুক্তিতে অনেক অ্যাডভান্স ছিল,তা বলাই বাহুল্য।এই পিরামিডে ঢোকার দরজাগুলোতে যে ধরনের মেকানিজম ব্যাবহার করা হয়েছে সেটাই সাক্ষ্য দেয় তাদের উন্নত সভ্যতার।সেই হিসেবে চারহাজার বছর আগে প্রেশারপ্যাড আবিষ্কার হওয়া বিচিত্র কিছু না। সাইফের মনে ক্ষীন একটু আশা বেঁচে আছে,এখানে হয়ত ওই ধরনের কোনো প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়েছে।সামনে এগিয়ে গেলে কোনো প্রেশারপ্যাডে চাপ লেগে স্বয়ংক্রীয়ভাবে খুলে যাবে গোপন কোনো দরজা। সাইফ ধীর পায়ে এগিয়ে গেল,একেবারে দেয়াল পর্যন্ত। ঘড়ঘড় শব্দ করে আগের মত একটা দরজা খুলে যাবে- আশা করেছিল সাইফ।কিন্তু রুমের কোথায় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন না দেখে আশাহত হল না তেমন।আগেই জানত,এটাও হবার নয়।এত সহজেই ট্রেজার বের করা গেলে সেগুলো লুকোনো কোনো অর্থই হয় না।নাসের বিন ইউসুফ তার মেইলে কর্নেলের উদ্দেশ্যে শুধু শুধু বলেননি,“ট্রেজারগুলো খুঁজে পেতে হলে বুদ্ধিমান কারও প্রয়োজন পড়বে তোমার”। দেয়ালের কাছ থেকে সরে এসে একটা পাথুরে বেদির উপরে বসে ধাঁধাটা নিয়ে ভাবতে বসল সাইফ। পরবর্তী আধঘন্টা ও ভুলে থাকল ও এই মুহুর্তে সহস্রাব্দ প্রাচীন এক অদ্ভুতুড়ে পিরামিডের অভ্যন্তরে বসে আছে। এক সময় ফ্ল্যাশলাইটের আলো টিপ টিপ করে দুর্বলতা প্রকাশ করলে সাইফ বুঝতে পারল,এবার যাবার সময় হয়েছে।ফ্ল্যাশলাইট নিভে গেলে বেশ ভালই বিপদ হবে। শেষবারের মত পুরো চেম্বারে চোখ বুলিয়ে চিরকুটটা ভাঁজ করে পকেটে রাখল।দরজা দুটো আগের মত বন্ধ করে পিরামিড থেকে বেরিয়ে এল। ফিরে চলল হোটেলের উদ্দেশ্যে। হতাশা কিছুটা হলেও কমেছে।একেবারে খালিহাতে ফিরতে হয়নি।অন্তত একটা সূত্র পেয়েছে কাজ করবার জন্য।এখন এই ধাঁধার সূত্র ধরেই এগোতে হবে ওকে। হোটেলে যখন ফিরল তার বেশ আগেই মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। পাঁচ হোটেলে ফিরে আবারও শাওয়ার নিয়েছে সাইফ। বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি দিয়েও লাভ হয়নি।ঘুম আসেনি।শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে বারান্দায় এসে রকিং চেয়ারে বসে দুলছে।চোখ বন্ধ করে ধাঁধাটা নিয়ে ভেবে যাচ্ছে।সামনে বিশাল নীলনদ থেকে শীতল বাতাসের এক একটা ঝাপটা গায়ে চমৎকার আরামদায়ক পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে।ঘুম চলে আসছে। এখানেই বাচ্চাদের মত দোল খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়বে বলে ঠিক করল সাইফ। প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিল,এমন সময় কলিংবেলের বেরসিক আওয়াজে তন্দ্রা কেটে গেল সাইফের।একই সাথে বিস্মিত এবং বিরক্ত হল ও।ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেছে।রিস্টওয়াচের দিকে তাকিয়ে দেখল পৌনে দুটো বাজে। এর রাতে আবার কে এল? ----------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-১০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now