বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না -------------------- (পর্ব-১) -------------- এক রাত দশটা।গুলশানের একটি দোতলা বাড়িরসামনে এসে দাঁড়াল কালো রঙের একটি মার্সিডিজ।গাড়ি থেকে নামল দীর্ঘদেহী এক যুবক।সুদর্শন।উজ্জ্বলশ্যাম বর্নের যুবকটির উচ্চতা ঝাড়া ছয়ফুট।পরনের কালো জিন্স আর সাদা টি-শার্টে চমৎকার মানিয়েছে তাকে।নামসাইফ হাসান।এক সময় বাংলাদেশ আর্মির একজন মেজর ছিল।দুর্দান্ত সাহস আর দেশপ্রেম,প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ওকে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সেই মেজরের আসনে বসিয়েছিল।ওর বাবা একজন নামকরা শিল্পপতি ছিলেন।স্বাভাবিক নিয়মে ওরও ব্যাবসায় নামার কথা,কিন্তু ছোটবেলা থেকেই গায়ে জলপাই রঙ্গের ইউনিফর্ম চড়ানোর অদম্য ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল ওর মধ্যে।এর পেছনে একজন মানুষের অবদান আছে।কর্ণেল আজহার চৌধুরী।ওর বাবার ঘনিষ্ট বন্ধু।প্রায়ই ওদের বাসাতে আসতেন তিনি।এবং বেশিরিভাগ সময়ই ইউনিফর্ম পরেই।তখন থেকেই ইউনিফর্মটার প্রতি এক ধরনের ফ্যাসিনেশন তৈরি হয় সাইফের মধ্যে।তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাসিনেশনের জায়গায় স্থান করে নেয় অদম্য স্পৃহা।নিজের যোগ্যতায় আর্মিতে আসন বানিয়ে নেয় সাইফ।তবে মেজর হবার কিছুদিন পরই লক্ষ্য করে,আর্মির কিছু পদস্থ অফিসার ডিফেন্স বিভাগের টপ সিক্রেট কিছু ইনফর্মেশন পাচার করছে পাশের দেশে।সাথে সাথে প্রতিবাদ করে বসে সাইফ।ফলাফল,চাকরিটা হারাতে হয় ওকে।চেষ্টা করলে হয়ত চাকরিটা বাঁচাতে পারত,কিন্তু এটাকে ও চাকরি হিসেবে কখনই দেখেনি।রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে নিজের দক্ষতা নিষ্ঠা আর ভালবাসা ঢেলে দেবার কোনো মানে খুঁজে পায়নি সাইফ।বলতে গেলে নিজেই একরকম ইস্তফা দিয়ে দেয়।তবে সাইফ জন্মগতভাবে গোঁয়ার টাইপের! উঠে পড়ে লাগে এই কূচক্রের পেছনে।এবং এক পর্যায়ে সফলও হয় এদের মুখোশ খুলে দিতে।এই কাজেও ও সাহায্য পেয়েছিল কর্নেল আজহার চৌধুরীর।তিনি বর্তমানে রিটায়ার্ড।এই মুহুর্তে তাঁর কাছেই এসেছে ও।আজ সন্ধ্যায় হুট করেই তলব।এই মানুষটার যেকোনো আদেশই শিরোধার্য সাইফের কাছে।গাড়ী থেকে নেমে সদর দরজার দিকে এগোলো সাইফ দৃঢ় পদক্ষেপে।দরজায় নক করতেই কর্নেল আজহার চৌধুরীর পরিচারক জাফর দরজা খুলে দিল।মধ্যবয়সী মানুষটা সাইফকে ভালমতই চেনে।‘স্যার,আপনার জন্য দোতলায় অপেক্ষা করছে।’কর্নেলের সাথে থাকতে থাকতে জাফরেরও ভূমিকাহীন কথা বলা অভ্যেস হয়ে গেছে।সাইফ মাথা ঝাঁকিয়ে দোতলার সিড়ির দিকে এগোলো।রুম চেনাই আছে।মৃদু টোকা দিতেই ভেতর থেকে কর্নেলের কন্ঠ ভেসে এল,‘কাম ইন।’রুমে ঢুকেই অনেকটা হকচকিয়ে গেল সাইফ।কর্নেল যেন খাচায় বন্দি বাঘ একটা।অস্থিরভাবে পায়চারী করছেন।আর্মি অফিসাররা বিচলিত হলে ধরে নিতে হবে ঘটনা গুরুতর।‘কী খবর,মেজর?’ ক্ষণিকের জন্য থেমে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন কর্নেল।দীর্ঘদিনের সামরিক অভ্যেসে এখনো সাইফকে মেজর বলেই ডাকেন কর্নেল।‘জী,স্যার ভাল।’ খানিক বিরতি দিয়ে বলল,‘এনিথিং রং,স্যার?’‘বোসো।’ বলে আবারও পায়চারী করতে লাগলেন কর্নেল।সাইফ বসে বসে বাচ্চাদের মত ঘাড় ঘুরিয়ে রুমের আসবাবপত্র পর্যবেক্ষন করছিল,এমন সময় কর্নেলের আচমকা প্রশ্ন,‘নাসের বিন ইউসুফ নামটার সাথে কি তুমি পরিচিতি?’‘জী স্যার।’একমুহুর্ত না ভেবেই উত্তর দিল সাইফ।পরিচিত না হবার কোনো কারণ নেই।গত কয়েকদিন ধরে সারা বিশ্বেই নামটা খুবই আলোচিত।নাসের বিন ইউসুফ হলেন মিশরের একজন ধনকুবের।সপ্তাহখানেক আগে ভদ্রলোক মারা যান।মৃত্যুর আগে তিনি তার বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি দান করে যান একটা জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টে।মৃত্যুর আগে যার নামও মানুষ শোনেনি,মৃত্যুর পর তিনিই হিরো বনে যান পৃথিবীর মানুষের কাছে।‘নাসের আমার বন্ধু ছিল।’ কথাটা এমনভাবে বললেন কর্নেল,সাইফের কয়েকমুহুর্ত লেগে গেল কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে।‘কি করে,স্যার?’‘সে অনেক কথা।সংক্ষেপে বলতে গেলে,আমি একবার সেনাবাহিনীর একটা টিমের সাথে তিনমাসের জন্য মিশর গিয়েছিলাম একটা ট্রেনিং-এ।অনেকবছর আগের কথা।সেখানেই নাসেরের সাথে পরিচয়।তখনও ও এতটা ধনী ছিল না।পৈত্রিক ব্যবসায় সবেমাত্র ঢুকেছে।কিভাবে কিভাবে যেন ওর সাথে আমার একটা বন্ধুত্ব হয়ে যায়।অবসরে প্রায়ই ওর বাড়িতে যেতাম।গল্প করতাম দুজনে মিলে।আমি দেশে ফিরে আসার পর নাসেরের বিয়েতে ওর আমন্ত্রণ রক্ষার জন্যই মিশর গিয়েছিলাম একবার।সেও অনেক আগের কথা।যোগাযোগে মাঝে মধ্যে ভাটা পড়লেও একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়নি কখনও।আমি একবার কথায় কথায় আমার একটা গোপন স্বপ্নের কথা বলেছিলাম ওকে।আজ তোমাকে সেই স্বপ্নটার কথা বলার জন্যই ডেকেছি।সাইফ যথেষ্ঠ অবাক হল।একজন মিশরীয় ধনকুবের আর কর্নেলের স্বপ্নের মধ্যেওর ভূমিকাটা ঠিক কোথায়?চুপ করে রইল।খানিকবাদেই জানা যাবে।‘একজন আর্মি অফিসার হিসেবে নিশ্চয়ই এসপিওনাজ সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখো তুমি।সিআইএ,এমআইসিক্স,র,আইএসআই,এদেরক্ষমতার কথাও অজানা নয় তোমার। অঘটনঘটন পটীয়সী এরা।বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের অঘটন ঘটানো এদের কাছে ডালভাত।বিশ্বের প্রায় সব পলিটিক্যাল মার্ডারের পেছনে এদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ হাত আছে। সুপার পাওয়ারগুলো মূলত চলছেই এসব এসপিওনাজ এজেন্সির কাধে ভর দিয়ে।এই সিক্রেট সার্ভিস না থাকলে মুখ থুবড়ে পড়বে তাদের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের এই দেশ এখনো এসপিওনাজ জগতে হামাগুড়ি দিচ্ছে বললেও বেশি বলা হয়ে যাবে।তাদের সাথে টেক্কা দেয়া তো দুরে থাক,আমাদের আভন্তরীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ডিজিএফআই,এনএসআই কিংবা সিআইডির পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।আর সত্যিকার অর্থে এগুলো এসপিওনাজ এজেন্সীও নয়।স্বীকার করছি,উন্নয়নশীল একটা দেশহিসেবে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।সরকার চাইলেও বিভিন্ন কারনেই এ ধরনের সিক্রেট সার্ভিস চালু করা সম্ভব নয়।তবে কেউ যদি প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির ছদ্মাবরণে বাংলাদেশের হয়ে এসপিওনাজ কার্যক্রম পরিচালনা করে তবে কার কি বলার থাকতে পারে?’ শেষের কথাটা বলার সময় এক টুকরো হাসি ফুটে উঠেই মিলিয়ে গেল কর্নেলের। ‘খুবই ভালো আইডিয়া।কিন্তু স্যার...।’সাইফকে থামিয়ে দিলেন কর্নেল।‘জানি,কীবলবে।এতে কত বিপুল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন সেটাই বলতে চাচ্ছো তো?’সাইফ চুপ করে রইল।কর্নেল ওর প্রশ্নটা ধরতে পেররেছেন।‘নাসের মারা যাবার পর আমার আমার অ্যাড্রেসে একটা মেইল আসে।নাসেরই পাঠিয়েছে।’প্রশ্নটা হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে,এরপরও না করে পারল না সাইফ,‘স্যার,মৃত্যুর পর কিভাবে ইমেইল করলেন উনি?!’সাইফের বলার ভঙ্গিতে হেসে ফেললেন কর্নেল।‘ও মৃত্যুর আগে একজনকে বলে গিয়েছিল।তার ব্যাপারে পরে জানতে পারবে।তো,সেই মেইলের মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম,সেই কবে বলা আমার স্বপ্নের কথাটা নাসের আমৃত্যু মনে রেখেছিল।এবং শুধু মনেই রাখেনি,স্বপ্নটা বাস্তবায়নের পথও বাতলে দিয়ে গেছে।যদিও সেই পথটায় তোমাকেই হাঁটতে হবে।’‘সরি,স্যার?’কর্নেল কিছু না বলে একটা প্রিন্ট আউট বাড়িয়ে ধরলেন সাইফের দিকে।‘পড়ে দেখো।’ -------------------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৯
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৮
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৭
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৬
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৫
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৪
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১৩
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১২
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১১
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১০
→ মিশরীয় গুপ্তধন-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now