বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-০৯

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-৯) ------------- কায়রোর রাজপথে দূরন্ত গতি তুলেছে সাইফ।প্রচুর ট্রাফিক থাকলেও জট পাকিয়ে নেই।মাঝে মধ্যেই গতি সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। অনেক আগে সৈয়দ মুজতবা আলীর একটা রচনায় পড়েছিল,কায়রো হল এক নিশাচর শহর।কথাটার সত্যতা বুঝতে বেগ পেতে হচ্ছে না ওকে।রাত বাড়ার সাথে সাথে পথে নেমে পড়েছে মানুষজন। বেশিরভাগই টুরিস্ট।দল বেঁধে,জুটি বেঁধে আবার কেউ নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করে। কায়রো শহর পর্যটকদের টানে চুম্বকের মত।টুরিস্টদের আকর্ষনের মূলে রয়েছে পিরামিড,মমি আর নীলনদ। শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ আর ইসলামি ঐতিহ্যও কম আকর্ষনীয় নয়। কায়রোর উপকন্ঠ গিজায় এসে গাড়ি থামাল সাইফ। রাস্তার পাশের একটা দোকান থেকে শক্তিশালী একটা ফ্ল্যাশ লাইট কিনে ফের গাড়িতে উঠে বসল। প্রায় আধঘন্টা পর সাইফের কনভার্টিবল ঢুকে পড়ল মরুভূমিতে।শীতল মরুভূমি! হুম,ব্যাপারটা এমন অদ্ভুতই।দিনে যেখানে তাপমাত্রা চল্লিশ ছাড়িয়ে যায়,রাত ঘনালেই সেখানে চুপটি করে হিম নেমে আসে।তাপমাত্রা নেমে যায় দশ ডিগ্রিতে।কখনো কখনো উঁচু উঁচু টিলার মাথায় একটুখানি তুষার! ব্যাপারটা ঘটে,কারণ এই বিরান সাহারায় তাপ ধরে রাখার মত কিছুই নেই।না গাছপালা,মানুষ,প্রাণী,কিচ্ছু না।শুধু কিছু নিষ্প্রাণ কিছু পাথর।পৃথিবীর তাবৎ মরুভূমির ব্যাকরণ এটাই। রাতেরবেলা অন্য এক সৌন্দর্য নিয়ে আভিভূর্ত হয়েছে সাহারা।আকাশে বড় সড় একটা চাঁদ।বিশাল মরু প্রান্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছে কোমল,পেলব আলো। সেই আলোয় সব কিছুই রহস্যঘেরা।বিশাল মরুতে ততোধিক বিশাল ওই আকাশটার নীচে দাঁড়ালে নিজেকে কতই না ক্ষুদ্র মনে হয়।অনেক দূরে দূরে যে পিটপিটে আলো দেখা দিয়েই মিলিয়ে যাচ্ছে,সেগুলোও।আলোর বিন্দুগুলো বেদুইনদের ক্যারাভান থেকে আসছে।সাহারাতেই এদের বাস। একটা সময় এসে হারিয়ে গেল সেই আলোগুলোও।ঠিক তখনই সাইফ খেয়াল হল বেশ অনেকটা সময় ধরে একটা ঘোরের মধ্যে গাড়ি চালিয়েছে ও।যদিও ওর অবচেতন মন ঠিক পথেই নিয়ে এসেছে ওকে। কিন্তু কী ভাবছিল ও? এই মুহুর্তে অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারল না সাইফ।হয়ত এটাও রহস্যময়ী সাহারার আরেকটা রহস্য।রাতের এক নিঃসঙ্গ আরোহীকে নিয়ে খানিক ছলনা করে নিল! সতর্কতার সাথে খানাখন্দ এড়িয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে ওকে।সামান্য বেকায়দায় পড়ে গাড়িটা নষ্ট হলে বিরান মরুতে ভোগান্তির চূড়ান্ত হবে। আরো মিনিট বিশেক পর দুপুরে দেখা সেই টিলার কাছে চলে এল সাইফ।গাড়ি থেকে নেমে দিক ঠিক করে নিল।সালাহউদ্দিনের কথা অনুযায়ী এখান থেকে পৌনে তিনমাইল দক্ষিন পশ্চিম দিকে যেতে হবে।ফোনের কম্পাসে দিক ঠিক করে আবার গাড়িতে উঠল। প্রথম কয়েক মাইল পথ বেশ ভালই ছিল।যদি ওটাকে পথ বলা যায় আরকি।এরপরও শুরু হল খানা খন্দ।সেই সাথে অসংখ্য ছোট বড় বোল্ডার মিলে জায়গাটাকে সত্যিই দুর্গম করে তুলেছে।তারউপর গাড়িটা মোটেও মরুভূমিতে চলার উপযোগী না। সবমিলিয়ে যথেষ্টই বেগ পেতে হল ওকে আড়াই মাইল পথ আসতে।এরপর একটা গর্তে পড়ে গাড়ির অ্যাক্সেলে ভাঙ্গার উপক্রম হতেই আর ঝুঁকি নিতে চাইল না সাইফ।গাড়ি থেকে নেমে পড়ল।শত হলেও মরুভূমিতে গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত নয় ও।অন্তত নাসের বিন ইউসুফ কিংবা মোবারকের মত তো নয়ই।বাকি পথটা হেঁটে যাওয়াই ঠিক করল। বোল্ডারের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে পথ করে দশ মিনিট হেঁটে ওর বিশ্বাস জন্মাল,কাঙ্ক্ষিত জায়গাতে পৌঁছে গেছে।যদিও এখন পর্যন্ত আশা জাগানিয়া কিছুই দেখতে পায়নি ও।আশপাশটা একই রকম লাগছে।কোনো বিশেষ পাথরের স্তুপ দৃষ্টি আকর্ষন করতে ব্যর্থ হল ওর।এখন বাধ্য হয়েই ফ্ল্যাশলাইটটা ব্যাবহার করতে হবে।এটা কিনেছিল পিরামিডের অভ্যন্তরে ব্যাবহারের জন্য।এই ফাঁকা জায়গায় অনেক দূর পর্যন্ত আলো দেখা যাবে।এজন্য পুরো পথটাও ও এসেছে গাড়ির হেডলাইট অফ করে,চাঁদের আলোর ভরসায়।এখন উপায় নেই।সাইফ ফ্ল্যাশলাইট বের করে জ্বালল। শক্তিশালী আলো সুড়ঙ্গ চিড়ে ফুঁড়ে পথ করে নিল অন্ধকারে।কয়েক পা হেঁটে গিয়ে গিয়ে আলো ফেলে ফেলে দেখছে।বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে হঠাৎ একটা পাথরের স্তুপ দৃষ্টি আকর্ষন করল ওর।অন্য স্তুপগুলোর সাথে খুব কমই পার্থক্য আছে।সত্যি বলতে আগে থেকে না জানলে সন্দেহও হত না।সামনে এগিয়ে গেল সাইফ। হুম,এই স্তুপের পাথরগুলো গভীর মনোযোগে দেখলে একটা মেকিভাব ধরা পড়ে চোখে।পাথরগুলোকে যেন একটা শেপ দেয়া হয়েছিল কোনোকালে।বেশ বড় সড় স্তুপ,এরপরও খোঁজাখুঁজি ছাড়াই স্তুপের গায়ে কোনোমতে একটা মানুষ গলার মত গর্ত দেখতে পেল সাইফ। গর্তটা দেখতে পাবার সাথে সাথেই বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল।সব মিলে যাচ্ছে! তারমানে বাকিটাও না মেলার কারণ নেই।ট্রেজার! মনে মনে আল্লাহর নাম নিয়ে গর্তে মাথা গলাল সাইফ। মাটি থেকে চেম্বারের মেঝে ফুট দশেক নীচে। নিখুঁত ভঙ্গিমায় লাফ দিল।কোনো ঝামেলা ছাড়াই মসৃণভাবে মাটিতে পা রাখল সাইফ।কোমরে গোঁজা ফ্ল্যাশলাইটটা বের করে আলো ফেলল চারপাশে। নাসের বিন ইউসুফের বর্ননা অনুযায়ী রুমটা দশ বাই দশ।চারদিকেই।যেন একটা বাক্সে ঢুকে পড়েছে ও। দেয়ালের গায়ে প্রচুর চিত্র আঁকা হয়েছে পাথর কুঁদে।প্রাচীন মিশরের দেবদেবী এরা। স্ফিংস,শেয়ালমুখো আনুবিস,অমঙ্গলের দেবতা আমন রা,পরকালের দেবতা অসিরিস,হোরাসসহ আরো কিছু প্রসিদ্ধ দেবতাকে শনাক্ত করতে পারল সাইফ। এছাড়াও রয়েছে অনেক আঁকিবুকি।ওগুলো হায়ারোগ্লিফিক।সাইফ হায়ারোগ্লিফিক জানে না,সেজন্য ওগুলো নিয়ে মাথাও ঘামাল না।এখন ওকে লিভারটা খুঁজে বের করতে হবে। নাসের বিন ইউসুফ শুধু উল্লেখ করেছিলেন এই চেম্বারে একটা লিভার আছে।কিন্তু সেটা কোথায়,বা কিভাবে খুঁজে পেতে হবে সে সম্পর্কে কিছু বলেননি।সাইফের ধারণা,নাসের বিন ইউসুফ একটা অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ওর প্রতি। অর্থাৎ কর্নেল যাকে পাঠাবেন তার বুদ্ধির পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। সাইফ আবারও রুমটা পর্যবেক্ষন করে দেখল। নাহ,বোঝা যাচ্ছে না কিছুই।সব একই রকম। হায়ারোগ্লিফিকের নকশা কাটা দেয়ালের কোথাও যদি ছোট্ট কোনো লিভার থাকেও,সেটা খুঁজে পাওয়া মোটেও সহজ কিছু না। কৌশল পাল্টাল সাইফ।ফ্ল্যাশলাইটের হ্যান্ডেল দাঁতে চেপে ধরে দেয়ালের গায়ে হাত বোলাতে লাগল আলতো করে।এইভাবে দুইদিকের দেয়াল হাতড়েও কোনো লাভ হল না।অস্বাভাবিক কিছু অনুভূত হয়নি হাতে।এবার উত্তর দিকের দেয়ালে হাত বোলাতে শুরু করল সাইফ।এবার অবশ্য শিকে ছিঁড়ল ওর ভাগ্যে।তবে সেটা হাত বোলানোর কারণে নয়। একেবারে কাছাকাছি থাকায় চোখে ধরা পড়ল। দেয়ালে খোঁদাই করা একটা আনুবিসের পা অন্যটার তুলনায় কিছুটা লম্বা।ভালমত পর্যবেক্ষন করে সাইফের বিশ্বাস জন্মাল,ও যা খুঁজছিল তা পেয়ে গেছে। সাইফ বাড়তি অংশটায় চাপ দিল,কিছুই ঘটল না।এবার আরো জোরে,এবার ঘটল।অংশটা দেবে গেল খানিকটা।পরমুহুর্তেই চেম্বার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল ঘড়ঘড়ে একটা স্নায়ুক্ষয়ী আওয়াজ।বদ্ধ কামরায় প্রতিধ্বনি তুলছে। একসময় শব্দটা থেমে গেল।যেন ঝড়ের পরের নীরবতা। খেয়াল করে অবাক হয়ে গেল সাইফ,ওর হাত কাঁপছে! উত্তেজনায় ধনুকের ছিলার মত টানটান হয়ে আছে স্নায়ু।বড় করে দম নিয়ে সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ল।চারপাশে আলো ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।ভীতিকর ছায়া পড়ছে এবড়ো খেবড়ো দেয়ালে।যেন অশরীরী কিছু একটা ঘাপটি মেরে রয়েছে পরের বাঁকে।যত আজেবাজে কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।বেশিরভাগই মমির অভিশাপ টাইপের! তবে তুতানখামেনের মমির আবিষ্কারের সাথে জড়িত সবাই যে রহস্যময় সব কারণে মারা পড়েছে,এটা একটা সার্বজনীন সত্য।এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে ঠিক কী কাজ করেছে সাইফ জানে না,তবে এই সহস্রাব্দ প্রাচীন পিরামিডের ছায়া ছায়া সুড়ঙ্গে হেঁটে যেতে যেতে একটা শব্দই মনে পড়ল,অভিশাপ! কতক্ষন হেঁটেছে ঠাহর করতে পারেনি সাইফ।একসময় পৌঁছে গেল টানেলের অপর প্রান্তে।এখানেও যেন হুবহু সেই দরজাটাই বসিয়ে দেয়া হয়েছে।চারপাশের দেয়ালচিত্রেও প্রচুর মিল।সূত্র জানা থাকায় এবার বেগ পেতে হল না সাইফকে।দু’মিনিটের মাথায় খুঁজে বের করে ফেলল লিভার।চাপ দিল।ঘটল পুনরাবৃত্তি। ঢুকে পড়ল সাইফ পিরামিডের মূল চেম্বারে। কাঁপুনিটা বোধহয় সাথে সাথে বেড়ে গেল।কাঁপা কাঁপা আলোয় ঘাড় ঘুরিয়ে রুমটা দেখে নিল সাইফ। বেশ বড় কামরা।অন্তত ত্রিশ বাই চল্লিশ তো হবেই। আর ঠিক মাঝখানেই...ঠিক মাঝখানেই রাখা একসাড়িতে পাঁচটা সারকোফেগাস! নাসের বিন ইউসুফের ইমেইলটা স্বরণ করার চেষ্টা করল সাইফ।ঠিক এইজায়গাটাতে এসে কী বলেছিল নাসের বিন ইউসুফ? “পকেট থেকে লাইটার বের করলাম।জ্বালবার আগে কয়েকমুহুর্ত সময় নিয়েছিলাম নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে।” সাইফের লাইটার জ্বালবার ঝামেলা নেই।তবুও নিজেকে চরম সত্যটার মুখোমুখি দাঁড় করাতে সাহসে কুলাচ্ছে না।মানসিকভাবে কিছুটা প্রস্তুতি নেবার জন্য চোখ ফিরিয়ে নিল সারকোফেগাস থেকে। ফ্ল্যাশলাইটটা জ্বেলে আবারও রুমটা দেখায় মন দিল।আসলে ভান করছে।মনটা বন্দি হয়ে পড়েছে ওই পাঁচটা বাক্সে। এমন সময় আশ্চর্য একটা ঘটনা ঘটল।ঘটনার আকস্মিকতায় হাত থেকে ফ্ল্যাশলাইটটা পড়েই যাচ্ছিল। একটু আগে সাইফ যেখানে আলো ফেলেছিল ঠিক সেখান থেকেই কে যেন ওর দিকেই আলো ফেলল! পুরোপুরি সতর্ক হয়ে গেল সাইফ।তাহলে কী ওর এখানে আসার উদ্দেশ্য কারো কাছে ফাঁস হয়ে গেছে? কেউ আগে থেকেই এখানে ঢুকে বসে আছে? কে হতে পারে? একমাত্র সালাহউদ্দিন ছাড়া তো আর কেউ জানে না এই পিরামিডের খবর। সাথে কোনো অস্ত্র নেই বলে খুবই অসহায় মনে হল সাইফের নিজেকে।একেবারে ভরা মাঠে নগ্ন হয়ে যাবার মত অনভূতি। চিতার মত নিঃশব্দ পদক্ষেপে সামনে এগোল কয়েক পা।চারদিকে নিচ্ছিদ্র আধার।ঘটনাটা ঘটার সাথে সাথেই লাইট অফ করে দিয়েছে সাইফ।কিন্তু শত্রুর মুখোমুখি হতে লাইট জ্বালবার বিকল্প নেই।সমস্ত শরীর টানটান করে লাইট জ্বালল।যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি। লাইট জ্বালবার সাথে সাথেই নিজেকে সাইফের পৃথিবীর সবচাইতে বড় গাধা মনে হল।উতপ্ত মস্তিষ্ক যে তিলকে আস্ত তালগাছ বানিয়ে দিতে পারে সেটাই এইমাত্র হাতে কলমে উপলব্ধি করতে পারল। পিরামিড,মমি এসব ব্যাপারে মিশরে আসার সময় প্লেনেই কিছুটা পড়াশোনা করে নিয়েছে।আগেই বোঝা উচিৎ ছিল।উত্তেজনায় সব গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছে,নয়ত পিলেটা এভাবে চমকে উঠত না। ব্যাপারটা হল,প্রাচীন মিশরীয়রা পিরামিডের মূল চেম্বার আলোকিত করবার জন্য রিফ্লেক্টর পদ্ধতি ব্যাবহার করত।বেশ কিছু আয়না এমনভাবে ফিট করত যাতে করে সূর্যের আলো একটা থেকে আরেকটা আয়নায় প্রতিফলিত হতে হতে মূল চেম্বার আলোকিত করে।একটু আগে ওর ফ্ল্যাশলাইটের আলোও ওইরকম একটা রিফ্লেক্টরে গিয়ে পড়েছিল।আর তাতেই...আপন মনেই হাসল সাইফ।নাহ,এবার সত্যটার মুখোমুখি হতে হবে।নইলে না জানি আরো কী কী কান্ড চাক্ষুস করতে হবে। দেখা গেল চোখের সামনে মমি উঠে দাঁড়িয়েছে! সাইফ পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল সারকোফেগাসগুলোর দিকে।সর্ব ডানের বাক্সটার সামনে এসে দাঁড়াল।আগেই মাঝের কফিন খুলে কাপড় প্যাঁচানো শুকনো লাশ দেখার কোনো আগ্রহ নেই ওর। বাক্সটার সামনে দাঁড়িয়ে যেন নিজের হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক আওয়াজ স্পষ্টই শুনতে পেল সাইফ।নিরেট নিস্তব্ধতা গোটা কামরায়। বিসমিল্লাহ বলে ডালাটা উঁচু করে ফেলল সাইফ। সাথে সাথেই বুকের রক্ত প্রবলভাবে ছলকে উঠল। কয়েকমুহুর্তের জন্য শ্বাস নিতে ভুলে গেল।যেন পাথরের একটা মুর্তি। সামান্য পরই সংবিৎ ফিরে পেতেই একে একে বাকি কফিন তিনটেও খুলে ফেলল।প্রতিবারই বাক্সগুলো খোলার সময় একটু একটু করে রক্তে এড্রেনালিন ছড়িয়ে পড়েছে।প্রবল বেগে ছুটে যাচ্ছে শিরা উপশিরায়।একসময় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সাইফ। চারটা বাক্সই সম্পুর্ন খালি। কিছুই নেই ভেতরে। কিচ্ছু না! ----------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-০৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now